ব্যক্তিত্ব লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ব্যক্তিত্ব লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৬

ক্যানসার গবেষণায় বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরসাফল্য

ক্যানসার গবেষণায় বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরসাফল্য

বর্তমান সময়ে সম্ভবত ক্যানসার সবচেয়ে আলোচিত ও ভীতিকর রোগ। ক্যানসার নিয়ে মানুষের মধ্যে রয়েছে অনেক অজ্ঞতা ও অসচেতনতা। মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার হতে পারে। সকল ক্যানসারের ভয়াবহতা ও পরিণতি এক নয়। ক্যানসার যদি খুব শুরুতেই শনাক্ত (early diagnosis) করা যায় তাহলে এর চিকিৎসা অনেক সহজ হয়ে যায়। আর এ থেকে মুক্তির সম্ভাবনাও বেড়ে যায় বহু গুনে। ক্যানসার শনাক্ত করার জন্য আমরা বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করি। শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় প্রচলিত এসব পদ্ধতিগুলোর রয়েছে নানাবিধ সীমাবদ্ধতা। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে (early stage) ক্যানসার শনাক্তকরণের সহজ ও অধিক কার্যকরী (more efficient) পদ্ধতি উদ্ভাবনের কাজে নিয়োজিত আছেন গবেষকেরা। বাংলাদেশের সন্তান ড. মো. জসিম উদ্দিন চিকিৎসা বিজ্ঞানের তেমনই একটি বিষয়ে গবেষণা করছেন আমেরিকার ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে (Vanderbilt University)।
ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়েই আক্রান্ত কোষগুলোতে কক্স-২ (COX-2) নামক একটি এনজাইমকে অতিমাত্রায় উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। মো. জসিম উদ্দিন ও তাঁর গবেষণা দল বিশেষ আলোক সংবেদী কিছু রাসায়নিক যৌগ আবিষ্কার করেছেন। যেগুলো নির্দিষ্টভাবে (Selectively) কক্স-২ এনজাইমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শুধুমাত্র ক্যানসার আক্রান্ত কোষগুলোকে শনাক্ত করতে সক্ষম। বিষয়টিকে জোনাকি পোকার সঙ্গে তুলনা করুন। অন্ধকারে যখন জোনাকি পোকারা জ্বলে ওঠে, তখনই এদের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। পেটেন্টেড (Patent No. US 2010 / 0254910) এই রাসায়নিক যৌগগুলোর একটি ফ্লোরকক্সিব এ (Fluorocoxib A) নামে পরিচিত। প্রাণীর দেহে প্রবেশ করানোর পর এটি কক্স-২ এনজাইমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তীব্রভাবে জ্বলে ওঠে। আক্রান্ত কোষগুলোতে খুব সামান্য পরিমাণে কক্স-২ এনজাইম উপস্থিত থাকলেও সেগুলোকে সহজেই শনাক্ত করা যাচ্ছে। তার এই আবিষ্কার ২০১০ সালে প্রকাশিত হয়েছে একটি আন্তর্জাতিক মেডিকেল জার্নালে (Cancer Research, 2010, 70,3618-3627)। উদ্ভাবনের খবর উঠে আসে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। নানান সম্মানের পাশাপাশি, এই সফলতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে তিনি ওমিক্স (Omics International) গ্রুপের রিকগনিশন সনদও লাভ করেন। খুব শিগগিরই এই প্রযুক্তিটি মানবদেহে প্রয়োগের আশা করছেন তিনি। যেটি তার দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা। এই যৌগ দিয়ে ত্বক (skin), মূত্রথলি (bladder), অন্ননালি (esophageal) ও কোলন (colon) ক্যানসার খুব প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

মো. জসিম উদ্দিনের জন্ম নোয়াখালীর বাটইয়া গ্রামে। তিনি হাজি মো. হানিফ উদ্দীন ও বেগম সাফিয়া খাতুনের প্রথম সন্তান। তার শৈশব ও বেড়ে ওঠা ঢাকার জিগাতলায়। ঢাকার রাইফেলস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে। অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদের কাছে তাঁর গবেষণার হাতেখড়ি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষে জসিম উদ্দিন কর্মজীবন শুরু করেন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক প্ল্যান্টে। পরে ১৯৯৭ সালে জাপান সরকারের মনবুসো (Monbusho) বৃত্তি নিয়ে চলে যান জাপানের শিনসু বিশ্ববিদ্যালয়ে (Shinshu University)। সেখানে ডক্টরাল গবেষণা করেছেন অধ্যাপক আইওয়াও ইয়ামমোটোর (Professor Iwao Yamomoto) সঙ্গে। তারপর আলবার্টা হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের বৃত্তি নিয়ে কানাডার আলবার্টা বিশ্ববিদ্যালয়ে (University of Alberta) পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা করেন। অবশেষে ফ্যাকাল্টি হিসেবে গবেষণা শুরু করেন ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগে। বর্তমানে সেখানেই তিনি সহযোগী অধ্যাপক (গবেষণা) হিসেবে কর্মরত আছেন।
বাংলাদেশে গবেষণার অবস্থা তাঁকে ব্যথিত করে। বলেন, বাংলাদেশে অফুরন্ত মেধা ও সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বিজ্ঞানের মৌলিক ও অপরিহার্য বিষয়ে কোনো উন্নতমানের গবেষণা এখনো চোখে পড়ছে না। পিএইচডি ডিগ্রি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গেও হতাশা প্রকাশ করলেন। বললেন, স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে দেশে উচ্চ শিক্ষিতের হার অনেক কম ছিল। তখন শিক্ষক নিয়োগে পিএইচডি ডিগ্রিধারী প্রার্থী পাওয়া যেত না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। এখনো সেই নিয়ম ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তা নেই বলেই তিনি মনে করেন।
ফ্লোরকক্সিব-এশিক্ষার্থী ও গবেষকেরা যেন দেশেই করতে পারে উন্নতমানের গবেষণা সে জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথা বললেন। প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা নিয়ে সহযোগিতা করতে তিনি আগ্রহী। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণায় বিনিয়োগের জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে আসা উচিত বলে তিনি মনে করেন। স্বপ্ন দেখেন, একদিন বাংলাদেশ থেকেই বেরিয়ে আসবে রসায়ন ও চিকিৎসা শাস্ত্রসহ বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী।
প্রতিনিয়তই বাংলাদেশের কথা মনে পড়ে তাঁর। দেশে যোগাযোগ হয় নিয়মিত। সুযোগ পেলেই দেশে যান। এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে সংসার। গবেষণা, শিক্ষকতা আর জীবন-সংসারের রসায়ন নিয়ে কেটে গেছে বহু বছর। মানব কল্যাণে তাঁর গবেষণা অবদান রাখবে, সর্বশক্তিমানের কাছে এটুকুই চাওয়া। তাঁর গবেষণা নিয়ে বিস্তারিত জানতে তাঁর ওয়েবসাইট দেখতে পারেন: <https://goo.gl/g68Vja>

*ড. রউফুল আলম, গবেষক, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া, ফিলাডেলফিয়া, যুক্তরাষ্ট্র। ই-মেইল: redoxrouf@yahoo. com

মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৬

হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আলাদা করুন নয়তো সচিবালয়কে উন্মুক্ত করে দিন .।

হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আলাদা করুন নয়তো সচিবালয়কে উন্মুক্ত করে দিন .।


কয়েক বছর আগে পত্রিকায় দেখলাম ডি.সি. পোস্টের জন্য বাছাই পরীক্ষায় ইংরেজী চিঠি ড্রাফট করতে গিয়ে ৩২ জনের মধ্যে মাত্র দুজন কাজটি সঠিকভাবে করতে পেরেছিলেন। শতকরা হিসেবে ৬% মাত্র।
এখন চিন্তা করুন আমাদের সচিবালয়ের কি করুন দশা। এটা হয়তো আসল চিত্র না, তারপরও আসল চিত্রটা কতটুকু আর উন্নতর হবে?
প্রশাসনিক ক্যাডারের এ সব কর্মকর্তারা অন্য সব ক্যাডারের উপর ছড়ি ঘুরাবেন কোন যুক্তিতে? ফেলটুরা সচিবালয়ে প্রবেশাধিকার পেলে পেশাজীবিদের জন্য সচিবালয়ের পথ বন্ধ থাকবে কেন?
আমরা তো মনে করি সচিবালয়ে যোগদানের বিষয়টা উন্মুক্ত ও নিরপেক্ষ প্রতিযোগীতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।দেশ গড়ার সুতিকাগারের দায়িত্বটা মেধাবীদেরই হাতে থাকা উচিত, তা যে প্রফেশন থেকেই আসুন না কেন?
প্রশাসনিক ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন তারপর নানান স্তর পেরিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। এ গতিপথে এমন কি গায়েবী জ্ঞান অর্জন করে ফেলেন যে, তিনি একাধারে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রকৌশল, কৃষি, পানি সম্পদ ইত্যাদি টেকনিকেল মন্ত্রনালয় সমুহের প্রায়োগিক ও অবকাঠামোগত বিশেষজ্ঞ হয়ে তার ৮/১০ ব্যাচ সিনিয়র পেশাজীবিদের উপর ছড়ি ঘুরানোর ক্ষমতালব্ব্দ হন। এটা নিতান্তই হাস্যকর ও ডগমেটিক একটা ব্যাপার নয় কি?
পেশাজীবি ক্যাডাররা প্রশাসনিক ক্যাডারের জুনিয়র ব্যাচের একজনকে কেন স্যার সম্বোধন করবেন?
এর জবাব কি রাষ্ট্রের কাছে আছে? এ সব প্রশাসনিক এনারকি গুলোর সংষ্কার অতীব জরুরী।
সাবেক মন্ত্রীপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার স্বীকার করে বলেছেন, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী পদে চাকরির জন্য পৃথিবীর কোথাও এক্সট্রাঅডিনারি মেধাবীরা ভীড় জমান না। ট্যালেনটেড যারা তারা আবিষ্কার করেন নতুন কিছু সৃষ্টি করেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির মেধাবীরা সেসব প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে জীবন পার করে দেন’।
স্বাধীনতার পর দেশে জনবল সংকট ছিল তখন বিশেষ পরিস্থিতিতে তা গ্রহনযোগ্য ছিল, এখন সে প্রেক্ষাপট বদলে গেছে, ডিজিটাল যুগেও সে প্রথা কেন রয়ে যাবে?
সার্ক দেশ সমুহের মধ্যে কোথায় এ সিস্টেম আছে?
আমরা বলছি না, সচিবালয়ে মেধাবীরা নেই, দেশের নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পরীক্ষায় ভাল রেজাল্টধারী অনেকেই সেখানে আছেন।কিন্তু তাদের অাধিপত্য কি খুব বেশী আছে। আমরা ঢালাওভাবে একটি বিশেষ ক্যাডারের অনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে দেশের নীতি নির্ধারনী ফোরামে সকল মেধাবীদের সুযোগ দেয়ার কথা বলছি।স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর প্রশাসনের মূল কেন্দ্রে ২য় বা তৃতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের অাধিপত্য কেন থাকবে?
চিকিৎসকদের অনেক সমালোচনা সত্বেও তাদের অনেক অর্জন আছে দেশ ও জাতির জন্য।আমলাদের অর্জনটা কি? বিশ্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ের গ্রেডিং কত?
দুর্নীতির চ্যাম্পিয়নশীপের দায়ভার কেবল রাজনৈতিক নেতাদের মাথায় থাকবে কেন? দুর্নীতির অভিযোগের সর্বাগ্রে দায় দায়িত্ব নেয়ার কথা ‘পলিসি মেকার’ আমলাদের। কারন রাজনৈতিক দল আসা-যাওয়ার মধ্যেই থাকে, সচিবালয় স্থায়ী। কিন্তু বরাবরই এ সব ব্যর্থতা সুচতুর সচিবরা রাজনৈতিক দলের ঘাড়ে চালান করে পার পেয়ে যান।
সাবেক সচিব আকবর আলী খানের ভাষায় আমাদের আমলাতন্ত্র বৃটিশদের রেখে যাওয়া এক প্রশাসনিক isomorphism. বাইরে ফিটফাট ভেতরে বেশ রুগ্ন ও দুর্বল। তাদের কাজ কর্ম অনেকটা প্রাণীদেহের molecular mimacry টাইপ। বিষহীন সর্প যেমন গায়ের রঙ পরিবর্তন করে শিকারীকে ভয় দেখায়।
রাজনৈতিক দল গুলো যতই প্রতিশ্রুতি দিক না কেন সচিবালয়ের সংষ্কার ও গনমুখী প্রশাসন ছাড়া কর্মসূচীর সুফল পাবে না জনগন। এ সংষ্কার অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। কোঠারী স্বার্থবাদীদের উৎপাটন না করে সৎ ও দক্ষ প্রশাসন গড়া সম্ভব না।
অযোগ্য ও অসৎ কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রশাসনে সব পেশার মেধাবীদের প্রবেশের সুযোগ দেয়া প্রয়োজন। এটা সময়ের দাবী।
একটা কথা প্রচার সুকৌশলে করা হয় যে, ডাক্তাররা প্রশাসন বুঝেন না।মনে হয় এরা দেশের ‘অটিস্টিক শিশু’।
কিন্তু প্রশ্ন হলো ডাক্তারদের কি ইউ.এন.ও বা ডি.সি ‘র সমান ক্ষমতা দেয়া হয়েছে? হাত পা বেধে কি প্রশাসক হওয়া যায়? এ ব্যবস্থায় একজন চিকিৎসক সমন্বয়কারীর ভূমিকায় রাখতে পারে মাত্র। যা চিকিৎসকরা যোগ্যতার সাথেই করছে।
সচিবালয়ের দার উন্মুক্ত করুন দেশের শয়ে শয়ে মেধাবী ডাক্তার তৈরী আছে। তখন দেখা যাবে চিকিৎসকরা প্রশাসন বুঝেন কিনা। প্রশাসনিক নির্বাহী হওয়ার হাতছানি ছাড়া একজন চিকিৎসক নিজেকে সেভাবে গড়তে যাবেন কেন।
সচিবালয় যদি উন্মুক্ত না করতে পারেন তাহলে চিকিৎসকদের এ মুহুর্তের দাবী স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়কে আলাদা করে তার জন্য আলাদা বেতন কাঠামো ও বিধি প্রণয়নের সুযোগ দেয়া হোক।
বিশ্বের অনেক দেশেই এটা করে সুফল পাওয়া গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের অনেকগুলো দেশেই চিকিৎসকরাই উচ্চ বেতনধারী পেশাজীবির মর্যাদাপ্রাপ্ত। বেসরকারী মেডিকেলের কিছু অব্যবস্থাপনা সত্বেও এখনও পর্যন্ত গড়পড়তা হিসেবে দেশের বেশীর ভাগ মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর সমাবেশ এ পেশাতেই।
পোষ্ট না থাকা সত্বেও শয়ে শয়ে অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব পদোন্নতি নিয়ে জনগনের টাকার শ্রাদ্ধ করতে পারেন আর স্বাস্থ্য ক্যাডারের একজন মেধাবী চিকিৎসক সারা জীবন গ্রামে থেকে মেডিকেল অফিসার হিসেবে অবসরে যাবেন এই অসম কৌতুককর অবস্থার কখন অবসান ঘটবে?
কেন চিকিৎসকরা পরিশ্রমের মর্যাদা পাবেন না? তাদের পোস্টিং দেবেন কিন্তু অফিস দেবেন না, অফিস থাকলে ও আসবাব নেই, আবাসিক ব্যবস্থা নেই, গাড়ী নেই, প্রমোশন নেই, ২৪ ঘন্টা শ্রম ঘন্টার বেতন নেই……. নেই তো নেই তা নিয়ে চিকিৎসকদের খেদোক্তি নেই। তারপরও যদি থাকত যথার্থ মর্যাদা আর নিরাপদ কাজের পরিবেশ।
এতটুকু প্রত্যাশা দেশের মেধাবী সন্তান হিসেবে নিশ্চয় বেশী না। কাজের ধরন ও পরিবেশ বিবেচনায় চিকিৎসকরা অন্য পেশার প্রতিদ্বন্ধী অবশ্যই না, এবং সে রকম তারা মনেও করে না।তারপরও তারা বৈষম্যের শিকার কেন হবে? রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় কেন অবহেলিত থাকবে।
এ সব সমস্যা নিরসনে পেশাজীবিদের মোর্চাও তেমন সক্রিয় না।আমাদের পেশাজীবি মোর্চাগুলো পেশার চেয়েও রাজনৈতিক সংযোগ রক্ষায় অধিক মনোযোগী বিধায় দাবী আদায়ে আকাংখিত ফলাফল পান না।
এখন সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধভাবে কার্যকর ও যৌক্তিক আন্দোলন গড়ে তোলার।#

লেখা -  ডাঃ রেজাউল করিম 


বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৫

এনাটমির প্রফেসর ডাঃ মনসুর স্যার আর নেই

এনাটমির প্রফেসর ডাঃ মনসুর স্যার আর নেই


বাংলাদেশের এনাটমির লিজেন্ড প্রফেসর মনসুর খলিল স্যার আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন , ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন । আল্লাহ স্যারকে ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাতবাসী করুন ।
আমার এখনও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে , আরো খারাপ লাগছে মহসিন স্যারের জন্য , পৃথিবীতে উনি একবারেই একা হয়ে গেলেন ।
ফার্স্ট ইয়ারে স্যারের ক্লাস পেয়েছি , আমাদের সম্বোধন করতেন "শোন বাচ্চারা " বলে , এমফিল এর ফার্স্ট পার্ট এর ভাইবা উনার কাছেই দিয়েছি ।
এইত কয়দিন আগেও আমাদের নাদিয়া আপুর থিসিস ডিফেন্ড ভাইবা নিতে এসেছিলেন , দেখা হয়েছে তখনও । আমাদের সবাইকে একে একে আবার পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন মহসিন স্যার , আর আমাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় বলছিলেন - এই ছেলেটা ইমিউনো কম্প্রোমাইজড , সারাবছর ঠান্ডা বাধায়ে বসে থাকে ।
ভাবতেই পারছি না , স্যারকে শেষবারের মত দেখতে পাব না , এনাটমিক্যাল সোসাইটির কনফারেন্সের জন্য ঢাকায় এসেছিলাম , ইচ্ছা ছিল শনিবার দেখা করব স্যারের সাথে ।
খুব ইচ্ছা ছিল আমার থিসিস ডিফেন্ড স্যারের কাছে দেব ।
আল্লাহ তুমি উনাকে মাফ করে দিও , জান্নাতি হিসেবে কবুল কোরো ।
নাদিয়া আপুর থিসিস ডিফেন্ডের সময় স্যার বলছিলেন - এমএমসি তোমার মা , এখান থেকে এমফিল ডিগ্রী নিয়ে যাচ্ছ , নিজের মা কে কখনও ভুলে যেও না ।
[ স্যারের জন্য সবাই খুব দোয়া করবেন প্লিজ ]

লেখা - ডাঃ যুবায়ের 

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৫

ডাক্তারের ফি নেই, নেই ওষুধের দাম..

ডাক্তারের ফি নেই, নেই ওষুধের দাম..


বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেতে চান? মুক্তি সংঘ দাতব্য চিকিৎসালয়ে যান। রাজশাহী মহানগরীর সাগরপাড়া এলাকায় মুক্তি সংঘ দাতব্য চিকিৎসালয়ে বিনামূল্যে শতাধিক রোগীকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে থাকেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: আহসান হাবিব ও সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা: নাজিয়া আফরিন।

শুধু চিকিৎসা সেবাই নয়, দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে ওষুধও বিতরণ করা হয়ে থাকে মুক্তি সংঘ দাতব্য চিকিৎসালয়ে। মুক্তি সংঘ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহম্মেদ কিসলু এবং এই দাতব্য চিকিৎসালয়ের আহবায়ক জাহিদ ইকবাল বাবলা মিলে কাজটি করেন খুবই স্বচ্ছন্দে।

প্রতি শনিবারে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এসব সেবা পেয়ে থাকেন নানান প্রান্ত থেকে আসা রোগীরা। ফলে ভীড়টাও হয় বেশি।

মুক্তি সংঘ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহম্মেদ কিসলু তাদের এই কর্মকাল্ডকে সামাজিক দায়বদ্ধতা হিসেবেই উল্লেখ করেন। বলেন, আই ক্যাম্প, স্বাস্থ্য ক্যাম্পসহ স্বাস্থ্যসেবার আরো বেশ কিছু কাজ হাতে রয়েছে। সবার সার্বিক সহযোগিতা পেলে দুঃস্থ ও গরীব রোগীদের বিনামূল্যে অপারেশনের ব্যবস্থা করবো।

রাজশাহী মহানগরীর সাগরপাড়া এলাকায় ১৯৭২ সালে স্থাপিত হয় মুক্তি সংঘ। স্বাধীনতার পর এই অঞ্চলের খেলাধুলার মান উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখছে এই ক্লাব। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি ২০১৫ সালের জানুয়ারী মাসে চালু হয় মুক্তি সংঘ দাতব্য চিকিৎসালয়.

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

এসব ডাক্তারদের অবদান তুলে ধরার কেউ নেই....

এসব ডাক্তারদের অবদান তুলে ধরার কেউ নেই....


আপনার জন্ম যদি ১৯৯২ সালের পর হয়ে থাকে
এবং শিশু অবস্থায় ছোট-খাট জ্বর হবার পর জ্বর
কমানোর ঔষধ সেবন করেও আপনি যদি বেঁচে
থাকেন, তাহলে আপনার বেঁচে থাকার
পেছনে এই মানুষটার সামান্য অবদান থাকার
সম্ভাবনা রয়েছে। যাদের সন্তান বা ছোট
ভাইবোন ঐ সময়ের পর জন্মগ্রহণ করেছেন,
তাদের জন্যও এই কথাটা প্রযোজ্য।

বাংলাদেশে শিশুদের জ্বরের ঔষধ
হিসেবে প্যারাসিটামল সিরাপ প্রচলিত।
১৯৯২ সাল পর্যন্ত বেশ কিছু কোম্পানীর
প্যারাসিটামল সিরাপের মধ্যে বিষাক্ত
একটি উপাদান ছিল যার কারণে অনেক শিশু
প্যারাসিটামল সিরাপ গ্রহণের পর কিডনি
রোগে মারা গেছে। ডা. হানিফ সর্ব প্রথম
প্যারাসিটামল সিরাপের মধ্যে এই
বিষাক্ত উপাদানটি সনাক্ত করেন এবং এর
কারণে শিশুদের কিডনি রোগে মৃত্যুর কারণ
নির্নয় করেন।

১৯৮২ সালে ডা. হানিফ তৎকালীন পিজি
হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় শিশুদের
কিডনি ডায়ালাইসিস বিভাগে দায়িত্ব
পালনের সময় লক্ষ্য করেন যে অনেক শিশু
কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার
জন্য আসছে এবং তাদের সবাই শেষ পর্যন্ত
মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। বিষয়টির কারণ তখন
তিনি বা হাসপাতালের কোন ডাক্তারই
ধরতে পারেন নি। কিছুদিন পর তিনি উচ্চ
শিক্ষার্থে বিদেশে চলে যান। এর পর ৯০
সালের দিকে দেশে ফিরে এসেও তিনি
একই অবস্থা দেখতে পান। বিষয়টি তাঁকে
বিচলিত করে এবং বিস্তারিত অনুসন্ধান
করে দেখতে পান যে, এই কিডনি
রোগাক্রান্ত শিশুদের সবাই জ্বরে আক্রান্ত
হয়ে প্যারাসিটামল সিরাপ গ্রহণ করেছিল।
ডা. হানিফ বেশ কয়েকটি ঔষধ কোম্পানীর
তৈরী প্যারাসিটামল সিরাপ যুক্তরাষ্ট্রে
পরীক্ষার জন্য পাঠান এবং দেখতে পান যে,
কয়েকটি কোম্পানীর প্যারাসিটামল
সিরাপে বিষাক্ত ডাই-ইথিলিন গ্লাইকোল
রয়েছে যে কারণে শিশুদের কিডনি বিকল
হয়ে তারা মারা যাচ্ছে। তৎকালীন পিজি
হাসপাতাল বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করে
দেখতে পায় কেবলমাত্র ১৯৮২ থেকে ১৯৯২
সময়কালে ঐ হাসপাতালেই প্রায় ২৭০০ শিশু
কিডনি বিকল হয়ে ডায়ালাইসিস করতে
এসে মৃত্যুবরণ করেছে। অন্যান্য হাসপাতালের
পরিসংখ্যান এবং হাসপাতালে চিকিৎসা
না নেয়া শিশুদের সংখ্যাটা বিবেচনায়
নিলে মৃত্যুর সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি
হবে বলেই ধরে নেয়া যায়।

বিষয়টি ধরা পরার পর ১৯৯২ সালে ড্রাগ
কোর্টে চারটি ঔষধ কোম্পানীর বিরুদ্ধে
মামলা হয়। বলা বাহুল্য ঔষধ কোম্পানীগুলো
বিত্তবানদের প্রতিষ্ঠান তাই তারা ১৯৯৪
সালে হাইকোর্টে গিয়ে মামলাটি
স্থগিত করে দেয়। শুধু তাই নয়, ড্রাগ কোর্টের
কর্মচারীদের সহায়তায় মামলার নথিপত্র
পর্যন্ত গায়েব করে দেয়া হয়। ২০০৯ সালে
যখন আবারো ডাই-ইথিলিন গ্লাইকোল
মিশ্রিত বিষাক্ত প্যারাসিটামল সিরাপ
সেবন করে নতুন করে কিছু শিশু আক্রান্ত হলো
তখন আবার সেই মামলা চালানোর ব্যবস্থা
করা হয় এবং সেটিও এই ডা. হানিফেরই
কারণে। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, এই ১৪ বছরে
বাংলাদেশ ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন বা
সরকারের এটর্নি জেনারেল কেউই
হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের
জন্য চেষ্টা করেন নাই।

যে ঔষধ কোম্পানীর প্যারাসিটামল সিরাপ
সেবন করে সবচেয়ে বেশি শিশু নিহত
হয়েছে সেই ঔষধ কোম্পানী এডফ্লাম এর
মালিক হেলনা পাশাকে ড্রাগ কোর্টের
রায়ে ২০১৪ সালের ২২ জুলাই ১০ বছরের
কারাদণ্ড দেয়া হয় কিন্তু মাত্র ৫২ দিন
কারাবাস করে তিনি একই বছর ১১ সেপ্টেম্বর
হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে বেড় হয়ে
আসেন। মামলায় নিযুক্ত সরকারী ডেপুটি
এটর্নি জেনারেল শফিউল বাশার
ভাণ্ডারী হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে
আপিল করেননি। শত শত শিশু নিহতের জন্য
দায়ী একজন মানুষ এভাবেই শাস্তি থেকে
রক্ষা পেয়ে যান।

এই বিষাক্ত প্যারাসিটামল সিরাপের
বিষয়ে লেখালেখি করার কারণে এবং
বারবার বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীর
পারাসিটামল সিরাপ পরীক্ষা করে তাতে
বিষাক্ত ডাই-ইথিলিন গ্লাইকোল সনাক্ত
করার কারণে ডা. হানিফকে কম ভোগান্তি
পোহাতে হয়নি। ঔষধ কোম্পানীগুলো
বারবার তাঁকে কোর্টে নিয়ে নিজেদের
উকিল দিয়ে হেনস্তা করেছে এবং তাঁকে
একঘরে করে রাখার চেষ্টা করেছে। ঘুষ
দিয়ে ড্রাগ কোর্টের কর্মচারীদের
সহায়তায় উনার সরবরাহ করা ল্যাবরেটরি
টেস্ট রিপোর্ট সরিয়ে ফেলে উনাকে
মিথ্যাবাদী এবং ঔষধ শিল্পের জন্য
ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করার
চেষ্টাও করা হয়েছে।

কিন্তু ডা. হানিফ থেমে থাকেন নি।
তিনি নির্ভয়ে কোর্টে গিয়ে বারবার
তার গবেষণা প্রতিবেদন এবং ল্যাবরেটরি
টেস্টের ফলাফল উপস্থাপন করে শিশুদের
জীবন রক্ষার চেষ্টা করে গেছেন।
বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষই গরিব।
এখানে চিকিৎসা পদ্ধতিও বেশ অদ্ভুত।
বেশি টাকা দিয়ে বিশেষজ্ঞ
চিকিৎসকের কাছে না যেতে পারলেও
মানুষ কষ্ট করে সরকারী হাসপাতালে
যেতে চায় না। তারা প্রথমে চেষ্টা করে
রোগের বর্ননা দিয়ে কাছাকাছি কোন
ফার্মেসি হতে ঔষধ সংগ্রহ করতে। তাছাড়া
পল্লী চিকিৎসক, সরকারী হাসপাতাল বা
মেডিকেল সেন্টারগুলোর ডাক্তাররাও
অনেক সময় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ
দের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অখ্যাত ঔষধ
কোম্পানীর ঔষধ প্রেসক্রাইব করে থাকেন।
এমন পরিস্থিতিতে বিষাক্ত ঔষধ সেবন করে
ঠিক কত শিশু মৃত্যুবরন করেছে, তা নির্নয় করা
আসলেই কঠিন একটা কাজ।

এই ঘটনা উন্নত কোন দেশে ঘটলে সরকার/
আদালত ঐ সব ঔষধ কোম্পানীগুলোকে বাধ্য
করত নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপুরণ দিতে।
এবং বিষাক্ত ঔষধ সনাক্ত করে লাখো শিশুর
জীবন রক্ষার জন্য ডা. হানিফ পেতেন
পুরষ্কার ও সম্মান।

বাংলাদেশে চলে তার নিজস্ব মডেলে।
তাই ঐসব ঔষধ কোম্পানীর বিরুদ্ধে
জরিমানা হয় না, শিশু হত্যাকারীরা
জামিনে বেড় হয়ে আসে, ক্ষতিপুরণের তো
প্রশ্নই আসে না, আর ডা. হানিফ রয়ে যান
উপেক্ষিত; অবহেলিত।

সরকার ডা. হানিফকে সম্মান না দেখাক।
আমি, আপনি এবং আমরা উনাকে সম্মানিত
করতে পারি আমাদের সমগ্র ভালবাসা
দিয়ে। আমার দুইটি সন্তান আছে। তারাও
শিশুকালে জ্বরে ভুগেছে এবং জ্বরের জন্য
ঔষধ সেবন করেছে। ওদের যে বিষাক্ত
প্যারাসিটামল সিরাপ সেবন করতে হয়নি
তার জন্য আমি ডা. মোহাম্মদ হানিফ এর
কাছে কৃতজ্ঞ এবং ঋণী।


বিষাক্ত প্যারাসিটামল সিরাপ সংক্রান্ত ডা. হানিফের আর্টিকেল: http://goo.gl/Zz9MaK
গুগল স্কলারে ডা. হানিফের আর্টিকেলসমূহের লিংক: https://goo.gl/0M96eP

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

প্রফেসর ডাঃ কাজী দ্বীন মোহাম্মদ.. বাংলাদেশে নিউরো মেডিসিন এর অন্যতম পথিকৃৎ

প্রফেসর ডাঃ কাজী দ্বীন মোহাম্মদ.. বাংলাদেশে নিউরো মেডিসিন এর অন্যতম পথিকৃৎ


তার নাম প্রফেসর ডাঃ কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।।
বাংলাদেশে নিউরো মেডিসিন এর অন্যতম পথিকৃৎ।।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ।।
স্যারের নামে অনেক মিথ আছে, যেমন- তার ক্লাসে লেকচার গ্যালারির সিঁড়ি পর্যন্ত খালি থাকে না, যে ছেলেটি সারা সপ্তাহ ক্লাস করে না সেও ক্যান্টিনের সিংগারা চিবুতে চিবুতে ক্লাসের দিকে আগায়, স্যারকে চেম্বারে দেখাতে ছয়মাস আগে সিরিয়াল লেখাতে হয়।।
আমার এখন প্লেসমেন্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ২১৮ নম্বর ওয়ার্ডে যা "কাকা" স্যারের ওয়ার্ড নামে পরিচিত। এই ওয়ার্ডের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ হাফিজ স্যারের মুখে শোনা এই গল্প।
দ্বীন মোহাম্মদ স্যার বেশ ব্যস্ত মানুষ। তাই আমলা তথা সচিবদের সব সময় তিনি বেশি সময় নিয়ে দেখেন না।
তো একবার, তার কাছে এক আমলা এলেন। তার সমস্যা ছিল পায়ে ব্যথা আর হাটতে না পারা।
স্যার উনাকে বললেন দাড়িয়ে আবার বসতে। উনি কথামত দাড়িয়ে বসলেন। স্যার উনাকে বললেন, " আপনার GBS (Guillain–Barré syndrome) আছে। " এই বলে ঔষধ প্রেস্ক্রাইব করে দিলেন। সচিব সাহেব স্যার তাকে বেডে শুইয়ে ভালভাবে না পরীক্ষা করাতে একটু ক্ষিপ্ত হলেন।
তিনি টাকা ম্যানেজ করে সিংগাপুর চলে গেলেন। সেখানে প্রখ্যাত এক হাসপাতালে ভর্তি হলেন। সেখানের ডাক্তাররা তাকে একমাস বেশ ভালভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করলেন। তারপর তারা রায় দিলেন যে উনার GBS (Guillain–Barré syndrome) হয়েছে যা দ্বীন মোহাম্মদ স্যার বেশ আগেই বলেছিলেন।
রিপোর্ট দেখে সচিব সাহেব বেশ অবাক হলেন। তিনি দেশে ফিরে কিছুটা ক্ষোভ আর বিস্ময় নিয়ে আবার দ্বীন মোহাম্মদ স্যারের কাছে গেলেন। গিয়ে বললেনঃ আপনার প্রতি আমার কিছুটা ক্ষোভ আছে আর শ্রদ্ধা আছে। শ্রদ্ধা এই জন্য যে, সিংগাপুরে একমাস লাগিয়ে যে রোগ বের হল তা আপনি এক দেখাতেই বলে দিলেন!
আর ক্ষোভ এই কারনে যে, সেইদিন যদি আপনি আমাকে বেডে শুইয়ে একটু পরীক্ষা করতেন তাহলে আমাকে ৫৫ লক্ষ টাকা খরচ করে সিংগাপুরে যেতে হত না।
কাউকে ছোট বা অপমান করে কিছু লিখিনি। শুধু বলতে চাই, দুই ঘন্টা গরমের মধ্যে ওয়ার্ডে দাড়িয়ে ঘামে ভিজে হাসিমুখে রোগীর হিস্ট্রি নেয়ার যে কি অনুভূতি তা আগে জানুন, তারপর ডাক্তারদের গালি দিবেন। আমাদের দেশের ডাক্তাররাও বেশ হাইলি কোয়ালিফাইড। ইউরোপ-আমেরিকায় যে Davidson's Medicine বা Robbin's Pathology পড়ানো হয় আমরাও তাই পড়ি। পার্থক্য শুধু একটাই, তাদের আছে সেন্ট্রাল এসি হাসপাতাল আর চকচকে লেমিনেটেড পাতার বই আর আমাদের স্বল্প ফ্যানযুক্ত ওয়ার্ডে নিলক্ষেতের ফটোকপি বই দিয়েই কাজ চালাতে হয়।।

লিখেছেন- Ashiqur Rahman Akash


সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

ভীষন মিস করছি.. কেমিস্ট্রির অধ্যাপক হযরত আলী স্যার কে

ভীষন মিস করছি.. কেমিস্ট্রির অধ্যাপক হযরত আলী স্যার কে




১০বছর আগে কেমিস্ট্রির যে স্যার পড়ার জন্য বকা দিয়েছিলো,  
সে স্যার আজকে আমাকে বাহবা দিলো ... 

টানা ২৪ ঘন্টা নিদ্রাহীন ছিলাম,
কিন্তু নিজেকে একটুও ক্লান্ত মনে হয় নি,
৬০৭ কেবিনে ভর্তি ক্যান্সারের রোগীর প্রেশার রাত ৩টার দিকে কমতে কমতে ৫০/২০ তে চলে আসলছিলো।
এত রাতে কি করি,
গভীর রাত হওয়ায়
ইঞ্জেকশান ডোপামিন  নরমাল স্যালাইনের সাথে পাম্প মেশিনে রোগী গায়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম,
তবুও  ডা: আনিসুল আউয়াল স্যারকে ফোন দিয়ে শিওর হয়ে নিলাম,
এভাবে চালাবো নাকি  এইচডিউতে পাঠাবো
স্যার  বললো ৫০০ এম এল নরমাল স্যালাইনের সাথে  ২ এ্যাম্পুল ডোপামিন পুশ করে ৩২ ড্রপসে  মাইক্রোবুরেট সেট দিয়ে চালু করে,  অবজার্ভেশন করে  প্রেশার মেপে দেখিও,
স্যারের নির্দেশনা মেনে শুরু করলাম চিকিতসা,
ব্লাড প্রেশার কখনো ৭০/৪০,
কখনো ৮৫/৫০
এভাবে বাড়তে থাকলো,
সকাল ৭ টায় দেখলাম ১০০/৭০,
তখন খুব ভালো লাগলো,
আকরাম স্যারের হাতে ব্লাডের রিকোজিশন
দিয়ে দিলাম,
সকালে  এক ব্যাগ রক্ত দেয়ার পর,
রোগীর ব্লাড প্রেশার হলো ১২০/৮০, যা
নরমাল।

নরমাল ব্লাড প্রেশার দেখে এতোটা ভালো লাগলো,  স্যারকে খুশিতে বুঝাতে পারছিলাম না।
স্যারকেও খুব খুশি দেখাচ্ছিলো। 

যাক ... ঘুমহীন রাতের কষ্টটা স্বার্থক হলো,
যে পেশেন্টির ব্লাড প্রেশার  কমতে কমতে শুন্যের কোটায় গিয়ে পেশেন্ট শকে চলে যাচ্ছিলো, 
সে পেশেন্টকে সন্ধ্যায়  যখন 
জিজ্ঞেস করলাম  এখন কেমন লাগছে?
তিনি হেসে উত্তর দিলেন
ভালো লাগছে !
তুমি সারাটা রাত  না ঘুমিয়ে আমার জন্য যা করেছো,  
অন্যদের কে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে বলে,
এই ডাক্তার আকরামের ছাত্র  ।
সারারাত আমার জন্য ঘুমায় নাই,

রোগীর মুখে হাসি দেখে কি যে আনন্দ লাগলো!
বলে বুঝাতে পারবো না। 

রোগী সুলতানা  কোরায়েশী সম্পর্কে আমাদের 
প্রিয় সিটি কলেজের কেমিস্ট্রির সহকারি অধ্যাপক আকরাম স্যারের শ্বাশুড়ি 
ও  ডা: আনিসুল আউয়াল স্যারের মামী ।

আকরাম স্যারের সাথে ২৪ ঘন্টায়,
যত দেখা আর কথা হয়েছে
পুরো ২ বছরের  ইন্টার লাইফেও হয় নাই  ।

স্যার আপনাদের ভীষন মিস করছি...
বিশেষ করে কেমিস্ট্রির অধ্যাপক হযরত আলী স্যার কে, যার লেকচার করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম,
যিনি রসায়নকে খুব সহজেই  আমাদের ব্রেনে  বুনে দিয়েছিলেন,  যিনি বর্তমানে সিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

মানুষ গড়ার কারিগর প্রফেসর হারুন স্যার আর আমাদের মাঝে নেই ।

মানুষ গড়ার কারিগর প্রফেসর হারুন স্যার আর আমাদের মাঝে নেই ।

প্রিয় প্রফেসর হারুন উর রশিদ স্যার
আপনাকে হারনোর বেদনা আমরা কখনো ভুলতে পারবো না,
আজ জাতি একজন অভিভাবককে হারালো।
একজন মানুষ গড়ার কারিগরকে হারালো।
মানুষের মন জয় করার মহত পেশা শিক্ষকতা,
সেই মহত পেশাকে ধারন করে যিনি
জয় করে নিয়েছেন লাখো কোটি মানুষের হৃদয়।
ভাবতেই অবাক লাগে উনি আমাদের মাঝে নেই।

উনার শিষ্যরা আজ সারা বিশ্বে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছেন।
চট্টগাম কলেজ, মহসীন কলেজ, মহিলা কলেজ, রাংগামাটি কলেজ,
আমার প্রিয় স্কুল সি আর এস সি সহ
অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এই মহান শিক্ষক !

শুক্রবার সকালের ডিউটিতে এসে জুমার নামাজ পড়ে এসে সি এস সি আর এর নীচে দেখা হলো প্রফেসর ডা: এম.এ. ফয়েজ স্যারের সাথে।
আর রাতে ডিউটিতে এসে শুনি
ফয়েজ স্যারের বড় ভাই অধ্যক্ষ হারুন উর রশিদ স্যার আই সি ইউ তে ভর্তি ।
এ কথা শুনে মন খুব খারাপ হয়ে গেলো ,
যে স্যারকে দেখেছি খুব কাছ থেকে, যিনি অবসরের পর ৫ বছর আমাদের প্রিয় স্কুলে প্রিন্সিপ্যাল ছিলেন,
সে প্রিন্সিপ্যাল স্যার আই সি ইউ তে!
আজ দুপুরে দেখে আসলাম স্যারের নিথর দেহ,
স্কুলে আমি ক্লাস ক্যাপ্টেন থাকাকালীন বিভিন্ন কাজে স্যারের সাথে প্রায় দেখা হতো , ১০-১২ বছর আগের সুঠাম দেহ যেমনটি দেখেছিলাম
তেমনটিই আছে
নেই শুধু রুহ ।

আমরা সকলেই উনার আত্নার মাগফেরাত কামনা করছি,
শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি ।

প্যারেড মাঠসহ বেশ কয়েক জায়গায় জানাযা অনুষ্টিত হবে,
স্যারের জানাযার সময় সূচি টিভি- চ্যানেলে জানানো হবে।

উনি রেখে গেছেন অসংখ্য জ্ঞানী গুনী আত্নীয় স্বজন।
উনার ছোট ভাই চিকিতসা বিজ্ঞানী প্রফেসর ডা: এম.এ. ফয়েজ ।
মানবসেবায় যার অবদান অতুলনীয়।
যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ফ্যাকাল্টির ডীন , স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক , ঢাকা মেডিকেল ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ডা: রেহেনুমা ম্যাম ও উনার সুযোগ্য কন্যা ।

কর্মে, কৃতিত্বে , সাফল্যে হারুন স্যার আমাদের মাঝে চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন।

বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

যারা জীবনে সফল হতে পারেননি তারা একবার পড়ুন...

যারা জীবনে সফল হতে পারেননি তারা একবার পড়ুন...

আমরা সবাই স্বপ্ন দেখি জীবনে বড় হবো। কেউ হয়তো শুধু স্বপ্ন দেখি, কেউ হয়তো স্বপ্নটাকে ছোয়ার জন্য আরাম আয়েশ ত্যাগ করে রাতদিন খাটি। কিন্তু দেখা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা সফল হইনা। যখন ব্যার্থ হই তখন দেখা যায় আর পুনরায় পরিশ্রম করবার মত সময় নেই। ডুবে যেতে হয় হতাশায়। ব্যার্থতা আর হতাশা তখন আমাদের সব উদ্যম নষ্ট করে দেয়।

না এখানেই সব শেষ নয়।

যেখান থেকে শেষ সেখান থেকে শুরু করে দেখুন।



আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৮০৯ - মৃত্যু: ১৫ এপ্রিল, ১৮৬৫) এর কথাই ধরি, আজকে শুধু তার দৃষ্টান্ত দেখাবো, পরবর্তীতে ব্যার্থতা থেকে সফলতার অনেক গুলো পর্ব নিয়ে আসবার ইচ্ছা থাকলো। ব্যর্থতাকে কিভাবে জয়ে পরিনত করতে হয়, নতুন করে শুরু করতে হয়, একবার হারিয়েছি বলে সব শেষ হয়ে গিয়েছে এটাই শেষ কথা নয়। একবার না পারিলে দেখো শতবার কথাটা যে সত্য সেটার সার্থকতা আপনিও প্রমান করতে পারবেন।



০১) ২৩ বছর বয়সে চাকুরী হারান এবং রাজনীতিতে পরাজিত হন।

০২) ২৪ বছর বয়সে ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে ব্যবসার মূলধন হারান।

০৩) ২৬ বছর বয়সে হারান প্রিয়তমা প্রেমিকা অ্যান কে।

০৪) ২৭ বছর বয়সে তার নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়।

০৫) দেখতে ও সুশ্রী ছিলেননা।

০৬) জন্মেছিলেন অতি দরিদ্র ঘরে।

০৭) ২৯ বছর বয়সে স্পীকার পদে পরাজিত হন।

০৮) ৩৪ বছর বয়সে কংগ্রেস প্রার্থী নির্বাচনে হেরে যান।

০৯) ৩৯ বছর বয়সে কংগ্রেস প্রার্থী নির্বাচনে আবার পরাজিত হন।

১০) ৪০ বছর বয়সে ভূমি অফিসার পদে রিজেক্ট বা বাদ পড়েন।

১১) সিনেট নির্বাচনে হেরে যান ৪৫ বছর বয়সে।

১২) ৪৭ বছর বয়সে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে গিয়ে হেরে যান।

১৩) ৪৯ বছর বয়সে সিনেট নির্বাচনে আবারো হারেন

১৪) অবশেষে ৫২ বছর বয়সে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।



এই হলো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ব্যার্থতার খেরোখাতা। আজ আমরা হলে হয়তো হাল ছেড়ে দিতাম। বলতাম এসব আমার জন্য নয়। কিন্তু না তিনি ছিলেন আব্রাহাম লিংকন, অতি দরিদ্র অবস্থা থেকেই অসম্ভব স্বপ্নকে ছুয়েছিলেন। হয়েছিলেন আমেরিকার সর্বকালের সেরা প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার গৃহযুদ্ধ ঠেকিয়েছিলেন, সাদা কালোর বিভেদ দুর করেছিলেন, সংকটময় মুহুর্তে আবির্ভাব হয়েছিলেন আমেরিকার ত্রাতা হিসেবে। কোয়ান্টাম মেথডের মতে পারবোনা বললেই আর পারবেননা। শুধু একবার পারবো বললেই অনেক কিছু পারবেন। পারবোনা বললে দেখবেন অনেক না পারার অজুহাত চলে আসবে। এটা সেটা বলবেন, হয়তো অজুহাত দেখাবেন, আপনি গরীব ঘরে জন্মেছেন, আপনি বস্তিতে জন্মেছেন, আপনার বাবার টাকা নেই, আপনি কালো, আপনি বেটে, আপনি পড়াশোনাই ভালোনা, আপনি নিচু জাতে জন্মেছেন। থাক আর বলবোনা। এবার দেখুন আপনার এসব অজুহাত কিছুনা। আপনি শুধু খুজে বের করুন আপনার প্রতিভা কিসে, কোনটা করতে ভালো লাগে, আর করুন নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে পরিশ্রম। আর সব থেকে বড় কথা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি। আমাদের মা বাবারা ছেলেকে কি বানাবেন জিজ্ঞাসা করলে সেই মান্ধাতা আমলের উত্তর, ডাক্তার বা ইন্জিনিয়ার, বোধ হয় জগতে এ ছাড়া আর পেশা নেই। আর কোন পথ নেই। A+ না পেলে তুমি ফিনিসড এটাই শিখানো হচ্ছে। এতে না তৈরি হচ্ছে কোন সৃজনশীল সাহিত্য মনের মানুষ। আমরা শুধু রবীন্দ্র নজরুল শরৎ বাবুর দেবদাস এসব অনুকরন করছি, এক অভিনেতা দেবদাস করেছে ০৫ বছর আগে তো আরেকজন সেই একই দেবদাস করছে ০৫ বছর পর। নতুন করে দেবদাসের মত আরেকটা রোমান্টিক উপন্যাস রচনার মত লেখক তৈরি হচ্ছেনা। বাবুরাম সাপুড়ে সেই কোনকালে রচিত, এ রকম একটা ছড়া আমরা রচনা করতে পারছিনা, পারছি ওই ছড়াটাকে রক স্টাইলে পাশ্চাত্য ঢঙে রিমিক্স করে বানাতে।

তো বলছিলাম আপনার কাজ না করার অজুহাতের কথা। বস্তিতে জন্মেছেন, আপনি অবহেলিত, সমাজের মানুষেরা আপনাকে ঘৃনা করে দুর দুর করে তাড়ায়, এ জন্য আপনি মনে করেন টোকাই হয়ে থাকতে হবে সারাজীবন ? তাহলে তাকান আর্জেন্টাইন ফুটবলার মেসির দিকে, ডাক্তার বলেছিলেন ও বামন রোগে আক্রান্ত। চারফুটের বেশি বাড়বেনা। সব মিথ্যে, সব মিথ্যা প্রমান করে সে বার্সেলোনাতে ছোট বয়স থেকেই তার স্থান নিলো। বিশ্বখ্যাত বিশ্বসেরা ক্লাব বার্সেলোনা তার দায়িত্ব নিলো। মেসির বাবার কি ছিলো, ছিলো শুধু মেসির প্রতিভা, সব কথা মিথ্যা করে মেসি ভিনগ্রহের খেলোয়াড় হলেন, উচ্চতা ৫ ফুট ০৭ ইঞ্চি হলো বিধাতার আশির্বাদে। হয়তো পরিশ্রমী আর ভাগ্যবানের বোঝা ভগবানে বয়। আপনার জাত ছোট, তাহলে দেখুন ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোদির দিকে, সামান্য চা বিক্রি করা বাবার ছেলে যে নিজেও চা বিক্রি করে আজ বৃহৎ দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী। আপনি বেটে, বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম বা মমিনুল কে দেখুন বা ভারতের শচীন টেন্ডুলকারকে দেখুন, বা কিংবদন্তী ফুটবল যাদুকর ম্যারাডোনা কে দেখুন। আপনি কালো, তাতে কি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল, শ্রীলংকান মুত্তিয়া মুরালিধরন,সর্বকালের সেরা বক্সার মোহাম্মদ আলী, ব্রাজিলের ফুটবল কিংবদন্তী পেলে এরা তো সবাই কালো।আপনার ব্যবসার টাকা নেই, আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আকিজ সাহেবের শুরুর কাহিনী নেটে সার্চ দিয়ে পড়ে নিন। পড়াশোনার কথা বলছেন,, বিশ্বের এক নম্বর ধনী বিলগেটস পড়াশোনা সম্পূর্ন না করে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মাইক্রোসফটের মত প্রতিষ্ঠান। পড়াশোনাতে ভালো না করেও তেতুলিয়ার মুস্তাফিজ বাংলাদেশের হালের বিশ্ব ক্রিকেট সেনশেসন। তবে আমি পড়াশোনা ফাঁকিবাজ দের সম্পূর্ন বিরোধী। মনে রাখবে পড়াশোনা না করলেই রবীন্দ্র নজরুল মুস্তাফিজ বা বিলগেটস হওয়া যায়না। এটা শুধু বলেছি এ কারনে যে কোনক্রেমে তুমি জীবনযুদ্ধ না বুঝে পড়াশোনায় ফাকি দিয়েছো, রেজাল্ট খারাপ করে কোন ভালো ভবিষ্যত দেখছোনা, তো যেটা হয়নি সেটা ভেবে লাভ নেই, PAST IS PAST, এখন চেষ্টা করো অন্য কিছু করবার পৃথিবী তোমাকে যেমন হাজারটা সমস্যা দিয়েছে তেমন দিয়েছে হাজারটা সমাধান। সুশিক্ষিত জাতি গড়তে শিক্ষার বিকল্প নেই।

আরো একটা সংস্কার আমাদের সমাজে যার জন্য বেকারত্ব বেশি, আমাদের কাজকে ছোট মনে করা। ধরুন আপনার বাবা বড় কর্মকর্তা। তিনি কর্মকর্তা হয়েছেন তার নিজের মেধা ও যোগ্যতায়। কিন্তু দেখা গেলো হয়তো তার কর্মব্যাস্ততার কারনে আপনাকে তিনি ততটা গাইড করতে পারেননি। ফলে আপনি বাজে বন্ধুর কারনে বখাটে হলেন। পরীক্ষার আগে পড়াশোনা করলেন এবং কোনরকম পাশ করলেন। ফলে আপনি না পারবেন বাবার মত যোগ্য হতে বা না পারবেন নার্সারি, মাছ চাষ, পোল্ট্রি বা ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং এর মত সম্ভাবনাময় খাতের উদ্যোক্তা হতে। হয়তো আপনাকে দেখে পাছে লোকে টিপ্পনি কাটে অফিসারের ছেলে শেষে মুরগী পালবে। তখন আপনি মান রক্ষার্থে স্ট্যাটাস রক্ষার্থে অসাধু পন্থায় একটা চাকুরী যোগাড় করলেন। সাথে হয়তো দরিদ্র বলে একটা প্রতিভা যে আপনার থেকে কাজ ভালো বুঝতো তাকে বঞ্চিত করলেন। এই জাতীয় ছোট মানসিকতা থেকে না বের হতে পারলে আমাদের উন্নতি হবেনা বা বেকারত্ব থেকে মুক্ত হবেনা।

সবশেষে একটা কথা বলি তোমার যদি কিছু করবার ইচ্ছা থাকে তবে কোন কিছুই তোমাকে আটকাতে পারবেনা। তুমি পারবে, যদি তোমার ভিতর থাকে ইচ্ছার আগুন। If you have only fire

সংগ্রহ-
--- লেখা - মাহবুব হাসান

রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০১৫

Download Davidsons Medicine 22nd+Edition-pdf

Download Davidsons Medicine 22nd+Edition-pdf

মেডিসিনের গুরু- যা দিয়ে শুরু ।
" ডেভিডসন'স প্রিন্সিপ্যাল এন্ড প্র্যাকটিস অব মেডিসিন "
বইয়ের নাম শুনেন নি, এমন শিক্ষিত লোক পাওয়া মুশকিল 

 DownLoad Davidsons Priciples & Practice Of Medicine 



মানবতার মহান সেবক 
স্যার, ডেভিডসন মেডিকেলের ছাত্রদের জন্য ,
সিস্টেমিক লেকচার নোট দিতেন,
সেগুলোকে সাজিয়েই প্রকাশ করা হয়েছিলো -
'Davidsons Priciples and Practice Of Medicine "
মেডিকেলীয় অমর বইটি ।

উনার বিখ্যাত ডেভিডসন বইটির ১ম প্রকাশের সাথে,
বাংলা ভাষাভাষীদের ইতিহাসও জড়িয়ে আছে ।
সেই ঐতিহাসিক ১৯৫২ ।
যে বছরে শহীদ হন, অগনিত ভাষা সৈনিক - সালাম-জব্বার ।



স্যার ডেভিডসনের সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরলাম নীচে ...
পুরো নাম -Sir Leybourne Stanley Patrick Davidson-
ডিগ্রী- BA, MD,PRCPE, FRCP

১ম বিশ্বযুদ্ধের শারীরিক আঘাত উনার  মেডিকেলীয় জীবনের ব্যাঘাত ঘটালেও,
১৯১৯ সালে ঠিকই এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে গ্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন ।
১৯৩০ সালে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মেডিসিনের ইতিহাসে ১ম প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন ।
দীর্ঘ ২১ বছর  এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিনের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ।

বিখ্যাত চিকিতসক জন জর্জ মেকলয়েড ও
প্রফেসর রোনাল্ড  এর শিক্ষক ছিলেন স্যার ডেভিডসন । 

বাংলাদেশের ইতিহাসে উনসত্তরের গন অভ্যুথানের কথা মনে আছে কি ?
সে বছরেই স্যারের আরেকটি বিখ্যাত বই
"Human nutrition and dietetics'প্রকাশিত হয় ।

মেডিসিনের গুরু - যার হাত দিয়ে শুরু ,
সেই মহান চিকিতসক- লেখক ,
 স্যার ডেভিডসন
১৯৮১ সালের ২৭ শে সেপ্টেম্বর পরলোক গমন করেন ।


---- লেখা- ডাঃ স্বাধীন

শনিবার, ১৩ জুন, ২০১৫

ফেসবুক, মার্ক জুকারবার্গ ও তার জীবনবোধ:

ফেসবুক, মার্ক জুকারবার্গ ও তার জীবনবোধ:

ফেসবুক, মার্ক জুকারবার্গ ও তার জীবনবোধ:
মার্ক জুকারবার্গ। পুরো নাম মার্ক এলিয়ট জুকারবার্গ(Mark Elliot Zuckerberg)। জন্মেছিলেন আমেরিকা বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।বর্তমানে তিনি বিশ্বে বহুলভাবে পরিচিতদের মাঝে একটি অন্যতম নাম। তিনি ইন্টারনেটের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের(Facebook.com) প্রতিষ্ঠাতা। তার বয়স তেমন বেশি নয়। জন্মেছিলেন ১৯৮৪ সালের ১৪ মে। ২০১৩ সালের শেষে এসে তার বয়স মাত্র ২৮ বছর(+)। 



তিনি ২০১৩ সালের এপ্রিলে ফেসবুক কোম্পানীর চেয়ারপারসন এবং প্রধান কার্যনির্বাহী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সেপ্টেম্বর ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত হিসাবমতে তার সম্পদের পরিমাণ এখন ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।( সূত্র: উইকিপিডিয়া)।
বর্তমানে বিশ্বে ফেসবুক ব্যবহারকারী ১২০ কোটির উপরে। ইন্টারনেটের আর কোনো সামাজিক মাধ্যম এত মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। অথচ, এই ফেসবুকের যখন প্রথম শুরু হয়েছিল তখন শুধুমাত্র সীমাবদ্ধ ছিলো হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি কেন্দ্রীক। তখন হার্ভাডের ছাত্র-ছাত্রীরাই শুধু এটির ব্যবহার করতেন। প্রথমদিকে নাম ছিলো “দ্য ফটো এড্রেস বুক”। এটি ছিলো অনেকটা ‘স্টুডেন্টস ডাইরেক্টরি’র মতো।এতে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের নাম, ফোন নাম্বার, তাদের বন্ধুদের নাম, পাঠরত বিভাগের নাম ইত্যাদি লিখে রাখতে পারতেন।
ছাত্র-ছাত্রীরা এর নাম রেখেছিলো ‘দ্য ফেসবুক’।এবং পরে ‘দ্য’ বাদ দিয়ে এর নাম হয়ে যায় “ফেসবুক”।

সময়টা ছিলো ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। হার্ভাডের এক ডরমিটরীতে তিনি প্রথম ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করেন। পরে যখন ফেসবুক অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝেও ছড়িয়ে দেয়া হয় তখন ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আলটোতে ফেসবুকের অফিস স্থানান্তর করা হয়।
এবং তারপর থেকে ফেসবুকের ইতিহাস বিজেতার ইতিহাস, স্রাফল্যযুক্ত ধাবমানতার ইতিহাস! এ যেন আসলাম, দেখলাম, জয় করলাম এমন একটি ভাব!

২০০৭ মালের মধ্যে জুকারবার্গ আর্থিক বিত্তের পরিমাপে পরিগণিত হয়ে যান “বিলিয়নেয়ারে”।
২০১০ সালে টাইম ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে তিনি বিশ্বের প্রভাবশালী এবং অর্থবিত্তসম্পন্ন ১০০ জনের মধ্যে নিজের স্থান করে নেন।
দ্য জেরুজালেম পোস্টের দৃষ্টিতে তিনি ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ এখন পর্যন্ত অভিহিত হয়েছেন – Most Influential Jews in the World হিসেবে।
না, আমি আজ জুকারবার্গের জীবনী নিয়ে বা তার সাফল্য নিয়ে কথা বলতে বসিনি। কিন্তু তার জীবনের উত্থান বিষয়ে না বললে যেন তাকে নিয়ে কথা শুরু করা যায় না। তাই এত কথা বলা…
আমি আজ জুকারবার্গের জীবন দর্শন নিয়ে কিছু কথা শেয়ার করতে চাইছি।
বিশ্বকে অবাধ ও উন্মুক্ত করার আকাঙ্খা

২০১২ সালেন ফেব্রুয়ারি প্রদত্ত এক বার্তায় তিনি বলেন-

Facebook was not originally created to be a company. It was built to accomplish a social mission — to make the world more open and connected.

অর্থাৎ, তিনি বলতে চেয়েছেন, ফেসবুক আদি থেকে কোম্পানী হিসেবে সৃষ্টি হবার জন্য গঠিত হয়নি। একটি সামাজিক লক্ষ্য উদ্দেশ্যকে কাজে প্রতিফলিত করার জন্যই তাকে গঠন করা হয়েছিলো। এবং এই লক্ষ্য হচ্ছে, পৃথিবী বা বিশ্বকে আরো অবাধ উন্মুক্ত করা ও কানেক্টেড বা পারষ্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করা।

২০১০ সালে Wired নামক ম্যাগাজিনে প্রদত্ত এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন-

The thing I really care about is the mission, making the world open

তিনি আরো বলছেন, বিশ্বের প্রত্যেকজনকে যোগাযোগের মধ্যে বা পারষ্পরিক কাছাকাছি নিয়ে আসার একটি সম্ভাবনা এবং সৃষ্টি হয়েছে এবং তার প্রয়োজনও অপরিসীম। সমাজকে ভবিষ্যতের জন্য রূপান্তর করতে এবং প্রত্যেকের কন্ঠ বা ভাব প্রকাশের সুযোগ উপস্থিত হয়েছে।
মিশন বা লক্ষ্য অনেক বৃহৎ, কিন্তু তার শুরুর পদক্ষেপ ছোট
তিনি তার বার্তা বা চিঠিতে বলেছেন-

Even if our mission sounds big, it starts small — with the relationship between two people.

অর্থাৎ, যদিও লক্ষ্যকে অনেক বৃহৎ বলে প্রতীয়মান হয়, কিন্তু তার শুরুর পদক্ষেপটা ছোট। দুইজনের মধ্যে পারষ্পরিক যোগাযোগ হতে তার শুরু।
অর্থবিত্ত বানাতে নয়, ভালো সেবা প্রদানের মাধ্যমে অর্থ আয়ই লক্ষ্য
তিনি বলছেন-

Simply put: we don’t build services to make money; we make money to build better services.

ফেসবুক ইন্ক বা ফেসবুক কোম্পানী অবশ্যই একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তা অর্থবিত্ত করার জন্য নয়, বরং ভালো মানের সেবা প্রদানের মাধ্যমে অর্থবিত্ত করাই তার লক্ষ্য।
তিনি বলছেন-

We’ve always cared primarily about our social mission, the services we’re building and the people who use them.

অর্থাৎ,সামাজিক লক্ষ্য বা মিশনকে প্রাথমিক লক্ষ্য হিসেবে ধরেই সেবার উদযোগ নেয়া হয়।
ফেসবুক লুটপাটের যন্ত্র যে নয় তা বোঝা যায়!
জুকার বার্গের জীবন কাটে সাদামাটাভাবে

Mark Zuckerberg leads a fairly low-key life in California, where he lives with his girlfriend in rented accommodation within walking distance of the Facebook headquarters.

courtesy: the telegraph

মার্ক জুকার বার্গের জীবন কাটে খুবই সাদামাটাভাবে তার জীবন সঙ্গীনির সাথে ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেসবুক অফিস থেকে হাঁটা পথের দুরত্বে।
হ্যাকার ওয়ে(Hacker Way)
সাধারন্যে বা গণমাধ্যমে ‘হ্যাকার’ এর মানে নেতি অর্থে ধরা হয়। এর মানে কম্পিউটার যোগাযোগ ভঙ্গ করা(The word “hacker” has an unfairly negative connotation from being portrayed in the media as people who break into computers.)।
কিন্তু জুকার বার্গ ‘হ্যাকার ওয়ে’ শব্দবন্ধটিকে ইতি অর্থেই ব্যবহারে উদ্যোগ নিচ্ছেন।
জুকার বার্গের ভাষায়-

Hackers believe that the best idea and implementation should always win — not the person who is best at lobbying for an idea or the person who manages the most people.

এর মানে করলে দাঁড়ায়, কোনো উত্তম আইডিয়া বা চিন্তাকে অবশ্যই জিতে আসতে হবে। তা(উত্তম আইডিয়া বা চিন্তা) কারো একার বা কোনো একাধিপত্যকামীর নিয়ন্ত্রনাধীন বা মনমেজাজ বা দয়ার উপর নির্ভরশীল হবে না।
Done is better than perfect
নিখুঁত কাজ প্রয়োজনীয়। কিন্তু জুকারবার্গ বলছেন- শতভাগ নিখঁত কাজের চেয়ে কাজটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই মুখ্য। ফেসবুক কোম্পানী তাদের অফিসের দেয়ালে টাঙিয়ে রেখেছে- Done is better than perfect এই বক্তব্যটি।

শতভাগ নিখুঁত কিন্তু অসমাপ্ত কাজের চেয়ে কিছু ভুলত্রুটিসহ একটি সমাপ্ত কাজ অধিক গুরুত্বপূর্ণ।(সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো)

পাকাপাকিভাবে কোনো কাজ সমাপ্ত করা যাবে না। একটি কাজ শেষ করার পরে তার মধ্যে ভুল থাকবেই। বারবার চেষ্টা করে তার উন্নতিসাধন করতে হবে। কেউই ভুলের উর্ধ্বে নয়! এখানে অনেক না বলা কথা থেকে যাবার পরও প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখা দরকার যে, জুকারবার্গ ১৩ বছর বয়স থেকে ছিলেন এথিইস্ট(Atheist)।
মার্ক জুকারবার্গের কাজের নীতি
লক্ষ্য অর্জনের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ কর বা লক্ষ্যভেদী হও! (Focus on Impact)
গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাসমূহ সমাধান করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করাটাই মূখ্য। সাদামাটাভাবে বা আপাতদৃষ্টিতে কথাটি খুব সোজা! কিন্তু মার্ক জুকারবার্গের ভাষায়, কিন্তু আমরা দেখি প্রায় বেশিরভাগ কোম্পানীই এটি খুব দুর্বলভাবে করে থাকে এবং তারা অনেক সময় এতে ক্ষেপণ করে।

গতিই ধর্ম! (Move Fast)
দ্রুততালে কাজ করা মানে কিছু ভুল করা! এই বিষয়ের দিকে খেয়াল করে কাজ করার নীতি হচ্ছে মার্ক জুকার বার্গের নীতি। কিছু ভঙ্গ না করলে আপনি সম্ভবত তেমন দ্রুতভাবে কর্তব্য পালন করছেন না!
তিনি বলছেন-

We have a saying: “Move fast and break things.” The idea is that if you never break anything, you’re probably not moving fast enough.

সাহসী হও! উদ্যমী হও!(Be Bold)
বৃহৎ কিছু করা অথবা বলা যেতে পারে মহৎ কিছু করা মানেই তো ঝুঁকি নেয়া! সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হচ্ছে কোনো ঝুঁকিই না নেয়া!
এ যেন সমরবিদের কথা! নিষ্ক্রিয় প্রতিরক্ষা বলতে কিছু নেই!
নিজেকে উন্মুক্ত উদার করে তোল! Be Open
উন্মুক্ত পৃথিবীই সবথেকে ভালো পৃথিবী। জনগণের হাতে যতবেশি তথ্য থাকবে তারা ততো ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং তাতে ফলাফলও আসবে ভালো। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা যেন বেশি পরিমাণে তথ্য পায় তাই-ই লক্ষ্য।
সামাজিক মূল্যবোধের উন্নতি সাধন( Build Social Value)
লক্ষ্যটি শুধু একটি কোম্পানী গঠন করা নয়। বরং সামাজিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করাও এর লক্ষ্য।
জুকারবার্গ বলছেন-

শুধু ব্যবসা করে মুনাফা অর্জন করা নয়, আমরা সবাই খেয়াল রাখি প্রতিদিনের কাজের মাধ্যমে আমরা কীভাবে সমাজব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনতে পারি, পৃথিবীকে কিছু দিতে পারি।(সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো)

সংক্ষেপে মার্ক জুকারবার্গকে নিয়ে আমার এই লেখা।
জুকার বার্গকে আমরা সাদাচোখে একজন উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী যায়-ই বলি না কেন, তিনি যে একটি জীবন দর্শন অনুসরণ করেন তা তার কথাটেই বোঝা যায়।
সেই জীবন দর্শন শুধু ব্যক্তিকে ঘিরে নয় এবং তা শুধু ব্যক্তিলাভের জন্য নয় এবং তা শুধু ব্যবসায়িক সমৃদ্ধির জন্য নয়।
তার জীবন দর্শনে সামাজিক মূল্যবোধ রয়েছে। রয়েছে সমাজের প্রতি দায়িত্ব ও মমত্ববোধ!
বয়সে অনেকের কাছে অনুজ এই জুকার বার্গ আমাদের চিন্তাকে মূল্যবোধকে কিছুটা স্বস্তি দি’ক এই প্রত্যাশা।
- সংগৃহীত
বদলে যাওয়ার গল্প - বাংলাদেশী তরুণ সাবিরুল ইসলাম

বদলে যাওয়ার গল্প - বাংলাদেশী তরুণ সাবিরুল ইসলাম

সাবিরুল ইসলাম:

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক সাবিরুল ইসলামের খ্যাতি এখন বিশ্বজোড়া। চাচাতো ভাইয়ের দোকানের চাকরি হারিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে স্কুলের ছয় বন্ধুকে নিয়ে শুরু করেছিলেন ওয়েব ডিজাইনের ব্যবসা। অনেক চেষ্টায় একদিন জুটে গিয়েছিল লন্ডনে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল লিনচ কোম্পানির ওয়েব ডিজাইনের কাজ। সে কাজে আয় দুই হাজার পাউন্ড।



তারপর শুধু বদলে যাওয়ার গল্প। স্বপ্ন এসে ধরা দেয় তাঁর তৈরি তরুণদের ব্যবসা শেখার গেম ‘টিন-ট্রাপেনার’ মাধ্যমে। আর যা যুক্তরাজ্যের ৬৫০টি স্কুলে পাঠ্যসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের খেলতে দেওয়া হয়।

১৬ বছর বয়সে লন্ডন স্টক মার্কেটে জুনিয়র ট্রেডার হিসেবে যাত্রা শুরু করেন সাবিরুল। লিখেছেন দুটি বই দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাট ইয়োর ফিট ও টিন-স্পিকার।

প্রথম বইটি লিখেছেন নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে আর দ্বিতীয়টি নানা দেশের ২৫ জন টিন-স্পিকারের (কিশোর বক্তা) সাফল্যগাথা।

দ্বিতীয় বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে হাজির হয়েছিলেন ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন।

২০১১ সালের মে মাসে মালদ্বীপ থেকে শুরু করেছেন ‘ইন্সপায়ার ওয়ান মিলিয়ন’ কার্যক্রম। লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে ১০ লাখ তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি করা। ইতিমধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে হাজির হয়েছেন বিশ্বের ২৫টি দেশের প্রায় আট লাখেরও বেশি তরুণ উদ্যোক্তার সামনে। ১০ লাখ তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নিতে।
বদলে যাওয়ার গল্প - শেখ আকিজ উদ্দিন

বদলে যাওয়ার গল্প - শেখ আকিজ উদ্দিন

শেখ আকিজ উদ্দিন

জিরো থেকে হিরো। ১৬ টাকা থেকে হাজার কোটি টাকা। কমলা লেবুর ফেরিওয়ালা থেকে ২২টি শিল্প ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের এমডি। অবিশ্বাস্য এ গল্পের নায়ক সেখ আকিজ উদ্দিন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে পৃথিবীর পাঠশালা থেকে জ্ঞান অর্জন করে তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছেন। ছাই স্পর্শ করে সোনা বানিয়েছেন। ৫০ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারীর নিয়োগকর্তা শেখ আকিজ তিন লাখ মানুষের ভাত কাপড়ের ব্যবস্থা করে ভেতরে ভেতরে ত্রানকর্তা হয়েছেন।

বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্য, অর্থনীতির কিংবদন্তী রূপকার সেখ আকিজ মাত্র ১৩ বছর বয়সে শূন্য হাতে ‘বাণিজ্যে বসতি লক্ষী’র বীজ বপন করেছেন, সেই বীজের অঙ্কুরিত বৃক্ষ এখন পল্লবিত-পুস্পিত। যে বৃক্ষের ছায়ায় এখন হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়ে তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে সেখ আকিজ উদ্দিন আকিজ শিল্প গোষ্ঠি ৯৫০ কোটি টাকা শুল্ক কর সরকারকে প্রদান করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। আকিজ জুট মিলকে এশিয়ার অন্যতম রফতানিমুখী পাটকলে পরিণিত করে স্মৃতি হয়ে যাওয়া সোনালী আশকে ফের উজ্জ্বল করেছেন ব্যবসার জাদুকর আকিজ।

সফল ব্যবসায়ী আকিজ উদ্দিন:
সেখ আকিজ উদ্দিনের উল্লেখযোগ্য কোনো পরিচয় নেই। খুলনার ফুলতলা উপজেলার পেছনে পড়া গ্রাম মধ্যডাঙ্গার এক দরিদ্র পরিবারে সেখ আকিজ উদ্দিন ১৯২৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা শেখ মফিজ উদ্দিন। মা মতিনা বেগম। আকিজ বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। অন্যান্য গ্রামের মতো সবুজ শ্যামল মধ্যডাঙ্গা গ্রামে আকিজ তার শৈশব উত্তীর্ন করেছেন। দারিদ্রের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে অভাবের রাক্ষুসে হা দেখেছেন। বাবা শেখ মফিজ উদ্দিন ছিলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি গ্রামের মৌসুমি ফসল কেনাবেচার ছোট পরিসরে ব্যবসা করতেন। দারিদ্রের কারণে আকিজ উদ্দিন এর লেখাপড়ার সুযোগ হয়নি। তবে তিনি শিশুকালেই বাবার ব্যবসা পর্যবেক্ষণ করে আর দারিদ্রের সমুদ্রে সাঁতার কেটে ভেতরে ভেতরে সচেতন ও পরিনত হয়েছিলেন।

বোহেমিয়ান আকিজ:
মাত্র ১৩ বছর বয়সে ১৩৪২ সালে কিশোর আকিজ প্রিয় মধ্যডাঙ্গা গ্রাম ছেড়ে জীবিকার অন্বেষণে বেরিয়ে পড়েন। মাত্র ১৬ টাকা হাতে নিয়ে দুরন্ত কিশোর ট্রেনে চেপে বসেন। জীবন সংগ্রামের অজানা পথে পা দিয়ে তিনি এক পর্যায়ে কলকাতা আসেন। বড় শহর। কোথায় তার জায়গা মিলবে? কে তাকে কোলে তুলে নেবে? এক পর্যায়ে আকিজ শেয়ালদহ রেলস্টেশনে তার ঠিকানা খুঁজে নেন। এখানেই অনিশ্চয়তার মধ্যে তার দিন যাপন। একবেলা ছাতু খেয়ে আকিজ কলকাতা শহরে বেঁচে থাকার স্বপ্ন নির্মাণ করেছেন। স্বপ্নের জাল বুনেছেন। কিন্তু তিনি কোনো অবলম্বন পাননি। এভাবেই কেটেছে কিছুদিন। তারপর শিয়ালদহের জাকারিয়া হোটেল মালিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। হোটেলে তার আশ্রয় মেলে। কিশোর আকিজ পাইকারি বাজার থেকে কমলা লেবু কিনে হাওড়া ব্রীজে ফেরি করে বিক্রি শুরম্ন করেন। সকাল সন্ধ্যা কমলা লেবুর ফেরিওয়ালা হয়ে পথে পথে ঘুরেছেন। ক্লান্ত আকিজ রেল স্টেশনের প্লাটফর্মে কাগজ বিছিয়ে ঘুমিয়েছেন। কিন্তু তার ঘুম আসে না। তিনি কেবল স্বপ্ন বুনতে থাকেন। এরপর আকিজ কমলা লেবুর সামান্য জমানো টাকা দিয়ে একটি অভিনব মুদির দোকান দেন। ভ্যান গাড়ির ওপর সওদা। ভ্রাম্যমান এ দোকানের প্রতিটি দ্রব্যের দাম ছয় আনা। এ কারণে তিনি এ দোকানের নাম রাখেন ‘নিলামওয়ালা ছ’আনা’।

ভালোই চলছিলো তার দোকান। হঠাৎ একদিন অবৈধ দোকান দেয়ার অভিযোগে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায় তিন দিনের জেল পাঁচ টাকা জরিমানা। জেল থেকে মুক্ত হয়ে আকিজ আর দোকানে বসেননি। দোকানটি তিনি বিক্রি করে দেন। ফের অনিশ্চয়তা। এভাবে কিছুদিন কলকাতার পথে পথে ঘুরে বেরিয়েছেন তিনি। খড়কুটা আকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করেছেন তিনি। একদিন তার পরিচয় হয় পেশোয়ারের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে। আকিজ ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে পড়ি দেন পেশোয়ার। অল্প দিনে পশতু ভাষা শিখে ফের অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করেন ফলের ব্যবসা। দুই বছর এ ব্যবসা করে তার লাভ হয় ১০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলে আকিজ বাড়ির টানে, বাবা মায়ের স্নেহ মমতার টানে ফিরে আসেন নিজ গ্রাম মধ্যডাঙ্গায়। বাড়ি ফেরার পর অল্পদিনের ব্যবধানে তার বাবা-মা মারা যান। আকিজ ফের নি:সঙ্গ হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি একই গ্রামের সখিনা খাতুনকে বিয়ে করেন।

বিড়ি ব্যবসায়ের উত্থান পর্ব:
১৯৫২ সালে আকিজ তার বন্ধুর বাবা ‘বিধু’ বিড়ির মালিক বিধু ভূষনের অনুগ্রহ-সহায়তা-পরামর্শে বিড়ির ব্যবসা শুরম্ন করেন। এ ব্যবসাতে তিনি বেশ সফল হন। বেজেরডাঙ্গা রেল স্টেশনের পাশে তিনি একটি দোকান খুলে বসেন। কিন্তু আগুনে পুড়ে এক রাতে দোকানটি ছাই হয়ে যায়। মাথায় বাজ ভেঙ্গে পড়ে। কিন্তু ধৈর্যশীল আকিজ ফের ঘুরে দাঁড়ান। তিনি স্থানীয় মহাজনদের সহায়তায় আবার দোকান নির্মাণ করেন। একই সঙ্গে শুরু করেন ধান, পাট, চাল, ডালের ব্যবসা। এক পর্যায়ে ব্যবসার প্রসারের জন্য আকিজ যশোরের নাভারন এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করা শুরম্ন করেন। স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোজাহের বিশ্বাস আকিজকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। আকিজ আর পেছনে ফিরে তাকাননি। তিনি কেবল সামনে তাকিয়েছেন। নাভারন পুরোনো বাজারে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আজকের সবচেয়ে বড় বিড়ি তৈরির কারখানা আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরী। এরপর ১৯৬০ সালে অভয়নগরে অত্যাধুনিক চামড়ার কারখানা এসএএফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ১৯৬৬ সালে ঢাকা টোবাকো ইন্ডাষ্ট্রিজ, ১৯৭৪ সালে আকিজ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ১৯৮০ সালে আকিজ ট্রান্সপোর্টিং এজেন্সি লিমিটেড, ১৯৮৬ সালে জেস ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড, ১৯৯২ সালে আকিজ ম্যাচ ফ্যাক্টরি লিমিটেড, ১৯৯৪ সালে আকিজ জুট মিল লিমিটেড, ১৯৯৫ সালে আকিজ সিমেন্ট কেম্পানী লিমিটেড, একই বছর আকিজ টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেড, ১৯৯৬ সালে আকিজ পার্টিকল বোর্ড মিলস লিমিটেড, ১৯৯৭ সালে আকিজ হাউজিং লিমিটেড, ১৯৯৮ সালে সাভার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ২০০০ সালে আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেড, একই বছর আকিজ অনলাইন লিমিটেড, নেবুলা লিমিটেড, ২০০১ সালে আকিজ কর্পোরেশন লিমিটেড, আকিজ ইন্সটিটিউট এন্ড টেকনলজি লিমিটেড, ২০০৪ সালে আকিজ অ্যাগ্রো লিমিটেড এবং ২০০৫ সালে আকিজ পেপার মিলস্ প্রতিষ্ঠা করে তিনি বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে কিংবদন্তির নায়কে পরিনত হন।


সমাজসেবক আকিজ উদ্দিন:
ব্যবসা বাণিজ্যের পাশাপাশি সেখ আকিজ উদ্দিন সমাজ সেবায় নিজেকে যুক্ত করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মানব কল্যাণে তিনি যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া ছাড়াও ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করেছেন হাসপাতাল। এছাড়াও বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকান্ডে মুক্ত হাতে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। ২০০০ সালে যশোরে ভয়াবহ বন্যায় আকিজ ত্রান নিয়ে ঢাকা থেকে ছুটে আসেন শার্শা-ঝিকরগাছা এলাকায়। এ সময় তিনি নিজে তদারক করে প্রায় এক কোটি টাকার ত্রান সামগ্রী বিতরন করেছেন। এ প্রসঙ্গে বেনাপোলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সি এন্ড এফ এজেন্ট সারথী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মতিয়ার রহমান বলেন, “আকিজ সাহেবের সাথে আমি ১৯৭৮ সাল থেকে ব্যবসা করছি। তিনি অতি সাধারণ জীবন যাপন করতেন। ২০০০ সালে বন্যায় তার অবদানের কথা আমরা কোনোদিন ভুলবো না। তিনি আমাদের জন্য আধুনিক স্থাপত্য শৈলীর মসজিদ নির্মাণ করেছেন। স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠা গরীবের সন্তানদের লেখাপড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। আর এ কারণে হাজার হাজার মানুষ তার জানাযায় অংশ নিয়েছেন”। আকিজ উদ্দিনের অন্যতম সৃষ্টি হচ্ছে আদ্ব-দীন ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ ট্রাস্ট দক্ষিণাঞ্চল ছাড়াও আরও কিছু জেলায় মানব কল্যাণ, স্বাস্থ্য সেবা ও আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখেছে। এছাড়া তিনি ১৯৮৯ সালে আদ্ব-দীন ওয়েল ফেয়ার সেন্টার, ২০০৪ সালে আদ্ব-দীন ফাউন্ডেশন, ১৯৮০ সালে আদ্ব-দীন শিশু কিশোর নিকেতন, ১৯৮৫ সালে আদ্ব-দীন নার্সিং ইন্সটিটিউট, আদ্ব-দীন ফোরকানিয়া প্রজেক্ট, ১৯৯২ সালে আকিজ কলেজিয়েট স্কুল, ১৯৯৮ সালে সখিনা স্কুল ফর গার্লস প্রতিষ্ঠা করেন। এ ছাড়া তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিভিন্ন রকম সামাজিক কর্মকান্ডে যুক্ত ছিলেন।

পারিবারিক জীবন:
কোটি কোটি টাকার অর্থ সম্পদের মালিক হয়েও সেখ আকিজ উদ্দিন খুবই সাধারণ জীবন যাপন করতেন। সন্তানদের উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি নিজের জীবন অভিজ্ঞতার আলোয় তিনি তাদের আলোকিত করেছেন। আকিজের ১৫ সন্তান। ১০ ছেলে ৫ মেয়ে। বড় ছেলে ডা. শেখ মহিউদ্দিন আদ-দ্বীনের নির্বাহী পরিচালক। এছাড়া শেখ মোমিন উদ্দিন, শেখ আফিল উদ্দিন, শেখ আমিন উদ্দিন, আজিজ উদ্দিন, নাসির উদ্দিন, বশির উদ্দিন, জামিল উদ্দিন আকিজ শিল্প গ্রুপের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান দেখাশোনা করেন। সেখ আফিল উদ্দিন ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতি সঙ্গে যুক্ত। ছোট দুই ছেলে জসিম উদ্দিন ও শামিম উদ্দিন লন্ডনে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। ছেলেদের শিক্ষা দেওয়াই শুধু নয় তাদের নামের বানানের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এনেছেন আকিজ উদ্দিন। ৫ মেয়ে সকিনা, শাহিনা, আখি, নাজমা ও নাসিমা। এরা সবাই বিবাহিত। ১৫ সন্তান, স্ত্রী, ৫০ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারী, হাজার হাজার শুভাকাঙ্ক্ষী, গুনগ্রাহী রেখে ৭৭ বছর বয়সে সেখ আকিজ উদ্দিন গত ১০ অক্টোবর ২০০৬ ইন্তেকাল করেন। আকিজ উদ্দিনের বড় ছেলে শেখ মহিউদ্দিন বাবার জীবন সংগ্রাম খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তিনি তার বাবা সম্পর্কে বলেন, বাবার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা ছিল না ঠিকই, তারপরও তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছিলেন। আমরা সন্তানরা ছাড়াও তার প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক এমবিএ উচ্চ শিক্ষিত মানুষ জ্ঞান অর্জন করে। তিনি তার জীবন যাপনের বাস্তব জ্ঞানে আমাদের সমৃদ্ধ করেছেন। তার দুরদর্শিতার কারণেই আজ আকিজ গ্রুপ দেশের অন্যতম শিল্প গ্রুপ হিসেবে দেশে বিদেশে স্বীকৃতি পেয়েছে। আকিজ উদ্দিনের আরেক সন্তান সেখ আফিল উদ্দিন বাবার স্মৃতিচারন করে বলেন, বাবার মধ্যেকোনো আত্মঅহমিকাবোধ ছিল না। তিনি তার বিরুদ্ধের লোকদেরই আপন করে নিতেন। তিনি সব কিছু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিতেন। আকিল আরো বলেন, নিজে সাধারণ জীবনের যাপনের পাশাপাশি আমাদেরও প্রাচুর্যের মধ্যে নয়, খুব সাধারণভাবে মানুষ করেছেন। যে কোনো নতুন প্রকল্প গ্রহণের সময় ব্যবসার লাভ ক্ষতির হিসাব করে অদ্ভুত এক দূরদর্শিতায়। তিনি আগামীর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে প্রকল্পকে সফল করে তুলতেন। সততা, ধৈর্যশীলতা, নিজস্ব মেধা, সহনশীলতার কারণেই তিনি আকিজ গ্রুপকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে গেছেন। আদ-দ্বীনের কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম মুকুল আকিজ উদ্দিন সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, স্যার খুব কম কথা বলতেন। সাধারণ জীবন যাপনের পাশাপাশি তিনি আমাদের কথা শুনতেন। আদ্ব-দীন সম্পর্কে সব সময় খোজ-খবর নিতেন। তার ভাবনা ছিল আদ-দ্বীনের কর্মকান্ড সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার
বদলে যাওয়ার গল্প -  সালমান খান

বদলে যাওয়ার গল্প - সালমান খান

খান একাডেমি

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সালমান খানের জন্ম ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্সে। সম্প্রতি টাইম ম্যাগাজিন নির্বাচিত বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির মধ্যে স্থান পেয়েছেন সালমান। ১০ মে ২০১২ রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে তিনি বক্তৃতা দেন। বক্তৃতাটির ভাষান্তর।


আজ এখানে বক্তৃতা দিতে পারা আমার জন্য সত্যিই এক বিরাট সম্মানের ব্যাপার। আমি বেশ বুঝতে পারছি যে, এখানে দাঁড়ানোয় ৩৫ বছরের নিজেকে তোমাদের তুলনায় অনেক বয়স্ক দেখাচ্ছে! কিন্তু আমার নিজের কাছে মনে হচ্ছে, আমি যেন আমার ছোট ভাইবোনদের কিছু বলতে এসেছি। আজ আমি তোমাদের সঙ্গে কিছু চিন্তাভাবনা শেয়ার করতে চাই। এমন কিছু ব্যাপার, যা নিয়ে আমি স্বপ্ন দেখি, দেখতাম এবং এখনো দেখছি।

কিছুক্ষণের মধ্যেই তোমরা একটি বড় ডিগ্রি অর্জন করতে যাচ্ছো। নিঃসন্দেহে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্মান। এই সম্মান তোমাদের জীবনকে অনেকখানি এগিয়ে দেবে। তোমাদের এই অর্জন কাজে লাগিয়ে কীভাবে পৃথিবীর সামগ্রিক উন্নয়ন আরও বৃদ্ধি করা যায়, পৃথিবীটাকে আরেকটু সুন্দর করা যায়, সেটা নিয়ে তোমাদের ভাবতে হবে।

২০০৯ সালে আমি যখন খান একাডেমি শুরু করি তখন আমি একটা সাজানো-গোছানো, সুনিশ্চিত ভবিষ্যতের মাঝপথে। আমার ভিডিওগুলো দেখে তখন পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে লোকজন ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি লিখত। কিন্তু একদিকে চাকরি আরেকদিকে খান একাডেমি, দুটোকে একসঙ্গে সামলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। আমি তখন আমার স্ত্রীর সঙ্গে আমাদের হাতে কী পরিমাণ টাকা-পয়সা আছে তার হিসাব করতে বসলাম। আমি তাকে বোঝালাম কীভাবে খান একাডেমি দিয়ে শিক্ষার প্রচলিত ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে মানুষের শেখার ধরনকেই আমূল বদলে ফেলা যাবে, কীভাবে পৃথিবীজুড়ে মানুষ ঘরে বসে বিনা খরচে শিখতে পারবে, সভ্যতাকে কত সহজে কতখানি এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে। আর একবার এই সম্ভাবনা মানুষ বুঝতে পারলে এই মহৎ কাজে বিনিয়োগের অভাব হবে না। এমন এটাসেটা অনেক কিছু বুঝিয়ে আমি চাকরি ছেড়ে দিলাম! আর পুরোপুরি খান একাডেমির কাজে লেগে গেলাম। আস্তে আস্তে নয় মাস কেটে গেল, অনেক কিছু করতে চেষ্টা করলাম, অনেক লোকজনের সঙ্গে কথা বললাম, মিটিং করলাম। কিন্তু যা ভেবেছিলাম তার কিছুই হলো না।

সত্যি কথা বলতে কি, আজ যখন লোকে শোনে আমি হার্ভার্ড, এমআইটিতে পড়াশোনা করেছি, তারা মনে করে কত সহজেই না আমি ভিডিও বানানো শুরু করেছি আর রাতারাতি খান একাডেমি গড়ে তুলেছি। কিন্তু কেবল আমিই জানি সেই সময়গুলো কতটা কঠিন ছিল। দেয়ালে আমার পিঠ ঠেকে গিয়েছিল প্রায়। আমার তখন ৩২ বছর বয়স, একটি ছেলেও হয়েছে, বাড়ি কেনার জন্য ৩০-৪০ হাজার ডলার ডাউনপেমেন্ট দিতে হবে—এমন অনেক সমস্যা তখন আমাকে ঘিরে রেখেছে। সে সময় কেউ আমাকে দেখলে বলত আমি নির্ঘাত বদ্ধ উন্মাদ হয়ে গেছি। আমি আমার পরিবার নিয়ে অনেক সুন্দর একটা জীবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম আর আমিই সবকিছু নিজের হাতে নষ্ট করে ফেলেছি। সেই সময় একটা জিনিসই আমাকে একটু আশার আলো দেখাত, আর তা হলো অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ভরা চিঠি।

কিন্তু তার পরও, একটা পর্যায়ে আর চালাতে না পেরে আমি হতাশার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গেলাম। যখন প্রায় ঠিক করেই ফেলেছিলাম সবকিছু ছেড়ে দেব, ঠিক তখনই আমার কাছে খান একাডেমির নামে ১০ হাজার ডলারের অর্থ পুরস্কার আসে। এর আগে বেশির ভাগ লোক পাঁচ কিংবা ১০ ডলার করে পাঠাত। সেটাই ছিল তখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় অঙ্কের টাকা। সেটি পাঠিয়েছিল এই রাইস বিশ্ববিদ্যালয়েরই ১৯৭৫ সালের ব্যাচের একজন, তার নাম অ্যান ডোয়ার। আমি তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ই-মেইল করি। সে কাছেই থাকত, একদিন দুপুরে আমরা এক রেস্টুরেন্টে খেতে খেতে কথা বলছিলাম। অ্যান আমার কাছে জানতে চাইল আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী। আমি বললাম, এখনকার মতো আমি সারাজীবন ধরে ভিডিও বানিয়ে যেতে চাই! আমি বলেই যাচ্ছিলাম এটা নিয়ে আমার কত স্বপ্ন, কত কিছু করার আকাঙ্ক্ষা। কীভাবে খান একাডেমি সারা পৃথিবীর শিক্ষাব্যবস্থা বদলে দিতে পারে! সে বলল, ‘বুঝলাম তোমার অনেক বড় পরিকল্পনা! কিন্তু তুমি নিজে চলছ কীভাবে?’ আমি তখন বোধহয় একটু বেশি জোরেই বলে ফেলেছিলাম, ‘আমার তো চলছে না!’ যাই হোক, আমার কথা শুনে তিনি গম্ভীরভাবে মাথা নাড়লেন, আমরা বিদায় নিলাম। আমি যখন বাড়ির প্রায় কাছে পৌঁছে গেছি, তখন অ্যানের কাছ থেকে আমি একটি মেসেজ পাই। সেখানে লেখা, ‘তোমার নিজেরও তো চলতে হবে, তাই আমি টাকার অঙ্কটা বাড়িয়ে এক লাখ ডলার করে দিচ্ছি।’ আমি আরেকটু হলেই গাড়ি নিয়ে সোজা গ্যারেজে ধাক্কা খেতে যাচ্ছিলাম!সেই মুহূর্তে টাকার অঙ্কের চেয়েও বেশি সাহায্য করেছিল খান একাডেমির সম্ভাবনার ওপর অ্যানের গভীর আস্থা। আজকে এসব শুনে অনেকেই বলবে, অ্যানের অঢেল টাকা ছিল, তাই সে সাহায্য করতে পেরেছে। আমার অত টাকা-পয়সা নেই যে, কাউকে এক লাখ ডলার দান করে দিতে পারি। এখানেই আমার দ্বিমত। আমি অন্তত এমন ৫০ জনের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, যাদের আর্থিক অবস্থা অ্যানের চেয়েও অনেক ভালো ছিল। কিন্তু তারা তো এগিয়ে আসেনি!

একটা কথা আমি খুব জোর দিয়ে বলব, যদি কখনো এমন অবস্থানে থাকো, যেখানে তোমার একটু সাহায্যে অন্যের অনেক বড় কোনো উপকার হতে পারে, তবে কখনো তাকে উপেক্ষা করো না। আমি সব সময় যা করতে চেষ্টা করি এবং অন্যদেরও করতে বলি, তা হলো কখনো যদি দেখ কেউ অসাধারণ কোনো কিছু করছে কিংবা করার চেষ্টা করছে, চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থেকো না। তাকে প্রশংসা করো, ধন্যবাদ জানাও, তার কাজের স্বীকৃতি পেতে সাহায্য করো। তার বসকে জানাও কী সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে তার মধ্যে। তার পরিবারকে জানাও কত বড় কাজ করছে সে। তুমি কল্পনাও করতে পারবে না তোমার ছোট্ট একটি পদক্ষেপ, একটি প্রশংসা বাক্য কীভাবে একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। তোমার উৎসাহে কেউ হয়তো তার জীবনের লক্ষ্যই বদলে ফেলতে পারে। একজন ইতিবাচক চিন্তাধারার মানুষ তার চারপাশের অসংখ্য মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে, তাই সব সময় ইতিবাচক চিন্তা করো। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যদি তুমি তোমার স্বপ্ন সফল করতে চাও, সব সময়, সবকিছু থেকেই শিখতে চেষ্টা করো। নতুন কিছু শেখার জন্য নিজেকে সব সময় প্রস্তুত করে রাখা কতটা দরকার তা আমি বলে বোঝাতে পারব না। তোমাদের সামনে যে সময় অপেক্ষা করছে, তা তোমরা শেখার জন্য বিনিয়োগ করো। আমি খান একাডেমির সঙ্গে আছি বলে মানুষ কীভাবে শিখতে শিখতে জীবন বদলে ফেলে, এ ব্যাপারটা খুব ভালোভাবে প্রত্যক্ষ করেছি। ২০০৮ সালে দুরারোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত একজন রোগীর কাছ থেকে আমি একটি চিঠি পাই। তখন তার জীবনের মেয়াদ আর মাত্র দুই মাস। কতখানি ইতিবাচক মনোভাব থাকলে মৃত্যুপথযাত্রী একজন মানুষ লিখতে পারে, ‘আমার অনেক দিনের শখ ছিল ক্যালকুলাস শিখব, এখন খান একাডেমি আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে। আশা করি জীবনের শেষ দুই মাসের মধ্যেই আমি ক্যালকুলাস শিখে ফেলতে পারব!’ কী অসাধারণ মানসিক শক্তি, কতখানি তীব্র শেখার ইচ্ছা। সেই চিঠি দেখার পর আমি ঠিক করেছি, যতদিন বেঁচে থাকি, কখনো শেখা থামাব না।

১৯৯৮ সালে আমি যখন তোমাদের মতো গ্র্যাজুয়েশন করি, তখন আমার কিছু কাজ নিয়ে একটা কম্পিউটার ম্যাগাজিনে প্রবন্ধ ছাপা হয়। আমার সেটা নিয়ে খুবই গর্ববোধ হয়েছিল। কিন্তু আমার তেমন কোনো লক্ষ্য ছিল না। নিজেকে নিয়ে কোনো পরিষ্কার ধারণাই ছিল না যে, আসলে আমি কী করতে চাই। একটা চাকরি শুরু করার দুই মাসের মধ্যেই আমি আরও বেশি বেতনে আরেকটা চাকরি পাই, আর সেখানে চলে যাই। সেখানে প্রথম তিন দিনেই বস আমাকে বেশ ভালো করে বুঝিয়ে দেন, আমি তাঁর চোখে কতটা অযোগ্য। ব্যাপারটা ভেবে দেখো! মাত্র ২৩ বছর বয়সে সবচেয়ে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় ডিগ্রি, ম্যাগাজিনে ছাপানো প্রশংসা, সবকিছু নিয়ে রাতের বেলা আবিষ্কার করলাম আমি হোটেল রুমে বসে বসে কাঁদছি। আমি জীবনে আসলেই কী করতে চাই তা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। সেই রাতে মনে হচ্ছিল চোখের সামনে পৃথিবীটা দুলছে, সবকিছু অর্থহীন লাগছে। কিন্তু তার পরও পরদিন ভোরে উঠলাম, কাজ করলাম, গত রাতের চেয়ে একটু ভালো লাগল। এক সপ্তাহ পর আরেকটু মানিয়ে নিতে পারলাম, দুই মাসের মধ্যে আবার নতুন এক জায়গায় কাজ করা শুরু করলাম!

যখন সাফল্য আসবে, তাকে উপভোগ করো, কিন্তু এটাও খেয়াল রেখো, তুমি ঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছ কি না। যতই বড় হও না কেন, মনে রেখো সবকিছুরই একটা শেষ আছে। সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রটিও জ্বলতে জ্বলতে একদিন নিভে যাবেই। তাই ব্যর্থতার জন্য প্রস্তুত থেকে সাফল্যকে উদ্যাপন করো। ছোট ছোট খুশির বিষয়কে অবহেলা করো না, আবার দু-একবার হোঁচট খেলেও হাল ছেড়ে দিয়ে বসে পোড়ো না। এখন থেকে ১০-১৫ বছর পর হয়তো এগুলো মনে করেই তুমি হাসবে, ভাববে কী ছেলেমানুষই না ছিলাম!

জীবনকে, এখনকার সময়কে একটা অনন্য সুযোগ হিসেবে দেখো। সাফল্যের পেছনে যতই ছুটে চলো না কেন, এই মানবিক ব্যাপারগুলো ভুলে যেও না। প্রাণ খুলে হাসো। প্রিয়জনদের সময় দাও, তাদের বলো কতটা ভালোবাসো। চারপাশের মানুষের জন্য কিছু করো। মনে করো, এটা তোমার কল্পনা থেকে ফিরিয়ে আনা দ্বিতীয় জীবন। এ জীবন আফসোসের জন্য নয়

শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

মানবতার সেবক ডাঃ কামাল উদ্দিন

মানবতার সেবক ডাঃ কামাল উদ্দিন

এক মহৎ সেবকের কথা শেয়ার করছি ।
-আংশিক নয়, পুরোটাই পড়ুন -
যিনি পেশায় একজন চিকিতসক এবং
বাংলার বাঘ- শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের সাবেক সফল পরিচালক,
 ডাঃ কামাল উদ্দিন ।
তিনি এত বড় একটা পদে ছিলেন -
চাইলে অনেক অর্থ বিত্ত অনেক কিছুর মালিক হতে পারতেন ।

সুবর্ণা ট্রেনে করে ঢাকা যাত্রাপথে উনার ডান পাশেই আমার সীট পড়েছিলো  ।
আলাপ চারিতার এক ফাঁকে ,
যখন বললেন -
আমি যখন পরিচালকের দায়িত্ব থেকে অবসর গ্রহন করি ,
তখন আমার ব্যাংকে ব্যালেন্স ছিলো মাত্র ৪, হাজার ৩ শ টাকা সামথিং ।
শুনেই অবাক !!
অবাক নয় সত্যি !
তিনি নিজের জীবনকে সত্যিই অনেক সৎভাবে পার করছেন ।


তিনি বিখ্যাত ডাঃ গোলাম রসুল  স্যারের কথাও তুলে ধরেছেন ।
অনেকে গোলাম রসুল স্যারের কাছে বলেছেন -
স্যার, আপনার অনেক জুনিয়রেরা হাজার টাকা ভিজিট নেন ,
আর আপনি এত সিনিয়র হয়েও এখনো মাত্র  সেই আমলের ২শ টাকা সম্মানী ভিজিট নেন ।

ডাঃ গোলাম রসুল স্যার তাদের জবাবে  বলেছিলেন -
আমাদের দেশের পরিপেক্ষিতে এটাই যথেষ্ট !!
আমি এতেই সন্তুষ্ট ।


আলাপ চারিতায় তিনি আরো বলেন ,
আমাদের ছেলে- মেয়েদের রচনা লিখতে দিলে ,
কেউ লিখে ডাক্তার হবে, কেউবা ইঞ্জিনিয়ার ! কেউবা পাইলট !!

কিন্তু কেউ  লিখে  না - আমি একজন মানুষ হবো ।

আমাদের দেশে ডাক্তার , ইঞ্জিনিয়ার ও ভালো পেশার লোকের অভাব নেই ।
কিন্তু এখন প্রয়োজন কিছু ভালো মানুষের ।

স্কুলের শিক্ষকরা যদি - তাদের ছাত্রদের এইম ইন লাইফে ,
আমি একজন ভালো মানুষ হবো লিখতে শুরু করে ।
তবেই  জাতি উপকৃত হবে ।

তিনি শেষে আরেকটি স্বরনীয় কথা বলছেন ,
যে পেশায় আছো - সেটা বড় সম্মানী পেশা ।
নিজের কর্মে ব্যস্ত থাকো। মানুষের সেবা করো ,
' টাকার পিছনে ছুটো না ,
টাকায় তোমার পিছনে ছুটবে । '


এক মহান মানব দরদী - মানবতার সেবকের সাথে পরিচিত হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি ।

____লেখা =- ডাঃ স্বাধীন