হাসপাতাল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হাসপাতাল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রম যা মিডিয়ায় আসে না

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রম যা মিডিয়ায় আসে না


জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা।
বুধবার রাত ১১ টা।
হঠাৎ করে হাসপাতালের সিসিইউ রুমের গেটের দিকে শোরগোল। দ্রুত ট্রলি নিয়ে ছুটলেন কয়েকজন সেদিকে। তাতে তুলে আনা হল মাঝবয়েসি এক যুবককে। পরনের জামা-কাপড় দেখে বুঝা গেল দরিদ্র ঘরের সন্তান। হার্ট অ্যাটাক করেছে তার। মৃত্যুর একেবারে কাছাকাছি সে। ডাঙায় পড়ে যাওয়া পুটি মাছের মতো তরপাচ্ছিল সে। বাঁচবে যে, তেমন আশাও নেই।
ইতোমধ্যে স্বজনরাও মহাকান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে। নার্স-ডাক্তাররা কয়েকজন রুম থেকে বের করে দিলেন সেই স্বজনদের। এরপর যা শুরু হল, তা দেখে একজন সুস্থ্য মানুষও অজ্ঞান হবার দশা। একজন জওয়ান পুরুষ নার্স তার বুকের ওপর ইয়া শব্দ করে আঘাত শুরু করলেন। একজন সুস্থ মানুষকে ওভাবে আঘাত করলে সে নির্ঘাত দম বন্ধ হয়ে মারা যেতো।
যাই হোক, এই ধুরুমধারুম আঘাত চলল মিনিট দশেক। এরপর কাজ না হওয়াতে নিয়ে আসা হল কাপড় ইস্ত্রি করার মতো দুটি শক দেবার যন্ত্র। এই জিনিস আমি শুধু সিনেমাতেই দেখেছি। এরপর সেটি দিয়েও চলল ‘’নির্যাতন’’। একদিকে যমে টানছে যুবককে, আরেক দিকে বাংলাদেশের হাসপাতালের কয়েকজন অসহায় নার্স। তাদের নেতৃত্বে একজন ডাক্তার।
এ কাজ করতে গিয়ে ঘেমে নেয়ে একাকার সবাই। বাইরে পাল্লা দিয়ে চলল যুবকটির পরিবারের কান্না।
আমি অনেক শক্ত মানসিকতার মানুষ। কিন্তু তারপরও বারবার ভেতরে ভেতরে চুরমার হচ্ছিলাম। কিন্তু বুঝতে দিচ্ছিলাম না। কারণ আমার পাশেই আমার নিজের রোগি আছে। তিনি আমার শ্বাশুড়ি। তিনি যদি বুঝতে পারেন আমার নিজেরই এই অবস্থা, তিনি ভেঙে পড়বেন। তাকে সাহস যোগালাম।
এদিকে শুনতে পেলাম নার্সরা বলাবলি করছে, এ যাত্রা বেঁচে গেলো ছেলেটি। আমিও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম।
আমি তখন চিকিৎসক ভলান্টিয়ার দলটির দিকে তাকালাম। দেখলাম সবার মুখে বিজয়ের হাসি চিকচিক করছে। মনে হচ্ছিল তারা এই মাত্র এভারেস্টের চূড়া জয় করে ভোরের তাজা আলোর আভা সারা মুখে মেখেছে। জানতে পারলাম এভাবেই সারারাত ধরে নতুন কোনো রোগির সেবায় দৌড় শুরু করে তারা।
[আমরা যারা প্রতিদিন মজা করে ঘুমাই, ঠিক সেই মূহুর্তে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিইউতে প্রতি রাতে চলে জীবন-মৃত্যু নিয়ে ’’দরকষাকষির এই খেলা’’। প্রতিরাতে গড়ে কমপক্ষে চারজন মারা যায়। আমরা কখনো কখনো সে কথা পত্রিকায় পড়ি। কিন্তু আমাদের ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমে যে আরও ২০/৩০ জন বেঁচে যায়, তাদের কথা কীভাবে যেন পত্রিকার পাতায় ঠাঁই পায় না।]

লেখা - লুৎফুর রহমান হিমেল

নিউজ এডিটর - বাংলাদেশ প্রতিদিন

রবিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৭

মাগুরায় ছয় দিন ধরে চিকিৎসক নিখোঁজ..

মাগুরায় ছয় দিন ধরে চিকিৎসক নিখোঁজ..


নিখোঁজের ছয় দিন পরও মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (দারিয়াপুর) চিকিৎসক সুমন কুমার সিকদারের (২৮) সন্ধান মেলেনি। গত সোমবার বিকেল থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।
সুমনের বাবা মাগুরা সদর উপজেলার বেঙ্গা গ্রামের সুকুমার সিকদার বলেন, সুমন ২০১৪ সালে ওই হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেয়। অবিবাহিত সুমন মাগুরা শহরের কলেজপাড়ায় একাই ভাড়া বাসায় থাকত। গত সোমবার বিকেলে কর্মস্থল (শ্রীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স) থেকে সে ভাড়া বাসায় ফিরে আসে।
সুকুমার শিকদার বলেন, পাশের বাসার ভাড়াটেরা তাঁদের জানিয়েছেন, সুমন বাসায় আসার কিছুক্ষণ পর আবার বের হয়ে যান। এরপর থেকে গত ছয় দিন যাবৎ তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। তবে তাঁর মুঠোফোনটি ভাড়া বাসায় পাওয়া গেছে।
সুমনের বাবা আরও বলেন, গত কয়েক দিন তাঁরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে সুমনের সন্ধান পাননি। তবে সে বিভিন্ন সময় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকত। এ ব্যাপারে সুমনের বাবা মঙ্গলবার সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজমুল হুদা বলেন, তাঁদের ধারণা, সুমন সিকদার স্বেচ্ছায় নিরুদ্দেশ হয়েছেন। কারণ তাঁর মুঠোফোন, ব্যাগ সবই বাসায় রয়েছে।
মাগুরার সিভিল সার্জন এফ বি এম আবদুল লতিফ সাংবাদিকদের বলেন, সুমন সিকদার সর্বশেষ গত সোমবার কর্মস্থলে গিয়েছিলেন। তারপর থেকে তিনি অনুপস্থিত রয়েছেন।

সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

আমেরিকায় নারী চিকিৎসকের কাছে রোগী সুস্থ হয় বেশি

আমেরিকায় নারী চিকিৎসকের কাছে রোগী সুস্থ হয় বেশি

হাসপাতালে নারী চিকিৎসকের কাছে রোগী সুস্থ হওয়ার হার বেশি। তাঁদের কাছে সেবা পাওয়া রোগীর মৃত্যুঝুঁকিও কম। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১০ লাখের বেশি রোগীর ওপর এ গবেষণা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, রোগীরা নারী চিকিৎসকের সেবা পেলে তাঁদের মৃত্যুঝুঁকি পুরুষ চিকিৎসকদের সেবা পাওয়া রোগীর তুলনায় ৪ শতাংশ কম। আবার সেবা নিয়ে চলে গেছেন
তাঁদের হাসপাতালে পুনরায় ভর্তি হওয়ার হার ৫ শতাংশ কম।

গবেষকেরা বলছেন, নারী ও পুরুষ চিকিৎসকের সেবার পার্থক্যের কারণে ফলাফলে কী ভিন্নতা আসে তা নিয়ে সম্ভবত এটাই প্রথম কোনো গবেষণা। গবেষণাটি গতকাল সোমবার আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাময়িকী জেএএমএ ইন্টারন্যাল মেডিসিনের অনলাইন সংস্করণে ছাপা হয়েছে।

গবেষণার আওতায় থাকা রোগীদের বয়স ছিল ৬৫ বছর বা তার বেশি। এঁদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন মারাত্মক অসুস্থ। এঁদের চিকিৎসা দিয়েছিলেন ৫৮ হাজার ৩৪৪ চিকিৎসক। এঁদের মধ্যে ১৮ হাজার ৭৫১ জন (৩২.১ শতাংশ) ছিলেন নারী চিকিৎসক। নারী চিকিৎসকদের বয়স ছিল তুলনায় কম, এঁদের অনেকেরই অস্থির চিকিৎসায় প্রশিক্ষণ ছিল। এঁরা পুরুষের তুলনায় কম রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছিলেন।

এ গবেষণার ফলাফল নিয়ে এই প্রতিবেদক বাংলাদেশে চিকিৎসা ও রোগী ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত চারজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছেন।

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক পারভিন শাহিদা আখতার বলেন, ইউরোপভিত্তিক ক্যানসার চিকিৎসকদের সংগঠন (ইসমো-ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব মেডিকেল অনকোলজিস্ট) দাবি করে ক্যানসার চিকিৎসায় পুরুষের তুলনায় নারী চিকিৎসকের কাজের ফল ভালো। এর কারণ, নারী চিকিৎসক রোগীর ব্যাপারে বেশি সহানুভূতিশীল, বেশি মনোযোগ দিয়ে রোগীর কথা শোনেন, রোগীকে বেশি সময় দেন। নিজের কাজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘মাঝেমধ্যে আমি রোগী নেফ্রোলজি বা হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠাই (রেফার)। রোগীরা ফিরে এসে মহিলা ডাক্তারদের কথাই ভালো বলেন, মহিলা ডাক্তারের কাছেই পাঠাতে বলেন।’

অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত নাক-কান-গলার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। দুই দফায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গবেষণা ফলাফলের সঙ্গে আমি ১০০ ভাগ একমত। নারী চিকিৎসকদের আন্তরিকতা বেশি, কাজে ফাঁকি কম দেয়, ধান্দা কম। এগুলো রোগী সুস্থ হয়ে ওঠার ওপর প্রভাব ফেলে।’

বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালের পরিচালক (কমিউনিকেশন অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) শাগুফা আনোয়ার বলেন, ‘নারী চিকিৎসকেরা সময়মতো রোগীর পাশে থাকে। রোগীর ডকুমেন্টেশন ভালো করে। যত্ন নিয়ে রোগীর কাউন্সেলিং করে। ফাঁকি কম দেয়, অজুহাত কম দেয়। এসব গুণ অবশ্যই রোগীর সেরে ওঠার ওপর প্রভাব ফেলে।’

তবে এ বিষয়ে কিছুটা ভিন্নমত দিয়েছেন বিএসএমএমইউর মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এ ব্যাপারে মতামত দেওয়া মুশকিল। একজন চিকিৎসক রোগীকে কতটা সুস্থ করতে পারবেন তা নির্ভর করে তিনি নিজেকে কতটা দক্ষ করে তুলতে পেরেছেন তার ওপর। এ ক্ষেত্রে যোগ্যতাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

যুক্তরাষ্ট্রের এই গবেষণায় এটা চিহ্নিত করা যায়নি যে কেন নারী চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে তাতে বলা হয়েছে, আগে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নারী ও পুরুষ চিকিৎসকদের মধ্যে পেশা চর্চায় ভিন্নতা আছে। নারী চিকিৎসকেরা নির্দেশিকা মেনে পেশা চর্চায় অধিকতর অবিচল থাকেন। এ ছাড়া তাঁরা প্রতিরোধমূলক সেবাও বেশি দেন। বর্তমান গবেষণা থেকে সেবার মান উন্নত করার মতো বিষয় পাওয়া যাবে বলে গবেষকেরা ধারণা করছেন
ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি নয় !!

ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি নয় !!

মন চাইলেই যাঁরা উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক কেনেন ও বিক্রি করেন—তাঁদের জন্য দুঃসংবাদ। নতুন ওষুধনীতিতে জ্বর, সর্দি, মাথা ও পেটব্যথার মতো রোগের ওষুধ ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ আর চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া পাওয়া যাবে না।
অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোনজনিত সমস্যার ওষুধ, ঘুমের ওষুধের মতো স্পর্শকাতর ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে জাতীয় ওষুধনীতি ২০১৬-তে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

সোমবার মন্ত্রিসভায় জাতীয় ওষুধনীতি ২০১৬-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, বাজারে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ধরনের জেনেরিক ওষুধ আছে, এর মধ্যে ৩৯টি জেনারের ওষুধ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় ওষুধনীতি প্রণয়ন উপকমিটির আহ্বায়ক আ ব ম ফারুক আরও জানান, বাজারে ৩৯টি জেনারের প্রায় দুই হাজার ওষুধ রয়েছে।

অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে ওষুধ কার্যকারিতা হারাচ্ছে এবং সহজে রোগ সারছে না। এই প্রেক্ষাপটেই দীর্ঘদিন ধরে পরামর্শপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়ে আসছিলেন জনস্বাস্থ্যকর্মীরা।

নতুন ওষুধনীতিতে ওষুধের যৌক্তিক ও নিরাপদ ব্যবহারে বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, দেশে পর্যায়ক্রমে সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে স্নাতক ফার্মাসিস্টের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ওষুধের কেনাবেচা হবে। এ ছাড়া ১০০ বা তার বেশি শয্যাবিশিষ্ট সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিকের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিজস্ব ‘অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নির্দেশিকা’ থাকতে হবে, নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে এবং চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সময় তা মানতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন ওষুধনীতিতে জাতীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর লক্ষ্যে হলো নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ তৈরি ও বিপণন রোধ করা।
খসড়ায় বলা হয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। আইনে শাস্তি নির্ধারণ করা হবে। নীতিমালা অনুযায়ী ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করা হবে। জনস্বার্থে দাম নির্ধারণ করে তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। কেউ বেশি দাম নিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক রুহুল আমিন বলেছেন, ওষুধ যেন যথেচ্ছভাবে কেনাবেচা না হয়, সেজন্য নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, বিশ্বের ১২২টি বাংলাদেশ ওষুধ রপ্তানি করে। বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সদন ও স্বীকৃতি লাভ করেছে বাংলাদেশের ওষুধ। তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর পর আন্তর্জাতিক চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে নীতিমালাটি যুগোপযোগী করা হয়েছে।

বৈঠকে নজরুল ইনস্টিটিউট, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন এবং কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টস আইনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে 

শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৬

লক্ষ্মীপুরের ডাঃ ইকবাল মাহমুদ ঢাকা থেকে অপহৃত

লক্ষ্মীপুরের ডাঃ ইকবাল মাহমুদ ঢাকা থেকে অপহৃত


লক্ষীপুরের ডাঃ ইকবাল মাহমুদ ঢাকা থেকে অপহৃত হওয়ার খবর জানিয়েছে তার পরিবার। শুক্রবার লক্ষ্মীপুর থেকে রয়েল বাস সার্ভিসে করে ঢাকা যায় ডাঃ ইকবাল মাহমুদ। সে ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনেসথেসিয়ার উপর টেনিং করছিল। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনেসথেসিয়ার উপর টেনিং উপলক্ষ্যে লক্ষ্মীপুরের বাসা থেকে রয়েল বাস সার্ভিসে করে ঢাকা যায়।

ঢাকায় গিয়ে সাইন্স ল্যাবরেটরী এলাকায় বাস থেকে নামে। এ সময় ঐ স্থানে থাকা সাদা একটি মাইক্রোবাসে তাকে অজ্ঞাত লোকজন তুলে নিয়ে যায়। ডাঃ ইকবাল মাহমুদ লক্ষ্মীপুর হাসপাতাল রোডস্থ ১৯৯ বকুল কটেজে তার নিজস্ব বাসা ও মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম নুরুল আলমের ছেলে।

তার পিতা এ কে এম নুরুল আলম জানান, ডাঃ ইকবাল লক্ষ্মীপুরের বাসা থেকে শুক্রবার রাত ১০টার সময় রওনা করে শনিবার ভোর রাত সাড়ে তিনটায় সাইন্স ল্যাবরেটরী এলাকায় পৌঁছে গন্তব্যে যাওয়ার সময় কে বা কাহারা তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে আমি ঢাকায় পৌঁছে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে এ পর্যন্ত কোন সন্ধান পায়নি।

সে ছাত্র জীবন থেকে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত ছিলনা। তবে তাবলিগ জামাতে সাথে জড়িত। সে ২৮তম বিসিএস এ উত্তীর্ণ হয়ে মেডিকেল অফিসার হিসেবে স্বাস্থ্য বিভাগের মহাখালীতে কর্মরত ছিল। সে লক্ষ্মীপুরে ভালো চিকিৎসক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। তার নিখোঁজের খবরে লক্ষ্মীপুরে ডাক্তারসহ সকল পেশার মানুষ উদ্বেগ, উৎকন্ঠার মধ্যে আছে।

মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৬

৫ দিনেও খোঁজ মেলে নি ডাঃরিয়াদের

৫ দিনেও খোঁজ মেলে নি ডাঃরিয়াদের


                 
ডা. রিয়াদ-নাসের-চৌধুরী
অপহরণের চারদিন পরও খোঁজ মেলেনি পল্লবীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের চিকিৎসক ডা.রিয়াদ নাসের চৌধুরীর।অভিযোগের তীর রয়েছে কোস্ট গার্ডের লে.কমান্ডার ফরহাদ সরকারের বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে তারা উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে। তবে ঘটনার চারদিন পার হয়ে গেলেও কোনও খোঁজ না পাওয়ায় শঙ্কা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অপহৃতের ভাই মেধাদ নাসের চৌধুরী।
পুলিশ ও অপহৃতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২৯ সেপ্টেম্বরের পল্লবীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে মেডিক্যাল অফিসারের দায়িত্ব পালন করছিলেন ডা.রিয়াদ নাসের চৌধুরী। বিকালে তার সহকর্মী ডা. মো. সালেককে নিয়ে পূরবী সিনেমা হলের পাশে একটি চায়ের দোকানে চা পান করতে যায় সে। এ সময় পাশেই একটি গাড়িতে থাকা তিনজন এসে রিয়াদের নাম জিজ্ঞেস করে তাদের সঙ্গে যেতে বলে। প্রথমে যেতে না চাইলে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে রিয়াদকে জোর করে গাড়িতে তুলে মিরপুর ১২ নম্বর বাসস্ট্যান্ডের দিকে চলে যায়। মাইক্রোবাসটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর (ঢাকা মেট্রো চ-৫৩-১৩৮২)।
অপহৃতের ভাই মেধাদ নাসের চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, খবর পেয়ে তারা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে আসেন। রিয়াদের ব্যবহৃত মোবাইলটি তখন থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নাম্বর ৭১।

মেধাদ চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ‘ডা. লুনা আনিকা নামে আমার ভাইয়ের এক বান্ধবী ছিল। নর্থ সাউথে মাস্টার্স ইন পাবলিক হেলথে পড়ার সময় তাদের বন্ধুত্ব হয়। বিগত কিছুদিন ধরে স্বামী কোস্ট গার্ডের লে. কমান্ডার ফরহাদ সরকারের সঙ্গে লুনার কোনও কারণে ঝামেলা হয়। আর   এর জন্য ফরহাদ আমার ভাইকে দোষারোপ করে। বিভিন্নভাবে আমার ভাইকে ভয় দেখানো হয়।’
এর আগে গত ১৬ আগস্টে একইভাবে তার ভাইকে উঠিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে জানান মেধাদ। তিনি বলেন, ‘ওইদিন সেকশন সাড়ে ১১ কনভেনশন হলের সামনে মেইন রোডে লুনার সঙ্গে আমার ভাইয়ের দেখা হয়। এ সময় কয়েকজন এসে আমার ভাইকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।’
ওইদিন কনভেনশন সেন্টারের সামনে থেকে তুলে নেওয়ার সময় অজ্ঞাতরা নিজেদের ডিটেকটিভ টিমের সদস্য বলে পরিচয় দেয়।পরবর্তীতে পল্লবী থানায় গেলে এদের কোনও পরিচয় পাওয়া যায়নি। উল্টো তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন মেধাদ নাসের।
তিনি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের কোনও শত্রু নেই। তার শুধু দ্বন্দ্ব ছিল   ফরহাদের সঙ্গে। তিনিই আমার ভাইকে তুলে নিয়েছেন। এর আগে কমান্ডার ফরহাদ মোবাইলে আমার ভাইকে এনকাউন্টার করার হুমকি দেন। এখন তাকে তুলে নিয়ে গেছে।’
টাকার জন্য তাকে তুলে নেওয়া হয়নি বলে জানান মেধাদ নাসের। তার ভাষ্যমতে, ‘আমার ভাইয়ের মতো গরীব মানুষকে টাকা জন্য তুলে নেওয়ার মতো বোকামি কেউ করবে আমার মনে হয় না। এছাড়া টাকার জন্য নিয়ে গেলে আমাদের কাছে ফোন আসতো। কিন্তু আমাদের কাছে টাকা চেয়ে এখনও কোনও ফোন আসেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাইয়ের কোনও দোষ নেই। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। এটা ওদের ব্যাপার। আমার ভাইয়ের সঙ্গে এখন ফরহাদ ও তার স্ত্রী লুনার কোনও সম্পর্ক নেই। পরবর্তীতে আমার ভাই আর কোনও যোগাযোগ লুনার সঙ্গে করেনি। আমি জানি না আমার ভাই কেমন আছে, কোথায় আছে? আমি ভাইকে ফেরত চাই।’
অপহৃতের ভাইয়ের করা অভিযোগের ব্যাপারে লে. কমান্ডার ফরহাদ সরকারের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরই তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার ফোন করে ও এসএমএস করেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাদন ফকির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের এখানে অপহৃতের ভাই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। অপহরণের সময় গাড়িতে যে নাম্বারটা ব্যবহার করা হয়েছিল, সেই নাম্বারের গাড়িটা পাওয়া গেছে। তবে গাড়ির শুধু নাম্বারটা ব্যবহার করে অপরাধীরা। এই নাম্বারের গাড়িটা মানিকগঞ্জের ঘেয়র থানা হেফাজতে আগে থেকেই ছিল। তবে অপহরণকালে ব্যবহৃত গাড়িটি আটক করা যায়নি। সিটিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। আমরা যাচাই করে দেখছি। এছাড়া মামলার আর তেমন কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই

Source - http://banglatribune.com

http://www.dhakatribune.com/bangladesh/crime/2016/10/04/no-trace-doctor-5-days-since-abduction/

শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

রোগীকে মেঝেতে খাবার দিলো,  ভারতের একটি হাসপাতাল!

রোগীকে মেঝেতে খাবার দিলো, ভারতের একটি হাসপাতাল!

চূড়ান্ত অমানবিকতার পরিচয় দিল রাঁচির একটি সরকারি হাসপাতাল। খাবার থালা না থাকায় রোগীকে মেঝেতে খেতে দিল হাসপাতাল। বাধ্য হয়েই মেঝে থেকে ভাত-ডাল তুলে খেতে হল পালমতীদেবীকে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের  রাঁচি ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সে
বুধবার এই ঘটনার ছবি ভারতের  একটি দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই তা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হাসপাতালের যে কর্মী এই কাজ করেছিলেন তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সঙ্গে রোগীদের জন্য নতুন থালারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

হাতে চোট নিয়ে সম্প্রতি এই হাসপাতালের মহিলা বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন পালমতীদেবী। তাঁর কাছে কোনও খাবার থালা ছিল না। ওই দিন দুপুরে সমস্ত রোগীকে খাবার দিতে আসেন হাসপাতালেরই এক কর্মী। পালমতীদেবী খাবার জন্য একটি থালা চান। ওই কর্মী তাঁকে জানান, কোনও থালা নেই। খেতে হলে মেঝে থেকেই খেতে হবে। এই বলে তিনি পালমতীদেবীর বরাদ্দ খাবারের পুরোটাই মেঝেয় ঢেলে দেন। তার আগে পালমতীদেবীকে দিয়েই জায়গাটা পরিষ্কারও করান তিনি। মেঝে থেকে খাবার খাওয়ার সেই ছবি একটি সংবাদ মাধ্যমের হাতে চলে আসে। তার পরেই বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হয়ে যায়। প্রতি বছর রোগী পরিষেবার জন্য ওই হাসপাতাল ৩০০ কোটি টাকা অনুমোদন পায়। তা সত্ত্বেও এক জন রোগীকে মেঝে থেকে ভাত তুলে খেতে হবে কেন? সে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য ঘটনার কথা মেনে নিয়েছেন। অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছেন তাঁরা। আর যাতে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয় সে দিকে নজর রাখা হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

ভূয়া চিকিৎসকের কারাদন্ড !

ভূয়া চিকিৎসকের কারাদন্ড !

বগুড়া শহরের মফিজ পাগলামোড় অবস্থিত ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে আশরাফ নামে একজন ভুয়া চিকিৎসককে রোগী দেখার সময় হাতেনাতে আটক করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
 
পরে আদালত তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদ‍ণ্ডাদেশ দিয়েছেন।  
 
মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা. তায়েব-উর-রহমান আশিকের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করেন।
 
বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা. তায়েব-উর-রহমান আশিক বাংলানিউজকে জানান, তিনি ডিপ্লোমাধারী একজন পল্লী চিকিৎসক। কিন্তু নিজেকে বড় চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রোগী দেখে আসছিলেন। রোগী প্রতি ৪০০-৫০০ টাকা করে ভিজিট আদায় করতেন।
 
মিথ্যা পরিচয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণার করার জন্য তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয় বলে জানান ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ বিচারক।
 
অভিযানে সার্বিক সহায়তা করেন র‍্যাব-১২ সদস্যরা।
 
বাংলাদেশ সময়: ১২৩০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৬

রবিবার, ৩১ জুলাই, ২০১৬

ইন্টার্ন-চিকিৎসকদের-ভাতা-বেড়েছে...

ইন্টার্ন-চিকিৎসকদের-ভাতা-বেড়েছে...


সরকারি মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান রোববার বিকেল ৪টায় এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। 

তিনি বলেন, আজ (রোববার) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।  

তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা ১০ হাজার থেকে দ্বিগুণ অর্থাৎ ২০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছিল বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। 

ডা. আর্সলান নিজের ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘সরকারকে ধন্যবাদ তারা আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তবে আমরা আশাহত হয়েছি আমাদের ইস্পিত পারিতোষিক না পাবার জন্য। আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জরুরি ভিত্তিতে আমাদের কাঙ্ক্ষিত অবশিষ্টাংশ প্রাপ্তির জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ইকবাল আর্সলান, মহাসচিব বিএমএ, সভাপতি স্বাচিপ।’

উল্লেখ্য, বর্তমানে সারাদেশের সরকারি মেডিকেল কলেজে সাড়ে তিন হাজার ইন্টার্ন চিকিৎসক রয়েছেন...



Source - JagoNews
http://www.jagonews24.com/health/news/117383/%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A8-%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A7%8E%E0%A6%B8%E0%A6%95%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A7%9C%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87

বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০১৬

ইন্টার্নী চিকিৎসক বাচাঁও, দেশ বাচাঁও.

ইন্টার্নী চিকিৎসক বাচাঁও, দেশ বাচাঁও.

ইন্টার্নী চিকিৎসক বাচাঁও, দেশ বাচাঁও এই স্লোগানকে সামনে রেখে, দেশব্যাপী কেদ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ইন্টার্নী চিকিৎসকদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশ হাজার টাকা মাসিক ভাতা বাস্তবায়নের দাবীতে ময়মনসিংহে মানব্বন্ধন করেছে ইন্টার্নী চিকিৎসকরা । মঙ্গলবার ( ২৬ জুলাই ) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের সামনে ময়মনসিংহ ঢাকা মহাসড়কে ইন্টার্নী চিকিৎসকরা ঘন্টাব্যাপী শান্তিপূর্ন মানব্বন্ধন করেন। মানব্বন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ইন্টার্নী চিকিৎসক নেতা, কামরুল হাসান কুসুম, এলিন আরাফাত অনিক, রাকিব, ফারজানা প্রমুখ। এসময় ইন্টার্নী চিকিৎসক নেতারা দাবী জানান, সরকার নির্ধারিত বিশ হাজার টাকা মাসিক ভাতা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। অন্যথায় তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন. 

বুধবার, ২৫ মে, ২০১৬

চিকিৎসকের অবহেলার শস্তি ৫ বছর জেল।

চিকিৎসকের অবহেলার শস্তি ৫ বছর জেল।



বাংলাদেশে চিকিৎসকের

অবহেলায় কোনো রোগীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা করা যাবে। এ বিধান রেখে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা

আইনের খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে দোষী সাব্যস্ত হলে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৪(ক) ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত চিকিৎসককে দণ্ড দিতে পারবেন আদালত। এ ধারা অনুযায়ী পাঁচ বছর কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক। বর্তমানে এ সংক্রান্ত যে অধ্যাদেশ কার্যকর আছে, সেখানে চিকিৎসককে শাস্তি দেয়ার কোনো বিধান নেই। প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, সরকার সময়ে সময়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফিস বা চার্জ নির্ধারণ করবে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত চার্জের তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। সেবা বাবদ আদায়কৃত চার্জ বা মূল্য রসিদের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে এবং অনুলিপি সংরক্ষণ করতে হবে। কেউ সরকার নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত আদায় করলে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করতে পারবে কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া একজন চিকিৎসকের চেম্বার ন্যূনতম দুই কক্ষবিশিষ্ট থাকা বাঞ্ছনীয় বলে উল্লেখ করে খসড়ায় বলা হয়, সেখানে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকতে হবে। অনুমোদিত সার্টিফিকেট কোর্স বা ডিপ্লোমা ডিগ্রি ছাড়া অন্য কোনো যোগ্যতার বিবরণ ভিজিটিং কার্ডে বা সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা যাবে না।

আইনের খসড়া অনুযায়ী, বেসরকারি চিকিৎসাসেবা আইন কার্যকর হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সব বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে লাইসেন্স নিতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে। এ ছাড়া বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্য ও দরিদ্র রোগীদের সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়া নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তাদের জন্য ১০ ভাগ শয্যা সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে খসড়ায়। এ মুহূর্তে পাঁচ ভাগ শয্যা সংরক্ষণের ব্যবস্থা আছে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জনা গেছে, সম্প্রতি বেসরকারি চিকিৎসাসেবা আইনের একটি খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনসহ (বিএমএ) সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, চলতি মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে প্রস্তাবিত আইনের খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে। এর পরপরই অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আইনটি কার্যকর হলে রোগীদের জন্য মানসম্মত সেবা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা প্রদানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও আইনগত অধিকার সুরক্ষিত হবে। চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজের অনিয়ম ও অবহেলা দূর হবে। পাশাপাশি যে কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা রোধে আইনটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় উল্লেখ করা হয়, সরকারি চিকিৎসকসহ সেবাদানকারী কেউ অফিস সময়ে বেসরকারিভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে পারবেন না। এই বিধি লংঘন করলে কমপক্ষে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন দোষী ব্যক্তি।

গত দু’দশকে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফর্মেশন সিস্টেম (এমআইএস) প্রণীত হেলথ বুলেটিন ২০১৪-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে দেশে বৈধ রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত ২ হাজার ৯৮৩টি হাসপাতাল ও ক্লিনিক এবং ৫ হাজার ২২০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা বৈধ সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি। তবে এসব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মান নিয়ন্ত্রণে যুগোপযোগী আইন নেই।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, বেসরকারি খাতের এতসংখ্যক প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দেশে উপযুক্ত আইন নেই। বেসরকারি চিকিৎসাসেবা আইন প্রণয়নে বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও নীতিনির্ধারকদের অনেকের স্বার্থ বিঘ্নিত হতে পারে- এমন আশংকায় আইনটি অদ্যাবধি আলোর মুখ দেখেনি।

৩৪ বছরের পুরনো ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশনস) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’-এর অধীনে বর্তমানে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার সংশ্লিষ্টরা জানান, বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ছোট-বড় হাসপাতালে বিভিন্ন বিশেষায়িত (আইসিইউ, সিসিইউ, এনআইসিইউ) চিকিৎসাসেবা ও উন্নতমানের চিকিৎসা সরঞ্জামাদি স্থাপন করা হচ্ছে। এই পুরনো অধ্যাদেশ দিয়ে কোনোভাবেই এসব প্রতিষ্ঠানের মনিটরিং ও সুপারভিশন সম্ভব নয়।

অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বিগত এক বছরে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে দেড় শাতাধিক হাসপাতালে জরিমানা করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, হাসপাতালগুলোর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), করনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ), এইচডিইউ, এনআইসিইউ, ডায়ালিসিস ইত্যাদি বিভাগের লাইসেন্স নেই। এমনকি ক্লিনিক এবং ল্যাবের লাইসেন্সও মেয়াদ উত্তীর্ণ। এ ছাড়া হাসপাতাল ফার্মেসিগুলোতে মেডিকেল ডিভাইস ও সার্জিক্যাল অ্যাপেরাটাসের ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেজিস্ট্রেশন (ডিএআর) এবং প্রেমিসেস লাইসেন্স নেই। এমনকি এসব প্রতিষ্ঠানে ব্লাড ব্যাংকের লাইসেন্স থাকে না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৪ সালে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা আইনটি জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হওয়ার শেষ মুহূর্তে ফেরত আসে। এরপর ড. ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আইনটি প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের প্রথম দফার শাসনামলে আইনটি খসড়া প্রণীত হয়। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য কারণে তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

অভিযোগ রয়েছে, বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারই চলছে ‘ফ্রি স্টাইলে’। এগুলোর অধিকাংশরই মালিকানার সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ ও চিকিৎসক নেতারা জড়িত। ফলে আইন প্রণয়ন বিভিন্ন সময় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে শয্যা বাড়ানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অস্ত্রোপচার বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে বেসরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা থেকে লাইসেন্স প্রদান করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের দোহাই দিয়ে সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানই পরিদর্শন করা হয় না। ফলে সাধারণ রোগীদের অহেতুক গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। অভিযোগ রয়েছে, সরকারের সংশ্লিষ্টদের বিভিন্নভাবে ‘ম্যানেজ’ করে নির্বিঘেœ যাবতীয় অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে অধিকাংশ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, রোগী ও ডাক্তার উভয়ের নিরাপত্তায় একটি যুগোপযোগী আইন প্রয়োজন। আইন অপরাধ প্রশমন করে। তবে অবশ্যই রোগী ও চিকিৎসকবান্ধব হতে হবে।

সামগ্রিক বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলন জাতীয় কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই মাহবুব যুগান্তরকে বলেন, বেসরকারি চিকিৎসাসেবা আইন প্রণয়নে বিভিন্ন সরকারের আমলে উদ্যোগ নেয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। খসড়া আইনটি প্রণীত হলেও বহু মাস ধরে তা মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে। তবে এ মাসে যদি এটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয় তবে ভালো কথা। খসড়া আইনের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত প্রদান না করলেও মুক্তিযোদ্ধা ও দরিদ্র রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের বিষয়টি তিনি আরও সুনির্দিষ্ট করার প্রয়োজন বলে মনে করেন। কারণ কনসালটেন্ট ফিস, অপারেশন চার্জ, অ্যানেসথেশিয়া চার্জ ইত্যাদি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে কিনা সে বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে।

- তথ্যসূত্র - যুগান্তর

রবিবার, ২২ মে, ২০১৬

প্রথমবারের মতো স্থানীয়ভাবে অবশ করে ভ্যারিকোস ভেইন অপারেশন!...

প্রথমবারের মতো স্থানীয়ভাবে অবশ করে ভ্যারিকোস ভেইন অপারেশন!...

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো স্থানীয়ভাবে অবশ করে ভ্যারিকোস ভেইন বা আঁকা-বাকা শিরার চিকিৎসা করা হয়েছে। অজ্ঞান না করে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অংশ অবশ করে এ চিকিৎসা করা হয়।
রাজধানীর ঢাকার মোহাম্মদপুরে আল মানার হাসপাতালে এ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ভাসকুলার সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. এসএমজি সাকলায়েন রাসেল। তার সহকারী ছিলেন ভাসকুলার সার্জন ডা. রকিবুল হাসান অপু।
রোগীর ডান পায়ের কিছু শিরা বেশ কয়েক বছর ধরে ফুলে গিয়ে আঁকা-বাকা হয়ে যায়। এ ধরনের সমস্যাকে চিকিৎসকরা ভ্যারিকোস ভেইন বলে থাকেন। অতীতে কোমর থেকে অবশ করে এ অপারেশন করা হতো। কিন্তু এই প্রথম বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো রোগীর সম্পূর্ণ অপারেশন লোকাল অ্যানেসথেশিয়া বা স্থানীয়ভাবে অবশ করে করা হল।
রোগীর হার্টের সমস্যা ও অ্যাজমার সমস্যা থাকায় স্থানীয়ভাবে অবশ করে অপারেশন করা হয়েছে। এতে প্রচলিত অপারেশন পদ্ধতির পাশাপাশি ইনজেকশন থেরাপিরও ব্যবস্থা করা হয়।
ডা. সাকলায়েন জানান, রোগী এখন সম্পূর্ণ সুস্থ এবং অপারেশনের ৬ ঘণ্টা পরেই ঢাকা থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে তার নিজ জেলায় চলে গেছেন।
বাংলাদেশে প্রথম কোনো ধরনের কাটা-ছেড়া ছাড়াই সর্বাধুনিক লেজার ভ্যারিকোস ভেইন অপারেশন শুরু করেন ডা. সাকলায়েন। এখন পর্যন্ত প্রায় ১২০ জন রোগী এ ধরনের চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ আছেন।
তিনি জানান, আগে পুরো পায়ের বিভিন্ন জায়গায় কেটে এ অপারেশন করা হতো। তবে, স্থানীয়ভাবে অবশ করে অপারেশনের সময় রোগীর ঝুঁকি কমাতে একজন অ্যানেস্থেসিওলজিস্টকে সার্বক্ষণিক উপস্থিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

শনিবার, ২১ মে, ২০১৬

যে ৫১ টি ঔষুধ নিষিদ্ধ করেছে,  প্রশাসন

যে ৫১ টি ঔষুধ নিষিদ্ধ করেছে, প্রশাসন

ঔষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর বেশ কয়েকটি কোম্পানির উৎপাদিত ৫১টি ওষুধের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে। জনগণকে এসব ওষুধ না কেনার অনুরোধ করা হয়েছে।ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর দেশের খ্যাতিসম্পন্ন ওষুধ কোম্পানিসহ বেশ কিছু ওষুধ কোম্পানির ৫১টি ওষুধ নিষিদ্ধ করেছে। রেনাটা, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বেক্সিমকো, অপসোনিন, দ্য ইবনে সিনাসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানির উৎপাদিত ৫১টি ওষুধের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে।


প্যারাসিটামল, পায়োগ্লিটাজন ও রসিগ্লিটাজন গ্রুপের বাতিলকৃত ৫১টি ওষুধসমূহের উৎপাদন, ক্রয়, বিক্রয়, বিতরণ, মজুদ এবং প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জনসাধারণকে এসব ওষুধ ব্যবহার না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও লাইসেন্সিং অথরিটি (ড্রাগস) মেজর জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিষিদ্ধ ঘোষিত ওষুধসমুহ হলো 
রেনাটা লিমিটেড, মিরপুর ও রাজেন্দ্রপুরের প্যারাডট ট্যাবলেট, মিরপুরের পায়োগ্লিন ৩০ ট্যাবলেট
স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস: এইস সফট ট্যাবলেট, টস-৩০ ট্যাবলেট, টস-৪৫ ট্যাবলেট, সেনসুলিন ২ ট্যাবলেট
বেক্সিমকো ফার্মা: নাপাসফট ট্যাবলেট, পায়োগ্লিট ৩০ ট্যাবলেট, পায়োগ্লিট ৪৫ ট্যাবলেট
ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল: ফিভিমেট ট্যাবলেট, পায়োজেনা ৩০ ট্যাবলেট, রোমেরল ২ ট্যাবলেট, রোমেরল ৪ ট্যাবলেট
দ্য একমি ল্যাবরেটরিজ: ফাস্ট-এম ট্যাবলেট।


আরও রয়েছে:

বায়োফার্মা: এসিটা সফট ট্যাবলেট, প্রিগলিট-৩০ ট্যাবলেট
অপসো স্যালাইনের জিসেট ট্যাবলেট
অপসোনিন ফার্মা: রেনোমেট ট্যাবলেট, পাইলো ৩০ ট্যাবলেট
এসকেএফ: টেমিপ্রো ট্যাবলেট
ইউনিমেড এন্ড ইউনিহেলথ: একটোস ৩০ ট্যাবলেট
এসিআই লিমিটেড: ডায়াট্যাগ ৪৫ ট্যাবলেট
জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস: রসিগ্লিট ২ ট্যাবলেট, রসিগ্লিট ৪ ট্যাবলেট
এরিস্টোফার্মা: গ্লুকোরস ২ ট্যাবলেট, গ্লুকোরস ৪ ট্যাবলেট, গ্লুকোজন ৩০ ট্যাবলেট

 
ডেল্টা ফার্মা: রসিট-৪ ট্যাবলেট
মিল্লাত ফার্মা: পায়োট্যাব ৩০ ট্যাবলেট
ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস: পায়োডার ৩০ ট্যাবলেট
কেমিকো ফার্মাসিউটিক্যালস: ওগলি ৩০ ট্যাবলেট, ট্যাজন -৪ ট্যাবলেট
ডক্টরস কেমিক্যাল ওয়ার্কস লিমিটেড: পায়োজন ৩০ ট্যাবলেট
অ্যালকো ফার্মা: পায়োলিট ৩০ ট্যাবলেট।
দ্য হোয়াইট হর্স ফার্মা: লিট-৩০ ট্যাবলেট
আদ-দ্বীন ফার্মাসিউটিক্যালস: পিজোবেট ৩০ ট্যাবলেট
নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস: ডায়াটাস ৩০ ট্যাবলেট
শরীফ ফার্মাসিউটিক্যালস: প্যারামিন ট্যাবলেট, পিগজন ৩০ ট্যাবলেট
সোমাটেক ফার্মাসিউটিক্যালস: একটেল-এম ট্যাবলেট
লিওন ফার্মাসিউটিক্যালস: মেটেস ট্যাবলেট
 
জিসকা ফার্মাসিউটিক্যালস: পামিক্স এম ট্যাবলেট
নোভেল্টা বেস্টওয়ে ফার্মাসিউটিক্যালস: নরসফট ট্যাবলেট
প্যাসিফিক ফার্মাসিউটিক্যালস: পিগ্লিট ৩০ ট্যাবলেট, রগ্লিট ৪ ট্যাবলেট
মেডিমেট ফার্মা লিমিটেড: ডায়াপায়োট্যাব ৩০ ট্যাবলেট।


উল্লেখ্য, সম্প্রতি ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কমিটির ২৪৪তম সভায় এসব ওষুধের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়। সংশ্লিষ্ট কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে এসব ওষুধ নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমে বাজার হতে প্রত্যাহার করে তার পরিমাণসহ অধিদপ্তরকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে রেজিস্ট্রেশন বাতিলকৃত ওষুধসমূহের উৎপাদন, ক্রয়-বিক্রয়, বিতরণ, মজুদ এবং প্রদর্শন সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৬

হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আলাদা করুন নয়তো সচিবালয়কে উন্মুক্ত করে দিন .।

হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আলাদা করুন নয়তো সচিবালয়কে উন্মুক্ত করে দিন .।


কয়েক বছর আগে পত্রিকায় দেখলাম ডি.সি. পোস্টের জন্য বাছাই পরীক্ষায় ইংরেজী চিঠি ড্রাফট করতে গিয়ে ৩২ জনের মধ্যে মাত্র দুজন কাজটি সঠিকভাবে করতে পেরেছিলেন। শতকরা হিসেবে ৬% মাত্র।
এখন চিন্তা করুন আমাদের সচিবালয়ের কি করুন দশা। এটা হয়তো আসল চিত্র না, তারপরও আসল চিত্রটা কতটুকু আর উন্নতর হবে?
প্রশাসনিক ক্যাডারের এ সব কর্মকর্তারা অন্য সব ক্যাডারের উপর ছড়ি ঘুরাবেন কোন যুক্তিতে? ফেলটুরা সচিবালয়ে প্রবেশাধিকার পেলে পেশাজীবিদের জন্য সচিবালয়ের পথ বন্ধ থাকবে কেন?
আমরা তো মনে করি সচিবালয়ে যোগদানের বিষয়টা উন্মুক্ত ও নিরপেক্ষ প্রতিযোগীতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।দেশ গড়ার সুতিকাগারের দায়িত্বটা মেধাবীদেরই হাতে থাকা উচিত, তা যে প্রফেশন থেকেই আসুন না কেন?
প্রশাসনিক ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন তারপর নানান স্তর পেরিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। এ গতিপথে এমন কি গায়েবী জ্ঞান অর্জন করে ফেলেন যে, তিনি একাধারে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রকৌশল, কৃষি, পানি সম্পদ ইত্যাদি টেকনিকেল মন্ত্রনালয় সমুহের প্রায়োগিক ও অবকাঠামোগত বিশেষজ্ঞ হয়ে তার ৮/১০ ব্যাচ সিনিয়র পেশাজীবিদের উপর ছড়ি ঘুরানোর ক্ষমতালব্ব্দ হন। এটা নিতান্তই হাস্যকর ও ডগমেটিক একটা ব্যাপার নয় কি?
পেশাজীবি ক্যাডাররা প্রশাসনিক ক্যাডারের জুনিয়র ব্যাচের একজনকে কেন স্যার সম্বোধন করবেন?
এর জবাব কি রাষ্ট্রের কাছে আছে? এ সব প্রশাসনিক এনারকি গুলোর সংষ্কার অতীব জরুরী।
সাবেক মন্ত্রীপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার স্বীকার করে বলেছেন, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী পদে চাকরির জন্য পৃথিবীর কোথাও এক্সট্রাঅডিনারি মেধাবীরা ভীড় জমান না। ট্যালেনটেড যারা তারা আবিষ্কার করেন নতুন কিছু সৃষ্টি করেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির মেধাবীরা সেসব প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে জীবন পার করে দেন’।
স্বাধীনতার পর দেশে জনবল সংকট ছিল তখন বিশেষ পরিস্থিতিতে তা গ্রহনযোগ্য ছিল, এখন সে প্রেক্ষাপট বদলে গেছে, ডিজিটাল যুগেও সে প্রথা কেন রয়ে যাবে?
সার্ক দেশ সমুহের মধ্যে কোথায় এ সিস্টেম আছে?
আমরা বলছি না, সচিবালয়ে মেধাবীরা নেই, দেশের নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পরীক্ষায় ভাল রেজাল্টধারী অনেকেই সেখানে আছেন।কিন্তু তাদের অাধিপত্য কি খুব বেশী আছে। আমরা ঢালাওভাবে একটি বিশেষ ক্যাডারের অনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে দেশের নীতি নির্ধারনী ফোরামে সকল মেধাবীদের সুযোগ দেয়ার কথা বলছি।স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর প্রশাসনের মূল কেন্দ্রে ২য় বা তৃতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের অাধিপত্য কেন থাকবে?
চিকিৎসকদের অনেক সমালোচনা সত্বেও তাদের অনেক অর্জন আছে দেশ ও জাতির জন্য।আমলাদের অর্জনটা কি? বিশ্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ের গ্রেডিং কত?
দুর্নীতির চ্যাম্পিয়নশীপের দায়ভার কেবল রাজনৈতিক নেতাদের মাথায় থাকবে কেন? দুর্নীতির অভিযোগের সর্বাগ্রে দায় দায়িত্ব নেয়ার কথা ‘পলিসি মেকার’ আমলাদের। কারন রাজনৈতিক দল আসা-যাওয়ার মধ্যেই থাকে, সচিবালয় স্থায়ী। কিন্তু বরাবরই এ সব ব্যর্থতা সুচতুর সচিবরা রাজনৈতিক দলের ঘাড়ে চালান করে পার পেয়ে যান।
সাবেক সচিব আকবর আলী খানের ভাষায় আমাদের আমলাতন্ত্র বৃটিশদের রেখে যাওয়া এক প্রশাসনিক isomorphism. বাইরে ফিটফাট ভেতরে বেশ রুগ্ন ও দুর্বল। তাদের কাজ কর্ম অনেকটা প্রাণীদেহের molecular mimacry টাইপ। বিষহীন সর্প যেমন গায়ের রঙ পরিবর্তন করে শিকারীকে ভয় দেখায়।
রাজনৈতিক দল গুলো যতই প্রতিশ্রুতি দিক না কেন সচিবালয়ের সংষ্কার ও গনমুখী প্রশাসন ছাড়া কর্মসূচীর সুফল পাবে না জনগন। এ সংষ্কার অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। কোঠারী স্বার্থবাদীদের উৎপাটন না করে সৎ ও দক্ষ প্রশাসন গড়া সম্ভব না।
অযোগ্য ও অসৎ কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রশাসনে সব পেশার মেধাবীদের প্রবেশের সুযোগ দেয়া প্রয়োজন। এটা সময়ের দাবী।
একটা কথা প্রচার সুকৌশলে করা হয় যে, ডাক্তাররা প্রশাসন বুঝেন না।মনে হয় এরা দেশের ‘অটিস্টিক শিশু’।
কিন্তু প্রশ্ন হলো ডাক্তারদের কি ইউ.এন.ও বা ডি.সি ‘র সমান ক্ষমতা দেয়া হয়েছে? হাত পা বেধে কি প্রশাসক হওয়া যায়? এ ব্যবস্থায় একজন চিকিৎসক সমন্বয়কারীর ভূমিকায় রাখতে পারে মাত্র। যা চিকিৎসকরা যোগ্যতার সাথেই করছে।
সচিবালয়ের দার উন্মুক্ত করুন দেশের শয়ে শয়ে মেধাবী ডাক্তার তৈরী আছে। তখন দেখা যাবে চিকিৎসকরা প্রশাসন বুঝেন কিনা। প্রশাসনিক নির্বাহী হওয়ার হাতছানি ছাড়া একজন চিকিৎসক নিজেকে সেভাবে গড়তে যাবেন কেন।
সচিবালয় যদি উন্মুক্ত না করতে পারেন তাহলে চিকিৎসকদের এ মুহুর্তের দাবী স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়কে আলাদা করে তার জন্য আলাদা বেতন কাঠামো ও বিধি প্রণয়নের সুযোগ দেয়া হোক।
বিশ্বের অনেক দেশেই এটা করে সুফল পাওয়া গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের অনেকগুলো দেশেই চিকিৎসকরাই উচ্চ বেতনধারী পেশাজীবির মর্যাদাপ্রাপ্ত। বেসরকারী মেডিকেলের কিছু অব্যবস্থাপনা সত্বেও এখনও পর্যন্ত গড়পড়তা হিসেবে দেশের বেশীর ভাগ মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর সমাবেশ এ পেশাতেই।
পোষ্ট না থাকা সত্বেও শয়ে শয়ে অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব পদোন্নতি নিয়ে জনগনের টাকার শ্রাদ্ধ করতে পারেন আর স্বাস্থ্য ক্যাডারের একজন মেধাবী চিকিৎসক সারা জীবন গ্রামে থেকে মেডিকেল অফিসার হিসেবে অবসরে যাবেন এই অসম কৌতুককর অবস্থার কখন অবসান ঘটবে?
কেন চিকিৎসকরা পরিশ্রমের মর্যাদা পাবেন না? তাদের পোস্টিং দেবেন কিন্তু অফিস দেবেন না, অফিস থাকলে ও আসবাব নেই, আবাসিক ব্যবস্থা নেই, গাড়ী নেই, প্রমোশন নেই, ২৪ ঘন্টা শ্রম ঘন্টার বেতন নেই……. নেই তো নেই তা নিয়ে চিকিৎসকদের খেদোক্তি নেই। তারপরও যদি থাকত যথার্থ মর্যাদা আর নিরাপদ কাজের পরিবেশ।
এতটুকু প্রত্যাশা দেশের মেধাবী সন্তান হিসেবে নিশ্চয় বেশী না। কাজের ধরন ও পরিবেশ বিবেচনায় চিকিৎসকরা অন্য পেশার প্রতিদ্বন্ধী অবশ্যই না, এবং সে রকম তারা মনেও করে না।তারপরও তারা বৈষম্যের শিকার কেন হবে? রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় কেন অবহেলিত থাকবে।
এ সব সমস্যা নিরসনে পেশাজীবিদের মোর্চাও তেমন সক্রিয় না।আমাদের পেশাজীবি মোর্চাগুলো পেশার চেয়েও রাজনৈতিক সংযোগ রক্ষায় অধিক মনোযোগী বিধায় দাবী আদায়ে আকাংখিত ফলাফল পান না।
এখন সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধভাবে কার্যকর ও যৌক্তিক আন্দোলন গড়ে তোলার।#

লেখা -  ডাঃ রেজাউল করিম 


শনিবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৬

কবে হবে সন্ত্রাস নির্মূল! কবে হবে চিকিৎসকদের  জন্য নিরাপদ কর্মস্থল ?

কবে হবে সন্ত্রাস নির্মূল! কবে হবে চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্মস্থল ?


বর্তমান বাংলাদেশে সবচেয়ে অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ পেশার নাম কি জানেন?
ডাক্তারী পেশা!!
প্রতিদিন যে হারে সন্ত্রাসীদের দ্বারা চিকিৎসকেরা আহত,  নিহত হচ্ছেন!
পরিসংখ্যান তাই বলে।
গতকাল ডা: তপু কে কিডন্যাপ করা হলো,

এর আগে ডা: মুরাদ ভাইকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হলো,
ডা: শামস ভাইকে মারাত্নক জখম করে জীবন সংকটাপন্ন করা হলো,
 ডা: সাজিয়া আপু খুন করা হলো!
আর কত!! "

চিকিৎসকেরা জীবনের সমস্ত মেধা,  শ্রম  ও সময় সব উজাড় করে মানুষের তরে , অকাতরে নিজেদের বিলিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন,
তারই ফল কি ?
এমন নিত্য নৈমিত্তিক লোমহর্ষক ঘটনা!!

 এভাবে চলতে থাকলে,
মনে হয় অদূর ভবিষ্যতে ডাক্তারী পেশা যাদুঘরে চলে যাবে।

কিংবা কেউ ডাক্তারী পাশ করেও
পেশায় কর্মরত থাকবেন না,
হয়তো ডাক্তার পরিচয় অজ্ঞাত রেখে সমাজে চলবেন।

এ পেশায় যারা কর্মরত আছেন,
তাদেরকে অদূর ভবিষ্যতে বেশ কিছু ত্যাগ  মেনে নিয়ে কাজ করতে হতে পারে,

এ পেশার যে কেউ অপহরণের শিকার হতে পারেন!
আপনার পরিবারের উপর সন্ত্রাসীরা আঘাত হানতে পারে,
যে কেউ  সন্ত্রাস দ্বারা জখম হতে পারেন,
এমন কি মৃত্যুও ঘটতে পারে ।

সিদ্ধান্ত আপনার!

মেধা, শ্রম ও সময় সব যখন বিসর্জন দিতে পেরেছেন,
জীবনটা  বাকি রাখবেন কেন?
সন্ত্রাসীরা তো  আপনার জীবন ছিনিয়ে নিয়ে নেয়ার জন্য উত পেতে আছে !!

কবে হবে সন্ত্রাস নির্মূল!
কবে হবে চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্মস্থল

--- ডাঃ স্বাধীন
 ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা:তপু কে অপহরণ,  শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ !

ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা:তপু কে অপহরণ, শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ !


শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মেধাবী ছাত্র এবং
ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা:তপু কে অপহরণ করে নিয়ে গেছে দূবৃত্তরা ।
গতকাল সন্ধায় মেডিকেল কলেজের সামনের সড়ক
থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
অপহরণের কোনো কারণ এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

এদিকে নবীন এই চিকিৎসককে অপহরণের প্রতিবাদে
মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-মিরপুর সড়ক অবরোধ করে।
 এতে দুই পাশে যানযটের সৃষ্টি হয়....

চিকিতসকেরা আর কত নির্যাতিত হবেন ?

কেউ কি বলতে পারেন ?

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৫

১০ টাকায় ডাক্তার আর ১৫ টাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

১০ টাকায় ডাক্তার আর ১৫ টাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

১০ টাকায় ডাক্তার আর ১৫ টাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক. 
ঢাকার অভিজাত এলাকায় হোটেল রেডিসন এর ঠিক উল্টো দিকে অার্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের গা ঘেষে গড়ে উঠেছে চকচকে এক বিশাল ভবন। এখানে মাত্র ১০ টাকায় উন্নতমানের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।

হাসপাতালটির নাম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু এ হাসপাতালটিতে রোগী আসেনা তেমন কারন এর যথাযথ প্রচারের অভাব । এখানে মাত্র ১০ টাকা ফি দিয়ে ডাক্তার দেখানো যায়। ১৫ টাকায় মেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ঔষধপত্র সব ফ্রি। এছাড়া কম খরচে আছে বিভিন্ন টেষ্ট এবং অপারেশন এর সুবিধা। আমাদের চারপাশে অনেক খেটে খাওয়া মানুষ আছে তাদের কাছে এ হাসপাতালটির তথ্য পৌছে দিতে পারলে তারা উপকৃত হবে, চিকিৎসার অভাবে অসহায় গরীব মানুষ গুলো হয়ত আলোর মুখ দেখবে।

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৫

ডাক্তারের ফি নেই, নেই ওষুধের দাম..

ডাক্তারের ফি নেই, নেই ওষুধের দাম..


বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেতে চান? মুক্তি সংঘ দাতব্য চিকিৎসালয়ে যান। রাজশাহী মহানগরীর সাগরপাড়া এলাকায় মুক্তি সংঘ দাতব্য চিকিৎসালয়ে বিনামূল্যে শতাধিক রোগীকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে থাকেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: আহসান হাবিব ও সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা: নাজিয়া আফরিন।

শুধু চিকিৎসা সেবাই নয়, দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে ওষুধও বিতরণ করা হয়ে থাকে মুক্তি সংঘ দাতব্য চিকিৎসালয়ে। মুক্তি সংঘ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহম্মেদ কিসলু এবং এই দাতব্য চিকিৎসালয়ের আহবায়ক জাহিদ ইকবাল বাবলা মিলে কাজটি করেন খুবই স্বচ্ছন্দে।

প্রতি শনিবারে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এসব সেবা পেয়ে থাকেন নানান প্রান্ত থেকে আসা রোগীরা। ফলে ভীড়টাও হয় বেশি।

মুক্তি সংঘ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহম্মেদ কিসলু তাদের এই কর্মকাল্ডকে সামাজিক দায়বদ্ধতা হিসেবেই উল্লেখ করেন। বলেন, আই ক্যাম্প, স্বাস্থ্য ক্যাম্পসহ স্বাস্থ্যসেবার আরো বেশ কিছু কাজ হাতে রয়েছে। সবার সার্বিক সহযোগিতা পেলে দুঃস্থ ও গরীব রোগীদের বিনামূল্যে অপারেশনের ব্যবস্থা করবো।

রাজশাহী মহানগরীর সাগরপাড়া এলাকায় ১৯৭২ সালে স্থাপিত হয় মুক্তি সংঘ। স্বাধীনতার পর এই অঞ্চলের খেলাধুলার মান উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখছে এই ক্লাব। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি ২০১৫ সালের জানুয়ারী মাসে চালু হয় মুক্তি সংঘ দাতব্য চিকিৎসালয়.

শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৫

সবজি বিক্রি করে হাসপাতাল গড়েছেন যিনি

সবজি বিক্রি করে হাসপাতাল গড়েছেন যিনি




২৩ বছর বয়সে স্বামী হারিয়েছিলেন সুভাসিনী৷ স্বামীর মৃত্যুর পরই ভেবেছিলেন তাদের মতো গরিবদের জন্য কিছু করবেন৷ পথে পথে সবজি বেচে সামান্য কিছু টাকা জমিয়ে জমিয়ে একটা হাসপাতাল গড়ে ফেলেছেন সুভাসিনী মিস্ত্রী। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার হংসপুকুর এখন অনেকেই চেনেন৷ চেনেন সুভাসিনী মিস্ত্রী নামের অতি সাধারণ এক নারীর কারণে৷ অতি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে সুভাসিনীর বিয়ে হয়েছিল এক দিনমজুরের সঙ্গে৷ সুভাসিনীর বয়স তখন ১২৷

বাধ্য হয়ে বাল্যবিয়ে করা মেয়েটি বিধবাও হয় মাত্র ২৩ বছর বয়সে৷ প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা যান স্বামী। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে বেশ কয়েক বছর বাড়ি বাড়ি গিয়ে থালা-বাসন মেজেছেন৷ তাতে যে আয় হতো তার পুরোটা ব্যয় করেননি, এক পয়সাও হাতে থাকলে তা জমিয়েছেন সুভাসিনী৷ জমিয়েছেন একটি স্বপ্ন পূরণের জন্য৷ স্বামীর মৃত্যুর পরই যে ভেবেছিলেন, ‘সব গরিবকে আর এভাবে মরতে দেয়া যাবে না, গরিবের জন্য একটা কিছু করতে হবে৷’
ওই ‘একটা কিছু করা’ মানে, একটা হাসপাতাল গড়া৷ বাড়ি বাড়ি গিয়ে থালাবাসন মেজে, সবজি কেটেকুটে দিয়ে যেটুকু আয় হয় তা থেকে কয় পয়সাই বা বাঁচে যে হাসপাতাল গড়বেন। আর দশটা সাধারণ মানুষের মতো এমন চিন্তা করলে তার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব হতো না৷ কিন্তু সুভাসিনী, সুভাসিনীর স্বপ্ন, তার প্রতিজ্ঞাটা যে অনন্যসাধারণ৷ গরিবের জন্য হাসপাতাল গড়ার সেই স্বপ্নটাকে কখনো ফিকে হতে দেননি সুভাসিনী৷ স্বামীর মৃত্যুর সময় দিনে মাত্র ৫ পয়সা আয় করতেন সুভাসিনী৷
ঘরভাড়া বাবদ দু’পয়সা দিতেন বাড়িওয়ালাকে, দু’পয়সা যেত খাওয়া-দাওয়ায় আর বাকি এক পয়সা জমাতেন৷ এক সময় শাক-সবজি বিক্রি শুরু করলেন৷ আয় কিছুটা বাড়লেও বিলাসিতার জন্য কখনো একটা পয়সাও ব্যয় করেননি৷ এভাবে অল্প অল্প করেই জমে যায় এক লাখ ভারতীয় মুদ্রা৷ সেই টাকায় হংসপুকুরে এক একর জমি কিনলেন৷ নিজের মাথা গোঁজার জন্য নয়, গরিবের চিকিৎসার জন্য৷ বড় ছেলে ততদিনে স্নাতক হয়েছে৷ দুই ছেলের লেখাপড়ার খরচ দিতে পারছিলেন না বলে মেজ ছেলে অজয়কে অনাথ আশ্রমে দিয়েছিলেন সুভাসিনী৷ অজয় ততদিনে ডাক্তার হয়েছে৷
সুভাসিনী অজয়কেই বললেন, ৪০ বছর ধরে লালন করে আসা স্বপ্নটির কথা৷ শুরু হলো ছোট্ট একটা কুঁড়ে ঘরে গরিব রোগীদের চিকিৎসা৷ অজয়ের ডাক্তার বন্ধুরাও যোগ দিয়েছিলেন বিনা পারিশ্রমিকে গরিবদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার কাজে৷ প্রথম দিনে বিনা খরচে চিকিৎসা পেয়েছিল ২৫২ জন মানুষ৷ এতগুলো মানুষকে সার বেঁধে দাড়িয়ে থাকতে দেখে মৃত স্বামীর কথা মনে পড়েছিল, নিজের অজান্তেই কেঁদে ফেলেছিলেন সুভাসিনী মিস্ত্রী৷
এখন দুঃস্থ রোগীদের মুখে হাসি ফোটান সুভাসিনী৷ একজন সৎ, নিষ্ঠাবান মানুষের মানবকল্যাণের স্বপ্ন পূরণের সংকল্প এবং প্রয়াস দেখে অনেকেই এগিয়ে এসেছেন৷ ১৯৯৩ সালের সেই ছোট্ট কুঁড়ে ঘরটি তাই আজ আয়তন এবং খ্যাতিতে অনেক বড়৷ তিন একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে সুভাসিনীর স্বপ্নের সেই হাসপাতাল৷ ২৩ বছর বয়সে বৈধব্য বরণ করা সুভাসিনী, ঘরে ঘরে গিয়ে থালাবাসন মেজে, পথে পথে শাক-সবজি বিক্রি করে এক পয়সা দু’পয়সা করে জমানো সুভাসিনী তার স্বপ্নের হাসপাতালটির নাম রেখেছেন, ‘হিউম্যানিটি হসপিটাল’৷

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৫

ডাক্তার না হয়েও সত্যি চমৎকার লিখেছেন তিনি-

ডাক্তার না হয়েও সত্যি চমৎকার লিখেছেন তিনি-

ডাক্তার না হয়েও সত্যি চমৎকার লিখেছেন তিনি-
ডাক্তারদের পাশ করতে এমনিতেই গড়ে ২/৩ বছর বেশী লাগে (MBBS এর duration এর কারণে), গড়ে ৬ বছর, ৫ বছর কোর্স আর ১ বছর ইন্টার্নি (সেশন জট থাকলে আরও বেশী) । তার মানে অন্য কোন বিষয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের থেকে ২/৩ বছর জুনিয়ররা এক সাথে পাশ করে বিসিএস দেয়। এরপর ধরে নিলাম, বিসিএসে ঢুকল। আপনারা কি জানেন প্রশাসনে ডাক্তারদের রাঙ্কিং কি? এক সাথে একই ব্যাচে ঢুকেও ডাক্তারকে স্যার বলতে হয় ৪/৫ জনকে। যারা তার থেকে ২ বছর ছোট।
অন্যদের উপজেলা পরিষদে থাকবার বসবার জায়গা আছে, এমন কি গাড়িও আছে কারও কারও, আর ডাক্তারদের পোস্টিং হয় ইউনিয়ন লেভেলে। ইউনিয়নের মেম্বারের বাড়ির চাকরের জ্বর হলেও ডাক্তারকে রাত ৩ টায় তাকে বাড়ি যেয়ে দেখে আসতে হবে, না হলে কপালে মার আছে।
সরকারী হাসপাতালে ডাক্তাররা কি করেন? ফাকি মারেন তাই না? ডাক্তার নাই, তারপরও যারা আছেন তারা গড়ে শুধু আউটডোরেই ১১০ জনের উপরে রুগী দেখেন। আর ইউকেতে একজন জিপি গড়ে ৩০-৪০ জন রুগী দেখেন। পার্থক্যটা দেখেন, কোয়ালিটি কেন ভালো এখানে বুঝতে পারবেন। আর জানিয়ে রাখি এই ডাক্তারদের একটা বড় অংশ কিন্তু বাংলাদেশের ডাক্তার। দেশে তারা “ভুল চিকিৎসা” করলেও ইউকেতে কিন্তু তাদের পারফরমেন্স খুব ভালো, তারাই সেখানে বিশ্বমানের সেবা দিয়ে থাকেন।
আমার স্ত্রীর কয়েকজন বন্ধুদের দেখেছি যারা ওখানে জিপি হয়ে গেছেন। এই ডাক্তাররা যখন এদেশে সরকারী চাকরি করে তখন বেতন শুরু করে ১৯,০০০ টাকায় আর বাইরের যে কোন উন্নত দেশে সর্বোচ্চ বেতন বরাদ্দ থাকে ডাক্তারদের জন্য। ইউকেতে জিপির (জেনারেল প্রাক্টিসনার) না ট্রেইনি ডাক্তারের বেতনও শুরু হয় বাংলাদেশী টাকায় ২,৫০,০০০ টাকায়। আর নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে (সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা) কাজ করলে তার জন্য আলাদা পয়সা দেয়া হয়। আমরা না মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে যাচ্ছি? যারা নিজেদের ডেভেলপড কান্ট্রি বলে, তারাতো সঙ্গত কারনেই ডাক্তারদের বেশী বেতন দেয়। তাই নিজেদের উন্নয়নের জন্য এই পরিবর্তনও জরুরী।
( http://www.practicelink.com/magazine/vital-stats/physician-compensation-worldwide/ )।
এবার ইউকে ডাক্তার দেখানোর অভিজ্ঞতার কথা বলি, একবার আমি সার্জারিতে গেলাম খুব ব্যাক পেইন নিয়ে। রিসেপশানে কম্পিউটার চেক করে রিসেপশনিশ্ট বলল ১৭ দিন পর দুপুর ২:৩০ টায় আপনি দেখাতে পারবেন। জি, ১৭ দিন পরের কথায় বলেছিল।(যারা এই তথ্য ভুল প্রমান করতে চান তারা দয়া করে এই লিঙ্কে গিয়ে ভুলটা ধরিয়ে দিবেন http://
www.nhs.uk/Services/GP/Overview/
DefaultView.aspx?id=40793 )। বাংলাদেশে ডাক্তার নাই, ফাঁকিবাজ সব। কিন্তু এমন কখনও কি হয়েছে আপনি সরকারী হাসপাতালে গেছেন আর আপনাকে না দেখে ফিরিয়ে দিয়েছে, তো সেটা রাত ৪ টা হলেও। বা বেড খালি নাই সে জন্য বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে? আমি নিশ্চিত বলতে পারি দেয়নি। আমার স্ত্রীর ২ দিনের লেবার পেইন থাকা সত্ত্বেও ইউকেতে কিন্তু আমার এই অভিজ্ঞতা হয়েছে- বাড়িতে ফেরত পাঠিয়েছে। (হাসপাতালের ঠিকানা এখানে পাবেন http://
www.bhrhospitals.nhs.uk/for-patients-and-visitors/queens-hospital.htm তারিখ ছিল ৩/১১/২০১০ এবং ১৪/১১/২০১০)। বাংলাদেশে কি কখনও শুনেছেন আজ হসপিটালের অমুক ডাক্তারের ২৫টা রুগী দেখা হয়ে গেছে আজ আর দেখবেন না, কাল সকালে আসেন। বাইরে কিন্তু শুনবেন। শুধু এই দেশেই হাসপাতালে ৫০০ বেড, রুগী ভর্তি আছে ১৫০০, তারপরও ৩০০ রোগী যাক, দেখবেন বারান্দায় পাটি বিছিয়ে দিয়ে ভর্তি করে নিয়েছে।
বলে নেয়া ভালো, বেড খালি না থাকলে বাড়ি পাঠিয়ে দেবার পলিসি কিন্তু কুইনস হসপিটাল ম্যানেজমেন্টের ছিল, ডাক্তারদের না। তেমনই বারডেমের বা বিএসএমএমইউ তে কয়টি আইসিইউ বেড থাকবে, বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত হাসপাতাল ম্যানেজমেন্টের, যে ডাক্তার ওখানে দায়িত্ব পালন করেন, এগুলো উনার এখতিয়ার ভুক্ত না। উনি চাইলেই ১টা বেড ওখানে বাড়াতে পারেন না। তাই যদি আইসিইউ দরকার হয় সেক্ষেত্রে বেড খালি না থাকলে আপনাকে ডাক্তার অন্য হসপিটালে যাইতে বলতে পারেন। কারন যার আইসিইউ দরকার হয় তাকে পাটি বিছিয়ে রাখলে হয়না, প্রত্যেকের জন্য আনুষঙ্গিক অনেক যন্ত্রপাতি দরকার হয়।
যাদের ডাক্তারদের প্রতি বিস্তর ক্ষোব, তাদের প্রতি অনুরোধ ডাক্তারদের প্রতি একটু মানবিক হন। একজন অনারারী ডাক্তারকে সপ্তাহে কত দিন, কত ঘণ্টা কাজ করতে হয় একটু খোঁজ নেন। হসপিটাল থেকে ক্লিনিক আর ক্লিনিক থেকে হসপিটাল করে। খাওয়া ঘুমের কোন নিয়ম নাই। আর এই মেধা, পরিশ্রম দিয়ে এত বছর পর তারা কত টাকা আয় করে জানেন? ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা। যেখানে তার সাথে স্কুল কলেজে পড়ুয়া কম মেধাবীরাও ৯-৫ টা অফিস করে কেউ কেউ লাখের উপরে বেতন পায়। ডাক্তারদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ঠিক করেন (৪০ ঘণ্টা যা অন্যরা করে), এর বেশী কাজ করতে হলে তাকে আলাদা করে পয়সা দেন, দেখবেন হাসপাতালে ডাক্তার থাকছেন । এছাড়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডাক্তার রাখতে হলে বাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে মেধার মূল্যায়ন অনুযায়ী প্রণোদনা দেন দেখবেন ঠিকই প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডাক্তার থাকছেন। ব্যাংকের জন্য যদি আলাদা বেতন স্কেল হতে পারে, ডাক্তারদের জন্য কেন নয়? যারা বাঙ্কে চাকরি করে তারা কি ডাক্তারদের থেকে বেশি মেধাবী না কি বেশী গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে? একজন ব্যাংকারের ২ বছর অভিজ্ঞতা হলে যদি ৪০,০০০ বেতন পায়। ডাক্তারকে অন্ততপক্ষে ৪০,০০০ দিয়ে বেতন শুরু করেন, কারন ডাক্তার ২ বছর অতিরিক্ত পড়াশুনার পিছনে ব্যয় করেছেন আর এই সময় তিনি আয় করা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
দিনের পর দিন কোন ব্রেক ছাড়া কাজ করলে আপনারা যে কেউই রুক্ষ হয়ে পড়বেন, একটু উনিশ বিশ হলে ধমক দিবেন। ডাক্তারদের একটু মানসিক আর শারীরিক বিশ্রামের সুযোগ দেন, দেখবেন উনাদের ব্যাবহারেই আপনি অর্ধেক ভালো হয়ে গেছেন। আর এই জন্য দরকার রাষ্ট্রের পলিসি লেভেলে কিছু পরিবর্তন।
শুরুতেই বলেছি এদেশের ডাক্তাররা যথেষ্ট যোগ্য, তাই পশ্চিমে উনাদের জায়গা করে নিতে তেমন বেগ পেতে হয়না। এভাবে চলতে থাকলে কিন্তু তার শেষটা আমাদের আর এই দেশের মানুষকেই ভোগ করতে হবে।
এখন আপনারা বিবেচনা করেন কি করবেন?