স্বাস্থ্য বার্তা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
স্বাস্থ্য বার্তা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

টানা ২৪ ঘন্টা চিকিৎসা সেবা দিয়ে কার্ডিয়াক এ্যারেস্টে মারা গেলেন বিখ্যাত ডা: লি জিং

টানা ২৪ ঘন্টা চিকিৎসা সেবা দিয়ে কার্ডিয়াক এ্যারেস্টে মারা গেলেন বিখ্যাত ডা: লি জিং

হাসপাতালে বিশ্রামহীন টানা ২৪ ঘন্টা মানুষের সেবা করে কার্ডিয়াক  এ্যারেস্টে চির নিদ্রায় চলে গেলেন বিখ্যাত ডা:লি জিং
 Dr.Li Jing


A beloved doctor at one of China’s top hospitals has died of sudden cardiac arrest after working a 24-hour shift, prompting medical staff to question workers’ hours and staffing at the facility, Central European News (CEN) reported. Dr. Li Jing, 43, was the head of the emergency department at the Guangzhou Red Cross Hospital in Guangzhou, capital of south China’s Guangdong Province. According to CEN, Jing died at home with his wife after reportedly undergoing excess physical fatigue. Jing’s co-workers described him as a tireless worker who frequently logged overtime and would go out of his way to lighten co-workers’ loads. Yang Weiguang, one of Jing’s colleagues, said Jing put his head down on his desk in his office after his 8 a.m. to 8 a.m. shift ended, and that the doctor seemed feverish. But staffers didn’t express concern over the doctor’s tiredness as the symptom wasn’t uncommon among any of the workers. “It was very sudden,” Weiguang told CEN. “He was in such good health, and he loved sports. It’s sad to see a doctor with 21 years of experience go like that." Weiguang noted that Jing had led the hospital during outbreaks of SARS, dengue fever and the avian flu. He said colleagues will remember him as a modest and hardworking man. "I believe the reason for this tragedy is that hospitals are too often understaffed,” Weiguang added. “There is not enough manpower to handle the work and to allow doctors to rest."

Read more at: https://forum.facmedicine.com/threads/er-doctor-dies-of-cardiac-arrest-after-working-24-hour-shift.22186

রবিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৭

মাগুরায় ছয় দিন ধরে চিকিৎসক নিখোঁজ..

মাগুরায় ছয় দিন ধরে চিকিৎসক নিখোঁজ..


নিখোঁজের ছয় দিন পরও মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (দারিয়াপুর) চিকিৎসক সুমন কুমার সিকদারের (২৮) সন্ধান মেলেনি। গত সোমবার বিকেল থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।
সুমনের বাবা মাগুরা সদর উপজেলার বেঙ্গা গ্রামের সুকুমার সিকদার বলেন, সুমন ২০১৪ সালে ওই হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেয়। অবিবাহিত সুমন মাগুরা শহরের কলেজপাড়ায় একাই ভাড়া বাসায় থাকত। গত সোমবার বিকেলে কর্মস্থল (শ্রীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স) থেকে সে ভাড়া বাসায় ফিরে আসে।
সুকুমার শিকদার বলেন, পাশের বাসার ভাড়াটেরা তাঁদের জানিয়েছেন, সুমন বাসায় আসার কিছুক্ষণ পর আবার বের হয়ে যান। এরপর থেকে গত ছয় দিন যাবৎ তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। তবে তাঁর মুঠোফোনটি ভাড়া বাসায় পাওয়া গেছে।
সুমনের বাবা আরও বলেন, গত কয়েক দিন তাঁরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে সুমনের সন্ধান পাননি। তবে সে বিভিন্ন সময় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকত। এ ব্যাপারে সুমনের বাবা মঙ্গলবার সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজমুল হুদা বলেন, তাঁদের ধারণা, সুমন সিকদার স্বেচ্ছায় নিরুদ্দেশ হয়েছেন। কারণ তাঁর মুঠোফোন, ব্যাগ সবই বাসায় রয়েছে।
মাগুরার সিভিল সার্জন এফ বি এম আবদুল লতিফ সাংবাদিকদের বলেন, সুমন সিকদার সর্বশেষ গত সোমবার কর্মস্থলে গিয়েছিলেন। তারপর থেকে তিনি অনুপস্থিত রয়েছেন।

সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

আমেরিকায় নারী চিকিৎসকের কাছে রোগী সুস্থ হয় বেশি

আমেরিকায় নারী চিকিৎসকের কাছে রোগী সুস্থ হয় বেশি

হাসপাতালে নারী চিকিৎসকের কাছে রোগী সুস্থ হওয়ার হার বেশি। তাঁদের কাছে সেবা পাওয়া রোগীর মৃত্যুঝুঁকিও কম। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১০ লাখের বেশি রোগীর ওপর এ গবেষণা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, রোগীরা নারী চিকিৎসকের সেবা পেলে তাঁদের মৃত্যুঝুঁকি পুরুষ চিকিৎসকদের সেবা পাওয়া রোগীর তুলনায় ৪ শতাংশ কম। আবার সেবা নিয়ে চলে গেছেন
তাঁদের হাসপাতালে পুনরায় ভর্তি হওয়ার হার ৫ শতাংশ কম।

গবেষকেরা বলছেন, নারী ও পুরুষ চিকিৎসকের সেবার পার্থক্যের কারণে ফলাফলে কী ভিন্নতা আসে তা নিয়ে সম্ভবত এটাই প্রথম কোনো গবেষণা। গবেষণাটি গতকাল সোমবার আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাময়িকী জেএএমএ ইন্টারন্যাল মেডিসিনের অনলাইন সংস্করণে ছাপা হয়েছে।

গবেষণার আওতায় থাকা রোগীদের বয়স ছিল ৬৫ বছর বা তার বেশি। এঁদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন মারাত্মক অসুস্থ। এঁদের চিকিৎসা দিয়েছিলেন ৫৮ হাজার ৩৪৪ চিকিৎসক। এঁদের মধ্যে ১৮ হাজার ৭৫১ জন (৩২.১ শতাংশ) ছিলেন নারী চিকিৎসক। নারী চিকিৎসকদের বয়স ছিল তুলনায় কম, এঁদের অনেকেরই অস্থির চিকিৎসায় প্রশিক্ষণ ছিল। এঁরা পুরুষের তুলনায় কম রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছিলেন।

এ গবেষণার ফলাফল নিয়ে এই প্রতিবেদক বাংলাদেশে চিকিৎসা ও রোগী ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত চারজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছেন।

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক পারভিন শাহিদা আখতার বলেন, ইউরোপভিত্তিক ক্যানসার চিকিৎসকদের সংগঠন (ইসমো-ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব মেডিকেল অনকোলজিস্ট) দাবি করে ক্যানসার চিকিৎসায় পুরুষের তুলনায় নারী চিকিৎসকের কাজের ফল ভালো। এর কারণ, নারী চিকিৎসক রোগীর ব্যাপারে বেশি সহানুভূতিশীল, বেশি মনোযোগ দিয়ে রোগীর কথা শোনেন, রোগীকে বেশি সময় দেন। নিজের কাজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘মাঝেমধ্যে আমি রোগী নেফ্রোলজি বা হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠাই (রেফার)। রোগীরা ফিরে এসে মহিলা ডাক্তারদের কথাই ভালো বলেন, মহিলা ডাক্তারের কাছেই পাঠাতে বলেন।’

অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত নাক-কান-গলার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। দুই দফায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গবেষণা ফলাফলের সঙ্গে আমি ১০০ ভাগ একমত। নারী চিকিৎসকদের আন্তরিকতা বেশি, কাজে ফাঁকি কম দেয়, ধান্দা কম। এগুলো রোগী সুস্থ হয়ে ওঠার ওপর প্রভাব ফেলে।’

বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালের পরিচালক (কমিউনিকেশন অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) শাগুফা আনোয়ার বলেন, ‘নারী চিকিৎসকেরা সময়মতো রোগীর পাশে থাকে। রোগীর ডকুমেন্টেশন ভালো করে। যত্ন নিয়ে রোগীর কাউন্সেলিং করে। ফাঁকি কম দেয়, অজুহাত কম দেয়। এসব গুণ অবশ্যই রোগীর সেরে ওঠার ওপর প্রভাব ফেলে।’

তবে এ বিষয়ে কিছুটা ভিন্নমত দিয়েছেন বিএসএমএমইউর মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এ ব্যাপারে মতামত দেওয়া মুশকিল। একজন চিকিৎসক রোগীকে কতটা সুস্থ করতে পারবেন তা নির্ভর করে তিনি নিজেকে কতটা দক্ষ করে তুলতে পেরেছেন তার ওপর। এ ক্ষেত্রে যোগ্যতাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

যুক্তরাষ্ট্রের এই গবেষণায় এটা চিহ্নিত করা যায়নি যে কেন নারী চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে তাতে বলা হয়েছে, আগে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নারী ও পুরুষ চিকিৎসকদের মধ্যে পেশা চর্চায় ভিন্নতা আছে। নারী চিকিৎসকেরা নির্দেশিকা মেনে পেশা চর্চায় অধিকতর অবিচল থাকেন। এ ছাড়া তাঁরা প্রতিরোধমূলক সেবাও বেশি দেন। বর্তমান গবেষণা থেকে সেবার মান উন্নত করার মতো বিষয় পাওয়া যাবে বলে গবেষকেরা ধারণা করছেন
ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি নয় !!

ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি নয় !!

মন চাইলেই যাঁরা উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক কেনেন ও বিক্রি করেন—তাঁদের জন্য দুঃসংবাদ। নতুন ওষুধনীতিতে জ্বর, সর্দি, মাথা ও পেটব্যথার মতো রোগের ওষুধ ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ আর চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া পাওয়া যাবে না।
অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোনজনিত সমস্যার ওষুধ, ঘুমের ওষুধের মতো স্পর্শকাতর ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে জাতীয় ওষুধনীতি ২০১৬-তে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

সোমবার মন্ত্রিসভায় জাতীয় ওষুধনীতি ২০১৬-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, বাজারে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ধরনের জেনেরিক ওষুধ আছে, এর মধ্যে ৩৯টি জেনারের ওষুধ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় ওষুধনীতি প্রণয়ন উপকমিটির আহ্বায়ক আ ব ম ফারুক আরও জানান, বাজারে ৩৯টি জেনারের প্রায় দুই হাজার ওষুধ রয়েছে।

অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে ওষুধ কার্যকারিতা হারাচ্ছে এবং সহজে রোগ সারছে না। এই প্রেক্ষাপটেই দীর্ঘদিন ধরে পরামর্শপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়ে আসছিলেন জনস্বাস্থ্যকর্মীরা।

নতুন ওষুধনীতিতে ওষুধের যৌক্তিক ও নিরাপদ ব্যবহারে বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, দেশে পর্যায়ক্রমে সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে স্নাতক ফার্মাসিস্টের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ওষুধের কেনাবেচা হবে। এ ছাড়া ১০০ বা তার বেশি শয্যাবিশিষ্ট সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিকের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিজস্ব ‘অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নির্দেশিকা’ থাকতে হবে, নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে এবং চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সময় তা মানতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন ওষুধনীতিতে জাতীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর লক্ষ্যে হলো নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ তৈরি ও বিপণন রোধ করা।
খসড়ায় বলা হয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। আইনে শাস্তি নির্ধারণ করা হবে। নীতিমালা অনুযায়ী ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করা হবে। জনস্বার্থে দাম নির্ধারণ করে তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। কেউ বেশি দাম নিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক রুহুল আমিন বলেছেন, ওষুধ যেন যথেচ্ছভাবে কেনাবেচা না হয়, সেজন্য নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, বিশ্বের ১২২টি বাংলাদেশ ওষুধ রপ্তানি করে। বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সদন ও স্বীকৃতি লাভ করেছে বাংলাদেশের ওষুধ। তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর পর আন্তর্জাতিক চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে নীতিমালাটি যুগোপযোগী করা হয়েছে।

বৈঠকে নজরুল ইনস্টিটিউট, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন এবং কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টস আইনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে 

শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৬

ক্যানসার গবেষণায় বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরসাফল্য

ক্যানসার গবেষণায় বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরসাফল্য

বর্তমান সময়ে সম্ভবত ক্যানসার সবচেয়ে আলোচিত ও ভীতিকর রোগ। ক্যানসার নিয়ে মানুষের মধ্যে রয়েছে অনেক অজ্ঞতা ও অসচেতনতা। মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার হতে পারে। সকল ক্যানসারের ভয়াবহতা ও পরিণতি এক নয়। ক্যানসার যদি খুব শুরুতেই শনাক্ত (early diagnosis) করা যায় তাহলে এর চিকিৎসা অনেক সহজ হয়ে যায়। আর এ থেকে মুক্তির সম্ভাবনাও বেড়ে যায় বহু গুনে। ক্যানসার শনাক্ত করার জন্য আমরা বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করি। শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় প্রচলিত এসব পদ্ধতিগুলোর রয়েছে নানাবিধ সীমাবদ্ধতা। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে (early stage) ক্যানসার শনাক্তকরণের সহজ ও অধিক কার্যকরী (more efficient) পদ্ধতি উদ্ভাবনের কাজে নিয়োজিত আছেন গবেষকেরা। বাংলাদেশের সন্তান ড. মো. জসিম উদ্দিন চিকিৎসা বিজ্ঞানের তেমনই একটি বিষয়ে গবেষণা করছেন আমেরিকার ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে (Vanderbilt University)।
ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়েই আক্রান্ত কোষগুলোতে কক্স-২ (COX-2) নামক একটি এনজাইমকে অতিমাত্রায় উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। মো. জসিম উদ্দিন ও তাঁর গবেষণা দল বিশেষ আলোক সংবেদী কিছু রাসায়নিক যৌগ আবিষ্কার করেছেন। যেগুলো নির্দিষ্টভাবে (Selectively) কক্স-২ এনজাইমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শুধুমাত্র ক্যানসার আক্রান্ত কোষগুলোকে শনাক্ত করতে সক্ষম। বিষয়টিকে জোনাকি পোকার সঙ্গে তুলনা করুন। অন্ধকারে যখন জোনাকি পোকারা জ্বলে ওঠে, তখনই এদের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। পেটেন্টেড (Patent No. US 2010 / 0254910) এই রাসায়নিক যৌগগুলোর একটি ফ্লোরকক্সিব এ (Fluorocoxib A) নামে পরিচিত। প্রাণীর দেহে প্রবেশ করানোর পর এটি কক্স-২ এনজাইমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তীব্রভাবে জ্বলে ওঠে। আক্রান্ত কোষগুলোতে খুব সামান্য পরিমাণে কক্স-২ এনজাইম উপস্থিত থাকলেও সেগুলোকে সহজেই শনাক্ত করা যাচ্ছে। তার এই আবিষ্কার ২০১০ সালে প্রকাশিত হয়েছে একটি আন্তর্জাতিক মেডিকেল জার্নালে (Cancer Research, 2010, 70,3618-3627)। উদ্ভাবনের খবর উঠে আসে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। নানান সম্মানের পাশাপাশি, এই সফলতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে তিনি ওমিক্স (Omics International) গ্রুপের রিকগনিশন সনদও লাভ করেন। খুব শিগগিরই এই প্রযুক্তিটি মানবদেহে প্রয়োগের আশা করছেন তিনি। যেটি তার দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা। এই যৌগ দিয়ে ত্বক (skin), মূত্রথলি (bladder), অন্ননালি (esophageal) ও কোলন (colon) ক্যানসার খুব প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

মো. জসিম উদ্দিনের জন্ম নোয়াখালীর বাটইয়া গ্রামে। তিনি হাজি মো. হানিফ উদ্দীন ও বেগম সাফিয়া খাতুনের প্রথম সন্তান। তার শৈশব ও বেড়ে ওঠা ঢাকার জিগাতলায়। ঢাকার রাইফেলস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে। অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদের কাছে তাঁর গবেষণার হাতেখড়ি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষে জসিম উদ্দিন কর্মজীবন শুরু করেন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক প্ল্যান্টে। পরে ১৯৯৭ সালে জাপান সরকারের মনবুসো (Monbusho) বৃত্তি নিয়ে চলে যান জাপানের শিনসু বিশ্ববিদ্যালয়ে (Shinshu University)। সেখানে ডক্টরাল গবেষণা করেছেন অধ্যাপক আইওয়াও ইয়ামমোটোর (Professor Iwao Yamomoto) সঙ্গে। তারপর আলবার্টা হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের বৃত্তি নিয়ে কানাডার আলবার্টা বিশ্ববিদ্যালয়ে (University of Alberta) পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা করেন। অবশেষে ফ্যাকাল্টি হিসেবে গবেষণা শুরু করেন ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগে। বর্তমানে সেখানেই তিনি সহযোগী অধ্যাপক (গবেষণা) হিসেবে কর্মরত আছেন।
বাংলাদেশে গবেষণার অবস্থা তাঁকে ব্যথিত করে। বলেন, বাংলাদেশে অফুরন্ত মেধা ও সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বিজ্ঞানের মৌলিক ও অপরিহার্য বিষয়ে কোনো উন্নতমানের গবেষণা এখনো চোখে পড়ছে না। পিএইচডি ডিগ্রি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গেও হতাশা প্রকাশ করলেন। বললেন, স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে দেশে উচ্চ শিক্ষিতের হার অনেক কম ছিল। তখন শিক্ষক নিয়োগে পিএইচডি ডিগ্রিধারী প্রার্থী পাওয়া যেত না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। এখনো সেই নিয়ম ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তা নেই বলেই তিনি মনে করেন।
ফ্লোরকক্সিব-এশিক্ষার্থী ও গবেষকেরা যেন দেশেই করতে পারে উন্নতমানের গবেষণা সে জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথা বললেন। প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা নিয়ে সহযোগিতা করতে তিনি আগ্রহী। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণায় বিনিয়োগের জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে আসা উচিত বলে তিনি মনে করেন। স্বপ্ন দেখেন, একদিন বাংলাদেশ থেকেই বেরিয়ে আসবে রসায়ন ও চিকিৎসা শাস্ত্রসহ বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী।
প্রতিনিয়তই বাংলাদেশের কথা মনে পড়ে তাঁর। দেশে যোগাযোগ হয় নিয়মিত। সুযোগ পেলেই দেশে যান। এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে সংসার। গবেষণা, শিক্ষকতা আর জীবন-সংসারের রসায়ন নিয়ে কেটে গেছে বহু বছর। মানব কল্যাণে তাঁর গবেষণা অবদান রাখবে, সর্বশক্তিমানের কাছে এটুকুই চাওয়া। তাঁর গবেষণা নিয়ে বিস্তারিত জানতে তাঁর ওয়েবসাইট দেখতে পারেন: <https://goo.gl/g68Vja>

*ড. রউফুল আলম, গবেষক, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া, ফিলাডেলফিয়া, যুক্তরাষ্ট্র। ই-মেইল: redoxrouf@yahoo. com

শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

রোগীকে মেঝেতে খাবার দিলো,  ভারতের একটি হাসপাতাল!

রোগীকে মেঝেতে খাবার দিলো, ভারতের একটি হাসপাতাল!

চূড়ান্ত অমানবিকতার পরিচয় দিল রাঁচির একটি সরকারি হাসপাতাল। খাবার থালা না থাকায় রোগীকে মেঝেতে খেতে দিল হাসপাতাল। বাধ্য হয়েই মেঝে থেকে ভাত-ডাল তুলে খেতে হল পালমতীদেবীকে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের  রাঁচি ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সে
বুধবার এই ঘটনার ছবি ভারতের  একটি দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই তা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হাসপাতালের যে কর্মী এই কাজ করেছিলেন তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সঙ্গে রোগীদের জন্য নতুন থালারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

হাতে চোট নিয়ে সম্প্রতি এই হাসপাতালের মহিলা বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন পালমতীদেবী। তাঁর কাছে কোনও খাবার থালা ছিল না। ওই দিন দুপুরে সমস্ত রোগীকে খাবার দিতে আসেন হাসপাতালেরই এক কর্মী। পালমতীদেবী খাবার জন্য একটি থালা চান। ওই কর্মী তাঁকে জানান, কোনও থালা নেই। খেতে হলে মেঝে থেকেই খেতে হবে। এই বলে তিনি পালমতীদেবীর বরাদ্দ খাবারের পুরোটাই মেঝেয় ঢেলে দেন। তার আগে পালমতীদেবীকে দিয়েই জায়গাটা পরিষ্কারও করান তিনি। মেঝে থেকে খাবার খাওয়ার সেই ছবি একটি সংবাদ মাধ্যমের হাতে চলে আসে। তার পরেই বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হয়ে যায়। প্রতি বছর রোগী পরিষেবার জন্য ওই হাসপাতাল ৩০০ কোটি টাকা অনুমোদন পায়। তা সত্ত্বেও এক জন রোগীকে মেঝে থেকে ভাত তুলে খেতে হবে কেন? সে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য ঘটনার কথা মেনে নিয়েছেন। অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছেন তাঁরা। আর যাতে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয় সে দিকে নজর রাখা হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

৩৪ কোম্পানির ওষুধে 'ভেজাল', না কেনার পরামর্শ !

৩৪ কোম্পানির ওষুধে 'ভেজাল', না কেনার পরামর্শ !


৩৪টি কোম্পানির ওষুধ মানসম্পন্ন না হওয়ায় তা কেনা থেকে বিরত থাকতে বলেছে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর।
 
বুধবার (১০ আগস্ট) মহাখালীতে অধিদফতরের মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জনসাধারণের প্রতি এ আহ্বান জানান।
 
তিনি বলেন, সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০ ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের ওধুষ উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ওষুধ বাজারে পাওয়া গেলে তা কেনা যাবে না। 
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-মেসার্স টুডে ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, কুমিল্লা; মেসার্স ন্যাশনাল ড্রাগ কোম্পানি লি., ধামরাই; মেসার্স ইউনিভার্সাল ফার্মসিউটিক্যালস লি., পাবনা; মেসার্স সুনীপুন ফার্মসিউটিক্যালস লি., গেন্ডা; মেসার্স ড্রাগল্যান্ড লি., নারায়ণগঞ্জ; মেসার্স ডলফিন ফার্মসিউটিক্যালস লি., যাত্রাবাড়ী; মেসার্স জালফা ফার্মাসিউটিক্যালস লি., সিলেট; মেসার্স রিড ফার্মাসিউটিক্যালস লি. ব্রাহ্মণবাড়িয়া; মেসার্স রেমো কেমিক্যালস লি. (ফার্ম ডিভিশন); মেসার্স ক্যাফমা ফার্মাসিউটিক্যালস লি., নোয়াখালী; মেসার্স গ্লোব ল্যাবরেটরীজ (প্রাঃ) লি., মুন্সিগঞ্জ; মেসার্স মেডিকো ফার্মাসিউটিক্যালস লি., রংপুর; মেসার্স নর্থ বেঙ্গল ফার্মাসিউটিক্যালস লি., নওগাঁ; মেসার্স স্পার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস লি., চরপাড়া, ময়মনসিংহ; মেসার্স স্টার ফার্মাসিউটিক্যালস লি., বিসিক শিল্প নগরী বরিশাল; মেসার্স ট্রপিক্যাল ফার্মাসিউটিক্যালস লি., শ্যামলী; মেসার্স এভার্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লি., মিরপুর; মেসার্স স্কাইল্যাব ফার্মাসিউটিক্যালস লি., বিসিক শিল্প এলাকা, কুমিল্লা ও মেসার্স এক্সিম ফার্মাসিউটিক্যাল লি., ময়মনসিংহ।
 
এদিকে ১৪টি কোম্পানির সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক (নন পেনিসিলিন, পেনিসিলিন ও সেফালোস্পরিন) জাতীয় ওষুধ উৎপাদনও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসব কোম্পানির ওষুধও না কেনার জন্য পরামর্শ দিয়েছে ওষুধ প্রশাসন।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে-মেসার্স আদদ্বীন ফার্মাসিউটিক্যালস লি., বিসিক শিল্প নগরী, যশোর; মেসার্স অ্যালকাড ল্যাবরেটরিজ লি., রংপুর; মেসার্স বেলসেন ফার্মাসিউটিক্যালস লি., ফরিদপুর; মেসার্স বেঙ্গল ড্রাগস অ্যান্ড কেমিক্যাল ওয়ার্কাস লি., কুমিল্লা, মেসার্স ব্রিস্টল ফার্মা লি., কোনাবাড়ী, গাজীপুর; মেসার্স ক্রীস্টাল ফার্মাসিউটিক্যালস লি., চর্থা, কুমিল্লা, মেসার্স ইন্দোবাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লি., বরিশাল; মেসার্স মিল্লাত ফার্মাসিউটিক্যালস লি. পোস্তগোলা শিল্ফা এলাকা, ঢাকা; মেসার্স এমএসটি ফার্মা হেলথকেয়ার লি. গাজীপুর মেসার্স অরবিট ফার্মাসিউটিক্যালস লি., চট্টগ্রাম; মেসার্স ফার্মিক ল্যাবরেটরিজ লি., চট্টগ্রাম, মেসার্স ফিনিক্স কেমিক্যাল ল্যাবরেটরিজ (বাংলাদেশ) লি., নরসীংদী; মেসার্স রাসা ফার্মাসিউটিক্যালস লি., সিরাজগঞ্জ ও মেসার্স সেইভ ফার্মাসিউটিক্যালস লি., ময়মনসিংহ।
 

শনিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৬

ডায়েবেটিস রোগীর জন্য সুখবর !  ইনসুলিন নিতে আর ইঞ্জেকশন নয় !

ডায়েবেটিস রোগীর জন্য সুখবর ! ইনসুলিন নিতে আর ইঞ্জেকশন নয় !


ইনসুলিন নিতে আর ইঞ্জেকশন নয় !
আমাদের দেশে তো বটেই, বিশ্বে ডায়াবেটিস একটি বড় ধরনের সমস্যা হয়ে রয়ে গেছে। একবার যিনি আক্রান্ত হয়েছেন, চিরজীবন তাকে বয়ে বেড়াতে হয়েছে অ-নিরাময়যোগ্য রোগটি। যদিও একে নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায় রয়েছে নানারকম ওষুধপত্র প্রয়োগের পাশাপাশি জগিং ও হঁটাচলার মাধ্যমে। এই ওষুধপত্রের মধ্যে একটি হচ্ছে ইনসুলিন, যা নিতে হয় ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে। কিন্তু সব সময় নিতে কি আর ভাল লাগে, ব্যাথা তো একটু লাগেই।
তবে এখন আর ইনসুলিন নিতে চিন্তার কোনো কারণ নেই, কেননা ইঞ্জেকশন নিতে হবে না। তবে এর বদলে খেতে হবে ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল, যা অত্যন্ত ফলদায়ক ও ইনসুলিনের মতোই কার্যকর। এটি (ইনসুলিন) খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তে চিনির মাত্রা দ্রুত স্বাভাবিক স্তরে নেমে আসবে।
যুক্তরাজ্যের সান পত্রিকায় বলা হয়, এই ক্যাপসুলটি ব্যবহার করে শুধুমাত্র যুক্তরাজ্যে প্রতিদিন ৪০ লাখ মানুষ ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নেওয়ার হাত থেকে রেহাই যাবে।
এই ক্যাপসুল তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নায়াগ্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ দল। এটি খাওয়ার পরপরই পৌঁছে যাবে পাকস্থলীতে। এরপর ইনসুলিন উৎপাদন করে ছড়িয়ে দিবে রক্তে। নতুন এই পদ্ধতিকে বলা হয় কলেস্টোসোম।
এতে ব্রিটেনের ৪০ লাখ ডায়াবেটিস রোগী দৈনিক ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নেয়ার হাত থেকে রেহাই পাবে।
গবেষক দলের প্রধান প্রফেসর ম্যারি ম্যাককোর্ট বলেছেন, ‘আমরা কলেস্টোসোম নামে নতুন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছি।
গবেষকরা তাদের এই নতুন উদ্ভাবন ফিলাডেলফিয়ার আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির জাতীয় সভায় উপস্থাপন করবেন। তবে এর আগে তারা প্রাণী দেহের উপর আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। এরপর এই ক্যাপসুল বাজারজাত করা হবে।

রবিবার, ৩১ জুলাই, ২০১৬

ইন্টার্ন-চিকিৎসকদের-ভাতা-বেড়েছে...

ইন্টার্ন-চিকিৎসকদের-ভাতা-বেড়েছে...


সরকারি মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান রোববার বিকেল ৪টায় এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। 

তিনি বলেন, আজ (রোববার) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।  

তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা ১০ হাজার থেকে দ্বিগুণ অর্থাৎ ২০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছিল বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। 

ডা. আর্সলান নিজের ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘সরকারকে ধন্যবাদ তারা আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তবে আমরা আশাহত হয়েছি আমাদের ইস্পিত পারিতোষিক না পাবার জন্য। আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জরুরি ভিত্তিতে আমাদের কাঙ্ক্ষিত অবশিষ্টাংশ প্রাপ্তির জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ইকবাল আর্সলান, মহাসচিব বিএমএ, সভাপতি স্বাচিপ।’

উল্লেখ্য, বর্তমানে সারাদেশের সরকারি মেডিকেল কলেজে সাড়ে তিন হাজার ইন্টার্ন চিকিৎসক রয়েছেন...



Source - JagoNews
http://www.jagonews24.com/health/news/117383/%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A8-%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A7%8E%E0%A6%B8%E0%A6%95%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A7%9C%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87

বুধবার, ১ জুন, ২০১৬

ডাক্তারদের ফি নির্ধারণ করে দিবে সরকার।!

ডাক্তারদের ফি নির্ধারণ করে দিবে সরকার।!

প্রায় ৩৪ বছর পর ডাক্তারদের চিকিৎসা বাবদ ফি নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি আইনের খসড়াও করা হয়েছে, যা বেসরকারি চিকিৎসাসেবা আইন ২০১৬ নামে অভিহিত হবে। নতুন আইন অনুযায়ী অফিস সময়ে কোনো ডাক্তার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কিংবা ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতে পারবেন না। ছুটির দিনে নিজ জেলার বাইরে গিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতে পারবেন না। উল্লিখিত নিময় না মানলে ওই ডাক্তারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হবে। এছাড়া আদালত উপযুক্ত মনে করলে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ কিংবা আংশিক অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন।
এছাড়া নতুন এ আইনে ডাক্তাররা সরকার নির্ধারিত ফি’র তালিকা চেম্বারের সামনে দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে বাধ্য থাকবেন। আদায় করা ফি বাবদ রোগীকে রসিদ দিতে হবে। রশিদের মুড়ি ডাক্তার নিজ দায়িত্বে সংরক্ষণ করতে বাধ্য থাকবেন। কোনো ডাক্তার স্বীকৃত, অনুমোদিত সার্টিফিকেট কোর্স, ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি ছাড়া কোনো যোগ্যতার বিবরণ সাইনবোর্ড, নামফলক কিংবা ভিজিটিং কার্ডে ব্যবহার করতে পারবেন না। মুক্তিযোদ্ধা ও দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের জন্য বিনামূল্যে শতকরা ১০ ভাগ শয্যা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
ডাক্তারের বিরুদ্ধে চিকিৎসাসংক্রান্ত যে কোনো ধরনের অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করবে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল। ওই সংস্থার তদন্তে কোনো ডাক্তার দোষী হলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। পক্ষান্তরে কোনো ব্যক্তি ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে মারা গেলে কিংবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভাংচুর করলে এবং এর ফলে কোনো ডাক্তার কিংবা বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে আক্রমণকারীকে ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হবে। এছাড়া অতিরিক্ত ফি আদায় করলে ডাক্তারের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।
আইনের খসড়া নিয়ে মঙ্গলবার এক বৈঠক শেষে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ১৯৮২ সালে এ সংক্রান্ত একটি অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ওই আইন চলে আসছে। তবে যুগের পরিবর্তনের কারণে আইনটি প্রতিপালন হচ্ছে না। তাই নতুন করে একটি আইনের খসড়া তৈরি করে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
বৈঠক শেষে স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ইকবাল আর্সনাল বলেন, নতুন আইন প্রণয়নের প্রাথমিক কাজ চলছে। ডাক্তরদের ফি এখনও নির্ধারণ হয়নি। তবে আইনটি চূড়ান্ত করা হলে তাতে ডাক্তারের ফি ও চিকিৎসাসংক্রান্ত অন্যান্য চার্জ উল্লেখ থাকতে পারে। এর বাইরে আর কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
আইনের খসড়া থেকে জানা যায়, সরকার সময়ে সময়ে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ডাক্তারদের ফি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাসংক্রান্ত চার্জ নির্ধারণ করে দেবে। কোনো ডাক্তার সেবাসংক্রান্ত কোনো ধরনের মিথ্যা প্রত্যয়নপত্র প্রদান করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে কোনো অর্থকড়ি নেয়া যাবে না। বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে অথবা ডাক্তারের ব্যক্তিগত চেম্বারে বাধ্যতামূলকভাবে রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ করতে হবে। চিকিৎসাসংক্রান্ত সব তথ্য রেজিস্টারে লিখে রাখতে হবে। ওই রেজিস্ট্রার গোপনীয় দলীল হিসেবে গণ্য হবে। রোগীকে রোগের বিবরণ জানাতে হবে। প্রয়োজনীয় ও বিকল্প চিকিৎসা, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং অস্ত্রোপচারের জটিলতা সম্পর্কে রোগীকে অবহিত করতে হবে। এমনকি খাতওয়ারি চিকিৎসা ব্যয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিতে হবে। সন্দেহজনক মৃত্যু, আত্মহত্যা, বিষ প্রয়োগ, বেআইনি গর্ভপাত, অগ্নিদগ্ধ হওয়া, দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি, লাঞ্ছিত ও প্রহৃত ক্ষতি, অন্যের দ্বারা যে কোনো ধরনের আঘাতজনিত ক্ষতির ক্ষেত্রে চিকিৎসককে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করতে হবে। ডাক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধগুলোর তদন্ত ও বিচার ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ৫নং আইনের আওতায় পরিচালিত হবে। ডাক্তারের অপরাধের ফলে রোগীর মৃত্যু হলে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি-১৮৬০ এর ৪৫নং আইনের বিধান প্রযোজ্য হবে। এছাড়া সরকারি লাইসেন্স ছাড়া বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করলে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
বেসরকারি কোনো চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা পরিদর্শন, চিকিৎসাসংক্রান্ত যন্ত্রপাতি, কাগজপত্র পরীক্ষা করতে পারবেন। সরকারি নিয়মনীতি লঙ্ঘিত হয়েছে- প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যাবে। চিকিৎসক আইন না মানলে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরিদর্শনকালে যদি প্রমাণ হয় জনস্বার্থেই এ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া দরকার, তাহলে সরকার যে কোনো বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দিতে পারবেন। এমনকি লাইসেন্সও বাতিল করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ১৫ দিনের সময় দিয়ে লাইসেন্স বাতিল করা হবে। লাইসেন্স বাতিল হলে বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে চিকিৎসারত ব্যক্তিদের ওই প্রতিষ্ঠান নিজ খরচে অন্য চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করতে বাধ্য থাকবে। এ আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্য মেডিকেল প্রাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ রেগুলেশন অর্ডিন্যান্স ১৯৮২ বাতিল বলে গণ্য হবে। 

রবিবার, ২২ মে, ২০১৬

প্রথমবারের মতো স্থানীয়ভাবে অবশ করে ভ্যারিকোস ভেইন অপারেশন!...

প্রথমবারের মতো স্থানীয়ভাবে অবশ করে ভ্যারিকোস ভেইন অপারেশন!...

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো স্থানীয়ভাবে অবশ করে ভ্যারিকোস ভেইন বা আঁকা-বাকা শিরার চিকিৎসা করা হয়েছে। অজ্ঞান না করে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অংশ অবশ করে এ চিকিৎসা করা হয়।
রাজধানীর ঢাকার মোহাম্মদপুরে আল মানার হাসপাতালে এ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ভাসকুলার সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. এসএমজি সাকলায়েন রাসেল। তার সহকারী ছিলেন ভাসকুলার সার্জন ডা. রকিবুল হাসান অপু।
রোগীর ডান পায়ের কিছু শিরা বেশ কয়েক বছর ধরে ফুলে গিয়ে আঁকা-বাকা হয়ে যায়। এ ধরনের সমস্যাকে চিকিৎসকরা ভ্যারিকোস ভেইন বলে থাকেন। অতীতে কোমর থেকে অবশ করে এ অপারেশন করা হতো। কিন্তু এই প্রথম বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো রোগীর সম্পূর্ণ অপারেশন লোকাল অ্যানেসথেশিয়া বা স্থানীয়ভাবে অবশ করে করা হল।
রোগীর হার্টের সমস্যা ও অ্যাজমার সমস্যা থাকায় স্থানীয়ভাবে অবশ করে অপারেশন করা হয়েছে। এতে প্রচলিত অপারেশন পদ্ধতির পাশাপাশি ইনজেকশন থেরাপিরও ব্যবস্থা করা হয়।
ডা. সাকলায়েন জানান, রোগী এখন সম্পূর্ণ সুস্থ এবং অপারেশনের ৬ ঘণ্টা পরেই ঢাকা থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে তার নিজ জেলায় চলে গেছেন।
বাংলাদেশে প্রথম কোনো ধরনের কাটা-ছেড়া ছাড়াই সর্বাধুনিক লেজার ভ্যারিকোস ভেইন অপারেশন শুরু করেন ডা. সাকলায়েন। এখন পর্যন্ত প্রায় ১২০ জন রোগী এ ধরনের চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ আছেন।
তিনি জানান, আগে পুরো পায়ের বিভিন্ন জায়গায় কেটে এ অপারেশন করা হতো। তবে, স্থানীয়ভাবে অবশ করে অপারেশনের সময় রোগীর ঝুঁকি কমাতে একজন অ্যানেস্থেসিওলজিস্টকে সার্বক্ষণিক উপস্থিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৫

তরুণ চিকিৎসকদের প্রতি চারজনের একজন বিষণ্নতায় ভোগেন...

তরুণ চিকিৎসকদের প্রতি চারজনের একজন বিষণ্নতায় ভোগেন...


অসংখ্য মানুষ বেড়ে ওঠেন ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু দুঃস্বপ্নের তথ্যটি হলো, চিকিৎসকদের প্রতি চারজনের একজন ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে বিষণ্নতায় ভোগেন। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সদ্য চিকিৎসক হয়েছেন এমন মানুষদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য। সাধারণত চিকিৎসক হওয়ার আগের বিস্তর পড়াশোনা ও ট্রেনিংয়ের চাপে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

আমেরিকার 'জেএএমএ' জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রে বলা হয়, ১৭ হাজার ৫০০ জন চিকিৎসকের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এ ছাড়া গোটা বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বিগত ৫০ বছরের তথ্য নেওয়া হয়েছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের গবেষকরা জানান, চিকিৎসকদের ২৮.৮ শতাংশ ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে বিষণ্নতায় আক্রান্ত থাকেন।

গবেষকদের সমন্বয়কারী হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের ক্লিনিক্যাল ফেলো ডগলাস মাটা বলেন, আশঙ্কার বিষয় হলো, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষণ্নতার হার যতটা, তার চেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে চিকিৎসকদের মধ্যে।

শুধু তাই নয়, বিগত পাঁচ বছরে তরুণ ডাক্তারদের মাঝে বিষণ্নতা বৃদ্ধির হার বেড়েই চলেছে। এ হার এখন পর্যন্ত সামান্য হলেও তা দুশ্চিন্তার বিষয় বলে মনে করেন ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের এপিডেমিয়োলজিস্ট শ্রিজান সেন।

তিনি বলেন, রোগীদের চিকিৎসাকালে ডাক্তারদের বিষণ্নতা রোগীদের মাঝেও ছড়িয়ে যায়। তাই প্রত্যেক ডাক্তারের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। তা ছাড়া গ্র্যাজুয়েট ডাক্তারদের মানসিক অবস্থার উন্নতিতে প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা থাকতে হবে।

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৫

অগ্ন্যাশয় ক্যানসারে নতুন আশার আলো- ওনিভাইড ইনজেকশন,

অগ্ন্যাশয় ক্যানসারে নতুন আশার আলো- ওনিভাইড ইনজেকশন,


মারাত্মক প্যানক্রিস বা অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্তদের চিকিৎসায় নতুন আশার আলো বয়ে এনেছে ওনিভাইড নামের নতুন একটি ইনজেকশন।

জটিল অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন এই ওষুধকে সম্প্রতি অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা দি ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।

ওনিভাইডকে (ইরিনোটেকান লিপোসোম ইনজেকশন) ফ্লুরোরেসিল এবং লিউকোভোরিন নামের অপর দুটি ওষুধের সঙ্গে যৌথভাবে প্রয়োগের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

তবে কেমোথেরাপি নেয়ার পরও যেসব অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর অবস্থার উন্নতি হয়নি শুধু সেসব রোগীর ক্ষেত্রেই ওষুধটি ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ইনজেকশনটির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত হতে কমপক্ষে চারশ’ রোগীর ওপর পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানো হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কেমোথেরাপি দেয়া হলেও এসব রোগীদের পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছিলো।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব রোগীর শরীরে ওনিভাইড ইনজেকশনটি ফ্লোরোরাসিল অথবা লিউকোভোরিন এর সঙ্গে দেয়া হয়েছে তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কমপক্ষে ৬.১ মাস বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে যাদের ক্ষেত্রে শুধু ফ্লোরোরাসিল অথবা লিউকোভোরিন ব্যবহার করা হয়েছে তাদের আয়ু বৃদ্ধি হয়েছে ৪.২ মাস। তবে শুধু ওনিভাইড ব্যবহারে কোনো ফল পাওয়া যায়নি। 

ওনিভাইড অগ্ন্যাশয়ের টিউমারের বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে তাদের বৃদ্ধির হারকে শ্লথ করে দেয়। তবে ওনিভাইড ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া, বমি, মাথা ব্যথা, ক্ষুধা কমে যাওয়া, জ্বর প্রভৃতি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে রোগীদের শরীরে। 

ওষুধটিকে বাজারজাত করছে যুক্তরাষ্ট্রের কেমব্রিজের মেরিম্যাক ফার্মাসিউট্যাকালস। দেশটিতে প্রতি বছর ৪৯ হাজার জন অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীকে শনাক্ত করা হয়।  আর এ রোগে বছরে মারা যায় ৪০ হাজারের ওপর মার্কিনী।

সাধারণত রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারকে শনাক্ত করা কঠিন এবং এর চিকিৎসাও অত্যন্ত জটিল।

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৫

১০ টাকায় ডাক্তার আর ১৫ টাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

১০ টাকায় ডাক্তার আর ১৫ টাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

১০ টাকায় ডাক্তার আর ১৫ টাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক. 
ঢাকার অভিজাত এলাকায় হোটেল রেডিসন এর ঠিক উল্টো দিকে অার্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের গা ঘেষে গড়ে উঠেছে চকচকে এক বিশাল ভবন। এখানে মাত্র ১০ টাকায় উন্নতমানের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।

হাসপাতালটির নাম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু এ হাসপাতালটিতে রোগী আসেনা তেমন কারন এর যথাযথ প্রচারের অভাব । এখানে মাত্র ১০ টাকা ফি দিয়ে ডাক্তার দেখানো যায়। ১৫ টাকায় মেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ঔষধপত্র সব ফ্রি। এছাড়া কম খরচে আছে বিভিন্ন টেষ্ট এবং অপারেশন এর সুবিধা। আমাদের চারপাশে অনেক খেটে খাওয়া মানুষ আছে তাদের কাছে এ হাসপাতালটির তথ্য পৌছে দিতে পারলে তারা উপকৃত হবে, চিকিৎসার অভাবে অসহায় গরীব মানুষ গুলো হয়ত আলোর মুখ দেখবে।

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৫

ডাক্তারের ফি নেই, নেই ওষুধের দাম..

ডাক্তারের ফি নেই, নেই ওষুধের দাম..


বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেতে চান? মুক্তি সংঘ দাতব্য চিকিৎসালয়ে যান। রাজশাহী মহানগরীর সাগরপাড়া এলাকায় মুক্তি সংঘ দাতব্য চিকিৎসালয়ে বিনামূল্যে শতাধিক রোগীকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে থাকেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: আহসান হাবিব ও সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা: নাজিয়া আফরিন।

শুধু চিকিৎসা সেবাই নয়, দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে ওষুধও বিতরণ করা হয়ে থাকে মুক্তি সংঘ দাতব্য চিকিৎসালয়ে। মুক্তি সংঘ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহম্মেদ কিসলু এবং এই দাতব্য চিকিৎসালয়ের আহবায়ক জাহিদ ইকবাল বাবলা মিলে কাজটি করেন খুবই স্বচ্ছন্দে।

প্রতি শনিবারে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এসব সেবা পেয়ে থাকেন নানান প্রান্ত থেকে আসা রোগীরা। ফলে ভীড়টাও হয় বেশি।

মুক্তি সংঘ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহম্মেদ কিসলু তাদের এই কর্মকাল্ডকে সামাজিক দায়বদ্ধতা হিসেবেই উল্লেখ করেন। বলেন, আই ক্যাম্প, স্বাস্থ্য ক্যাম্পসহ স্বাস্থ্যসেবার আরো বেশ কিছু কাজ হাতে রয়েছে। সবার সার্বিক সহযোগিতা পেলে দুঃস্থ ও গরীব রোগীদের বিনামূল্যে অপারেশনের ব্যবস্থা করবো।

রাজশাহী মহানগরীর সাগরপাড়া এলাকায় ১৯৭২ সালে স্থাপিত হয় মুক্তি সংঘ। স্বাধীনতার পর এই অঞ্চলের খেলাধুলার মান উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখছে এই ক্লাব। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি ২০১৫ সালের জানুয়ারী মাসে চালু হয় মুক্তি সংঘ দাতব্য চিকিৎসালয়.

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

এবার মাঠে নামছেন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষকরা...

এবার মাঠে নামছেন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষকরা...


পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কলেজের শিক্ষকদের পর এবার নতুন বেতন কাঠামোয় বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও স্বাস্থ্য  ইনস্টিটিউটের শিক্ষকরা। তারা বেতন বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে তিনটি ইস্যু সামনে আনতে চান। এগুলো হচ্ছে টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল এবং স্বতন্ত্র বেতন স্কেল চালু। এসব দাবি আদায়ে আপাতত রাজধানী ও ঢাকার বাইরে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করার চিন্তাভাবনা চলছে। প্রয়োজনে হাইকোর্টে রিটও করতে পারেন। তবে আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখার সিদ্ধান্ত হবে সারা দেশের চিকিৎসকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) কার্যনির্বাহী কমিটির সভায়। বিএমএ’র বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. কামরুল হাসান জানান, দুয়েক দিনের মধ্যেই বিএমএ’র এ সভা ডাকা হতে পারে। ওই সভায় আন্দোলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি মেডিক্যাল শিক্ষকদের এই আন্দোলনের ব্যাপারে বিএমএ নেতাদের আগ্রহী করতে বেশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে বিএমএ ছাড়াও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষকও আন্দোলনের ব্যাপারে তৎপর হয়ে উঠেছেন। তারা বিএমএ’র পাশাপাশি সারা দেশের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও স্বাস্থ্য  ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের নিয়ে সমন্বিত মেডিক্যাল শিক্ষক পরিষদ গঠন করে আন্দোলনে নামার উদ্যোগ নিচ্ছেন। এ তৎপরতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও নাক-কান-গলা রোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির, সহসভাপতি ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. টিটো মিয়াসহ ৪-৫ জন শিক্ষক। তারা জানান, অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ চলছে। খুব শিগগিরই বৈঠক করে আন্দোলনের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। মেডিক্যাল শিক্ষকরা বলছেন, বিশ্বের মধ্যে সব থেকে কঠিন মেডিক্যাল শিক্ষা। ৫ বছর মেয়াদি এমবিবিএস পরীক্ষা পাস করা যেমন কঠিন, তেমনি পাস করার আগে কোর্স চলাকালীন আইটেম, কার্ড, টার্মসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মাথার ঘাম পায়ে ঝরে। এরপর এমবিবিএস পাস করে অন্য ক্যাডারের মতোই তাদেরও বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েই তবে সরকারি ডাক্তার এবং পরে পদোন্নতি পেতে পেতে অধ্যাপক হতে হচ্ছে। একই সঙ্গে রাত-দিন কঠোর পরিশ্রম করে সরকারি হাসপাতালগুলোয় রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। তাছাড়াও ডাক্তার হওয়ার জন্য সরকারি মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস ভর্তির সুযোগ পাওয়া তো সোনার হরিণ ধরার মতোই। এত কাঠখড় পোড়ানোর পরও নতুন বেতন কাঠামোয় মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপককে রাখা হয়েছে থার্ড গ্রেডে। আর সচিবরা রয়েছেন ফার্স্ট গ্রেডে। কেন এই বৈষম্য? সচিবদের থেকে কোন দিক থেকে মেডিক্যাল শিক্ষকরা অযোগ্য? তারা প্রশ্ন রাখেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও কি তাদের থেকে অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন? পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি যদি ন্যায্য হয়, তাহলে তাদের দাবি ন্যায্য হবে না কেন?

সুত্রঃ আমাদের সময়

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

 চিকিতসকদ্বয়ের  রিপোর্ট  নির্ভুল, পেশেন্টের কোনো ব্লাড ক্যান্সার নেই,

চিকিতসকদ্বয়ের রিপোর্ট নির্ভুল, পেশেন্টের কোনো ব্লাড ক্যান্সার নেই,

প্যাথলজি ল্যাবগুলোর ভুল কিংবা সাংঘর্ষিক রিপোর্টের কারণে অনেক রোগী বাড়তি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত,
ভুল রিপোর্টের কারনে  একদিকে রোগীর শারীরিক,  মানসিক ও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
অন্যদিকে চিকিতসক ও রোগীদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝি বাড়ছে ।

এমন এমন কিছু কিছু রিপোর্ট চোখে পড়েছে,
যা  দেখে মেজাজটাই নষ্ট হয়ে গেছে,

একটা রোগীর CBC রিপোর্টে
সবকিছু মোটামুটি ঠিক আছে,
কিন্তু Atypical Cell - 20%
আর কমেন্টসে  লেখা Suggestive to Leukaemia  তথা  ব্লাড ক্যান্সার  ।
রিপোর্ট  অনুযায়ী পেশেন্ট পার্টিকে কাউন্সিলিং করা হলো,
রিপোর্টে  আপনার পেশেন্ট এর ব্লাড  ক্যান্সার ধরা পড়েছে,
তবে আমি এই রিপোর্টে   সন্তুষ্ট  না,
সন্দেহ পোষন করছি,

আপনারা অমুক স্যারকে দিয়ে আবার রিপোর্ট করান তখন শিওর হয়ে আপনাদেরকে পরবর্তী চিকিতসা জানাবো,
ঐ স্যার ও আরেকজন সিনিয়র স্যারকে দিয়ে রিপোর্ট  করা হলো,
দুই স্যারের রিপোর্টে    Atypical Cell তো একটাও পাওয়া যায় নি, এবং leukaemia এর
ফেভারে কোনো কিছু পাওয়া যায় নি।

 চিকিতসকদ্বয়ের  রিপোর্ট  নির্ভুল,
পেশেন্টের কোনো ব্লাড ক্যান্সার নেই,
পূর্বের রিপোর্টটা  খামখেয়ালি করে যে ল্যাব ইনচার্জ করিয়েছেন ,
তার কি হবে?
তার খামখেয়ালিরর কারনে কি, একজন সুস্থ মানুষ ক্যান্সার বনে যাবেন!

না,
না,
এটা চলতে দেয়া যায় না,

ঐ সমস্ত ল্যাবগুলোর বিরুদ্ধে এ্যকশনে যাওয়া দরকার,
হয় ভালো প্যাথলজির চিকিতসক দিয়ে রিপোর্ট তৈরী করবে না হয়,
ল্যাব গুটিয়ে পালাবে,
মানুষের জীবন নিয়ে তো চিনিমিনি
খেলতে দেয়া যাবে না।

তাই রোগীর যেকোনো পরীক্ষা নিরিক্ষা করার সময়, রিপোর্টটা যাতে ভাল চিকিতসক দিয়ে করা হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

রাস্তাঘাটে নালা- নর্দমার মত ফুটপাতে  ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ল্যাব থেকে  ভুলেও কোনোদিন রোগীর পরীক্ষা করাবেন না।
যে সব ল্যাবে ভাল ভাল চিকিতসকগন রিপোর্ট  করেন,
সে সব ল্যাব থেকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করাবেন।

---   ডাঃ স্বাধীন

শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৫

সবজি বিক্রি করে হাসপাতাল গড়েছেন যিনি

সবজি বিক্রি করে হাসপাতাল গড়েছেন যিনি




২৩ বছর বয়সে স্বামী হারিয়েছিলেন সুভাসিনী৷ স্বামীর মৃত্যুর পরই ভেবেছিলেন তাদের মতো গরিবদের জন্য কিছু করবেন৷ পথে পথে সবজি বেচে সামান্য কিছু টাকা জমিয়ে জমিয়ে একটা হাসপাতাল গড়ে ফেলেছেন সুভাসিনী মিস্ত্রী। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার হংসপুকুর এখন অনেকেই চেনেন৷ চেনেন সুভাসিনী মিস্ত্রী নামের অতি সাধারণ এক নারীর কারণে৷ অতি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে সুভাসিনীর বিয়ে হয়েছিল এক দিনমজুরের সঙ্গে৷ সুভাসিনীর বয়স তখন ১২৷

বাধ্য হয়ে বাল্যবিয়ে করা মেয়েটি বিধবাও হয় মাত্র ২৩ বছর বয়সে৷ প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা যান স্বামী। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে বেশ কয়েক বছর বাড়ি বাড়ি গিয়ে থালা-বাসন মেজেছেন৷ তাতে যে আয় হতো তার পুরোটা ব্যয় করেননি, এক পয়সাও হাতে থাকলে তা জমিয়েছেন সুভাসিনী৷ জমিয়েছেন একটি স্বপ্ন পূরণের জন্য৷ স্বামীর মৃত্যুর পরই যে ভেবেছিলেন, ‘সব গরিবকে আর এভাবে মরতে দেয়া যাবে না, গরিবের জন্য একটা কিছু করতে হবে৷’
ওই ‘একটা কিছু করা’ মানে, একটা হাসপাতাল গড়া৷ বাড়ি বাড়ি গিয়ে থালাবাসন মেজে, সবজি কেটেকুটে দিয়ে যেটুকু আয় হয় তা থেকে কয় পয়সাই বা বাঁচে যে হাসপাতাল গড়বেন। আর দশটা সাধারণ মানুষের মতো এমন চিন্তা করলে তার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব হতো না৷ কিন্তু সুভাসিনী, সুভাসিনীর স্বপ্ন, তার প্রতিজ্ঞাটা যে অনন্যসাধারণ৷ গরিবের জন্য হাসপাতাল গড়ার সেই স্বপ্নটাকে কখনো ফিকে হতে দেননি সুভাসিনী৷ স্বামীর মৃত্যুর সময় দিনে মাত্র ৫ পয়সা আয় করতেন সুভাসিনী৷
ঘরভাড়া বাবদ দু’পয়সা দিতেন বাড়িওয়ালাকে, দু’পয়সা যেত খাওয়া-দাওয়ায় আর বাকি এক পয়সা জমাতেন৷ এক সময় শাক-সবজি বিক্রি শুরু করলেন৷ আয় কিছুটা বাড়লেও বিলাসিতার জন্য কখনো একটা পয়সাও ব্যয় করেননি৷ এভাবে অল্প অল্প করেই জমে যায় এক লাখ ভারতীয় মুদ্রা৷ সেই টাকায় হংসপুকুরে এক একর জমি কিনলেন৷ নিজের মাথা গোঁজার জন্য নয়, গরিবের চিকিৎসার জন্য৷ বড় ছেলে ততদিনে স্নাতক হয়েছে৷ দুই ছেলের লেখাপড়ার খরচ দিতে পারছিলেন না বলে মেজ ছেলে অজয়কে অনাথ আশ্রমে দিয়েছিলেন সুভাসিনী৷ অজয় ততদিনে ডাক্তার হয়েছে৷
সুভাসিনী অজয়কেই বললেন, ৪০ বছর ধরে লালন করে আসা স্বপ্নটির কথা৷ শুরু হলো ছোট্ট একটা কুঁড়ে ঘরে গরিব রোগীদের চিকিৎসা৷ অজয়ের ডাক্তার বন্ধুরাও যোগ দিয়েছিলেন বিনা পারিশ্রমিকে গরিবদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার কাজে৷ প্রথম দিনে বিনা খরচে চিকিৎসা পেয়েছিল ২৫২ জন মানুষ৷ এতগুলো মানুষকে সার বেঁধে দাড়িয়ে থাকতে দেখে মৃত স্বামীর কথা মনে পড়েছিল, নিজের অজান্তেই কেঁদে ফেলেছিলেন সুভাসিনী মিস্ত্রী৷
এখন দুঃস্থ রোগীদের মুখে হাসি ফোটান সুভাসিনী৷ একজন সৎ, নিষ্ঠাবান মানুষের মানবকল্যাণের স্বপ্ন পূরণের সংকল্প এবং প্রয়াস দেখে অনেকেই এগিয়ে এসেছেন৷ ১৯৯৩ সালের সেই ছোট্ট কুঁড়ে ঘরটি তাই আজ আয়তন এবং খ্যাতিতে অনেক বড়৷ তিন একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে সুভাসিনীর স্বপ্নের সেই হাসপাতাল৷ ২৩ বছর বয়সে বৈধব্য বরণ করা সুভাসিনী, ঘরে ঘরে গিয়ে থালাবাসন মেজে, পথে পথে শাক-সবজি বিক্রি করে এক পয়সা দু’পয়সা করে জমানো সুভাসিনী তার স্বপ্নের হাসপাতালটির নাম রেখেছেন, ‘হিউম্যানিটি হসপিটাল’৷

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৫

ডাক্তার না হয়েও সত্যি চমৎকার লিখেছেন তিনি-

ডাক্তার না হয়েও সত্যি চমৎকার লিখেছেন তিনি-

ডাক্তার না হয়েও সত্যি চমৎকার লিখেছেন তিনি-
ডাক্তারদের পাশ করতে এমনিতেই গড়ে ২/৩ বছর বেশী লাগে (MBBS এর duration এর কারণে), গড়ে ৬ বছর, ৫ বছর কোর্স আর ১ বছর ইন্টার্নি (সেশন জট থাকলে আরও বেশী) । তার মানে অন্য কোন বিষয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের থেকে ২/৩ বছর জুনিয়ররা এক সাথে পাশ করে বিসিএস দেয়। এরপর ধরে নিলাম, বিসিএসে ঢুকল। আপনারা কি জানেন প্রশাসনে ডাক্তারদের রাঙ্কিং কি? এক সাথে একই ব্যাচে ঢুকেও ডাক্তারকে স্যার বলতে হয় ৪/৫ জনকে। যারা তার থেকে ২ বছর ছোট।
অন্যদের উপজেলা পরিষদে থাকবার বসবার জায়গা আছে, এমন কি গাড়িও আছে কারও কারও, আর ডাক্তারদের পোস্টিং হয় ইউনিয়ন লেভেলে। ইউনিয়নের মেম্বারের বাড়ির চাকরের জ্বর হলেও ডাক্তারকে রাত ৩ টায় তাকে বাড়ি যেয়ে দেখে আসতে হবে, না হলে কপালে মার আছে।
সরকারী হাসপাতালে ডাক্তাররা কি করেন? ফাকি মারেন তাই না? ডাক্তার নাই, তারপরও যারা আছেন তারা গড়ে শুধু আউটডোরেই ১১০ জনের উপরে রুগী দেখেন। আর ইউকেতে একজন জিপি গড়ে ৩০-৪০ জন রুগী দেখেন। পার্থক্যটা দেখেন, কোয়ালিটি কেন ভালো এখানে বুঝতে পারবেন। আর জানিয়ে রাখি এই ডাক্তারদের একটা বড় অংশ কিন্তু বাংলাদেশের ডাক্তার। দেশে তারা “ভুল চিকিৎসা” করলেও ইউকেতে কিন্তু তাদের পারফরমেন্স খুব ভালো, তারাই সেখানে বিশ্বমানের সেবা দিয়ে থাকেন।
আমার স্ত্রীর কয়েকজন বন্ধুদের দেখেছি যারা ওখানে জিপি হয়ে গেছেন। এই ডাক্তাররা যখন এদেশে সরকারী চাকরি করে তখন বেতন শুরু করে ১৯,০০০ টাকায় আর বাইরের যে কোন উন্নত দেশে সর্বোচ্চ বেতন বরাদ্দ থাকে ডাক্তারদের জন্য। ইউকেতে জিপির (জেনারেল প্রাক্টিসনার) না ট্রেইনি ডাক্তারের বেতনও শুরু হয় বাংলাদেশী টাকায় ২,৫০,০০০ টাকায়। আর নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে (সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা) কাজ করলে তার জন্য আলাদা পয়সা দেয়া হয়। আমরা না মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে যাচ্ছি? যারা নিজেদের ডেভেলপড কান্ট্রি বলে, তারাতো সঙ্গত কারনেই ডাক্তারদের বেশী বেতন দেয়। তাই নিজেদের উন্নয়নের জন্য এই পরিবর্তনও জরুরী।
( http://www.practicelink.com/magazine/vital-stats/physician-compensation-worldwide/ )।
এবার ইউকে ডাক্তার দেখানোর অভিজ্ঞতার কথা বলি, একবার আমি সার্জারিতে গেলাম খুব ব্যাক পেইন নিয়ে। রিসেপশানে কম্পিউটার চেক করে রিসেপশনিশ্ট বলল ১৭ দিন পর দুপুর ২:৩০ টায় আপনি দেখাতে পারবেন। জি, ১৭ দিন পরের কথায় বলেছিল।(যারা এই তথ্য ভুল প্রমান করতে চান তারা দয়া করে এই লিঙ্কে গিয়ে ভুলটা ধরিয়ে দিবেন http://
www.nhs.uk/Services/GP/Overview/
DefaultView.aspx?id=40793 )। বাংলাদেশে ডাক্তার নাই, ফাঁকিবাজ সব। কিন্তু এমন কখনও কি হয়েছে আপনি সরকারী হাসপাতালে গেছেন আর আপনাকে না দেখে ফিরিয়ে দিয়েছে, তো সেটা রাত ৪ টা হলেও। বা বেড খালি নাই সে জন্য বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে? আমি নিশ্চিত বলতে পারি দেয়নি। আমার স্ত্রীর ২ দিনের লেবার পেইন থাকা সত্ত্বেও ইউকেতে কিন্তু আমার এই অভিজ্ঞতা হয়েছে- বাড়িতে ফেরত পাঠিয়েছে। (হাসপাতালের ঠিকানা এখানে পাবেন http://
www.bhrhospitals.nhs.uk/for-patients-and-visitors/queens-hospital.htm তারিখ ছিল ৩/১১/২০১০ এবং ১৪/১১/২০১০)। বাংলাদেশে কি কখনও শুনেছেন আজ হসপিটালের অমুক ডাক্তারের ২৫টা রুগী দেখা হয়ে গেছে আজ আর দেখবেন না, কাল সকালে আসেন। বাইরে কিন্তু শুনবেন। শুধু এই দেশেই হাসপাতালে ৫০০ বেড, রুগী ভর্তি আছে ১৫০০, তারপরও ৩০০ রোগী যাক, দেখবেন বারান্দায় পাটি বিছিয়ে দিয়ে ভর্তি করে নিয়েছে।
বলে নেয়া ভালো, বেড খালি না থাকলে বাড়ি পাঠিয়ে দেবার পলিসি কিন্তু কুইনস হসপিটাল ম্যানেজমেন্টের ছিল, ডাক্তারদের না। তেমনই বারডেমের বা বিএসএমএমইউ তে কয়টি আইসিইউ বেড থাকবে, বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত হাসপাতাল ম্যানেজমেন্টের, যে ডাক্তার ওখানে দায়িত্ব পালন করেন, এগুলো উনার এখতিয়ার ভুক্ত না। উনি চাইলেই ১টা বেড ওখানে বাড়াতে পারেন না। তাই যদি আইসিইউ দরকার হয় সেক্ষেত্রে বেড খালি না থাকলে আপনাকে ডাক্তার অন্য হসপিটালে যাইতে বলতে পারেন। কারন যার আইসিইউ দরকার হয় তাকে পাটি বিছিয়ে রাখলে হয়না, প্রত্যেকের জন্য আনুষঙ্গিক অনেক যন্ত্রপাতি দরকার হয়।
যাদের ডাক্তারদের প্রতি বিস্তর ক্ষোব, তাদের প্রতি অনুরোধ ডাক্তারদের প্রতি একটু মানবিক হন। একজন অনারারী ডাক্তারকে সপ্তাহে কত দিন, কত ঘণ্টা কাজ করতে হয় একটু খোঁজ নেন। হসপিটাল থেকে ক্লিনিক আর ক্লিনিক থেকে হসপিটাল করে। খাওয়া ঘুমের কোন নিয়ম নাই। আর এই মেধা, পরিশ্রম দিয়ে এত বছর পর তারা কত টাকা আয় করে জানেন? ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা। যেখানে তার সাথে স্কুল কলেজে পড়ুয়া কম মেধাবীরাও ৯-৫ টা অফিস করে কেউ কেউ লাখের উপরে বেতন পায়। ডাক্তারদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ঠিক করেন (৪০ ঘণ্টা যা অন্যরা করে), এর বেশী কাজ করতে হলে তাকে আলাদা করে পয়সা দেন, দেখবেন হাসপাতালে ডাক্তার থাকছেন । এছাড়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডাক্তার রাখতে হলে বাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে মেধার মূল্যায়ন অনুযায়ী প্রণোদনা দেন দেখবেন ঠিকই প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডাক্তার থাকছেন। ব্যাংকের জন্য যদি আলাদা বেতন স্কেল হতে পারে, ডাক্তারদের জন্য কেন নয়? যারা বাঙ্কে চাকরি করে তারা কি ডাক্তারদের থেকে বেশি মেধাবী না কি বেশী গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে? একজন ব্যাংকারের ২ বছর অভিজ্ঞতা হলে যদি ৪০,০০০ বেতন পায়। ডাক্তারকে অন্ততপক্ষে ৪০,০০০ দিয়ে বেতন শুরু করেন, কারন ডাক্তার ২ বছর অতিরিক্ত পড়াশুনার পিছনে ব্যয় করেছেন আর এই সময় তিনি আয় করা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
দিনের পর দিন কোন ব্রেক ছাড়া কাজ করলে আপনারা যে কেউই রুক্ষ হয়ে পড়বেন, একটু উনিশ বিশ হলে ধমক দিবেন। ডাক্তারদের একটু মানসিক আর শারীরিক বিশ্রামের সুযোগ দেন, দেখবেন উনাদের ব্যাবহারেই আপনি অর্ধেক ভালো হয়ে গেছেন। আর এই জন্য দরকার রাষ্ট্রের পলিসি লেভেলে কিছু পরিবর্তন।
শুরুতেই বলেছি এদেশের ডাক্তাররা যথেষ্ট যোগ্য, তাই পশ্চিমে উনাদের জায়গা করে নিতে তেমন বেগ পেতে হয়না। এভাবে চলতে থাকলে কিন্তু তার শেষটা আমাদের আর এই দেশের মানুষকেই ভোগ করতে হবে।
এখন আপনারা বিবেচনা করেন কি করবেন?
বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের সাফল্য-শিশুর নিউমোনিয়ার চিকিৎসায় সাশ্রয়ী উপায়

বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের সাফল্য-শিশুর নিউমোনিয়ার চিকিৎসায় সাশ্রয়ী উপায়

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য স্বল্প খরচে কার্যকর চিকিৎসাপদ্ধতি বের করেছেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) একদল বিজ্ঞানী।
নিরবচ্ছিন্ন বায়ুপ্রবাহ ব্যবহার করে নতুন এ পদ্ধতি প্রচলিত চিকিৎসা উপকরণের চেয়ে কার্যকরভাবে রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস চালু রাখে। মূলত এটি বাবল-সিপাপের একটি সাশ্রয়ী বিকল্প কৌশল।

বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের সহায়তায় এটি তৈরি করেছেন। এতে ব্যবহার করা হয়েছে শ্যাম্পুর পুরোনো বোতল, মানসম্মত অক্সিজেন সঞ্চালন নল ইত্যাদি। এগুলোর দাম যেমন কম তেমনি সহজলভ্য।
মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের শ্বাসপ্রশ্বাস চালু রাখতে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য বাবল-সিপাপ ব্যবহৃত হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) স্বীকৃত স্বল্প প্রবাহের অক্সিজেন প্রয়োগের পদ্ধতির চেয়ে বাংলাদেশে তৈরি বাবল-সিপাপ বেশি কার্যকর।
আইসিডিডিআরবির গবেষণা প্রতিবেদনটি বিশ্বের প্রভাবশালী চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এ গতকাল বুধবার প্রকাশিত হয়েছে।
নিউমোনিয়ার ফলে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের শ্বাসতন্ত্রে বাবল-সিপাপের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বাতাসের চাপ সরবরাহ করা হয়। হাইপোক্সিমিয়া বা রক্তে অক্সিজেন স্বল্পতায় আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় এটি খুবই কার্যকর। দ্য ল্যানসেট–এ বলা হয়, নিউমোনিয়া ও হাইপোক্সিমিয়া নিরাময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে এই প্রথম কোনো বিকল্প চিকিৎসাপদ্ধতির কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোয় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে বাবল-সিপাপ। পশ্চিমা বিশ্বে নবজাতক শিশুর শ্বাসকষ্ট দূর করতে বাবল-সিপাপে অক্সিজেন দিতে যেখানে জনপ্রতি ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা খরচ পড়ে, সেখানে বাংলাদেশে তৈরি এ উপকরণটির জন্য খরচ পড়ে মাত্র ৩৫ থেকে ৫০ টাকা।
গবেষকেরা মনে করেন, সাশ্রয়ী ও সহজপ্রাপ্য উপাদান দিয়ে তৈরি বাবল-সিপাপ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ব্যবহারের আগে আরও গবেষণা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সাফল্য প্রমাণিত হলে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন হবে।
অ্যান্টিবায়োটিক এবং স্বল্প প্রবাহের অক্সিজেন প্রয়োগের পরও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুমৃত্যুর হার প্রায় ১০ শতাংশ। এ সমস্যা মোকাবিলায় বাবল-সিপাপ একটি কার্যকর সমাধান। উন্নত বিশ্বে অনেক আগে থেকেই এটি এক মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু স্বল্প আয়ের বা উন্নয়নশীল দেশের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কতটা কার্যকর হতে পারে, তা এত দিন অজানা ছিল। সিপাপ পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য শ্বাসপ্রশ্বাস চালু রাখার যন্ত্র (রেসপিরেটর) প্রয়োজন। এটি বেশ ব্যয়বহুল হওয়ায় স্বল্প আয়ের দেশগুলোর হাসপাতালে ব্যবহার করা কঠিন। কিন্তু আইসিডিডিআরবির গবেষকেরা যে বাবল-সিপাপ তৈরি করেছেন, এতে রেসপিরেটর ছাড়াই কেবল অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর ব্যবহার করে রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। তাই এটি উন্নত দেশগুলোতে ব্যবহৃত উপকরণের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী। নার্স এবং অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা এটি সহজেই ব্যবহার করতে পারেন। এটি বর্তমানে আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে সফলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
আইসিডিডিআরবিতে ২০১১ সালের ৪ আগস্ট থেকে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই পর্যন্ত ২২৫টি শিশুর ওপর গবেষণাটি পরিচালিত হয়। শিশুদের তিনটি দলে ভাগ করা হয়। বাবল-সিপাপ ব্যবহৃত হয়েছে এমন দলে মৃত্যুহার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ। কিন্তু স্বল্প প্রবাহ ও উচ্চ প্রবাহের অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে এমন দলে মৃত্যুহার তুলনামূলক বেশি, যথাক্রমে ১৫ ও ১৩ শতাংশ।
গবেষণা দলে যুক্ত ছিলেন আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী মো. যোবায়ের চিশতী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বাবল-সিপাপ সহজলভ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি করা সম্ভব। তাই এটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে সহজেই পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আরও গবেষণার পর ঢাকাসহ বাংলাদেশের অন্যান্য হাসপাতালে বাবল-সিপাপ ব্যবহার করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলসহ যেসব দেশে নিউমোনিয়াজনিত শিশুমৃত্যুর হার বেশি, সেখানকার জন্য এটি খুব কার্যকর হতে পারে।
নিউমোনিয়ায় বিশ্বজুড়ে যত শিশু মারা যায়, তা শিশুমৃত্যুর অন্য যেকোনো একক কারণের তুলনায় বেশি। বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে নিউমোনিয়ায় শিশুমৃত্যুর হার বেশি। ল্যানসেট-এর তথ্যমতে, ২০১১ সালে বিশ্বে নিউমোনিয়ায় প্রায় ১৩ লাখ শিশুর মৃত্যু হয়।

- Source - Prothom Alo