মনীষী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মনীষী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

এসব ডাক্তারদের অবদান তুলে ধরার কেউ নেই....

এসব ডাক্তারদের অবদান তুলে ধরার কেউ নেই....


আপনার জন্ম যদি ১৯৯২ সালের পর হয়ে থাকে
এবং শিশু অবস্থায় ছোট-খাট জ্বর হবার পর জ্বর
কমানোর ঔষধ সেবন করেও আপনি যদি বেঁচে
থাকেন, তাহলে আপনার বেঁচে থাকার
পেছনে এই মানুষটার সামান্য অবদান থাকার
সম্ভাবনা রয়েছে। যাদের সন্তান বা ছোট
ভাইবোন ঐ সময়ের পর জন্মগ্রহণ করেছেন,
তাদের জন্যও এই কথাটা প্রযোজ্য।

বাংলাদেশে শিশুদের জ্বরের ঔষধ
হিসেবে প্যারাসিটামল সিরাপ প্রচলিত।
১৯৯২ সাল পর্যন্ত বেশ কিছু কোম্পানীর
প্যারাসিটামল সিরাপের মধ্যে বিষাক্ত
একটি উপাদান ছিল যার কারণে অনেক শিশু
প্যারাসিটামল সিরাপ গ্রহণের পর কিডনি
রোগে মারা গেছে। ডা. হানিফ সর্ব প্রথম
প্যারাসিটামল সিরাপের মধ্যে এই
বিষাক্ত উপাদানটি সনাক্ত করেন এবং এর
কারণে শিশুদের কিডনি রোগে মৃত্যুর কারণ
নির্নয় করেন।

১৯৮২ সালে ডা. হানিফ তৎকালীন পিজি
হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় শিশুদের
কিডনি ডায়ালাইসিস বিভাগে দায়িত্ব
পালনের সময় লক্ষ্য করেন যে অনেক শিশু
কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার
জন্য আসছে এবং তাদের সবাই শেষ পর্যন্ত
মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। বিষয়টির কারণ তখন
তিনি বা হাসপাতালের কোন ডাক্তারই
ধরতে পারেন নি। কিছুদিন পর তিনি উচ্চ
শিক্ষার্থে বিদেশে চলে যান। এর পর ৯০
সালের দিকে দেশে ফিরে এসেও তিনি
একই অবস্থা দেখতে পান। বিষয়টি তাঁকে
বিচলিত করে এবং বিস্তারিত অনুসন্ধান
করে দেখতে পান যে, এই কিডনি
রোগাক্রান্ত শিশুদের সবাই জ্বরে আক্রান্ত
হয়ে প্যারাসিটামল সিরাপ গ্রহণ করেছিল।
ডা. হানিফ বেশ কয়েকটি ঔষধ কোম্পানীর
তৈরী প্যারাসিটামল সিরাপ যুক্তরাষ্ট্রে
পরীক্ষার জন্য পাঠান এবং দেখতে পান যে,
কয়েকটি কোম্পানীর প্যারাসিটামল
সিরাপে বিষাক্ত ডাই-ইথিলিন গ্লাইকোল
রয়েছে যে কারণে শিশুদের কিডনি বিকল
হয়ে তারা মারা যাচ্ছে। তৎকালীন পিজি
হাসপাতাল বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করে
দেখতে পায় কেবলমাত্র ১৯৮২ থেকে ১৯৯২
সময়কালে ঐ হাসপাতালেই প্রায় ২৭০০ শিশু
কিডনি বিকল হয়ে ডায়ালাইসিস করতে
এসে মৃত্যুবরণ করেছে। অন্যান্য হাসপাতালের
পরিসংখ্যান এবং হাসপাতালে চিকিৎসা
না নেয়া শিশুদের সংখ্যাটা বিবেচনায়
নিলে মৃত্যুর সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি
হবে বলেই ধরে নেয়া যায়।

বিষয়টি ধরা পরার পর ১৯৯২ সালে ড্রাগ
কোর্টে চারটি ঔষধ কোম্পানীর বিরুদ্ধে
মামলা হয়। বলা বাহুল্য ঔষধ কোম্পানীগুলো
বিত্তবানদের প্রতিষ্ঠান তাই তারা ১৯৯৪
সালে হাইকোর্টে গিয়ে মামলাটি
স্থগিত করে দেয়। শুধু তাই নয়, ড্রাগ কোর্টের
কর্মচারীদের সহায়তায় মামলার নথিপত্র
পর্যন্ত গায়েব করে দেয়া হয়। ২০০৯ সালে
যখন আবারো ডাই-ইথিলিন গ্লাইকোল
মিশ্রিত বিষাক্ত প্যারাসিটামল সিরাপ
সেবন করে নতুন করে কিছু শিশু আক্রান্ত হলো
তখন আবার সেই মামলা চালানোর ব্যবস্থা
করা হয় এবং সেটিও এই ডা. হানিফেরই
কারণে। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, এই ১৪ বছরে
বাংলাদেশ ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন বা
সরকারের এটর্নি জেনারেল কেউই
হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের
জন্য চেষ্টা করেন নাই।

যে ঔষধ কোম্পানীর প্যারাসিটামল সিরাপ
সেবন করে সবচেয়ে বেশি শিশু নিহত
হয়েছে সেই ঔষধ কোম্পানী এডফ্লাম এর
মালিক হেলনা পাশাকে ড্রাগ কোর্টের
রায়ে ২০১৪ সালের ২২ জুলাই ১০ বছরের
কারাদণ্ড দেয়া হয় কিন্তু মাত্র ৫২ দিন
কারাবাস করে তিনি একই বছর ১১ সেপ্টেম্বর
হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে বেড় হয়ে
আসেন। মামলায় নিযুক্ত সরকারী ডেপুটি
এটর্নি জেনারেল শফিউল বাশার
ভাণ্ডারী হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে
আপিল করেননি। শত শত শিশু নিহতের জন্য
দায়ী একজন মানুষ এভাবেই শাস্তি থেকে
রক্ষা পেয়ে যান।

এই বিষাক্ত প্যারাসিটামল সিরাপের
বিষয়ে লেখালেখি করার কারণে এবং
বারবার বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীর
পারাসিটামল সিরাপ পরীক্ষা করে তাতে
বিষাক্ত ডাই-ইথিলিন গ্লাইকোল সনাক্ত
করার কারণে ডা. হানিফকে কম ভোগান্তি
পোহাতে হয়নি। ঔষধ কোম্পানীগুলো
বারবার তাঁকে কোর্টে নিয়ে নিজেদের
উকিল দিয়ে হেনস্তা করেছে এবং তাঁকে
একঘরে করে রাখার চেষ্টা করেছে। ঘুষ
দিয়ে ড্রাগ কোর্টের কর্মচারীদের
সহায়তায় উনার সরবরাহ করা ল্যাবরেটরি
টেস্ট রিপোর্ট সরিয়ে ফেলে উনাকে
মিথ্যাবাদী এবং ঔষধ শিল্পের জন্য
ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করার
চেষ্টাও করা হয়েছে।

কিন্তু ডা. হানিফ থেমে থাকেন নি।
তিনি নির্ভয়ে কোর্টে গিয়ে বারবার
তার গবেষণা প্রতিবেদন এবং ল্যাবরেটরি
টেস্টের ফলাফল উপস্থাপন করে শিশুদের
জীবন রক্ষার চেষ্টা করে গেছেন।
বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষই গরিব।
এখানে চিকিৎসা পদ্ধতিও বেশ অদ্ভুত।
বেশি টাকা দিয়ে বিশেষজ্ঞ
চিকিৎসকের কাছে না যেতে পারলেও
মানুষ কষ্ট করে সরকারী হাসপাতালে
যেতে চায় না। তারা প্রথমে চেষ্টা করে
রোগের বর্ননা দিয়ে কাছাকাছি কোন
ফার্মেসি হতে ঔষধ সংগ্রহ করতে। তাছাড়া
পল্লী চিকিৎসক, সরকারী হাসপাতাল বা
মেডিকেল সেন্টারগুলোর ডাক্তাররাও
অনেক সময় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ
দের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অখ্যাত ঔষধ
কোম্পানীর ঔষধ প্রেসক্রাইব করে থাকেন।
এমন পরিস্থিতিতে বিষাক্ত ঔষধ সেবন করে
ঠিক কত শিশু মৃত্যুবরন করেছে, তা নির্নয় করা
আসলেই কঠিন একটা কাজ।

এই ঘটনা উন্নত কোন দেশে ঘটলে সরকার/
আদালত ঐ সব ঔষধ কোম্পানীগুলোকে বাধ্য
করত নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপুরণ দিতে।
এবং বিষাক্ত ঔষধ সনাক্ত করে লাখো শিশুর
জীবন রক্ষার জন্য ডা. হানিফ পেতেন
পুরষ্কার ও সম্মান।

বাংলাদেশে চলে তার নিজস্ব মডেলে।
তাই ঐসব ঔষধ কোম্পানীর বিরুদ্ধে
জরিমানা হয় না, শিশু হত্যাকারীরা
জামিনে বেড় হয়ে আসে, ক্ষতিপুরণের তো
প্রশ্নই আসে না, আর ডা. হানিফ রয়ে যান
উপেক্ষিত; অবহেলিত।

সরকার ডা. হানিফকে সম্মান না দেখাক।
আমি, আপনি এবং আমরা উনাকে সম্মানিত
করতে পারি আমাদের সমগ্র ভালবাসা
দিয়ে। আমার দুইটি সন্তান আছে। তারাও
শিশুকালে জ্বরে ভুগেছে এবং জ্বরের জন্য
ঔষধ সেবন করেছে। ওদের যে বিষাক্ত
প্যারাসিটামল সিরাপ সেবন করতে হয়নি
তার জন্য আমি ডা. মোহাম্মদ হানিফ এর
কাছে কৃতজ্ঞ এবং ঋণী।


বিষাক্ত প্যারাসিটামল সিরাপ সংক্রান্ত ডা. হানিফের আর্টিকেল: http://goo.gl/Zz9MaK
গুগল স্কলারে ডা. হানিফের আর্টিকেলসমূহের লিংক: https://goo.gl/0M96eP

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

প্রফেসর ডাঃ কাজী দ্বীন মোহাম্মদ.. বাংলাদেশে নিউরো মেডিসিন এর অন্যতম পথিকৃৎ

প্রফেসর ডাঃ কাজী দ্বীন মোহাম্মদ.. বাংলাদেশে নিউরো মেডিসিন এর অন্যতম পথিকৃৎ


তার নাম প্রফেসর ডাঃ কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।।
বাংলাদেশে নিউরো মেডিসিন এর অন্যতম পথিকৃৎ।।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ।।
স্যারের নামে অনেক মিথ আছে, যেমন- তার ক্লাসে লেকচার গ্যালারির সিঁড়ি পর্যন্ত খালি থাকে না, যে ছেলেটি সারা সপ্তাহ ক্লাস করে না সেও ক্যান্টিনের সিংগারা চিবুতে চিবুতে ক্লাসের দিকে আগায়, স্যারকে চেম্বারে দেখাতে ছয়মাস আগে সিরিয়াল লেখাতে হয়।।
আমার এখন প্লেসমেন্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ২১৮ নম্বর ওয়ার্ডে যা "কাকা" স্যারের ওয়ার্ড নামে পরিচিত। এই ওয়ার্ডের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ হাফিজ স্যারের মুখে শোনা এই গল্প।
দ্বীন মোহাম্মদ স্যার বেশ ব্যস্ত মানুষ। তাই আমলা তথা সচিবদের সব সময় তিনি বেশি সময় নিয়ে দেখেন না।
তো একবার, তার কাছে এক আমলা এলেন। তার সমস্যা ছিল পায়ে ব্যথা আর হাটতে না পারা।
স্যার উনাকে বললেন দাড়িয়ে আবার বসতে। উনি কথামত দাড়িয়ে বসলেন। স্যার উনাকে বললেন, " আপনার GBS (Guillain–Barré syndrome) আছে। " এই বলে ঔষধ প্রেস্ক্রাইব করে দিলেন। সচিব সাহেব স্যার তাকে বেডে শুইয়ে ভালভাবে না পরীক্ষা করাতে একটু ক্ষিপ্ত হলেন।
তিনি টাকা ম্যানেজ করে সিংগাপুর চলে গেলেন। সেখানে প্রখ্যাত এক হাসপাতালে ভর্তি হলেন। সেখানের ডাক্তাররা তাকে একমাস বেশ ভালভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করলেন। তারপর তারা রায় দিলেন যে উনার GBS (Guillain–Barré syndrome) হয়েছে যা দ্বীন মোহাম্মদ স্যার বেশ আগেই বলেছিলেন।
রিপোর্ট দেখে সচিব সাহেব বেশ অবাক হলেন। তিনি দেশে ফিরে কিছুটা ক্ষোভ আর বিস্ময় নিয়ে আবার দ্বীন মোহাম্মদ স্যারের কাছে গেলেন। গিয়ে বললেনঃ আপনার প্রতি আমার কিছুটা ক্ষোভ আছে আর শ্রদ্ধা আছে। শ্রদ্ধা এই জন্য যে, সিংগাপুরে একমাস লাগিয়ে যে রোগ বের হল তা আপনি এক দেখাতেই বলে দিলেন!
আর ক্ষোভ এই কারনে যে, সেইদিন যদি আপনি আমাকে বেডে শুইয়ে একটু পরীক্ষা করতেন তাহলে আমাকে ৫৫ লক্ষ টাকা খরচ করে সিংগাপুরে যেতে হত না।
কাউকে ছোট বা অপমান করে কিছু লিখিনি। শুধু বলতে চাই, দুই ঘন্টা গরমের মধ্যে ওয়ার্ডে দাড়িয়ে ঘামে ভিজে হাসিমুখে রোগীর হিস্ট্রি নেয়ার যে কি অনুভূতি তা আগে জানুন, তারপর ডাক্তারদের গালি দিবেন। আমাদের দেশের ডাক্তাররাও বেশ হাইলি কোয়ালিফাইড। ইউরোপ-আমেরিকায় যে Davidson's Medicine বা Robbin's Pathology পড়ানো হয় আমরাও তাই পড়ি। পার্থক্য শুধু একটাই, তাদের আছে সেন্ট্রাল এসি হাসপাতাল আর চকচকে লেমিনেটেড পাতার বই আর আমাদের স্বল্প ফ্যানযুক্ত ওয়ার্ডে নিলক্ষেতের ফটোকপি বই দিয়েই কাজ চালাতে হয়।।

লিখেছেন- Ashiqur Rahman Akash


সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

ভীষন মিস করছি.. কেমিস্ট্রির অধ্যাপক হযরত আলী স্যার কে

ভীষন মিস করছি.. কেমিস্ট্রির অধ্যাপক হযরত আলী স্যার কে




১০বছর আগে কেমিস্ট্রির যে স্যার পড়ার জন্য বকা দিয়েছিলো,  
সে স্যার আজকে আমাকে বাহবা দিলো ... 

টানা ২৪ ঘন্টা নিদ্রাহীন ছিলাম,
কিন্তু নিজেকে একটুও ক্লান্ত মনে হয় নি,
৬০৭ কেবিনে ভর্তি ক্যান্সারের রোগীর প্রেশার রাত ৩টার দিকে কমতে কমতে ৫০/২০ তে চলে আসলছিলো।
এত রাতে কি করি,
গভীর রাত হওয়ায়
ইঞ্জেকশান ডোপামিন  নরমাল স্যালাইনের সাথে পাম্প মেশিনে রোগী গায়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম,
তবুও  ডা: আনিসুল আউয়াল স্যারকে ফোন দিয়ে শিওর হয়ে নিলাম,
এভাবে চালাবো নাকি  এইচডিউতে পাঠাবো
স্যার  বললো ৫০০ এম এল নরমাল স্যালাইনের সাথে  ২ এ্যাম্পুল ডোপামিন পুশ করে ৩২ ড্রপসে  মাইক্রোবুরেট সেট দিয়ে চালু করে,  অবজার্ভেশন করে  প্রেশার মেপে দেখিও,
স্যারের নির্দেশনা মেনে শুরু করলাম চিকিতসা,
ব্লাড প্রেশার কখনো ৭০/৪০,
কখনো ৮৫/৫০
এভাবে বাড়তে থাকলো,
সকাল ৭ টায় দেখলাম ১০০/৭০,
তখন খুব ভালো লাগলো,
আকরাম স্যারের হাতে ব্লাডের রিকোজিশন
দিয়ে দিলাম,
সকালে  এক ব্যাগ রক্ত দেয়ার পর,
রোগীর ব্লাড প্রেশার হলো ১২০/৮০, যা
নরমাল।

নরমাল ব্লাড প্রেশার দেখে এতোটা ভালো লাগলো,  স্যারকে খুশিতে বুঝাতে পারছিলাম না।
স্যারকেও খুব খুশি দেখাচ্ছিলো। 

যাক ... ঘুমহীন রাতের কষ্টটা স্বার্থক হলো,
যে পেশেন্টির ব্লাড প্রেশার  কমতে কমতে শুন্যের কোটায় গিয়ে পেশেন্ট শকে চলে যাচ্ছিলো, 
সে পেশেন্টকে সন্ধ্যায়  যখন 
জিজ্ঞেস করলাম  এখন কেমন লাগছে?
তিনি হেসে উত্তর দিলেন
ভালো লাগছে !
তুমি সারাটা রাত  না ঘুমিয়ে আমার জন্য যা করেছো,  
অন্যদের কে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে বলে,
এই ডাক্তার আকরামের ছাত্র  ।
সারারাত আমার জন্য ঘুমায় নাই,

রোগীর মুখে হাসি দেখে কি যে আনন্দ লাগলো!
বলে বুঝাতে পারবো না। 

রোগী সুলতানা  কোরায়েশী সম্পর্কে আমাদের 
প্রিয় সিটি কলেজের কেমিস্ট্রির সহকারি অধ্যাপক আকরাম স্যারের শ্বাশুড়ি 
ও  ডা: আনিসুল আউয়াল স্যারের মামী ।

আকরাম স্যারের সাথে ২৪ ঘন্টায়,
যত দেখা আর কথা হয়েছে
পুরো ২ বছরের  ইন্টার লাইফেও হয় নাই  ।

স্যার আপনাদের ভীষন মিস করছি...
বিশেষ করে কেমিস্ট্রির অধ্যাপক হযরত আলী স্যার কে, যার লেকচার করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম,
যিনি রসায়নকে খুব সহজেই  আমাদের ব্রেনে  বুনে দিয়েছিলেন,  যিনি বর্তমানে সিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৫

ডাক্তার না হয়েও সত্যি চমৎকার লিখেছেন তিনি-

ডাক্তার না হয়েও সত্যি চমৎকার লিখেছেন তিনি-

ডাক্তার না হয়েও সত্যি চমৎকার লিখেছেন তিনি-
ডাক্তারদের পাশ করতে এমনিতেই গড়ে ২/৩ বছর বেশী লাগে (MBBS এর duration এর কারণে), গড়ে ৬ বছর, ৫ বছর কোর্স আর ১ বছর ইন্টার্নি (সেশন জট থাকলে আরও বেশী) । তার মানে অন্য কোন বিষয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের থেকে ২/৩ বছর জুনিয়ররা এক সাথে পাশ করে বিসিএস দেয়। এরপর ধরে নিলাম, বিসিএসে ঢুকল। আপনারা কি জানেন প্রশাসনে ডাক্তারদের রাঙ্কিং কি? এক সাথে একই ব্যাচে ঢুকেও ডাক্তারকে স্যার বলতে হয় ৪/৫ জনকে। যারা তার থেকে ২ বছর ছোট।
অন্যদের উপজেলা পরিষদে থাকবার বসবার জায়গা আছে, এমন কি গাড়িও আছে কারও কারও, আর ডাক্তারদের পোস্টিং হয় ইউনিয়ন লেভেলে। ইউনিয়নের মেম্বারের বাড়ির চাকরের জ্বর হলেও ডাক্তারকে রাত ৩ টায় তাকে বাড়ি যেয়ে দেখে আসতে হবে, না হলে কপালে মার আছে।
সরকারী হাসপাতালে ডাক্তাররা কি করেন? ফাকি মারেন তাই না? ডাক্তার নাই, তারপরও যারা আছেন তারা গড়ে শুধু আউটডোরেই ১১০ জনের উপরে রুগী দেখেন। আর ইউকেতে একজন জিপি গড়ে ৩০-৪০ জন রুগী দেখেন। পার্থক্যটা দেখেন, কোয়ালিটি কেন ভালো এখানে বুঝতে পারবেন। আর জানিয়ে রাখি এই ডাক্তারদের একটা বড় অংশ কিন্তু বাংলাদেশের ডাক্তার। দেশে তারা “ভুল চিকিৎসা” করলেও ইউকেতে কিন্তু তাদের পারফরমেন্স খুব ভালো, তারাই সেখানে বিশ্বমানের সেবা দিয়ে থাকেন।
আমার স্ত্রীর কয়েকজন বন্ধুদের দেখেছি যারা ওখানে জিপি হয়ে গেছেন। এই ডাক্তাররা যখন এদেশে সরকারী চাকরি করে তখন বেতন শুরু করে ১৯,০০০ টাকায় আর বাইরের যে কোন উন্নত দেশে সর্বোচ্চ বেতন বরাদ্দ থাকে ডাক্তারদের জন্য। ইউকেতে জিপির (জেনারেল প্রাক্টিসনার) না ট্রেইনি ডাক্তারের বেতনও শুরু হয় বাংলাদেশী টাকায় ২,৫০,০০০ টাকায়। আর নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে (সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা) কাজ করলে তার জন্য আলাদা পয়সা দেয়া হয়। আমরা না মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে যাচ্ছি? যারা নিজেদের ডেভেলপড কান্ট্রি বলে, তারাতো সঙ্গত কারনেই ডাক্তারদের বেশী বেতন দেয়। তাই নিজেদের উন্নয়নের জন্য এই পরিবর্তনও জরুরী।
( http://www.practicelink.com/magazine/vital-stats/physician-compensation-worldwide/ )।
এবার ইউকে ডাক্তার দেখানোর অভিজ্ঞতার কথা বলি, একবার আমি সার্জারিতে গেলাম খুব ব্যাক পেইন নিয়ে। রিসেপশানে কম্পিউটার চেক করে রিসেপশনিশ্ট বলল ১৭ দিন পর দুপুর ২:৩০ টায় আপনি দেখাতে পারবেন। জি, ১৭ দিন পরের কথায় বলেছিল।(যারা এই তথ্য ভুল প্রমান করতে চান তারা দয়া করে এই লিঙ্কে গিয়ে ভুলটা ধরিয়ে দিবেন http://
www.nhs.uk/Services/GP/Overview/
DefaultView.aspx?id=40793 )। বাংলাদেশে ডাক্তার নাই, ফাঁকিবাজ সব। কিন্তু এমন কখনও কি হয়েছে আপনি সরকারী হাসপাতালে গেছেন আর আপনাকে না দেখে ফিরিয়ে দিয়েছে, তো সেটা রাত ৪ টা হলেও। বা বেড খালি নাই সে জন্য বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে? আমি নিশ্চিত বলতে পারি দেয়নি। আমার স্ত্রীর ২ দিনের লেবার পেইন থাকা সত্ত্বেও ইউকেতে কিন্তু আমার এই অভিজ্ঞতা হয়েছে- বাড়িতে ফেরত পাঠিয়েছে। (হাসপাতালের ঠিকানা এখানে পাবেন http://
www.bhrhospitals.nhs.uk/for-patients-and-visitors/queens-hospital.htm তারিখ ছিল ৩/১১/২০১০ এবং ১৪/১১/২০১০)। বাংলাদেশে কি কখনও শুনেছেন আজ হসপিটালের অমুক ডাক্তারের ২৫টা রুগী দেখা হয়ে গেছে আজ আর দেখবেন না, কাল সকালে আসেন। বাইরে কিন্তু শুনবেন। শুধু এই দেশেই হাসপাতালে ৫০০ বেড, রুগী ভর্তি আছে ১৫০০, তারপরও ৩০০ রোগী যাক, দেখবেন বারান্দায় পাটি বিছিয়ে দিয়ে ভর্তি করে নিয়েছে।
বলে নেয়া ভালো, বেড খালি না থাকলে বাড়ি পাঠিয়ে দেবার পলিসি কিন্তু কুইনস হসপিটাল ম্যানেজমেন্টের ছিল, ডাক্তারদের না। তেমনই বারডেমের বা বিএসএমএমইউ তে কয়টি আইসিইউ বেড থাকবে, বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত হাসপাতাল ম্যানেজমেন্টের, যে ডাক্তার ওখানে দায়িত্ব পালন করেন, এগুলো উনার এখতিয়ার ভুক্ত না। উনি চাইলেই ১টা বেড ওখানে বাড়াতে পারেন না। তাই যদি আইসিইউ দরকার হয় সেক্ষেত্রে বেড খালি না থাকলে আপনাকে ডাক্তার অন্য হসপিটালে যাইতে বলতে পারেন। কারন যার আইসিইউ দরকার হয় তাকে পাটি বিছিয়ে রাখলে হয়না, প্রত্যেকের জন্য আনুষঙ্গিক অনেক যন্ত্রপাতি দরকার হয়।
যাদের ডাক্তারদের প্রতি বিস্তর ক্ষোব, তাদের প্রতি অনুরোধ ডাক্তারদের প্রতি একটু মানবিক হন। একজন অনারারী ডাক্তারকে সপ্তাহে কত দিন, কত ঘণ্টা কাজ করতে হয় একটু খোঁজ নেন। হসপিটাল থেকে ক্লিনিক আর ক্লিনিক থেকে হসপিটাল করে। খাওয়া ঘুমের কোন নিয়ম নাই। আর এই মেধা, পরিশ্রম দিয়ে এত বছর পর তারা কত টাকা আয় করে জানেন? ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা। যেখানে তার সাথে স্কুল কলেজে পড়ুয়া কম মেধাবীরাও ৯-৫ টা অফিস করে কেউ কেউ লাখের উপরে বেতন পায়। ডাক্তারদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ঠিক করেন (৪০ ঘণ্টা যা অন্যরা করে), এর বেশী কাজ করতে হলে তাকে আলাদা করে পয়সা দেন, দেখবেন হাসপাতালে ডাক্তার থাকছেন । এছাড়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডাক্তার রাখতে হলে বাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে মেধার মূল্যায়ন অনুযায়ী প্রণোদনা দেন দেখবেন ঠিকই প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডাক্তার থাকছেন। ব্যাংকের জন্য যদি আলাদা বেতন স্কেল হতে পারে, ডাক্তারদের জন্য কেন নয়? যারা বাঙ্কে চাকরি করে তারা কি ডাক্তারদের থেকে বেশি মেধাবী না কি বেশী গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে? একজন ব্যাংকারের ২ বছর অভিজ্ঞতা হলে যদি ৪০,০০০ বেতন পায়। ডাক্তারকে অন্ততপক্ষে ৪০,০০০ দিয়ে বেতন শুরু করেন, কারন ডাক্তার ২ বছর অতিরিক্ত পড়াশুনার পিছনে ব্যয় করেছেন আর এই সময় তিনি আয় করা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
দিনের পর দিন কোন ব্রেক ছাড়া কাজ করলে আপনারা যে কেউই রুক্ষ হয়ে পড়বেন, একটু উনিশ বিশ হলে ধমক দিবেন। ডাক্তারদের একটু মানসিক আর শারীরিক বিশ্রামের সুযোগ দেন, দেখবেন উনাদের ব্যাবহারেই আপনি অর্ধেক ভালো হয়ে গেছেন। আর এই জন্য দরকার রাষ্ট্রের পলিসি লেভেলে কিছু পরিবর্তন।
শুরুতেই বলেছি এদেশের ডাক্তাররা যথেষ্ট যোগ্য, তাই পশ্চিমে উনাদের জায়গা করে নিতে তেমন বেগ পেতে হয়না। এভাবে চলতে থাকলে কিন্তু তার শেষটা আমাদের আর এই দেশের মানুষকেই ভোগ করতে হবে।
এখন আপনারা বিবেচনা করেন কি করবেন?

শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০১৫

বিসিএস ক্যাডার - বৈষম্য কি চলতেই থাকবে ??

বিসিএস ক্যাডার - বৈষম্য কি চলতেই থাকবে ??

বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন দেশের বিসিএস (বাংলাদেশ ক্যাডার সার্ভিস) পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যাডারভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে থাকে। বর্তমানে ২৮টি ক্যাডারে এ নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ক্যাডারগুলোতে রয়েছে বিবিধ মাত্রার বৈষম্য। কখনো পদোন্নতিবৈষম্য, কখনো কর্তৃত্ববৈষম্য।
এ ক্যাডারগুলোর মধ্যে কোনো কোনো ক্যাডার অত্যন্ত লোভনীয়। যেমন কোনো কোনো ক্যাডার রয়েছে যেগুলোতে বিত্তের পাহাড় গড়ে তোলা যায়, কেউ কেউ সেগুলো পছন্দ করেন, কেউ কেউ পছন্দ করেন ক্ষমতার দাপট, কেউ কেউ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার কারণে অপছন্দের ক্যাডার নেন। বিসিএস পরীক্ষায় সাধারণত পছন্দের প্রথম তালিকায় থাকে পররাষ্ট্র, দ্বিতীয়ত প্রশাসন, তৃতীয়ত পুলিশ। পছন্দের তালিকায় এ ক্রম ঠিক না থাকলেও এ তিনটির মধ্যেই সাধারণত প্রথম-দ্বিতীয়-তৃতীয় থাকে। এরপর আর ঠিক থাকে না।
পছন্দক্রম নিচের দিকে ক্রমাগত নামতে নামতে শিক্ষা ক্যাডার পর্যন্ত চলে আসে। তবে সংখ্যায় কম হলেও অনেকেই আছেন যাঁরা শিক্ষকতা ছাড়া অন্য কোনো ক্যাডার পছন্দ করেন না। এর বাইরে যাঁরা প্রকৌশলী, চিকিৎসক কিংবা কৃষিবিদ রয়েছেন তাঁরা সাধারণত টেকনিক্যাল ক্যাডারেই থাকেন। যাঁরা প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কৃষিবিদ হন তাঁরা তুলনামূলক অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের চেয়ে বেশি মেধাবী। তবে কর্মক্ষেত্রে এই মেধাবীরা তুলনামূলক উপেক্ষিত। তার মধ্যে স্বাস্থ্য ক্যাডারের চেয়ে কর্মক্ষেত্রে অবহেলিত অবস্থা আর কোনোটিতেই নেই। বর্তমানে প্রশাসন ক্যাডারের বিচারিক ক্ষমতা না থাকলেও তারা ব্রাহ্মণ অবস্থা থেকে সরে আসেনি।
ক্যাডারভিত্তিক বৈষম্যের নানা ধরন রয়েছে। যেমন ধরা যাক কোনো এক বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব ক্যাডারের সব শাখায় কর্মকর্তা নিয়োগ হলো। একই দিনে পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলো, আবার একই দিনে তাঁদের যোগদান হলো। তাঁরা যদি তাঁদের পদোন্নতির শর্ত পূরণ করেন, তাহলে তাঁদের একই দিনে পদোন্নতি হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু তা হচ্ছে না। পদোন্নতির ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা জটিলতা। যেমন স্বাস্থ্য ক্যাডারের পদোন্নতির জন্য তাঁদের অতিরিক্ত ডিগ্রি থাকা চাই। একই যোগ্যতা কিংবা চিকিৎসকদের চেয়ে কম যোগ্যতা নিয়ে পদোন্নতি পেয়ে হয়তো কেউ ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদে আসীন হচ্ছেন, আর চিকিৎসকদের হয়তো প্রবেশ পদেই সারা জীবন থাকতে হচ্ছে। শিক্ষা ক্যাডারসহ অনেক ক্যাডারের জন্য শুধু বিভাগীয় পরীক্ষা, বনিয়াদি কোর্স সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই পদোন্নতি হয়। প্রশাসন ক্যাডার, পুলিশ ক্যাডারসহ কিছু কিছু ক্যাডারের কিছুদিন বেশি প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হয়। সব ক্যাডারের জন্য যদি আর কোনো উচ্চতর ডিগ্রির প্রয়োজন না হয়, তাহলে স্বাস্থ্য ক্যাডারের জন্য কী কারণে অতিরিক্ত ডিগ্রির প্রয়োজন হবে? বিসিএস পরীক্ষার সময় যে যোগ্যতার ভিত্তিতে পরীক্ষা হয়, তাতে চিকিৎসা ক্যাডারের অনেকেই অন্য অনেক ক্যাডারের চেয়ে বেশি দিনের শিক্ষাজীবন নিয়ে পরীক্ষা দিয়ে থাকেন। তার পরও তাঁদের পদোন্নতি পাওয়ার সময় আরও বেশি ডিগ্রি চেয়ে তাঁদের প্রতি অবহেলা প্রকাশ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে উচ্চতর ডিগ্রিকে অধিক যোগ্যতা হিসেবে ধরে নিয়ে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তার সমান অথবা অধিক যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা ক্যাডারদের পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, যা হওয়া উচিত নয়। ২৮টি ক্যাডারের মধ্যে স্বাস্থ্য ক্যাডার একমাত্র ক্যাডার, যেখানে প্রবেশকালীন যোগ্যতার চেয়ে আরও অনেক বেশি ডিগ্রি প্রয়োজন হয় পদোন্নতিতে। অন্য সব ক্যাডারে প্রবেশকালীন যোগ্যতাই তাঁকে সর্বোচ্চ পদে আসীন করার জন্য যথেষ্ট।
ক্যাডারগুলোতে পদ শূন্য সাপেক্ষে পদোন্নতি হয়। দেশের অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পদ না থাকলেও স্বীয় পদেই ভাসমান পদোন্নতি দেওয়ার বিধান আছে। প্রয়োজনে ক্যাডার সার্ভিসে সেই বিধান কার্যকর করা যেতে পারে। শুধু নির্দিষ্ট ক্যাডার ধরে নয়, যখন পদোন্নতি হবে তখন সেই বিসিএসের সব কর্মকর্তার পদোন্নতি হওয়া প্রয়োজন। পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে পদে আসীন হবেন কিন্তু পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হবেন না। ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতি না হওয়ার কারণে একই ক্যাডারেও চলছে সীমাহীন বিশৃঙ্খলা। যেমন শিক্ষা ক্যাডারের ২৪তম বিসিএস উদ্ভিদবিজ্ঞানের সব কর্মকর্তার পদোন্নতি হয়নি। কিন্তু ইংরেজি বিভাগের কর্মরত ২৪, ২৫ এবং ২৬তম বিসিএস কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উদ্ভিদবিজ্ঞানের ২৪তম বিসিএসের কর্মকর্তা সিনিয়র, নাকি পরের ২৬ ব্যাচের ইংরেজি বিভাগের কর্মকর্তা সিনিয়র? একই প্রতিষ্ঠানে কে কাকে স্যার সম্বোধন করবেন আর কে কাকে সাহেব সম্বোধন করবেন? শিক্ষা ক্যাডারের বিশৃঙ্খলার সামান্য উদাহরণ এটি। সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও ভয়ানক। সহযোগী অধ্যাপক উপাধ্যক্ষের অধীনে থাকেন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে উপজেলায় যে প্রকৌশলী-চিকিৎসক-কৃষি কর্মকর্তা থাকেন, তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অধীনে থাকেন। প্রশাসন ক্যাডারের একজন তরুণ কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হন। অন্যদিকে সেই নির্বাহী কর্মকর্তার চেয়ে অনেক সিনিয়র এবং তাঁর চেয়ে মেধায় ও যোগ্যতায় অনেক বেশি থাকা সত্ত্বেও একজন চিকিৎসক-কৃষিবিদ-প্রকৌশলী পদোন্নতি না পেয়ে প্রবেশ পদেই হয়তো থাকেন। জেলা পর্যায়েও একই অবস্থা। এতে করে প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করাটা সম্মানজনক হয় না। এ অবস্থার অবসান না হলে আন্তক্যাডার বৈষম্য দূর হবে না।
সব ক্যাডারের কর্মকর্তাদের চাকরিজনিত যেকোনো সিদ্ধান্তের জন্য যেতে হয় সচিবালয়ে। সেখানে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা সব ক্যাডারের ছোট-বড় সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন। এতে করে সব ক্যাডারের যে প্রধান কর্মকর্তা মহাপরিচালকেরা রয়েছেন, তাঁদের ক্ষমতাকে ছোট করা হয়। সব মন্ত্রণালয়ের সচিব হওয়া প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের কর্মকর্তার। যেমন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব হবেন একজন কৃষিবিদ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হবেন একজন চিকিৎসক। এতে করে সরকারি চাকরির কাজে যেমন গতিশীলতা আসবে, তেমনি স্বাধীনভাবে সব ক্যাডার নিজ নিজ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন।
একই পরীক্ষা দিয়ে যাঁরা একই ব্যাচের বিসিএস কর্মকর্তা হচ্ছেন, তাঁদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সুবিচার হচ্ছে তাঁদের চাকরিতে যোগ্যতাভিত্তিক সমান সুবিধা নিশ্চিত করা। বিসিএস ক্যাডারদের বিশৃঙ্খলা দূর করতে পদোন্নতিবৈষম্য আশু দূর করা প্রয়োজন।

তুহিন ওয়াদুদ
 শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
wadudtuhin@gmail.com