সম্পাদকীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সম্পাদকীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৭

মাগুরায় ছয় দিন ধরে চিকিৎসক নিখোঁজ..

মাগুরায় ছয় দিন ধরে চিকিৎসক নিখোঁজ..


নিখোঁজের ছয় দিন পরও মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (দারিয়াপুর) চিকিৎসক সুমন কুমার সিকদারের (২৮) সন্ধান মেলেনি। গত সোমবার বিকেল থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।
সুমনের বাবা মাগুরা সদর উপজেলার বেঙ্গা গ্রামের সুকুমার সিকদার বলেন, সুমন ২০১৪ সালে ওই হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেয়। অবিবাহিত সুমন মাগুরা শহরের কলেজপাড়ায় একাই ভাড়া বাসায় থাকত। গত সোমবার বিকেলে কর্মস্থল (শ্রীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স) থেকে সে ভাড়া বাসায় ফিরে আসে।
সুকুমার শিকদার বলেন, পাশের বাসার ভাড়াটেরা তাঁদের জানিয়েছেন, সুমন বাসায় আসার কিছুক্ষণ পর আবার বের হয়ে যান। এরপর থেকে গত ছয় দিন যাবৎ তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। তবে তাঁর মুঠোফোনটি ভাড়া বাসায় পাওয়া গেছে।
সুমনের বাবা আরও বলেন, গত কয়েক দিন তাঁরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে সুমনের সন্ধান পাননি। তবে সে বিভিন্ন সময় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকত। এ ব্যাপারে সুমনের বাবা মঙ্গলবার সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজমুল হুদা বলেন, তাঁদের ধারণা, সুমন সিকদার স্বেচ্ছায় নিরুদ্দেশ হয়েছেন। কারণ তাঁর মুঠোফোন, ব্যাগ সবই বাসায় রয়েছে।
মাগুরার সিভিল সার্জন এফ বি এম আবদুল লতিফ সাংবাদিকদের বলেন, সুমন সিকদার সর্বশেষ গত সোমবার কর্মস্থলে গিয়েছিলেন। তারপর থেকে তিনি অনুপস্থিত রয়েছেন।

শনিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৬

ডায়েবেটিস রোগীর জন্য সুখবর !  ইনসুলিন নিতে আর ইঞ্জেকশন নয় !

ডায়েবেটিস রোগীর জন্য সুখবর ! ইনসুলিন নিতে আর ইঞ্জেকশন নয় !


ইনসুলিন নিতে আর ইঞ্জেকশন নয় !
আমাদের দেশে তো বটেই, বিশ্বে ডায়াবেটিস একটি বড় ধরনের সমস্যা হয়ে রয়ে গেছে। একবার যিনি আক্রান্ত হয়েছেন, চিরজীবন তাকে বয়ে বেড়াতে হয়েছে অ-নিরাময়যোগ্য রোগটি। যদিও একে নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায় রয়েছে নানারকম ওষুধপত্র প্রয়োগের পাশাপাশি জগিং ও হঁটাচলার মাধ্যমে। এই ওষুধপত্রের মধ্যে একটি হচ্ছে ইনসুলিন, যা নিতে হয় ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে। কিন্তু সব সময় নিতে কি আর ভাল লাগে, ব্যাথা তো একটু লাগেই।
তবে এখন আর ইনসুলিন নিতে চিন্তার কোনো কারণ নেই, কেননা ইঞ্জেকশন নিতে হবে না। তবে এর বদলে খেতে হবে ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল, যা অত্যন্ত ফলদায়ক ও ইনসুলিনের মতোই কার্যকর। এটি (ইনসুলিন) খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তে চিনির মাত্রা দ্রুত স্বাভাবিক স্তরে নেমে আসবে।
যুক্তরাজ্যের সান পত্রিকায় বলা হয়, এই ক্যাপসুলটি ব্যবহার করে শুধুমাত্র যুক্তরাজ্যে প্রতিদিন ৪০ লাখ মানুষ ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নেওয়ার হাত থেকে রেহাই যাবে।
এই ক্যাপসুল তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নায়াগ্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ দল। এটি খাওয়ার পরপরই পৌঁছে যাবে পাকস্থলীতে। এরপর ইনসুলিন উৎপাদন করে ছড়িয়ে দিবে রক্তে। নতুন এই পদ্ধতিকে বলা হয় কলেস্টোসোম।
এতে ব্রিটেনের ৪০ লাখ ডায়াবেটিস রোগী দৈনিক ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নেয়ার হাত থেকে রেহাই পাবে।
গবেষক দলের প্রধান প্রফেসর ম্যারি ম্যাককোর্ট বলেছেন, ‘আমরা কলেস্টোসোম নামে নতুন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছি।
গবেষকরা তাদের এই নতুন উদ্ভাবন ফিলাডেলফিয়ার আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির জাতীয় সভায় উপস্থাপন করবেন। তবে এর আগে তারা প্রাণী দেহের উপর আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। এরপর এই ক্যাপসুল বাজারজাত করা হবে।

রবিবার, ২১ আগস্ট, ২০১৬

ভূয়া ডাক্তার সনাক্ত করবেন যেভাবে ?

ভূয়া ডাক্তার সনাক্ত করবেন যেভাবে ?


৪০ দিনের কোর্স করে কিংবা
পল্লী চিকিৎসক 😎 হয়ে কিভাবে
নামের পূর্বে ডাক্তার লিখে ?
মাথায় আসে না ! 😭
মেডিকেলে শত শত ছাত্র 
শত শত পরীক্ষা দিয়ে,
৫- ৬ বছর হাতেকলমে পড়াশুনা করেও
এম.বি.বি.এস কিংবা বি.ডি.এস পাশ না করে ডাক্তার লিখার সাহস পায় না ।
এম.বি.বি.এস কিংবা বি.ডি.এস
পাশ ছাড়া বাংলাদেশের কেউ নামের পূর্বে ডাক্তার লিখলে
জরিমানার বিধান আছে?
তাই, কোনো সন্দেহ হলে
বি এম ডি সি এর ওয়েব সাইটে গিয়ে
http://bmdc.org.bd/doctors-info/
ডাক্তারের রেজিস্ট্রেশন নং দিয়ে সার্চ দিন?
উনি বাংলাদেশের রেজিস্টার্ড ডাক্তার কি না দেখে নিন।
সকল ডাক্তারদের ভিজিটিং কার্ড ও
প্রেসক্রিপশন পত্রে রেজিষ্ট্রেশন নং
উল্লেখ থাকলে ভূয়া ডাক্তার
সনাক্তকরণ সহজ হবে।


Now available Reg No. for Medical 1-75700 and Dental 1-6800 only.N.B.: Any mistake/ error for correction please send scan copy of BM&DC Registration Certificate by email us using: info@bmdc.org.bd /admin@bmdc.org.bd

বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০১৬

ইন্টার্নী চিকিৎসক বাচাঁও, দেশ বাচাঁও.

ইন্টার্নী চিকিৎসক বাচাঁও, দেশ বাচাঁও.

ইন্টার্নী চিকিৎসক বাচাঁও, দেশ বাচাঁও এই স্লোগানকে সামনে রেখে, দেশব্যাপী কেদ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ইন্টার্নী চিকিৎসকদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশ হাজার টাকা মাসিক ভাতা বাস্তবায়নের দাবীতে ময়মনসিংহে মানব্বন্ধন করেছে ইন্টার্নী চিকিৎসকরা । মঙ্গলবার ( ২৬ জুলাই ) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের সামনে ময়মনসিংহ ঢাকা মহাসড়কে ইন্টার্নী চিকিৎসকরা ঘন্টাব্যাপী শান্তিপূর্ন মানব্বন্ধন করেন। মানব্বন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ইন্টার্নী চিকিৎসক নেতা, কামরুল হাসান কুসুম, এলিন আরাফাত অনিক, রাকিব, ফারজানা প্রমুখ। এসময় ইন্টার্নী চিকিৎসক নেতারা দাবী জানান, সরকার নির্ধারিত বিশ হাজার টাকা মাসিক ভাতা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। অন্যথায় তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন. 

রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০১৬

বিশ্বের নামকরা স্কলারশীপের নাম,  ওয়েব সাইট ও দরখাস্ত করার সময়

বিশ্বের নামকরা স্কলারশীপের নাম, ওয়েব সাইট ও দরখাস্ত করার সময়

জাপান
মনবুকাগাকুশো- ইউনিভার্সিটি রেকোমেন্ডাশন
দরখাস্তের সময়-প্রতি বছর নভেম্বর থেকে জানুয়ারী। এই স্কলারশিপের জন্য জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কে লিখতে হবে।  গুগলে জাপানিজ ইউনিভার্সিটি লিখে সার্চ দিলে  অনেক ইউনিভার্সিটি এর লিস্ট চলে আসবে, সেখানে ওয়েব সাইটে প্রবেশ করে প্রফেসরদের ই-মেইল এ লিখতে হবে।(https://en.wikipedia.org/wiki/List_of_universities_in_Japan)
মনবুকাগাকুশো-এম্বাসী রেকোমেন্ডেসন
দরখাস্তের সময়-প্রতি বছর মার্চ -মে। এই স্কলারশিপের জন্য বাংলাদেশে অবস্থিত জাপানে এম্বাসি এর মাধ্যমে দরখাস্ত করতে হয়। বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ওয়েব সাইটে এর সার্কুলার হয়। (http://www.moedu.gov.bd/)
দক্ষিণ কোরিয়া
কোরিয়ান গভঃ স্কলারশিপ
দরখাস্তের সময়ঃ প্রতি বছর সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ওয়েব সাইটে এর সার্কুলার হয়। (http://www.moedu.gov.bd/)
চীন
চাইনিজ গভঃ স্কলারশিপ
দরখাস্তের সময়- প্রতি বছর সেপ্টেম্বর।(http://www.csc.edu.cn/studyinchina/scholarshiplisten.aspx?cid=97).
The World Academy of Sciences
দরখাস্তের সময়- প্রতি বছর আগস্ট (http://twas.org/)
ইঊ কে
কমনওয়েলথ স্কলারশিপ
দরখাস্তের সময়- প্রতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর। বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের  ওয়েব সাইটে এর সার্কুলার হয় (http://www.moedu.gov.bd/). University Grant Commission(UGC) এই স্কলারশিপের সিলেকশন দেয়।
জার্মানি
DAAD স্কলারশিপ
দরখাস্তের সময়- প্রতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর। বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের  ওয়েব সাইটে এর সার্কুলার হয় (http://www.moedu.gov.bd/)। বাংলাদেশে স্কলার এবং জার্মান এম্বাসি এর স্টাফদের  নিয়ে একটা সিলেকশন কিমিটি গঠিত হয়, তাঁরাই ইন্টার্ভিউ নিয়ে সিলেকশন দেয়। তার আগে অবশ্যই জার্মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর দের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
বেলজিয়াম
VLIR-OUS স্কলারশিপ
দরখাস্তের সময়- প্রতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী। মেয়েদের ক্ষেত্রে এই স্কলারশিপ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। (http://www.vliruos.be/)
নেদারল্যান্ডস
NFP স্কলারশিপ
Nuffic স্কলারশিপ
দরখাস্তের সময়- প্রতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী। এই স্ক্লারশিপের জন্য আগে ভর্তি হতে হবে অনলাইনে । (https://www.epnuffic.nl/en/)
ইউরোপিয়ান কান্ট্রি
ERASMUS MUNDUS স্কলারশিপ
দরখাস্তের সময়- প্রতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী। (http://eacea.ec.europa.eu/erasmus_mundus/)
সুইডেন
Swidish Institute Study Scholarship
দরখাস্তের সময়- প্রতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী।(https://studyinsweden.se/scholarship/)
নরওয়ে
Qouta scholarship
দরখাস্তের সময়- প্রতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর ।(http://siu.no/eng/Programme-information/Scholarship-schemes/Quota-Scheme)
অস্ট্রেলিয়া
IPRS
দরখাস্তের সময়- প্রতি বছর দুইবার – জুন-জুলাই এবং আগস্ট-সেপ্টেম্বর । প্রতি টা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য IPRS আলাদা আলাদা। প্রতি টা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট দেখতে হবে।
Endevour
দরখাস্তের সময়- দরখাস্তের সময়- প্রতি বছর এপ্রিল থেকে জুন । (https://internationaleducation.gov.au/Endeavour%20program/Scholarships-and-Fellowships/Pages/default.aspx)
কানাডা
প্রতি টি বিশ্ববিদ্যালয় এর নিজস্ব কিছু স্কলারশিপ আছে। বিশ্ববিদ্যালয় এর
ওয়েব সাইটে গিয়ে দরখাস্ত এর নিয়ম জেনে দরখাস্ত করতে হবে। সময় ও দেওয়া আছে।
USA
Fulbright scholarship
দরখাস্তের সময়- প্রতি বছর মে-অক্টোবর।(http://www.cies.org/)
——————————————-
Md. Abu Sayed
B.Sc.Ag(Hons) and MS, BAU, Mymensingh
Visiting fellow, Nottingham University, UK
PhD fellow (Monbusho), Iwate University, Japan
&
Assistant Professor
Department of Biochemistry and Molecular Biology
Hajee Mohammad Danesh Science and Technology University, Dinajpur, Bangladesh
E-mail: sayed_bmb@yahoo.com

শুক্রবার, ২৪ জুন, ২০১৬

সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিলো,  ২ চিকিৎসকের প্রাণ

সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিলো, ২ চিকিৎসকের প্রাণ

নরসিংদীর শিবপুরে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে দুই চিকিৎসকসহ ৩ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৪ জুন) সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিবপুর উপজেলার কুন্দারপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 
নিহতরা হলেন- জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক স্মৃতি কণা (৩৫), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ও হৃদরোগ চিকিৎসক মো. কলিমুল্লাহ (৫০) ও এরিস্টো ফার্মার মাইক্রোবাস চালক মনির (৩৫)।
আহত ৫ জনকে প্রথমে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এরা হলেন- নেত্রকোনার চিকিৎসক বিজন চন্দ্র সাহা (৪০), তার মা অনিমা সাহা (৫৫) ও গৃহকর্মী লাকী বেগম (১৮), জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক তানভীর আহমেদ (৩৫) এবং কিশোরগঞ্জের চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমান (৩২)। চিকিৎসকরা প্রাইভেট চেম্বার করতে মাইক্রোবাসে করে ভৈরবে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
ইটাখোলা হাইওয়ে ফাঁড়ি পুলিশ জানায়, ৫ জন চিকিৎসক ও তাদের দুই স্বজনকে নিয়ে এরিস্টো ফার্মার একটি মাইক্রোবাসে (হাইয়েস) ঢাকা থেকে ভৈরব যাচ্ছিলেন। মাইক্রোবাসটি মহাসড়কের কুন্দারপাড়ায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা পাথরবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ঢামেকের চিকিৎসক মো. কলিমুল্লাহ (৫০) ও মাইক্রোবাসের চালক মনির হোসেন (৩৫)।
খবর পেয়ে ফায়ার সাভির্সের উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ ৬ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক স্মৃতি কণা (৩৫)। পরে তিন চিকিৎসকসহ আহত ৫ জনকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়।
ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো: মিজানুর রহমান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার, ৩১ মে, ২০১৬

ডাঃ মেজবাহ উদ্দিন   এর Pharmacology বই বিভিন্ন লাইব্রেরীতে পাওয়া যাচ্ছে -

ডাঃ মেজবাহ উদ্দিন এর Pharmacology বই বিভিন্ন লাইব্রেরীতে পাওয়া যাচ্ছে -


ডাঃ মেজবাহ উদ্দিন   এর Pharmacology বই  

Rapid Review of  Basic and Systemic Pharmacology . 

বিভিন্ন লাইব্রেরীতে পাওয়া যাচ্ছে -
দাম ঃ মাত্র -২০০ টাকা ।


Dr.Misbah Uddin
MRCP (UK -P-II )
FCPS ( Medicine - P-II)
MD  Resident DMCH ( Internal Medicine )
MBBS (DU)

Library - Dhaka - Nilkhet

PG Hook House Nilkhet , Dhaka

* Azampur , Uttara

* Genuine Library , Chittagong.


এছাড়া যারা ঘরে বসে বইটি কিনতে চান ,

তাদের কাছে কুরিয়ার সার্ভিস করে পাঠানো হবে ।


* for remote delivery Dial -- 01935-001562.



* HelpLine - 01931-992211 *


শনিবার, ২১ মে, ২০১৬

যে ৫১ টি ঔষুধ নিষিদ্ধ করেছে,  প্রশাসন

যে ৫১ টি ঔষুধ নিষিদ্ধ করেছে, প্রশাসন

ঔষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর বেশ কয়েকটি কোম্পানির উৎপাদিত ৫১টি ওষুধের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে। জনগণকে এসব ওষুধ না কেনার অনুরোধ করা হয়েছে।ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর দেশের খ্যাতিসম্পন্ন ওষুধ কোম্পানিসহ বেশ কিছু ওষুধ কোম্পানির ৫১টি ওষুধ নিষিদ্ধ করেছে। রেনাটা, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বেক্সিমকো, অপসোনিন, দ্য ইবনে সিনাসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানির উৎপাদিত ৫১টি ওষুধের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে।


প্যারাসিটামল, পায়োগ্লিটাজন ও রসিগ্লিটাজন গ্রুপের বাতিলকৃত ৫১টি ওষুধসমূহের উৎপাদন, ক্রয়, বিক্রয়, বিতরণ, মজুদ এবং প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জনসাধারণকে এসব ওষুধ ব্যবহার না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও লাইসেন্সিং অথরিটি (ড্রাগস) মেজর জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিষিদ্ধ ঘোষিত ওষুধসমুহ হলো 
রেনাটা লিমিটেড, মিরপুর ও রাজেন্দ্রপুরের প্যারাডট ট্যাবলেট, মিরপুরের পায়োগ্লিন ৩০ ট্যাবলেট
স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস: এইস সফট ট্যাবলেট, টস-৩০ ট্যাবলেট, টস-৪৫ ট্যাবলেট, সেনসুলিন ২ ট্যাবলেট
বেক্সিমকো ফার্মা: নাপাসফট ট্যাবলেট, পায়োগ্লিট ৩০ ট্যাবলেট, পায়োগ্লিট ৪৫ ট্যাবলেট
ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল: ফিভিমেট ট্যাবলেট, পায়োজেনা ৩০ ট্যাবলেট, রোমেরল ২ ট্যাবলেট, রোমেরল ৪ ট্যাবলেট
দ্য একমি ল্যাবরেটরিজ: ফাস্ট-এম ট্যাবলেট।


আরও রয়েছে:

বায়োফার্মা: এসিটা সফট ট্যাবলেট, প্রিগলিট-৩০ ট্যাবলেট
অপসো স্যালাইনের জিসেট ট্যাবলেট
অপসোনিন ফার্মা: রেনোমেট ট্যাবলেট, পাইলো ৩০ ট্যাবলেট
এসকেএফ: টেমিপ্রো ট্যাবলেট
ইউনিমেড এন্ড ইউনিহেলথ: একটোস ৩০ ট্যাবলেট
এসিআই লিমিটেড: ডায়াট্যাগ ৪৫ ট্যাবলেট
জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস: রসিগ্লিট ২ ট্যাবলেট, রসিগ্লিট ৪ ট্যাবলেট
এরিস্টোফার্মা: গ্লুকোরস ২ ট্যাবলেট, গ্লুকোরস ৪ ট্যাবলেট, গ্লুকোজন ৩০ ট্যাবলেট

 
ডেল্টা ফার্মা: রসিট-৪ ট্যাবলেট
মিল্লাত ফার্মা: পায়োট্যাব ৩০ ট্যাবলেট
ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস: পায়োডার ৩০ ট্যাবলেট
কেমিকো ফার্মাসিউটিক্যালস: ওগলি ৩০ ট্যাবলেট, ট্যাজন -৪ ট্যাবলেট
ডক্টরস কেমিক্যাল ওয়ার্কস লিমিটেড: পায়োজন ৩০ ট্যাবলেট
অ্যালকো ফার্মা: পায়োলিট ৩০ ট্যাবলেট।
দ্য হোয়াইট হর্স ফার্মা: লিট-৩০ ট্যাবলেট
আদ-দ্বীন ফার্মাসিউটিক্যালস: পিজোবেট ৩০ ট্যাবলেট
নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস: ডায়াটাস ৩০ ট্যাবলেট
শরীফ ফার্মাসিউটিক্যালস: প্যারামিন ট্যাবলেট, পিগজন ৩০ ট্যাবলেট
সোমাটেক ফার্মাসিউটিক্যালস: একটেল-এম ট্যাবলেট
লিওন ফার্মাসিউটিক্যালস: মেটেস ট্যাবলেট
 
জিসকা ফার্মাসিউটিক্যালস: পামিক্স এম ট্যাবলেট
নোভেল্টা বেস্টওয়ে ফার্মাসিউটিক্যালস: নরসফট ট্যাবলেট
প্যাসিফিক ফার্মাসিউটিক্যালস: পিগ্লিট ৩০ ট্যাবলেট, রগ্লিট ৪ ট্যাবলেট
মেডিমেট ফার্মা লিমিটেড: ডায়াপায়োট্যাব ৩০ ট্যাবলেট।


উল্লেখ্য, সম্প্রতি ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কমিটির ২৪৪তম সভায় এসব ওষুধের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়। সংশ্লিষ্ট কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে এসব ওষুধ নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমে বাজার হতে প্রত্যাহার করে তার পরিমাণসহ অধিদপ্তরকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে রেজিস্ট্রেশন বাতিলকৃত ওষুধসমূহের উৎপাদন, ক্রয়-বিক্রয়, বিতরণ, মজুদ এবং প্রদর্শন সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৫

৩৬ তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০১৬ সালের ৮ই জানুয়ারি

৩৬ তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০১৬ সালের ৮ই জানুয়ারি

আগামী ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি ৩৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) প্রাথমিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে দ্য রিপোর্টের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পিএসসির চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এটাতো আমরা এখনো পাবলিশ করিনি। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে জানতে পারবেন। তবে আলোচনা হয়েছে, আরও ভাবা হচ্ছে।’

আগামী ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি ৩৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও তিনি জানান, দেখা যায় একটি তারিখ আমি বললাম, কিন্তু কোনো কারণে তা বদলে যেতে পারে। এ জন্য একটু ধীরেই আমরা তারিখটা জানাব। তবে জানুয়ারির শুরুর দিকে আমরা ৩৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করব। কারণ আমরা এক বিসিএস থেকে অন্য বিসিএস পরীক্ষার সময়ের ব্যবধান কমিয়ে আনতে চাই।

পিএসসির চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘প্রশ্ন তৈরি, কেন্দ্র পাওয়া, পরিদর্শক, আইনশৃংখলাবাহিনী পাওয়া- সবকিছু মিলিয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠান সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া ও ফলাফল প্রকাশের চেষ্টা করছি।’

এর আগে গত ৩১ মে ৫৪২টি সাধারণ ক্যাডারের পদসহ মোট দুই হাজার ১৮০টি শূন্যপদে নিয়োগ দিতে ৩৬তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল পিএসসি। ১৪ জুন থেকে শুরু হওয়া আবেদনের সময়সীমা শেষ হয় গত ২৩ জুলাই।

পিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, সেপ্টেম্বরে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে। সম্ভাব্য সময়সীমার দুইমাসেও পরীক্ষা না হওয়ার বিষয়ে সম্প্রতি পিএসি চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ দ্য রিপোর্টকে জানিয়েছিলেন, আগামী নভেম্বর মাসে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৫

মেডিকেল ছাত্রীর আত্নহত্যা!  কিন্তু কেন?

মেডিকেল ছাত্রীর আত্নহত্যা! কিন্তু কেন?


খুলনা মেডিকেল কলেজের (খুমেক) শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আরমনি সুলতানা বিউটির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে কলেজের সুফিয়া কামাল ছাত্রী হলের নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামে।
বিউটি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজে কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদ। তিনি বলেন, দুপুরে সুফিয়া কামাল ছাত্রী হলে বিউটির রুমের দরজা বন্ধ দেখে সহপাঠীরা ডাকাডাকি করেন। এরপরও দরজা না খোলায় তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ দুপুর ১টা ২০ মিনিটে দরজা ভেঙে রুমে ঢুকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে বিউটির ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়।

কী কারণে ওই ছাত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন সে ব্যাপারে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।

সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৫

 বর্তমান ডাক্তারী পেশা ও কিছু ধ্রুব সত্য কথা

বর্তমান ডাক্তারী পেশা ও কিছু ধ্রুব সত্য কথা


বর্তমান ডাক্তারী পেশা ও কিছু ধ্রুব সত্য কথা ___
ডাক্তার হওয়ার জন্য
এম.বি.বি.এস  ভর্তির শুরু থেকে
ক্লাস,  প্রতিদিন আইটেম,  কার্ড,  টার্ম ও একের পর এক প্রফ পরীক্ষা ।
কেড়ে নেয় জীবনের সব আনন্দ!
ফার্স্ট প্রফের  এনাটমির জন্য,
 গ্রেস এনাটমি
কানিং হাম,  দত্তের বই,
বিডি চুরাশিয়া,  স্নেল নিউরোএনাটমি
নীটার কালার এটলাস,
হিস্টোলজি, ওস্টিওলোজি ,  এমব্রায়োলজি
ফিজিওলজির জন্য  গেনং, গাইটন সহ
আরো কত মেইনবই, গাইড বই পড়তে হয়!
বায়োকেমেস্ট্রির জন্য লিপিনকট, হার্পার, সত্যনারায়ণসহ কত লেকচার নোট পড়তে হয়!
যে পড়ে সে জানে!
এর মাঝে আরেক প্যারা কমিউনিটি মেডিসিন!
পাবলিক হেলথের ডেফিনেশন মুখস্ত করতে করতে জান শেষ হয়ে যায়,
ডেফিনেশন আর মুখস্ত হয় না!
সেকেন্ড প্রফ সে তো আইটেমের পাহাড়
ফার্মার কেটজাং ,  মাইক্রো , রবিনস প্যাথো,  মরা মানুষের গবেষনা রেড্ডির
ফরেনসিক পাশের  জন্য  কত বই,  লেকচার পড়তে সেটা আল্লাহ মালুম!
ফাইনাল প্রফ সেতো  এম বি বি এস নাটকের শেষ দৃশ্য!
থার্ড ইয়ারের ডেভিডসন - হ্যারিসনের মেডিসিন,
ম্যাকলয়েডস এর ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন,
আব্দুল্লাহ স্যারের শর্ট কেইস, লং কেইস ,
ইসিজি,  রেডিওলজি
বেইলী লাভের সার্জারী,
দত্তের সার্জারী,
আই,  ই এন টির কত বই,
কত লেকচার !
সে তো  বলে শেষ করা যাবে না!
সব বই আর লেকচার কাঁধে নিয়ে নিয়মিত ক্লাসে আসলে,
নিশ্চিত ঐ ছাত্রের ডাক্তার হওয়ার পূর্বেই কাইপোসিস ডেভেলাপ করবে ।
আইটেম সব ক্লিয়ার না হলে,
কার্ডে বসার সুযোগ নেই,
সব কার্ড পাশ না করলে,
টার্মে বসার সুযোগ নেই,
সব টার্মে পাশ না করলে
ভার্সিটির অধীনে অনুষ্ঠিত প্রফে বসার সুযোগ নেই,
সব ক্লিয়ার থাকার পর যদি পার্সেন্টেজ ৭৫ এর নীচে হয়
প্রফে বসার আশাটা গুড়ে বালি হয়ে যায়!

ফার্স্ট প্রফ নিয়মিত পাশ না করলে
ডাক্তার হওয়ার আশা হতাশা হয়ে দাঁড়ায়!
নিয়মিত প্রফে বসতে না পারলে
হতাশা কল্পনার বাহিরে চলে যায়!

সব শেষে শুরু
ফাইনাল প্রফ নামক মহাযজ্ঞ!
ভাগ্য যার সহায় হয়,
পাশ করে ডাক্তার হওয়াটা তত ইজি হয়!

যদি স্যারদের সাথে কোনো পার্সোনাল ক্লেশ থাকে তাহলে তো পাশ করাটা দু:স্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
ফার্স্ট প্রফ, সেকেন্ড প্রফ,  থার্ড প্রফ (বর্তমানে)
ও ফাইনাল প্রফ  পাশ করলে
ডাক্তার হওয়ার আশা টা পূর্ণ হয়ে যাবে!
এম বি বি এস পাশের পর শুরু হয়
ইন্টার্ণশীপ লাইফ,
ইন্টার্ণশীপ লাইফে রোস্টার অনুযায়ী প্রতিটা ওয়ার্ডে  ডিউটি শেষে
লগ বুকে ওয়ার্ডের সি এ, প্রফেসর, কো অর্ডিনেটর ও  বিভাগীয় প্রধানের সই নিয়ে লগবুক জমা দিতে হয় ডিরেক্টর অফিসে,
ইন্টার্ণ লাইফ শেষে  প্রিন্সিপ্যাল  ও ডাইরেক্টরের সইযুক্ত ইন্টার্ণশীপ সার্টিফিকেটের জন্য অপেক্ষা করতে হবে সপ্তাহ দুয়েক!

এখানেই  শেষ নয়!
এতোকিছু পাড়ি দিয়েও ডাক্তারী পেশা প্র‍্যাকটিস করতে পারবেন না,
প্র‍্যাক্টিসের জন্য আপনাকে  বিএমডিসির রেজিষ্ট্রেশন সনদ  সংগ্রহ করতে হবে ,
রেজিষ্ট্রেশনের জন্য নগদ টাকা,
এম বি বি এস পাশের  ভার্সিটি সার্টিফিকেট  ও
ইন্টার্নশীপ ট্রেনিং এর সার্টিফিকেট জমা দিয়ে অপেক্ষা করতে হবে  সপ্তাহ দুয়েক থেকে মাসেক!
বিএমডিসির রেজিষ্ট্রেশন  সনদ  পাওয়ার পর
ডাক্তার হিসেবে প্র‍্যাক্টিস করার বৈধতা পাবেন।

পোস্ট গ্র‍্যাজুয়েশন সে তো মহারতী মেধাবীদের স্বপ্ন ভংগের ভিন্নরূপ!
এফ সি পি এস  ফার্স্ট পার্ট পাশ করে
ট্রেনিং এ ঢুকবেন  বিনামূল্যে মানব সেবা করে যাবেন...    বাপের টাকায় নিজের থাকা খাওয়া দাওয়াসহ যাবতীয় খরচ  চালাবেন।
বছরের  পর বছর অনাহারী নামক  মেডিকেল অফিসার হয়ে  বিনামূল্যে মানব সেবা দিয়ে
চূড়ান্ত পরীক্ষায়   পাশ হবার সম্ভাবনা ৫ পার্সেন্ট!
এফ সি পি এস  ডিগ্রীটা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে,
ঠিক ধরি মাছ না ছুই পানি এর উলঠো!
পড়তে থাকবেন আর ট্রেনিং করতে থাকবেন,
পাশ সে তো স্বপ্নের বিষয়!
পাশের হার এতই নগন্য অনেকে কয়েক বছর ট্রেনিং করে এফসিপিএস ছেড়ে দিয়ে
এম ডি  / এম এস রেসিডেন্সী করছেন  না হয় দেশ ছেড়ে বিদেশ পাড়ি জমাচ্ছেন!
কয়েক বছর আগেও
এফ সি পি এস এর পাশাপাশি  অন্যান্য ডিগ্রীগুলো  কনটিনিউ করা যেত!
আর এখন সে সুযোগটাও শূন্য।!
মেডিকেলের পোস্ট গ্র‍্যাজুয়েশন  ব্যবস্থা এতটা কঠিন  করে ফেলেছেন,
হতাশা ছাড়া মিটে কি আশা !
এত কিছুর পরে যখন মহত পেশায় নিয়োজিত হবেন, দেখবেন
অন্যান্য পেশার বন্ধু বান্ধবরা বাড়ি গাড়ি করে দেশ বিদেশ ভ্রমণে পাড়ি দিচ্ছেন।
নানা উতসব  আনন্দে  দিন কাটাচ্ছেন,
তখন  আপনি এতোটাই ব্যস্ত হয়ে উঠবেন,
দেশ বিদেশ তো দূরের কথা  পরিবারের সদস্যদের সাথেও ঠিকমতো সময় দিতে পারবেন না!  আপনার অনুপস্থিথিতেই
শত আচার অনুষ্ঠান আনন্দ শেষ হয়ে যাবে!
আপনি শুধু আফসোস করে যাবেন!
এতো কিছু ত্যাগের পর বুড়ো বয়সে পাবেন
স্বান্ত্বনা স্বরূপ কিছুটা খ্যাতি  আর অর্থ বিত্ত !
উপরের সব কিছুই ধ্রুব সত্য!
কল্পনা নহে !!

লেখা- ডাঃ স্বাধীন

email - DoctorShadhin@gmail.com

 Cell : +880-1931-992211  


বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

এসব ডাক্তারদের অবদান তুলে ধরার কেউ নেই....

এসব ডাক্তারদের অবদান তুলে ধরার কেউ নেই....


আপনার জন্ম যদি ১৯৯২ সালের পর হয়ে থাকে
এবং শিশু অবস্থায় ছোট-খাট জ্বর হবার পর জ্বর
কমানোর ঔষধ সেবন করেও আপনি যদি বেঁচে
থাকেন, তাহলে আপনার বেঁচে থাকার
পেছনে এই মানুষটার সামান্য অবদান থাকার
সম্ভাবনা রয়েছে। যাদের সন্তান বা ছোট
ভাইবোন ঐ সময়ের পর জন্মগ্রহণ করেছেন,
তাদের জন্যও এই কথাটা প্রযোজ্য।

বাংলাদেশে শিশুদের জ্বরের ঔষধ
হিসেবে প্যারাসিটামল সিরাপ প্রচলিত।
১৯৯২ সাল পর্যন্ত বেশ কিছু কোম্পানীর
প্যারাসিটামল সিরাপের মধ্যে বিষাক্ত
একটি উপাদান ছিল যার কারণে অনেক শিশু
প্যারাসিটামল সিরাপ গ্রহণের পর কিডনি
রোগে মারা গেছে। ডা. হানিফ সর্ব প্রথম
প্যারাসিটামল সিরাপের মধ্যে এই
বিষাক্ত উপাদানটি সনাক্ত করেন এবং এর
কারণে শিশুদের কিডনি রোগে মৃত্যুর কারণ
নির্নয় করেন।

১৯৮২ সালে ডা. হানিফ তৎকালীন পিজি
হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় শিশুদের
কিডনি ডায়ালাইসিস বিভাগে দায়িত্ব
পালনের সময় লক্ষ্য করেন যে অনেক শিশু
কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার
জন্য আসছে এবং তাদের সবাই শেষ পর্যন্ত
মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। বিষয়টির কারণ তখন
তিনি বা হাসপাতালের কোন ডাক্তারই
ধরতে পারেন নি। কিছুদিন পর তিনি উচ্চ
শিক্ষার্থে বিদেশে চলে যান। এর পর ৯০
সালের দিকে দেশে ফিরে এসেও তিনি
একই অবস্থা দেখতে পান। বিষয়টি তাঁকে
বিচলিত করে এবং বিস্তারিত অনুসন্ধান
করে দেখতে পান যে, এই কিডনি
রোগাক্রান্ত শিশুদের সবাই জ্বরে আক্রান্ত
হয়ে প্যারাসিটামল সিরাপ গ্রহণ করেছিল।
ডা. হানিফ বেশ কয়েকটি ঔষধ কোম্পানীর
তৈরী প্যারাসিটামল সিরাপ যুক্তরাষ্ট্রে
পরীক্ষার জন্য পাঠান এবং দেখতে পান যে,
কয়েকটি কোম্পানীর প্যারাসিটামল
সিরাপে বিষাক্ত ডাই-ইথিলিন গ্লাইকোল
রয়েছে যে কারণে শিশুদের কিডনি বিকল
হয়ে তারা মারা যাচ্ছে। তৎকালীন পিজি
হাসপাতাল বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করে
দেখতে পায় কেবলমাত্র ১৯৮২ থেকে ১৯৯২
সময়কালে ঐ হাসপাতালেই প্রায় ২৭০০ শিশু
কিডনি বিকল হয়ে ডায়ালাইসিস করতে
এসে মৃত্যুবরণ করেছে। অন্যান্য হাসপাতালের
পরিসংখ্যান এবং হাসপাতালে চিকিৎসা
না নেয়া শিশুদের সংখ্যাটা বিবেচনায়
নিলে মৃত্যুর সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি
হবে বলেই ধরে নেয়া যায়।

বিষয়টি ধরা পরার পর ১৯৯২ সালে ড্রাগ
কোর্টে চারটি ঔষধ কোম্পানীর বিরুদ্ধে
মামলা হয়। বলা বাহুল্য ঔষধ কোম্পানীগুলো
বিত্তবানদের প্রতিষ্ঠান তাই তারা ১৯৯৪
সালে হাইকোর্টে গিয়ে মামলাটি
স্থগিত করে দেয়। শুধু তাই নয়, ড্রাগ কোর্টের
কর্মচারীদের সহায়তায় মামলার নথিপত্র
পর্যন্ত গায়েব করে দেয়া হয়। ২০০৯ সালে
যখন আবারো ডাই-ইথিলিন গ্লাইকোল
মিশ্রিত বিষাক্ত প্যারাসিটামল সিরাপ
সেবন করে নতুন করে কিছু শিশু আক্রান্ত হলো
তখন আবার সেই মামলা চালানোর ব্যবস্থা
করা হয় এবং সেটিও এই ডা. হানিফেরই
কারণে। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, এই ১৪ বছরে
বাংলাদেশ ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন বা
সরকারের এটর্নি জেনারেল কেউই
হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের
জন্য চেষ্টা করেন নাই।

যে ঔষধ কোম্পানীর প্যারাসিটামল সিরাপ
সেবন করে সবচেয়ে বেশি শিশু নিহত
হয়েছে সেই ঔষধ কোম্পানী এডফ্লাম এর
মালিক হেলনা পাশাকে ড্রাগ কোর্টের
রায়ে ২০১৪ সালের ২২ জুলাই ১০ বছরের
কারাদণ্ড দেয়া হয় কিন্তু মাত্র ৫২ দিন
কারাবাস করে তিনি একই বছর ১১ সেপ্টেম্বর
হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে বেড় হয়ে
আসেন। মামলায় নিযুক্ত সরকারী ডেপুটি
এটর্নি জেনারেল শফিউল বাশার
ভাণ্ডারী হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে
আপিল করেননি। শত শত শিশু নিহতের জন্য
দায়ী একজন মানুষ এভাবেই শাস্তি থেকে
রক্ষা পেয়ে যান।

এই বিষাক্ত প্যারাসিটামল সিরাপের
বিষয়ে লেখালেখি করার কারণে এবং
বারবার বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীর
পারাসিটামল সিরাপ পরীক্ষা করে তাতে
বিষাক্ত ডাই-ইথিলিন গ্লাইকোল সনাক্ত
করার কারণে ডা. হানিফকে কম ভোগান্তি
পোহাতে হয়নি। ঔষধ কোম্পানীগুলো
বারবার তাঁকে কোর্টে নিয়ে নিজেদের
উকিল দিয়ে হেনস্তা করেছে এবং তাঁকে
একঘরে করে রাখার চেষ্টা করেছে। ঘুষ
দিয়ে ড্রাগ কোর্টের কর্মচারীদের
সহায়তায় উনার সরবরাহ করা ল্যাবরেটরি
টেস্ট রিপোর্ট সরিয়ে ফেলে উনাকে
মিথ্যাবাদী এবং ঔষধ শিল্পের জন্য
ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করার
চেষ্টাও করা হয়েছে।

কিন্তু ডা. হানিফ থেমে থাকেন নি।
তিনি নির্ভয়ে কোর্টে গিয়ে বারবার
তার গবেষণা প্রতিবেদন এবং ল্যাবরেটরি
টেস্টের ফলাফল উপস্থাপন করে শিশুদের
জীবন রক্ষার চেষ্টা করে গেছেন।
বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষই গরিব।
এখানে চিকিৎসা পদ্ধতিও বেশ অদ্ভুত।
বেশি টাকা দিয়ে বিশেষজ্ঞ
চিকিৎসকের কাছে না যেতে পারলেও
মানুষ কষ্ট করে সরকারী হাসপাতালে
যেতে চায় না। তারা প্রথমে চেষ্টা করে
রোগের বর্ননা দিয়ে কাছাকাছি কোন
ফার্মেসি হতে ঔষধ সংগ্রহ করতে। তাছাড়া
পল্লী চিকিৎসক, সরকারী হাসপাতাল বা
মেডিকেল সেন্টারগুলোর ডাক্তাররাও
অনেক সময় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ
দের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অখ্যাত ঔষধ
কোম্পানীর ঔষধ প্রেসক্রাইব করে থাকেন।
এমন পরিস্থিতিতে বিষাক্ত ঔষধ সেবন করে
ঠিক কত শিশু মৃত্যুবরন করেছে, তা নির্নয় করা
আসলেই কঠিন একটা কাজ।

এই ঘটনা উন্নত কোন দেশে ঘটলে সরকার/
আদালত ঐ সব ঔষধ কোম্পানীগুলোকে বাধ্য
করত নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপুরণ দিতে।
এবং বিষাক্ত ঔষধ সনাক্ত করে লাখো শিশুর
জীবন রক্ষার জন্য ডা. হানিফ পেতেন
পুরষ্কার ও সম্মান।

বাংলাদেশে চলে তার নিজস্ব মডেলে।
তাই ঐসব ঔষধ কোম্পানীর বিরুদ্ধে
জরিমানা হয় না, শিশু হত্যাকারীরা
জামিনে বেড় হয়ে আসে, ক্ষতিপুরণের তো
প্রশ্নই আসে না, আর ডা. হানিফ রয়ে যান
উপেক্ষিত; অবহেলিত।

সরকার ডা. হানিফকে সম্মান না দেখাক।
আমি, আপনি এবং আমরা উনাকে সম্মানিত
করতে পারি আমাদের সমগ্র ভালবাসা
দিয়ে। আমার দুইটি সন্তান আছে। তারাও
শিশুকালে জ্বরে ভুগেছে এবং জ্বরের জন্য
ঔষধ সেবন করেছে। ওদের যে বিষাক্ত
প্যারাসিটামল সিরাপ সেবন করতে হয়নি
তার জন্য আমি ডা. মোহাম্মদ হানিফ এর
কাছে কৃতজ্ঞ এবং ঋণী।


বিষাক্ত প্যারাসিটামল সিরাপ সংক্রান্ত ডা. হানিফের আর্টিকেল: http://goo.gl/Zz9MaK
গুগল স্কলারে ডা. হানিফের আর্টিকেলসমূহের লিংক: https://goo.gl/0M96eP

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

Failure is the Pillar of Medical Science

Failure is the Pillar of Medical Science


  লেখা -  ডাঃ স্বাধীন  

অনেকে বলছেন  ,যেখানে মেডিকেলের প্রফ পরীক্ষার রিটেন প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় ,
সেখানে এডমিশন টেস্ট কোনো ব্যাপার না !
আমি তাদের সাথে সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করছি ,
মেডিকেল শুধু  এম.সি.কিউ কিংবা রিটেন দিয়ে শেষ নয় ,
মেডিকেলে পাশ করতে হলে আপনাকে নিয়মিত আইটেম পাশ করতে হবে তাও আবার স্যার - ম্যাডামদের সামনে ভাইভা দিয়ে ।
আইটেম সব ক্লিয়ার হলে আপনাকে মোকাবিলা করতে  হবে কার্ড পরীক্ষা-
সেখানে রিটেন - ভাইভা - প্রাক্টিক্যাল  তথা OSPE , শর্ট কেইস - লং কেইস   সব আলাদা আলাদা পাশ করতে হবে ,
একই নিয়মে কয়েকটি কার্ড পাশ করার পর আপনাকে টার্ম পাশ করতে হবে ,
সব টার্ম পরীক্ষা পাশ করার পর আপনাকে লড়তে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের
অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়া  প্রফ পরীক্ষা তথা পেশাগত পরীক্ষা ,
সে পেশাগত পরীক্ষার রিটেন  খাতা চলে যাবে ভার্সিটিতে ,
রিটেন শেষ হলে   একযোগে শুরু হবে সেন্ট্রাল  OSPE পরীক্ষা ,
সে পরীক্ষা এক দলকে  রুমে বন্ধী করে আরেকদলের  বেল বাজিয়ে ষ্টেশন - টু ষ্টেশন পরীক্ষা শুরু হয় , প্রতিটা ষ্টেশনে বিভিন্ন সিনারিও, এক্স রে ফিল্ম, ই সি জি , ফটোগ্রাফ , ভিসেরা , বোনস,  ডাটা , অপারশনের ইন্সট্রুমেন্ট , লেবেলহীন ড্রাগ ও বিভিন্ন প্রসিডিউর থাকে ।
প্রতিটা ষ্টেশন ২-৩ মিনিটে  আইডেনটিফাই করে ,
ঐ রিলেটেড উল্লেখিত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে উত্তর পত্র ঝুড়িতে  রাখতে হয় ,
এভাবে এক দলের প্রতিটা  ষ্টেশনের সময় শেষ হলে ,
বন্ধী রাখা পরীক্ষার্থীদের  OSPE রুমে প্রবেশ করানো হয় ।
২-৩ টা ষ্টেশন যদি ভুল করে আসে তবে
প্রফ পাশের সব সাধনায় ওখানেই শেষ ।

বিশেষ করে সার্জারী ফার্স্ট পার্টে  ষ্টশনের প্রশ্নগুলোর উত্তর অনেক বড় হওয়ায়,
 উত্তর লেখার পূর্বেই বেল বেজে উঠে - সময় ফুরিয়ে যায় ।

এই কঠিন সার্কাস  শেষ হলে কয়েকদিনপর শুরু হয় ,
মেডিকেলীয় আসল পরীক্ষা ভাইভা- শর্ট কেইস , লং কেইস ।
ভাইভা নিতে আসেন ভার্সিটি থেকে সিলেক্ট করা স্যারেরা
অমুক মেডিকেলের প্রফেসর  তমুক মেডিকেলের এক্সটার্নাল হয়ে ভাইভা নিতে আসেন ।
যে সব স্যারকে মেডিকেল পরীক্ষার্থী ভাইভার পূর্বে আগে কখনো দেখে নি
,
এমন আজানা , আচেনা স্যারদের সামনে পরীক্ষা দিতে অনেক নার্ভাসনেস কাজ করে , যতো ভালো প্রিপারেশন থাকুক না কেনো ।

ভাইভাতে এমনো হয় অনেক ভালো ছাত্রেরও থ্রট ব্লক হয়ে যায় ,
সব কিছু জানার পরও  অতি নার্ভাসনেসের কারনে নিজের নাম বলতে  আটকে যায় ।

অনেকের ভাইভাতে এমনও হয় ,
প্রায় সব প্রশ্নের উত্তর ভালো করে পারে ,
কিন্তু গুটিকয়েকে যা ভালো করে পড়ে নাই
সেগুলোর বিশদ উত্তর জানতে চাই এক্সটার্নাল ।

 যদি সেকেন্ডের জন্য
কোনো পরীক্ষার্থীর উপর স্যারের বেড ইমপ্রেশন তথা বদ নজর পড়ে ,
তাহলে কথায় নেই ...
মুহুর্তেই জান কোরবান - নিশ্চিত পরীক্ষায় ফেল ।

যে ছেলেটি  ভাইভা বোর্ডে এসে ২- ৩ নাম্বারের জন্য ফেল করে
তার দুঃখের অন্ত নেই ।
যে ছেলেটি ক্লাসের  ফার্স্ট হয়েও রিটেন - ভাইভাতে অনেক ভালো নাম্বার পেয়ে পাশ করার পর , যখন শুনে  OSPE  তে ফেল ।

ছেলেটি অনেক মেধাবী হউক কিংবা ভালো হউক
OSPE তে ফেল করায়
তখন সে পরীক্ষার্থীর রেজাল্ট দাঁড়ায় ফেল ।

ফলাফল - তাকে ৬ মাসের বন্দী কারাঘারে জীবন পার করে
আবার সাপ্লিমেন্টারী পরীক্ষায় বসে  ভাইভা- রিটেন- central OSPE শর্ট কেইস - লং কেইস সব পাশ করতে হবে  ।

ভাইভা রিটেনে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে সেট্রাল OSPE তে ফেল করেছে এমন অনেক নজির মেডিকেলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ।

আবার অনেকের ভাগ্যটা এতটাই  খারাপ
প্রায় সবকিছু পাশ করেও কেবল শর্ট কেইস কিংবা লং কেইসে ফেল করায়
পুরো রেজাল্ট ফেল চলে আসে ।
পাশ মার্ক ৬০ নাম্বারের চেয়ে ২-৪ কম পাওয়ায় কত ছাত্রের জীবন থেকে
 হারিয়ে যাচ্ছে কত মূল্যবান সময় !!


স্কুল কলেজে ফার্স্ট   যে কোনোদিন ফেল করে নি ,
সে মেডিকেলে  এসে ফেল করবে , এটাই স্বাভাবিক !
মেডিকেলে এসে কোনো না কোনো পরীক্ষায় ফেল করে নি ,
এমন ছাত্রের সংখ্যা অতি নগন্য ।

মেডিকেলে পাশ ফেল কোনো ব্যাপারই না ,

Failure is the Pillar of Medical Science.

এম.বি.বি.এস যত কঠিন হউক না কেনো,
পরীক্ষা দিতে দিতে
একদিন না একদিন  এম.বি.বি.এস  পাশ হবেই।

সো নিরাশ হবেন না, ডাক্তার একদিন হবেনই ।




সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

ভীষন মিস করছি.. কেমিস্ট্রির অধ্যাপক হযরত আলী স্যার কে

ভীষন মিস করছি.. কেমিস্ট্রির অধ্যাপক হযরত আলী স্যার কে




১০বছর আগে কেমিস্ট্রির যে স্যার পড়ার জন্য বকা দিয়েছিলো,  
সে স্যার আজকে আমাকে বাহবা দিলো ... 

টানা ২৪ ঘন্টা নিদ্রাহীন ছিলাম,
কিন্তু নিজেকে একটুও ক্লান্ত মনে হয় নি,
৬০৭ কেবিনে ভর্তি ক্যান্সারের রোগীর প্রেশার রাত ৩টার দিকে কমতে কমতে ৫০/২০ তে চলে আসলছিলো।
এত রাতে কি করি,
গভীর রাত হওয়ায়
ইঞ্জেকশান ডোপামিন  নরমাল স্যালাইনের সাথে পাম্প মেশিনে রোগী গায়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম,
তবুও  ডা: আনিসুল আউয়াল স্যারকে ফোন দিয়ে শিওর হয়ে নিলাম,
এভাবে চালাবো নাকি  এইচডিউতে পাঠাবো
স্যার  বললো ৫০০ এম এল নরমাল স্যালাইনের সাথে  ২ এ্যাম্পুল ডোপামিন পুশ করে ৩২ ড্রপসে  মাইক্রোবুরেট সেট দিয়ে চালু করে,  অবজার্ভেশন করে  প্রেশার মেপে দেখিও,
স্যারের নির্দেশনা মেনে শুরু করলাম চিকিতসা,
ব্লাড প্রেশার কখনো ৭০/৪০,
কখনো ৮৫/৫০
এভাবে বাড়তে থাকলো,
সকাল ৭ টায় দেখলাম ১০০/৭০,
তখন খুব ভালো লাগলো,
আকরাম স্যারের হাতে ব্লাডের রিকোজিশন
দিয়ে দিলাম,
সকালে  এক ব্যাগ রক্ত দেয়ার পর,
রোগীর ব্লাড প্রেশার হলো ১২০/৮০, যা
নরমাল।

নরমাল ব্লাড প্রেশার দেখে এতোটা ভালো লাগলো,  স্যারকে খুশিতে বুঝাতে পারছিলাম না।
স্যারকেও খুব খুশি দেখাচ্ছিলো। 

যাক ... ঘুমহীন রাতের কষ্টটা স্বার্থক হলো,
যে পেশেন্টির ব্লাড প্রেশার  কমতে কমতে শুন্যের কোটায় গিয়ে পেশেন্ট শকে চলে যাচ্ছিলো, 
সে পেশেন্টকে সন্ধ্যায়  যখন 
জিজ্ঞেস করলাম  এখন কেমন লাগছে?
তিনি হেসে উত্তর দিলেন
ভালো লাগছে !
তুমি সারাটা রাত  না ঘুমিয়ে আমার জন্য যা করেছো,  
অন্যদের কে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে বলে,
এই ডাক্তার আকরামের ছাত্র  ।
সারারাত আমার জন্য ঘুমায় নাই,

রোগীর মুখে হাসি দেখে কি যে আনন্দ লাগলো!
বলে বুঝাতে পারবো না। 

রোগী সুলতানা  কোরায়েশী সম্পর্কে আমাদের 
প্রিয় সিটি কলেজের কেমিস্ট্রির সহকারি অধ্যাপক আকরাম স্যারের শ্বাশুড়ি 
ও  ডা: আনিসুল আউয়াল স্যারের মামী ।

আকরাম স্যারের সাথে ২৪ ঘন্টায়,
যত দেখা আর কথা হয়েছে
পুরো ২ বছরের  ইন্টার লাইফেও হয় নাই  ।

স্যার আপনাদের ভীষন মিস করছি...
বিশেষ করে কেমিস্ট্রির অধ্যাপক হযরত আলী স্যার কে, যার লেকচার করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম,
যিনি রসায়নকে খুব সহজেই  আমাদের ব্রেনে  বুনে দিয়েছিলেন,  যিনি বর্তমানে সিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

মানুষ গড়ার কারিগর প্রফেসর হারুন স্যার আর আমাদের মাঝে নেই ।

মানুষ গড়ার কারিগর প্রফেসর হারুন স্যার আর আমাদের মাঝে নেই ।

প্রিয় প্রফেসর হারুন উর রশিদ স্যার
আপনাকে হারনোর বেদনা আমরা কখনো ভুলতে পারবো না,
আজ জাতি একজন অভিভাবককে হারালো।
একজন মানুষ গড়ার কারিগরকে হারালো।
মানুষের মন জয় করার মহত পেশা শিক্ষকতা,
সেই মহত পেশাকে ধারন করে যিনি
জয় করে নিয়েছেন লাখো কোটি মানুষের হৃদয়।
ভাবতেই অবাক লাগে উনি আমাদের মাঝে নেই।

উনার শিষ্যরা আজ সারা বিশ্বে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছেন।
চট্টগাম কলেজ, মহসীন কলেজ, মহিলা কলেজ, রাংগামাটি কলেজ,
আমার প্রিয় স্কুল সি আর এস সি সহ
অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এই মহান শিক্ষক !

শুক্রবার সকালের ডিউটিতে এসে জুমার নামাজ পড়ে এসে সি এস সি আর এর নীচে দেখা হলো প্রফেসর ডা: এম.এ. ফয়েজ স্যারের সাথে।
আর রাতে ডিউটিতে এসে শুনি
ফয়েজ স্যারের বড় ভাই অধ্যক্ষ হারুন উর রশিদ স্যার আই সি ইউ তে ভর্তি ।
এ কথা শুনে মন খুব খারাপ হয়ে গেলো ,
যে স্যারকে দেখেছি খুব কাছ থেকে, যিনি অবসরের পর ৫ বছর আমাদের প্রিয় স্কুলে প্রিন্সিপ্যাল ছিলেন,
সে প্রিন্সিপ্যাল স্যার আই সি ইউ তে!
আজ দুপুরে দেখে আসলাম স্যারের নিথর দেহ,
স্কুলে আমি ক্লাস ক্যাপ্টেন থাকাকালীন বিভিন্ন কাজে স্যারের সাথে প্রায় দেখা হতো , ১০-১২ বছর আগের সুঠাম দেহ যেমনটি দেখেছিলাম
তেমনটিই আছে
নেই শুধু রুহ ।

আমরা সকলেই উনার আত্নার মাগফেরাত কামনা করছি,
শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি ।

প্যারেড মাঠসহ বেশ কয়েক জায়গায় জানাযা অনুষ্টিত হবে,
স্যারের জানাযার সময় সূচি টিভি- চ্যানেলে জানানো হবে।

উনি রেখে গেছেন অসংখ্য জ্ঞানী গুনী আত্নীয় স্বজন।
উনার ছোট ভাই চিকিতসা বিজ্ঞানী প্রফেসর ডা: এম.এ. ফয়েজ ।
মানবসেবায় যার অবদান অতুলনীয়।
যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ফ্যাকাল্টির ডীন , স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক , ঢাকা মেডিকেল ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ডা: রেহেনুমা ম্যাম ও উনার সুযোগ্য কন্যা ।

কর্মে, কৃতিত্বে , সাফল্যে হারুন স্যার আমাদের মাঝে চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন।

শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০১৫

আসুন সবাই-আমরা এক সাথে এসব ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াই ।

আসুন সবাই-আমরা এক সাথে এসব ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াই ।

"আমার আম্মুর কোলন ক্যান্সার, লাস্ট স্টেজ।অনেক কিছুই করলাম,ডাক্তার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। PMCH এ ৬৩০ নং কেবিনে ভর্তি।জানিনা কত দিন আছে আমার সাথে।আমার কাছের বন্ধুরাও এই কথা জানে না,সবার সাথে হেসে হেসে কথা বলি,কষ্ট গুলো কাউকেই বুঝতে দেইনা।আমি মেডিকেলে ভর্তি হয়েছিলাম শুধু আমার আম্মুর ইচ্ছাতেই।আমার কোন ইচ্ছাই ছিল না।আজ আমার আম্মু চলে যাচ্ছে আমার অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ দেখে।যেই দেখা করতে আসে আম্মু শুধু একটা কথাই বলে,"আমার ছেলেটা কি ডাক্তার হবে না?কেউ কি জানিস রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে কিনা?"আম্মুর দিকে তাকাতে পারি না।চোখের দিকে তাকালে বুকটা কষ্টে ফেটে যায়।আমার আম্মু এখনো আমার রেজিস্ট্রেশন দেখে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে।
ঈদের পরে শুনানি । আমি এটাও জানিনা সেই শুনানি দেখে যাওয়ার কপাল আমার আম্মুর আছে কিনা।নামায পরে একটা দোয়াই করি,আল্লাহ যেন ভাল একটা রেজাল্ট আমার আম্মুকে দেখার সৌভাগ্য দেন।কিন্তু এই দেশের "সিস্টেম" একটা মায়ের শেষ ইচ্ছাও পূরন করতে অক্ষম।"
এই কথা গুলো আমার খুব কাছের এক বন্ধু অনেক কষ্ট নিয়ে বলেছিল।কিন্তু কেন সে এমনটা বলছে???বলছে কারণ...

মহামান্য হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে ২০১৩/১৪ শিক্ষাবর্ষে বেসরকারী মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ গুলো সরকার নির্ধারিত স্কোর থেকে সামান্য কম স্কোরধারী প্রায় সাত শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি করে ।এসব শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায় ভর্তির নূন্যতম স্কোর কমানো হয়েছে ।পরবর্তীতে সরকার হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে আপিল করলে ঝুলে যায় এসব শিক্ষার্থীর ভাগ্য ।আইনী জটিলতা থাকার কারনে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় গুলো তাদের রেজিষ্ট্রেশন দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে "প্রথম পেশাগত পরীক্ষা মে/২০১৫ "তে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয় এসব শিক্ষার্থীরা ।রেজিষ্ট্রেশনের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানব বন্ধন,মিছিল,প্রতিবাদ সভা সহ অনশন কর্মসুচির মত কঠোর কর্মসুচি পালন করলেও যথাযথ কর্তৃপক্ষ তাতে কর্ণপাত করেনি ।শিক্ষার্থীদের ৫ সদস্যের একটি কমিটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সাথে দেখা করলে তিনি তাদের আশ্বস্থ্ করেন ।কিন্তু তার কোন বাস্তবায়ন হয়নি ।স্বাস্থ্য মন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি প্রেরণ করা হলেও তেমন কোন সাড়া পাওয়া যায়নি ।উপায়ান্ত না দেখে রেজিষ্ট্রেশন সংক্রান্ত আইনী জটিলতা নিরসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীরা ।বিচারের দীর্ঘ সূত্রিতার কারনে আজও এর সমাধান হয়নি ।সুপ্রীম কোর্টে এখনও অমিমাংসিত হয়ে রয়েছে এটি।তাই অনিশ্চিত ভবিষ্যত নিয়ে হতাশায় দিন কাটছে তাদের ।তাছাড়া,এক বছর আট মাস পর মেডিকেল ছেড়ে অন্য কোথাও ভর্ভির সুযোগও থাকছে না।এমতাবস্থায় রেজিষ্ট্রেশন দেয়া না হলে প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে তথা সাতশ টি পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে ।বেসরকারী এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া বেশীর ভাগই মধ্যবৃত্ত পরিবার থেকে আসা ।ছেলে-মেয়ের ডাক্তার হবার স্বপ্নকে পূরণ করতে হলে যে পরিমান ব্যায় ভার বহন করতে হয় তার জন্য এসব পরিবার বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই শেষ সম্বল জমি টুকু বিক্রি করে দেয়,কেউ পেনশনের টাকা তুলে এনে দেয় ।কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস !!! এরা এখনো জানে না রেজিষ্ট্রেশন হবে কি না ।আমরা কি পারি না এই হতভাগ্য শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে - তাদের ডাক্তার হবার স্বপ্নকে অক্ষুন্ন রাখতে???


আসুন সবাই-আমরা এক সাথে এসব ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াই ।

লিখে পাঠিয়েছেন -
মোঃ শামীম আহমেদ (অনিক)

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৫

ডাক্তার না হয়েও সত্যি চমৎকার লিখেছেন তিনি-

ডাক্তার না হয়েও সত্যি চমৎকার লিখেছেন তিনি-

ডাক্তার না হয়েও সত্যি চমৎকার লিখেছেন তিনি-
ডাক্তারদের পাশ করতে এমনিতেই গড়ে ২/৩ বছর বেশী লাগে (MBBS এর duration এর কারণে), গড়ে ৬ বছর, ৫ বছর কোর্স আর ১ বছর ইন্টার্নি (সেশন জট থাকলে আরও বেশী) । তার মানে অন্য কোন বিষয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের থেকে ২/৩ বছর জুনিয়ররা এক সাথে পাশ করে বিসিএস দেয়। এরপর ধরে নিলাম, বিসিএসে ঢুকল। আপনারা কি জানেন প্রশাসনে ডাক্তারদের রাঙ্কিং কি? এক সাথে একই ব্যাচে ঢুকেও ডাক্তারকে স্যার বলতে হয় ৪/৫ জনকে। যারা তার থেকে ২ বছর ছোট।
অন্যদের উপজেলা পরিষদে থাকবার বসবার জায়গা আছে, এমন কি গাড়িও আছে কারও কারও, আর ডাক্তারদের পোস্টিং হয় ইউনিয়ন লেভেলে। ইউনিয়নের মেম্বারের বাড়ির চাকরের জ্বর হলেও ডাক্তারকে রাত ৩ টায় তাকে বাড়ি যেয়ে দেখে আসতে হবে, না হলে কপালে মার আছে।
সরকারী হাসপাতালে ডাক্তাররা কি করেন? ফাকি মারেন তাই না? ডাক্তার নাই, তারপরও যারা আছেন তারা গড়ে শুধু আউটডোরেই ১১০ জনের উপরে রুগী দেখেন। আর ইউকেতে একজন জিপি গড়ে ৩০-৪০ জন রুগী দেখেন। পার্থক্যটা দেখেন, কোয়ালিটি কেন ভালো এখানে বুঝতে পারবেন। আর জানিয়ে রাখি এই ডাক্তারদের একটা বড় অংশ কিন্তু বাংলাদেশের ডাক্তার। দেশে তারা “ভুল চিকিৎসা” করলেও ইউকেতে কিন্তু তাদের পারফরমেন্স খুব ভালো, তারাই সেখানে বিশ্বমানের সেবা দিয়ে থাকেন।
আমার স্ত্রীর কয়েকজন বন্ধুদের দেখেছি যারা ওখানে জিপি হয়ে গেছেন। এই ডাক্তাররা যখন এদেশে সরকারী চাকরি করে তখন বেতন শুরু করে ১৯,০০০ টাকায় আর বাইরের যে কোন উন্নত দেশে সর্বোচ্চ বেতন বরাদ্দ থাকে ডাক্তারদের জন্য। ইউকেতে জিপির (জেনারেল প্রাক্টিসনার) না ট্রেইনি ডাক্তারের বেতনও শুরু হয় বাংলাদেশী টাকায় ২,৫০,০০০ টাকায়। আর নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে (সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা) কাজ করলে তার জন্য আলাদা পয়সা দেয়া হয়। আমরা না মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে যাচ্ছি? যারা নিজেদের ডেভেলপড কান্ট্রি বলে, তারাতো সঙ্গত কারনেই ডাক্তারদের বেশী বেতন দেয়। তাই নিজেদের উন্নয়নের জন্য এই পরিবর্তনও জরুরী।
( http://www.practicelink.com/magazine/vital-stats/physician-compensation-worldwide/ )।
এবার ইউকে ডাক্তার দেখানোর অভিজ্ঞতার কথা বলি, একবার আমি সার্জারিতে গেলাম খুব ব্যাক পেইন নিয়ে। রিসেপশানে কম্পিউটার চেক করে রিসেপশনিশ্ট বলল ১৭ দিন পর দুপুর ২:৩০ টায় আপনি দেখাতে পারবেন। জি, ১৭ দিন পরের কথায় বলেছিল।(যারা এই তথ্য ভুল প্রমান করতে চান তারা দয়া করে এই লিঙ্কে গিয়ে ভুলটা ধরিয়ে দিবেন http://
www.nhs.uk/Services/GP/Overview/
DefaultView.aspx?id=40793 )। বাংলাদেশে ডাক্তার নাই, ফাঁকিবাজ সব। কিন্তু এমন কখনও কি হয়েছে আপনি সরকারী হাসপাতালে গেছেন আর আপনাকে না দেখে ফিরিয়ে দিয়েছে, তো সেটা রাত ৪ টা হলেও। বা বেড খালি নাই সে জন্য বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে? আমি নিশ্চিত বলতে পারি দেয়নি। আমার স্ত্রীর ২ দিনের লেবার পেইন থাকা সত্ত্বেও ইউকেতে কিন্তু আমার এই অভিজ্ঞতা হয়েছে- বাড়িতে ফেরত পাঠিয়েছে। (হাসপাতালের ঠিকানা এখানে পাবেন http://
www.bhrhospitals.nhs.uk/for-patients-and-visitors/queens-hospital.htm তারিখ ছিল ৩/১১/২০১০ এবং ১৪/১১/২০১০)। বাংলাদেশে কি কখনও শুনেছেন আজ হসপিটালের অমুক ডাক্তারের ২৫টা রুগী দেখা হয়ে গেছে আজ আর দেখবেন না, কাল সকালে আসেন। বাইরে কিন্তু শুনবেন। শুধু এই দেশেই হাসপাতালে ৫০০ বেড, রুগী ভর্তি আছে ১৫০০, তারপরও ৩০০ রোগী যাক, দেখবেন বারান্দায় পাটি বিছিয়ে দিয়ে ভর্তি করে নিয়েছে।
বলে নেয়া ভালো, বেড খালি না থাকলে বাড়ি পাঠিয়ে দেবার পলিসি কিন্তু কুইনস হসপিটাল ম্যানেজমেন্টের ছিল, ডাক্তারদের না। তেমনই বারডেমের বা বিএসএমএমইউ তে কয়টি আইসিইউ বেড থাকবে, বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত হাসপাতাল ম্যানেজমেন্টের, যে ডাক্তার ওখানে দায়িত্ব পালন করেন, এগুলো উনার এখতিয়ার ভুক্ত না। উনি চাইলেই ১টা বেড ওখানে বাড়াতে পারেন না। তাই যদি আইসিইউ দরকার হয় সেক্ষেত্রে বেড খালি না থাকলে আপনাকে ডাক্তার অন্য হসপিটালে যাইতে বলতে পারেন। কারন যার আইসিইউ দরকার হয় তাকে পাটি বিছিয়ে রাখলে হয়না, প্রত্যেকের জন্য আনুষঙ্গিক অনেক যন্ত্রপাতি দরকার হয়।
যাদের ডাক্তারদের প্রতি বিস্তর ক্ষোব, তাদের প্রতি অনুরোধ ডাক্তারদের প্রতি একটু মানবিক হন। একজন অনারারী ডাক্তারকে সপ্তাহে কত দিন, কত ঘণ্টা কাজ করতে হয় একটু খোঁজ নেন। হসপিটাল থেকে ক্লিনিক আর ক্লিনিক থেকে হসপিটাল করে। খাওয়া ঘুমের কোন নিয়ম নাই। আর এই মেধা, পরিশ্রম দিয়ে এত বছর পর তারা কত টাকা আয় করে জানেন? ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা। যেখানে তার সাথে স্কুল কলেজে পড়ুয়া কম মেধাবীরাও ৯-৫ টা অফিস করে কেউ কেউ লাখের উপরে বেতন পায়। ডাক্তারদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ঠিক করেন (৪০ ঘণ্টা যা অন্যরা করে), এর বেশী কাজ করতে হলে তাকে আলাদা করে পয়সা দেন, দেখবেন হাসপাতালে ডাক্তার থাকছেন । এছাড়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডাক্তার রাখতে হলে বাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে মেধার মূল্যায়ন অনুযায়ী প্রণোদনা দেন দেখবেন ঠিকই প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডাক্তার থাকছেন। ব্যাংকের জন্য যদি আলাদা বেতন স্কেল হতে পারে, ডাক্তারদের জন্য কেন নয়? যারা বাঙ্কে চাকরি করে তারা কি ডাক্তারদের থেকে বেশি মেধাবী না কি বেশী গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে? একজন ব্যাংকারের ২ বছর অভিজ্ঞতা হলে যদি ৪০,০০০ বেতন পায়। ডাক্তারকে অন্ততপক্ষে ৪০,০০০ দিয়ে বেতন শুরু করেন, কারন ডাক্তার ২ বছর অতিরিক্ত পড়াশুনার পিছনে ব্যয় করেছেন আর এই সময় তিনি আয় করা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
দিনের পর দিন কোন ব্রেক ছাড়া কাজ করলে আপনারা যে কেউই রুক্ষ হয়ে পড়বেন, একটু উনিশ বিশ হলে ধমক দিবেন। ডাক্তারদের একটু মানসিক আর শারীরিক বিশ্রামের সুযোগ দেন, দেখবেন উনাদের ব্যাবহারেই আপনি অর্ধেক ভালো হয়ে গেছেন। আর এই জন্য দরকার রাষ্ট্রের পলিসি লেভেলে কিছু পরিবর্তন।
শুরুতেই বলেছি এদেশের ডাক্তাররা যথেষ্ট যোগ্য, তাই পশ্চিমে উনাদের জায়গা করে নিতে তেমন বেগ পেতে হয়না। এভাবে চলতে থাকলে কিন্তু তার শেষটা আমাদের আর এই দেশের মানুষকেই ভোগ করতে হবে।
এখন আপনারা বিবেচনা করেন কি করবেন?

সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৫

সকল কোম্পানীর ঔষধের মূল্যসহ বিস্তারিত তথ্য জানতে QIMP-17 বই  পিডিএফ ডাউনলোড করুন

সকল কোম্পানীর ঔষধের মূল্যসহ বিস্তারিত তথ্য জানতে QIMP-17 বই পিডিএফ ডাউনলোড করুন


সকল কোম্পানীর ঔষধের মূল্যসহ বিস্তারিত তথ্য জানতে QIMP-17
 বই  পিডিএফ ডাউনলোড করুন

 ঔঘশঝ-17
                                       Downlaod Link QIMP-17


কুইক ইন্ডেক্স অফ মেডিকেল প্রোডাক্টস এন্ড প্রোবলেমস   বই ।

যাদের প্রোডাক্টের বিস্তারিত জানতে চান , তাদের জন্য এই বই ।