গল্প কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গল্প কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০১৫

মেডিকেল লাইফের  সংজ্ঞা _

মেডিকেল লাইফের সংজ্ঞা _

মেডিকেলের কিছু বন্ধুর সাথে কথা হলেই বলে উঠে ,
 এই পেইন :/   , সেই পেইন :D ... 
আমি বলি - এতে টেনশনের কি আছে ?
পেইন কিলার খেয়ে নিলেই তো হয় !!! 


-- পরে শুনলাম ,

এই পেইন সেই পেইন নয় !!

সকালের আরামের ঘুম হারাম করে ক্লাস করার পেইন :/ 
আইটেমের পেইন , 
কার্ডের পেইন :/ , 
টার্মের পেইন :/ , 
প্রফের পেইন  :D
ওয়ার্ডে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ক্লাস করার পেইন ।
হাসপাতালে ডিউটি করার পেইন :/ ,
ফ্লোরে কুঁজো হয়ে বসে রোগী ফলো আপ দেয়ার পেইন :/ ।

----- মেডিকেলে আসার আগে শুনতাম ,

জয়েন্ট পেইন , 

ব্যাক পেইন 

নেক পেইন 

হাবিজাবি কত পেইন ।

এত্তগুলা পেইন --  :/ :/ 


দুই পেইনের মধ্যে উপরের ,

পিজিক্যাল পেইনের পেইন কিলার থাকলেও ,
 মেডিকেলীয় মেন্টাল পেইনকিলার এখনো আবিষ্কার হয় নাই ।

আর যেই দিন আবিস্কার হবে সেই দিন মহাভারত :P  অশুদ্ধ হয়ে যাবে !!!
-------------
ডাঃ স্বাধীন
-- ফেসবুকে আমি 

বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০১৫

' মা ' _কে উতসর্গ করে লেখা কবিতা

' মা ' _কে উতসর্গ করে লেখা কবিতা

' মা ' 
     _লেখা- ডা: স্বাধীন 
মায়ের মত আপনজন,
পাবে না কোথাও, কোনো ক্ষন।
জয়ী করো মায়ের মন,
বিশ্ব তোমার সারাক্ষণ।



নি:স্ব হবে শুভক্ষন,
যদি হারাও মায়ের মন।
মা বলেই হাসো তুমি,
মা বলেই কাঁদো তুমি।
মায়ের মাঝেই থাকো তুমি,
মা 'কে পাশে রেখো তুমি।
মা' ই তোমার গুনীজন,
মা' ই তোমার সর্বজন।
মা' ই তোমার গুনীজন,
মা' ই তোমার সর্বজন ।


ডাঃ স্বাধীন         ফেসবুকে আমি 
রেডিও মুন্না ফ্যান পেইজে ১০ ল্ষাধিক মানুষ পড়েছে কবিতাটি -
লিংক -  https://www.facebook.com/Rmbds/photos/a.753043144714290.1073741829.752597858092152/1235423796476220/?type=1&pnref=story

রবিবার, ১ মার্চ, ২০১৫

বৈচিত্র্যময় এপ্রন

বৈচিত্র্যময় এপ্রন

বৈচিত্র্যময় এপ্রন -- ‬
মেডিকেলে ভর্তির প্রারম্ভে এপ্রনের :P প্রতি খুবই আগ্রহ থাকে,
আর ভর্তি হওয়ার পর,
প্রথম দিকে এপ্রন গায়ে আয়নায় গেলে নিজেকে অর্ধেক  ডাক্তার :D মনে হয়।
মেডিকেলে কিছু দিন অতিবাহিত হওয়ার পর,
এপ্রন পরে আয়নায় গেলে নিজেকে গাধা :P মনে হয়।।
তাই অধিকাংশ ছাত্রের এপ্রন দিনে দিনে কাধে উঠতে থাকে।।
ফোর্থ-ফিফথ ইয়ারে এপ্রন তো নাই হয়ে যায়।।

মেডিকেল ছাত্ররা কত রকমের এপ্রন পরে তার কোনো হিসেব আছে??

উত্তর - না ।।


কোনো এপ্রন হাফ হাতা,
কোনোটা থ্রি কোয়ার্টার,
কোনোটা ফুল হাতা।।
কোনটা হালকা ক্রিম কালার।
কেনোটা ধবধবে সাদা ,
কোনোটা নীলাভ আকাশী সাদা।।
উপরের সবকিছু দিয়ে এপ্রন চিনতে পারলেও,
কোনটা ছাত্রের কিংবা কোনটা ছাত্রীর সেটা বুঝতে পারবেন না।।
সেটা বুঝার জন্য এপ্রনের পিছনে দেখতে হবে,
কোনটা ফিতা ঝুলানো ,
আর কোনটা ফিতা ঝুলানো না ।।

ফিতা ঝুলানোটা ছাত্রীর।।

একবার অন্তরা টেইলার্সে এপ্রন সেলাইতে দিয়েছিলাম,
অন্তরা টেইলার্স মোর অন্তরটা ছ্যাড়াবেড়া করে দিয়েছিলো।।

১ম এপ্রনটা পড়াও হয় নি খুব একটা।।
বাসায় ট্রায়াল দেওয়াটায় শেষ,
যথারীতি এপ্রন পড়ে আয়নার সামনে গেলাম,
ছোট বোন এসে বললো ভাই এটা তো ছেলেদের এপ্রন না।।
মেয়েদের :P এপ্রন।।
মাথা ত নষ্ট হয়ে গেলো।।
পরের দিন মেজাজ চরম অবস্থায় টেইলার্সে গেলাম,
অন্তরা :P টেইলার্স বলে,

সরি ভাই,
ভুলে আরেকজনের এপ্রন আপনার কাছে চলে গেছে।। সরি কিছু মনে করবেন না।।

ঝাক মাথাটা কিছু ঠান্ডা হলো।।

এবার আর ট্রায়াল দিলাম না,
সরাসরি এনাটমি ক্লাসে এপ্রন পরে হাজির।
ফারজানা ম্যাডাম রীতিমত রেগে বললো,
এই ছেলে তুমি কি এপ্রন পরেছ?
নাকি মাসল দেখাতে এসেছো।।
এতো টাইট এপ্রন কেউ পড়ে??
এই এপ্রন যেন আর না দেখি!!!

এরপর থেকে সেই এপ্রন পড়া হয় নি,,
কিন্তু এপ্রনটা এখনো চকচক করছে আলমারীতে, জীবনের প্রথম এপ্রন বলে কথা।।।

ডাক্তার হয়েও ওয়ার্ডে এপ্রন পড়ে রাউন্ড দিতে বড়ড় কষ্ট হয় ,
এপ্রন গায়ে দিলেই - গায়ে জ্বর জ্বর :P  ভাব চলে আসে আমার ।

---- লেখা - ডাঃ স্বাধীন

--- ডাঃ স্বাধীন ----    
ফেসবুকে আমি 

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

একটাই মিনতি ...।

একটাই মিনতি ...।

দূর করো ভয়ভীতি,
ফিরিয়ে আনো সম্প্রীতি
দূর করো স্বজনপ্রীতি,
ফিরিয়ে আনো জননীতি


দূর করো হিংস্রনীতি,
ফিরিয়ে আনো ঐক্যনীতি
দূর করো দূর্নীতি,
ফিরিয়ে আনো সুনীতি
একটাই মিনতি,
ফিরিয়ে আনো সুস্থ রাজনীতি ।।


রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

... এই পেইন  , সেই পেইন ...

... এই পেইন , সেই পেইন ...



মেডিকেলের কিছু বন্ধুর সাথে কথা হলেই বলে উঠে ,
... এই পেইন  , সেই পেইন 
...

আমি বলি - এতে টেনশনের কি আছে ?
পেইন কিলার খেয়ে নিলেই তো হয় !!!

-- পরে শুনলাম ,

এই পেইন সেই পেইন নয় !!



সকালের আরামের ঘুম হারাম করে ক্লাস করার পেইন :/ ।
আইটেমের পেইন ,
কার্ডের পেইন :/ ,
টার্মের পেইন :/ ,
প্রফের পেইন  :D
ওয়ার্ডে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ক্লাস করার পেইন ।

----- মেডিকেলে আসার আগে শুনতাম ,

জয়েন্ট পেইন ,

ব্যাক পেইন

নেক পেইন

হাবিজাবি কত পেইন ।

এত্তগুলা পেইন -- 

দুই পেইনের মধ্যে উপরের ,

পেইন টার পেইনকিলার এখনো আবিষ্কার হয় নাই ।

আর যেই দিন আবিস্কার হবে সেই দিন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে !!!


--- লেখা - ডাঃ স্বাধীন


শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

" মোরা এক জাতি এক ভাই "

" মোরা এক জাতি এক ভাই "

" মোরা এক জাতি এক ভাই "



 সংঘাত নাহি জানি,
কেনো করো হানাহানি ?
গদি নিয়ে টানাটানি,
বন্ধ হবে কবে জানি?

করছে না কেউ মানামানি,
ধংস হচ্ছে মেধার খনি।
কেউ হারাচ্ছে নয়নমনি,
কেউ ফেলছে চোখের পানি।
সংঘাত নাহি জানি,
বন্ধ করো হানাহানি।
মোরা এক জাতি এক ভাই,
মিলে মিশে থাকতে চাই ।


ডাঃ স্বাধীন         ফেসবুকে আমি 
অমর একুশে . কিভাবে ... আমি ভুলি ??

অমর একুশে . কিভাবে ... আমি ভুলি ??


 অমর একুশে.....
.
       লেখা_ডাঃ স্বাধীন 

  
 একুশ আমার মায়ের বুলি
 ভাই দিয়েছে জীবন বলি।
 কিভাবে... আমি ভুলি ?
 একুশ আমার রক্ততুলি,
 ভাইয়ের বুকে পাকহানাদারের গুলি।
 কিভাবে... আমি ভুলি ?
 একুশ আমার স্মৃতিধূলি,
 শহীদ ভাইয়ের মাথার খুলি।
 কিভাবে ... আমি ভুলি ?
 একুশ আমার ভাষার ঝুলি,
 বিশ্ববাসীর প্রিয় বুলি।
 কিভাবে...আমি ভুলি ?


 শবে কদরের রাত -১টা বাজে , চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে

শবে কদরের রাত -১টা বাজে , চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে

শবে কদরের রাত -১টা বাজে ,
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের
২ তলার সিড়িতে দাঁড়িয়ে কাদঁছিলেন
পঞ্চাশোর্ধ বোরকা পড়া এক মহিলা ।
কান্নার কারণ একটাই -





সকাল থেকে টাকার অভাবে ঔষুধ কেনা হয় নি তার !!!
ঠিক ঐ সময় মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে
নাইট ডিউটিতে ওয়ার্ডে যাচ্ছিলেন
এক তরুন ডাক্তার ।
সিঁড়ি বেয়ে উঠার সময় ক্রন্দনরত
ঐ মহিলা তরুন ডাক্তারের কাছে ,
ঔষুধ কেনার জন্য কিছু টাকা চাইলেন ।

ডাক্তার মহিলাটিকে ঔষধের প্রেসক্রিপশন দিতে বললেন ।

ডাক্তার প্রেসক্রিপশন নিয়ে সোজা হাসপাতালের,
নীচের ফার্মেসীতে গিয়ে ঔষধগুলো কিনলেন ।

কিনে ঔষুধগুলো মহিলার হাতে দিলেন ,
এবং নিয়মিত ঔষধ সেবনের পরামর্শ দিলেন ।

ক্রন্দনরত মহিলাটি ঔষধ হাতে পাওয়ার পর ,
তরুন ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে ,
" আল্লাহ তোমায় বাঁচিয়ে রাখুক " বলে চলে গেলেন ।
তরুন ডাক্তারটি কে বলতে পারেন ????
তিনি...
আর কেউ নন !!!
আপনাদের মত সাধারণ একজন ।



ডাঃ স্বাধীন         ফেসবুকে আমি 

রেডিওমুন্নাতে মা কবিতাটি শেয়ার করা হয়েছে  লিংক - প্রায় ৩৭ হাজার লাইক - 

https://www.facebook.com/Rmbds/photos/a.753043144714290.1073741829.752597858092152/1235423796476220/?type=1&pnref=story

বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৪

" নোমাইর কোথায় যাচ্ছ ?" সে হাসিমুখে বলছে, ডাক্তার আংকেল  " আব্বুকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি  ! "

" নোমাইর কোথায় যাচ্ছ ?" সে হাসিমুখে বলছে, ডাক্তার আংকেল " আব্বুকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি ! "

ভোর ৫ টায় দরজার ঠক,
 ঠক শব্দে ঘুম ভাংলো ।
দরজা খুলে দেখি দিদি (নার্স)
ডাকছেন " দাদা  ৬ নং বেডের রোগীটা একটু দেখেন তো, মনে হয় মারা গেছে ,
কথা শুনেই " বিপি মেশিন আর স্টেথো নিয়ে দৌড়ে গেলাম ।
আর এক্সামিনেশন করে শিউর হলাম,
পেশেন্ট  এক্সপায়ার করেছেন  ।

ভোরেই  চারটি  ডেথ সার্টিফিকেট  লিখতে হলো।
পেশেন্টের  নাম রাশেদ,
তার পরিবারে রেখে গেছেন  স্ত্রী ও তিন সন্তান  ।

ছবিতে  যে  বাবুটি দেখতে পাচ্ছেন,
তার নাম "নোমাইর " ।
বয়স মাত্র তিন  ।
সদা হাস্যেজ্জ্বল  তার চেহেরা  ।
কিন্তু আমি যখন  তার পিতার,
প্রেশার দেখতে আসলাম  সে এত বেশি কান্না করছে, যে
ওয়ার্ডের সব মানুষ  জড়ো হয়ে গেছে।
সবাঈ বলছে, এ বাচ্চার মুখে তো কোনোদিন কান্না দেখি নাই,
আজকেই প্রথম করুণ সুরে কান্না করেছে।
আমরা অনেকে বুঝিনি কেন সে কান্না করছে,
কিন্তু তার নিষ্পাপ  আত্না ঠিকই  পিতৃবিয়োগের শোকবার্তা অনুভব করতে পেরছে।

বাচ্চাটি এত কিউট এত চঞ্চল  !!
তার নিষ্পাপ  চেহেরা দেখে
আমি চোখের জল ধরে রাখতে  পারি নি ।
অশ্রুনয়নে  নোমাইরের হাতে  টাকা দিলাম।
বাচ্চার মা আর পেশেন্টের   বড় ভাই হাফেজকে অনেক স্বান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করলাম  ।
তাদেরকে প্রতিবছর আমাদের ফাউন্ডেশন  থেকে  আর্থিক সাহায্য  দিবো বলে প্রতিশ্রুতি  দিলাম ।

তিন বছরের শিশু যখন  পিতার লাশের পাশে দাড়িয়ে,
তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম,

" নোমাইর কোথায় যাচ্ছ ?"
সে হাসিমুখে বলছে,
ডাক্তার আংকেল
 " আব্বুকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি  ! "

এই যাওয়া যে শেষ যাওয়া, সে কি জানে! !

তার পিতা যে চলে গেলেন,
 না ফেরার দেশে ..!!!

---------

ডাঃ স্বাধীন         

মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০১৪

চিকিতসকের উদারতার বাস্তব কাহিনী যা পত্র পত্রিকায় আসে না ।

চিকিতসকের উদারতার বাস্তব কাহিনী যা পত্র পত্রিকায় আসে না ।

চিকিতসকের উদারতার বাস্তব কাহিনী যা পত্র পত্রিকায় আসে না ।
পড়ার অনুরোধ রইলো।





অর্থোসার্জারীতে ডিউটি চলছিলো,
একদিন লামা থেকে হাতুড়ে কবিরাজের অপচিকিতসা নিয়ে এক রোগী ভর্তি হয়েছিলো,
রোগীর দুই পায়ের অবস্থা ভয়াবহ ।
পায়ের উপর গাড়ি চড়েছিলো,
টিবিয়া-ফিবুলা দুটোয় ভাংগা .
কবিরাজ গাছের বাকল আর গাছের টুকরো দিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে।



একদিন পর আমাদের ওয়ার্ডে ভর্তি হলেন।
এক্স রে করার পর তার,
পায়ের ভয়াবহ অবস্থা জানা গেলো।
সবাই মিলে সিদ্ধান্ত হলো,
ইমার্জেন্সী তার অপারেশন করা হবে।

রোগী আর রোগীর এটেন্ডেন্ট বললেন,
চিকিতসা করার মত ১ টাকাও তাদের
নেই।

পরের দিন সকাল প্রফেসরদের রাউন্ড
চলছিলো ।

এমন সময় ইকবাল স্যার লামা থেকে আসা রোগীর খোঁজখবর নিলেন,

আমরা যখন স্যারকে বললাম,
অপারেশেন ঔষুধ পত্র ও স্ক্রু কেনার জন্য তার ১ টাকাও নেই "

তখনি স্যার বললেন
ঔষুধ পত্রে যা টাকা লাগে আমি দিবো,
আজকেই ওর অপারেশন করে ফেলো "

আরো বললেন ,

এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে ২ জন গরীব অসহায় রোগীর অপারেশনের যাবতীয় খরচ আমার কাছ থেকে নিও "
আমরা সবাই,
অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম,
একেকটা রোগীর পিছনে প্রায় ১০-১২ হাজার টাকার ঔষুধ পত্র ও স্ক্রু লাগে ।

এত টাকা প্রতি সপ্তাহে গরীবদের চিকিতসায় দিয়ে দিবেন।

মাস শেষে স্যারের বেতন হয়তো ৩০ হাজার টাকা,
আর গরীবদের ঔষুধের পেছনে স্যার খরচ করেন মাসে লক্ষাধিক টাকা ।

অবশ্য স্যার বড়লোক মানুষ,
অর্থের দিকে যতটা না বড়লোক,
মনের দিকে তার চেয়ে ১০ গুন বেশি বড়লোক ।


স্যালুট ইকবাল স্যার,
আপনি চিকিতসক সমাজের গর্ব ।
আপনার মত চিকিতসক পেয়ে আমরাও গর্বিত।

----------

বাস্তব কাহিনী অবলম্বনে লিখেছি


শনিবার, ৭ জুন, ২০১৪

সে এখন পথশিশু নয়, ডাক্তার

সে এখন পথশিশু নয়, ডাক্তার


ভাইয়া, ফুল ন্যাবেন?'
-পিঠে হাত দিয়ে ছোট্ট একটা মেয়ে আমাকে ফুল দেখাচ্ছিল। বনানী কবরস্থানে এরকম মেয়ে হরহামেশাই দেখা যায়।


আমি একা। মা মারা গেছেন আরো ছয় বছর আগে। বাবা এখন পর। অন্য মহিলাকে বিয়ে করে বেশ সুখেই আছে। আমাকে দেখাশোনা করার মত ৭০০ কোটি মানুষের মধ্যে একজনও নেই। বনানী কবরস্থানে আমি প্রায়ই বসে থাকি। মন খারাপ লাগলে, এ কবরস্থানে এসে বসে থাকি। এখানে যে আমার মা শুয়ে আছে।


ফুলওয়ালা এ মেয়েটার চোখে কেমন যেন দুঃখের ছাপ। তার পিঠে হাত দিয়ে আমি বসতে বললাম।
-কী নাম?
-জোছনা।
-বাহ!! বেশ নাম তো...
মেয়েটা পোকলা দাতে হেসে দিলো।
-তুমি ফুল বিক্রি ছাড়া আর কি কর?
-কিসু না।
-পড়াশোনা করোনা?
-জ্বে না, আমার বাপে পিটাইবো।
-ও, তোমার বাবা কি করে?
-আমার বাপে সারাদিন পচাপানি খায়। এর লাইগ্যা আমার থেকে ট্যাকা নেয়।
-তোমার মা কিছু বলেনা?
-আমার মায় মইরা গেসে। নতুন মায় কিসু কয় না।
-তোমার কি এখানে থাকতে ইচ্ছে করে?
-না।
-আমার সাথে যাবা?
-হ যামু।
-আজ থেকে তুমি আমার বোন।

মেয়েটা বুঝতে পারছিল না। তবে কেন জানি হাসছিল। ধানমণ্ডির এক কোণে আমার মেস। ঠিক মেস বলা যায় না। সাবলেটে একটা বাসা নিয়ে একাই থাকি। কিছু ছাত্র-ছাত্রী পড়াই আর মাঝে মাঝে গল্প কবিতা লিখি। এগুলো দিয়েই আমার পেট চলে। মেয়েটার হাতের ফুলগুলো আমার হাতে নিয়ে নিই।

বাসায় আনার আগে ওকে নিউমার্কেট নিয়ে যাই। রাস্তার ধার থেকে সত্তর টাকা দিয়ে দুটো ফ্রক কিনে দিই তাকে। তার মুখটা সূর্য হয়ে গেলো সাথে সাথেই।

জ্যোস্নাকে নিয়ে ঢাকা কলেজের সামনে দিয়ে আসছি। জ্যোস্না ভয়ার্ত চেহারা নিয়ে আমার দিকে চেয়ে আছে।

-স্যার, আপনে আমারে কই নেন?
-কিরে? ভাইয়া থেকে স্যার?

মেয়েটা চুপ হয়ে গেলো। আমি তাকে বললাম, 'শোন, আমি তোর আপন ভাই। আজ থেকে আমাকে ভাইয়া ডাকবি আর তোর নাম জোছনা না। তোর নাম আবৃত্তি।'

ও নামের অর্থ বোঝেনি। কিন্তু খুশি হয়েছিল। তাকে নিয়ে উঠলাম আমার ছোট্ট সংসারে। নিজেকে কেমন যেন ভাগ্যবান লাগছিল। যাযাবর জীবনের অবসান হবে হয়তো।

আবৃত্তির বয়স বারো কি তেরো হবে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে দিই তাকে। ওয়ান থেকে ফাইভের পড়াগুলো প্রতিদিন রাতে অল্প অল্প করে শিখিয়ে দিই। মেয়েটার স্মৃতিশক্তি ধারালো।

আমাদের ভাই বোনের সংসার বেশ কিছুদিনের মধ্যেই জমে উঠলো। আমরা এখন কেউই দুঃখী না। ও আমাকে দাদা বলে ডাকে।

একদিন ঘরে চাল নেই। মাসের শেষের দিকে। আমারও পকেটে কোনো টাকা পয়সা নেই। আবৃত্তি বুঝতে পারলো। চৌকির নিচ থেকে একটা মাটির ব্যাংক বের করে সে আমাকে টাকা দিলো।

এক বছর কেটে গেল। আবৃত্তির চেহারাই বদলে গেলো। সেই সাথে আমার জীবনও। আবৃত্তিকে নিয়ে আমি আস্ত একটা উপন্যাস লিখে ফেলি। এক মাসেই সেই উপন্যাস তিন বার মুদ্রণ হয়। এক পরিচালক এটা নিয়ে সিনেমা বানানোর কথাও বলেছেন। হয়তো-বা আমার জীবনটা বদলে যাবে।

হ্যাঁ, কিছুদিনের মধ্যেই আমার জীবন কিছুটা বদলে গেল। রাজধানীর নামকরা স্কুলে আমার বোনকে ভর্তি করাতে পারলাম। নিখুঁত মেধার জন্য আমার বোন সুনাম কুড়াচ্ছে। আবৃত্তিকে নিয়ে লিখা, 'বোনটি' উপন্যাসের কারণে তখন আমাকে অনেক মানুষ চিনে।

আবৃত্তি এখন ক্লাস নাইনে। আমার ঘোলাটে চোখে স্পষ্ট দেখলাম একটা ব্যাচ। 'ডা. আবৃত্তি'। হ্যাঁ এটা কল্পনা ছিল। আর সেই কল্পনাকে সত্য করার জন্য আমি আমার বোনকে সাইন্সে পড়াই।
-দাদা
-হুম বল
-তুই খুব ভাল
-তুই আরো ভালো।

নতুন বই হাতে নিয়ে আমার বোন আমাকে এসব কথা বলছিল। সে যখন খুব খুশি হয় তখন সে এমন করে। আবৃত্তি জানে তাকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন। আমার পড়াশোনা শেষে ছোটখাটো একটা চাকরি করি। আর আমার বোন স্কুল করে, আমার জন্য রান্না করে। আমি বাসায় যাওয়ার আগ পর্যন্ত সে খায় না। হয়তো-বা ওভাবেই খাওয়ার অপেক্ষায় ঘুমিয়ে পড়ে।

মাঝে মাঝে ভাবি, আমি হয়তো পৃথিবীর সুখী মানুষদেরই একজন। আবৃত্তির মতো একটা বোন পেয়েছি আমি। এ মেয়েটা না আসলে হয়তো আমার জীবন এলোমেলো হয়ে যেত। হয়তো-বা আমি ওভাভেই মেসের কোনে পড়ে থাকতাম।

তিন বছরের মতো হয়ে গেলো সে আমার কাছে। এখন তার মনে নেই সে এক সময় ফুল বিক্রি করতো। এখন তার মনে নেই সে এক সময় যাযাবর ছিল। আমারো এখন মনে হয় না আমি এ পৃথিবীতে একা।

একদিন সে বলছিল-
-দাদা, আমি একটা জিনিস চাইবো, দিবি?
-কি?
-একটা ভাবী।
-এখন না।
-দিবি কেন? আমি তো তোর পালক বোন।

আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। এ মেয়ে এটা কেন বললো? কথাটা বলেই সে তার ঘরে চলে গেলো। আমি তার ঘরে গেলাম। তার চুলে হাত বুলিয়ে বললাম-
-কিরে?
-কিছু না।
-তুই এটা কেন চাইলি?
-দাদা, সবাই স্কুলে মায়ের সাথে যায়। তুই তো আমাকে মা দিতে পারবি না। একটা ভাবি দে।

তার কথায় হেসে উঠলাম আমি। মেয়েটার কথায় একটু দুঃখও আছে। সেটা উজ্জ হয়ে গেলো।

এস.এস.সি পাশ করে ফেলেছে আমার বোন। আমার সবচেয়ে খুশির দিন। আমার চেষ্টায় আজ একটা মেয়ে জীবন চিনতে শিখেছে।

তার হাস্যোজ্জ্বল মুখের দিকে তাকিয়ে আমি কেদে দিই। আমার চোখের কোণের পানি আমার বোনটা নিজ হাতে মুছে দেয়। বড় হতে হতে আমার বোনটা অনেক বদলে গেছে। আবৃত্তির ভেতর এখন আর জোছনার ছাপ নেই, আছে চাদের আলোর ছাপ। শুদ্ধ বাংলায় কথা বলে সে।

আমার নিজের কষ্ট হলেও আমার বোনকে আমি অন্য দশটা মেয়ের মতো চলতে দিতাম। দামী জামা, জুতো, নেইল পালিশ কিনে দিতাম। সে শুধুই অবাক হয়ে থাকতো আমার এসব দেখে।

আমার আর্থিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। লিখালিখির খাতিরে চাকরির পাশাপাশি একটি পত্রিকায় সাংবাদিকতাও করি। তবে আমার বোনকে সময় দেয়া হতো কম। সেও আমার স্বপ্ন পূরণে ব্যাস্ত। আমি তাকে বলেছিলাম, 'আবৃত্তি নামের আগে ডাক্তার দেখা চাই।'

আবৃত্তি মিষ্টি হেসেছিল। আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল, 'দাদা, তুই দেখিস, তোর বোনটা একদিন ডাক্তার হবেই। '

পাঁচ বছর পর-
একটা চায়ের দোকানে বসে আছি। হুট করে পিছন থেকে কে যেন আমার পিঠে হাত দিলো।

'ভাইয়া, ফুল ন্যাবেন ফুল?'
-আমি তাকালাম। একটা মেয়ে আমাকে এভাবে বলছে। আজ থেকে চৌদ্দ বছর আগে আমাকে এটা বলেছিল আবৃত্তি। আমি কিছুই ভেবে পাচ্ছি না। চায়ের দোকানে কেন ফুল বিক্রি করতে আসবে? আমি চারদিকে তাকালাম।

সাদা একটা গাড়ি থেকে নামলো আবৃত্তি। আমার পা ছুঁয়ে আমাকে সালাম করলো। পাশেই দাঁড়িয়ে আছে তার স্বামী। আমার বোন আজ মেডিকেল শেষ করে ফেলেছে। আমি আজ থেকে ডাক্তারের ভাই।

আবৃত্তি যখন থার্ড ইয়ারে, তখনই আমি তার বিয়ে দিই। এখন সে খুব সুখে আছে। আমার চোখের পানি আনমনেই মাটিতে পড়ে। আমার বোনটাও কেদে দেয় হুহু করে।

জিজ্ঞেস করলাম, ফুল ওয়ালা মেয়েটাকে কে পাঠিয়েছে? 'হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখ মুছে সে বললো, 'এটা তার কাজ।'

আমি পেরেছি একটি পথশিশুকে ডাক্তার বানাতে। আমি সফল। আমার জীবনে কোন দুঃখ নেই। আমি আজ সুখী।

না, সে পথশিশু নয়। সে আমার বোন। ছোট বোন ডা. আবৃত্তি......

লেখক : Alaxender Abi

রবিবার, ১ জুন, ২০১৪

 ডাক্তারদের পড়ালেখা, প্রেক্ষাপট: যুক্তরাস্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়া

ডাক্তারদের পড়ালেখা, প্রেক্ষাপট: যুক্তরাস্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়া

আপনি কি জানেন- যুক্তরাস্ট্রে এমবিবিএস বলে কোন ডিগ্রী নেই? যুক্তরাজ্যে জেনারেল প্র্যাকটিস করতে হলে আপনাকে ৫ বছরের স্নাতকত্তোর ট্রেইনিং শেষ করতে হবে? কানাডায় মেডিকেল স্টাডিস-এ প্রবেশ করতে হলে আপনাকে ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন করতে হবে- এই তথ্য কি আপনার জানা ছিল? 




আমাদের মাঝে পাশ্চাত্যের মেডিকেল পড়াশোনা নিয়ে কৌতুহল থাকলেও বিষয়টি নিয়ে কখনও ঘাঁটাঘাঁটি করা হয়নি। তাই ভাবলাম, বিষয়টি একটু পড়ি। পড়ে অনেক কিছুই জানা হল। চলুন দেখি, পাশ্চাত্যের ডাক্তারি পড়ালেখার ধরণ কেমন-


এই প্রবন্ধে মূলত যুক্তরাস্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ার মেডিকেল এডুকেশন নিয়ে আলোচনা থাকবে। সাথে, বাংলাদেশ থেকে যে চিকিৎসকরা এসব দেশে যেতে আগ্রহী সংশ্লিষ্ট দেশে তাদের পথপরিক্রমা সম্পর্কেও সংক্ষিপ্ত আলোচনা থাকবে। আমাদের দেশের মেডিকেল গ্রাজুয়েটদের মধ্যে থেকে যারা দেশের বাইরে যেতে আগ্রহী, তারা সাধারাণত এই ইংলিশ স্পিকিং দেশগুলোতেই যাওয়ার চেষ্টা করেন। চিকিৎসাবিদ্যা যেহেতু মানুষের সাথে সম্পর্কিত সেহেতু বিভিন্ন দেশের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা তাদের দেশের প্রেক্ষাপটে মেডিকেলে এডুকেশনকে সাজানোর চেষ্টা করেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দেশভেদে মেডিকেলে পড়াশোনার নিয়মের কিছুটা পার্থক্য আছে।

যুক্তরাস্ট্র

যুক্তরাস্ট্রে মেডিকেল আণ্ডারগ্রাজুয়েট প্রোগ্রাম চার বছরের। এটি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল স্কুল দ্বারা পরিচালিত হয়। এ প্রোগ্রামে ঢোকার শর্ত হল- অন্য যে কোন বিষয়ে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করতে হবে। তবে, একজন মেডিকেল ভর্তিচ্ছু ছাত্রকে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় বসতে হলে উক্ত বিষয়ে গ্রাজুয়েশন করাকালীন এসোসিয়েশন অব অ্যামেরিকান মেডিকেল কলেজেস কতৃক নির্ধারিত কিছু কোর্স অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে আছে- রসায়ন দুই বছর (যার এক বছর জৈব রসায়ন), এক বছরের জীববিজ্ঞান এবং এক বছরের ফিজিক্স। রসায়ন ও জীববিজ্ঞান কোর্সে সেলুলার বায়োলজী, ফিজিক্যাল কেমিস্ট্রি, বায়োকেমিস্ট্রি, মলিকিউলার বায়োলজি এবং জেনেটিক্স রাখার উপদেশ দেয়া হয়। এছাড়া স্কুল ভেদে সুনির্দিষ্ট ‘বিষয়ের’ শর্তাবলীর পার্থক্য আছে।

একজন ছাত্র এই প্রি-মেডিকেল শর্তাবলী পূরণ করলে মেডিকেল কলেজ এডমিশন টেস্ট (এম,সি,এ,টি) দিতে পারে। মেডিকেল স্কুলে চান্স পাওয়া নির্ভর করে ছাত্রের প্রি-মেডিকেল কোর্সের একাডেমিক রেকর্ড, এম,সি,এ,টি-র ফলাফল, অন্যান্য প্রি-মেডিকেল এক্সট্রা-কারিকুলার এক্টিভিটি(যা ছাত্রের মেডিসিন-এর প্রতি আগ্রহকে স্পষ্ট করে), বিশ্বাবিদ্যালয় থেকে রিকমেন্ডেশন লেটার এবং ইন্টারভিউ-এর ফলাফল ইত্যাদির উপর।

মেডিকেল স্কুল থেকে যে ডিগ্রী দেয়া হয় তার নাম ডক্টর অব মেডিসিন (এম,ডি) অথবা ডক্টর অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিন (ডি,ও)। মেডিকেল স্টাডিকে স্কুলভেদে চার থেকে পাঁচ বছরের পড়াশোনায় ভাগ করা হয়। প্রথম দু’বছর বেসিক সায়েন্স এবং পরের তিন বছর ক্লিনিক্যাল ক্লার্কশিপ। প্রথম দুই থেকে তিন বছর যে বিষয়গুলো কাভার করতে হয় সেগুলো হল- এনাটমি, ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, হিস্টোলজি, এমব্রায়োলজি, মাইক্রোবায়োলজি, প্যাথোলজি, প্যাথোফিজিওলজি, নিউরোসায়েন্স ইত্যাদি। তবে, কারিকুলাম আমাদের দেশের মত সাবজেক্টভিত্তিক সাজানো হয় না বরং সিস্টেম ভিত্তিক (যেমন: ব্রেইন এণ্ড বিহেভিওর, কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেম প্রভৃতি)সাজানো হয়। ফলে, একজন ছাত্রের প্রথম থেকেই রোগী ও রোগ ভিত্তিক প্রশিক্ষণ হয়। এগুলো পড়া শেষ হলে একজন ছাত্র ইউনাইটেড স্টেটস মেডিকেল লাইসেন্সিং এক্সাম তথা ইউ,এস,এম,এল,ই পার্ট ওয়ান দিতে পারে। এরপর কোন একটি টিচিং হসপিটালে তিন বছরের ক্লার্কশিপে প্রবেশ করতে হয়। এ সময় মেডিসিন, সার্জারী, পেডিয়াট্রিক্স, ফ্যামিলি মেডিসিন, গাইনোকোলজি ও অবস্টেট্রিক্স, নিউরোলজি এবং সাইকিয়েট্রি ওয়ার্ডে রোটেশন হয়। এর পাশাপাশি কিছু ইলেকটিভ সাব-স্পেশালিটিতেও ক্লার্কশিপ সম্পন্ন করতে হয়। (কোনো কোনো স্কুল জয়েন্ট পোগ্রাম পরিচালনা করে, যেখানে মেডিকেল সায়েন্সের পাশাপাশি রিলেটেড বিষয়ে পিএইচডি, মাস্টার্স ইত্যাদি করার সুযোগ থাকে) পড়াশোনার চতুর্থ বছরের শেষে মেডিকেল ছাত্ররা সাধারণত ইউ,এস,এম,এল,ই পার্ট টু পরীক্ষা দেয়।

ক্লিনিক্যাল ক্লার্কশিপ শেষে একজন ছাত্র এম,ডি বা ডি,ও ডিগ্রী অর্জন করেন, কিন্তু প্র্যাকটিস করতে পারেন না। প্র্যাকটিস করার লাইসেন্স পেতে হলে তাকে কমপক্ষে এক বছরের ইন্টার্ণশিপ এবং নির্দিষ্ট স্পেশালিটিতে (তথা বিষয়ে) রেসিডেন্সি শেষ করে ইউ,এস,এম,এল,ই পার্ট ত্রি তথা লাইসেন্সিং পরীক্ষা দিতে হয়। এরপরই কেবল একজন প্র্যাকটিস করার যোগ্যতা অর্জন করেন।(প্রসঙ্গত, যুক্তরাস্ট্রের অল্প কিছু প্রদেশে এক বছরের ইন্টার্ণশিপ শেষে মেডিসিন প্র্যাকটিস করার সুযোগ আছে।)

রেসিডেন্সি ট্রেইনিং-এ চান্স পাওয়া নির্ভর করে ন্যাশনাল রেসিডেন্সি ম্যাচিং প্রোগ্রামের উপর। এটি একটি কম্পিউটার চালিত প্রোগ্রাম যেখানে ইউ,এস,এম,এল,ই পার্ট টু পাশ করা ডাক্তারদের রেসিডেন্সিতে ঢুকার আবেদন ও টিচিং হাসপাতালের বিভিন্ন স্পেশালিটিতে শূণ্য রেসিডেন্সি পদের প্রাপ্যতার উপর নির্ভর করে ডাক্তারদের ইন্টারভিউ নেয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়। যেহেতু রেসিডেন্সি পদ কম এবং আবেদন অনেক বেশী থাকে, ফলে এই ম্যাচিং প্রোগ্রামটি অনেক শক্ত হয়। অনেক আবেদনকারীকেই তাদের ইচ্ছেকৃত স্পেশালিটিতে সুযোগ পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। আবার, অনেককে তাদের ইচ্ছে পরিবর্তন করতে হয়। রেসিডেন্সির ম্যাচিং-এর সময় যে প্রভাবকগুলো কাজ করে তা হল: আবেদনকারী ক্রমানুসারে যে প্রতিষ্ঠানে ঢুকতে ইচ্ছুক তার লিস্ট, আবেদনকারীর ইউ,এস,এম,এল,ই পরীক্ষার নম্বর, আলফা-ওমেগা-আলফা (সংক্ষেপে এ,ও,এ) মেম্বারশিপ, ক্লিনিকাল ক্লার্কশিপের গ্রেড, রিকমেণ্ডেশন লেটার, ক্লাসে মেধাক্রম, রিসার্চের অভিজ্ঞতা, কোন স্কুল থেকে এম,ডি পাশ করেছে, আলাদা কোন যোগ্যতা (যেমন রিলেটেড বিষয়ে মাস্টার্স করা থাকলে তা) ইত্যাদি।

বিষয়ভেদে রেসিডেন্সি ট্রেইনিং-এর ডিউরেশন তিন বছর থেকে শুরু করে দশ বছর পর্যন্ত হতে পারে। সংক্ষেপে বললে, ইন্টারনাল মেডিসিন-এ তিন বছর এবং জেনারেল সার্জারীতে পাঁচ বছর ট্রেইনিং করতে হয়। কেউ যদি মেডিসিনের সাবস্পেশালিটি এবং সার্জারীর সাবস্পেশালিটিতে ডিগ্রী করতে চান, তার সংশ্লিষ্ট বিভাগে অতিরিক্ত ৩ থেকে ৫ বছর ফেলোশিপ টেইনিং করতে হয়। ট্রেইনিং শেষে একজন ডাক্তার তার স্পেশালিটিতে বোর্ড সার্টিফিকেশন-এর জন্য আবেদন করতে পারেন। এরপর তাকে উক্ত বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয়।(একে ইউ,এস,এম,এল,ই পার্ট ত্রি-ও বলা যায়) পরীক্ষা পাশ করলে উক্ত স্পেশালিটির বোর্ড সার্টিফিকেট পাওয়া যায়।

যারা জেনারেল ফিজিশিয়ান হতে চান তারা কি করবেন? প্রদেশভেদে এই বিষয়টিতে পার্থক্য আছে। কোন কোন প্রদেশে একবছর ইন্টার্ণশিপ ট্রেইনিং-এর পর প্র্যাকটিস-এর সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। তবে অধিকাংশ প্রদেশেই এখন জেনারেল প্র্যাকটিস করতে হলে ফ্যামিলি মেডিসিন বিভাগে তিন বছর রেসিডেন্সি ট্রেইনিং করতে হয়। উল্লেখ্য, যুক্তরাস্ট্রে জেনারেল প্র্যাকটিশনার শব্দটি উঠে গেছে। তার পরিবর্তে এদেরকে বলা হচ্ছে ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান।

যে সকল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল গ্রাজুয়েট যুক্তরাস্ট্রে স্যাটল হতে চান, তাদেরকে ইউ,এস,এম,এল,ই পার্ট ওয়ান এবং পার্ট টু(সি,কে ও সি,এস) পাশ করে রেসিডেন্সির জন্য এপ্লাই করতে হয়। সে হিসেবে, বাংলাদেশ থেকে যে সকল মেডিকেলে স্টুডেন্ট যুক্তরাস্ট্রে যেতে আগ্রহী তাদেরকেও একই পথে চলতে হবে। পার্ট ওয়ান পরীক্ষা মেডিকেলের চতুর্থ বছর শেষেই দেয়ার সুযোগ আছে। পার্ট ওয়ান এবং টু সি,কে দু’টো পরীক্ষাই বাংলাদেশে আমেরিকান এম্বেসিতে দেয়া যায়। পার্ট টু সি,এস যুক্তরাস্ট্রে গিয়ে দিতে হয়। পার্ট টু সি,এস পাশ করার পর রেসিডেন্সির জন্য এপ্লাই করার পর শুরু হয় ন্যাশনাল রেসিডেন্সি ম্যাচিং প্রোগ্রাম-এ নাম আসার জন্য অপেক্ষা করার পালা। নাম আসলে পড়ে ইন্টারভিউ দিতে হয়। এরপরই একজন ক্যানডিডেট রেসিডেন্সিতে ঢুকতে পারে। রেসিডেন্সিতে চান্স পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশী ছাত্রদের ই,ইউ,এস,এম,এলই-তে অনেক ভাল করা (অর্থাৎ প্রায় ৯৯ পারসেন্টাইলে থাকা) জরুরী । নইলে সাধারণত রেসিডেন্সি পাওয়া যায় না। কারণ, এটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রাম। তবে পরীক্ষার রেজাল্ট পারসেন্টাইলের দিকে দিয়ে সামান্য কম হলেও, যদি যুক্তরাস্ট্রের সিটিজেনশিপ থাকে(অথবা পারমানেন্ট রেসিডেন্ট হয়) অথবা কোন সিটিজেন তাকে স্পন্সর করে(তথা অভিভাবক হওয়ার দায়িত্ব নেয়), তাহলে রেসিডেন্সি ম্যাচ করার সম্ভাবনা বাড়ে।

প্রসঙ্গত, রেসিডেন্সি ট্রেইনিং-এ সাপ্তাহিক কর্মঘন্টা সাধারণত ৮০ ঘন্টা বা তার বেশী। প্রত্যেক সপ্তাহে টানা ছত্রিশ ঘন্টার একটা ডিউটি থাকবেই। বছরে তিন সপ্তাহের একটি ভ্যাকেশন বাদে পার্সনাল ছুটি ছয় দিন পর্যন্ত নেয়া যায় (ইন্সটিটিউশন ভেদে পার্থক্য থাকতে পারে)। প্রতিষ্ঠানভেদে বাৎসরিক স্যালারী ন্যূনতম ৪০০০০ ডলার থেকে শুরু। প্রতি বছর পর স্যালারী কিছুটা বাড়ে।

এশিয়ান ডাক্তাররা শুধু এশিয়ান রুগীদের চিকিৎসা দিতে পারে।

কানাডা

কানাডার মেডিকেল এডুকেশন প্রায় যুক্তরাস্ট্রের মেডিকেল এডুকেশন সিস্টেমের মত। কানাডার লাইসেন্সিং পরীক্ষার নাম মেডিকেল কাউন্সিল অব কানাডা কোয়ালিফাইং এক্সামিনেশন (এম,সি,সি,কিউ,ই)। পার্ট দু’টো। ইউ,এস,এম,এল,ই-র মত দ্বিতীয় পার্টের ক্লিনিকাল নলেজ(সি,কে) অংশটি নেই। কানাডাতেও মেডিকেল স্কুলে ঢোকার শর্ত হল একটি বিষয়ে গ্রাজুয়েশন শেষ করতে হবে। মেডিকেল কারিকুলাম চার বছরের। প্রথম দুই বছর প্রি-ক্লিনিকাল এবং পরের দুই বছর ক্লিনিকাল ক্লার্কশিপ। প্রি-ক্লিনিকাল শেষে পার্ট ওয়ান পরীক্ষা দিতে হয়। ক্লার্কশিপ শেষে এক বছর ইন্টার্ণশিপ করার পর পার্ট টু পরীক্ষা দেয়া যায়। পার্ট টু পাশ করলে ডক্টর অব মেডিসিন (কানাডায় ডি,ও নেই) সার্টিফিকেশন দেয়া হয়। কিন্তু প্র্যাকটিস করার যোগ্যতা অর্জন করতে হলে যুক্তরাস্ট্রের মতই রেসিডেন্সি ট্রেইনিং শেষে বোর্ড সার্টিফিকেশন এক্সাম দিতে হয়। এমনকি ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান হতে হলেও দুই বছরের উক্ত বিভাগে রেসিডেন্সি ট্রেইনিং করতে হয়। অন্যান্য বিষয়ে রেসিডেন্সির সময়সীমা বিষয়ভেদে যুক্তরাস্ট্রের বিভিন্ন ভার্সিটির মতই।

একজন ছাত্র ইচ্ছে করলে রেসিডেন্সি প্লাস পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করতে পারে। সেক্ষেত্রে, তাকে কিছু অতিরিক্ত শর্ত পূরণ করতে হয় (যেমন: রিসার্চ-এ অংশগ্রহন করার অভিজ্ঞতা)।

কানাডার ডাক্তারদের ৫ বছর পর পর রিসার্টিফিকেশন করতে হয়। এটি পরিচালিত হয় মেইনটেনেন্স অব সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম দ্বারা, যা কন্টিনিউইং মেডিকেল এডুকেশন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভূক্ত। রিসার্টিফিকেশনের জন্য একজন ফিজিশিয়ানের কার্যাবলী আপডেট রাখতে হয় এবং একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রেডিট অর্জন করতে হয়। (উল্লেখ্য, এই প্রবন্ধে উল্লিখিত সবগুলো দেশেই এই নিয়ম বিভিন্ন মাত্রায় চালু আছে।)

যুক্তরাস্ট্র বাদে অন্যান্য দেশের ডাক্তারদের কানাডায় চিকিৎসক হতে হলে প্রথম শর্ত হল, কানাডার সিটিজেনশিপ থাকা বা পারমানেন্ট রেসিডেন্ট হওয়া বা ওয়ার্ল্ড হেল্দ অর্গানাইজেশন রেফুজি হিসেবে কানাডায় থাকা। দ্বিতীয় শর্ত হল, যে দেশ থেকে মেডিকেল সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেছে সে দেশে প্র্রাইমারী ল্যাঙ্গুয়েজ ইংলিশ হওয়া অথবা সেটা না হলে আইইএলটিএস-এর চারটি ধাপের প্রত্যেকটিতে স্কোর কমপক্ষে ৭ থাকা। এই শর্তগুলো পূরণ হলে একজন মেডিকেল গ্রাজুয়েট এম,সি,সি,ই,ই (তথা মেডিকেলে কলেজ অব কানাডা ইভ্যালুয়েটিং এক্সাম) পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারবে। পরীক্ষাটির সেন্টার ইণ্ডিয়ায় আছে, বাংলাদেশে কানাডা এমবেসি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার সেন্টারও বন্ধ হয়ে গেছে। এই পরীক্ষায় পাশ করলে ন্যাশনাল এসেসমেন্ট কোলেবোরেশন অবজেক্টিভ স্ট্রাকচারড ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন (সংক্ষেপে এন,এ,সি-ও,এস,সি,ই)পরীক্ষা দিতে হয়। এই পরীক্ষাটি ইন্টারন্যাশনাল গ্রাজুয়েটদের এসেস করার জন্যই আয়োজন করা হয়। এই পরীক্ষাটি দিতে হয় কানাডায়।

এরপর আসে রেসিডেন্সি ম্যাচিং-এর পালা। রেসিডেন্সি ম্যাচিং-এ আবেদন করার আগে ক্লিনিক্যাল এসেসমেন্ট প্রোগ্রাম-এ অংশ নিলে, ম্যাচ করার সম্ভাবনা বাড়ে। এই প্রোগ্রামে একজন ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল গ্রাজুয়েট (আইএমজি)-কে হাসপাতালে একজন চিকিৎসকের তত্বাবধানে আট সপ্তাহের জন্য নিয়োগ দেয়া হয় এবং তার কাজের উপর স্কোরিং করা হয়। অত:পর রেসিডেন্সির জন্য এপ্লাই করতে হয়। রেসিডেন্সি ম্যাচ হলেই কেবল রেসিডেন্সি ট্রেইনিং-এ প্রবেশ করা যায়।

যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যে মেডিকেল সায়েন্সের ডিগ্রী মূলত এম,বি,বি,এস । তবে ইনস্টিটিউট ভেদে এই ডিগ্রী বিভিন্ন নাম ধারণ করতে পারে, যেমন: এম,বি,সিএইচ,এস; এম,বি,বি,সিএইচ ইত্যাদি । এম,বি,বি,এস পাঁচ বছরের কোর্স। তবে কোন কোন মেডিকেল স্কুল এখন চার বছরের এম,ডি ডিগ্রীও দিয়ে থাকে। মান এবং কারিকুলাম একই। তবে চার বছরের কোর্সে স্বাভাবিকভাবেই চাপ বেশী। আমেরিকা-কানাডার মত মেডিকেলে ভর্তির জন্য গ্র্যাজুয়েশন থাকা জরুরী নয়। বরং, হাইয়ার সেকেণ্ডারী এডুকেশন পার করার পর পরই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (ইউনাইটেড কিংডম ক্লিনিক্যাল এপটিচুড টেস্ট অথবা বায়োমেডিকেল এডমিশন টেস্ট)দেয়া যায়। এম,বি,বি,এস-এর পাঁচ বছর সময়কালকে আগে প্রি-ক্লিনিক্যাল এবং ক্লিনিক্যাল এই দু’ভাগে ভাগ করা হত। প্রি-ক্লিনিক্যাল ছিলো পুরোপুরি লেকচারভিত্তিক এবং সাবজেক্টভিত্তিক(অর্থাৎ এনাটমি, ফিজিওলজি.. এভাবে)। ক্লিনিক্যাল-এর সময় ছাত্রদের লেকচারভিত্তিক এবং রোগীভিত্তিক শিক্ষা দেয়া হতো। তবে, এখন প্রায় প্রতিটি স্কুলে এই পদ্ধতি পরিবর্তন করে, শরীরের বিভিন্ন তন্ত্র(সিস্টেম)-ভিত্তিক কারিকুলাম সেট করা হচ্ছে এবং সেই সাথে ‘প্রবলেম বেজড লার্নিং’ পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। এ কারণে বিভিন্ন ভার্সিটিতে পাঁচ বছর সময়কালকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা হয়েছে। কোন স্কুলে এক-তিন-এক বছর, কোন স্কুলে দুই-দুই-এক বছর ইত্যাদি।

এম,বি,বি,এস শেষ করার পর একজন ছাত্রকে দুই বছর মেয়াদী ‘ফাউণ্ডেশন ইয়ার’-এ প্রবেশ করতে হয়। এক বছর ইন্টার্ণশিপ (যাকে পোস্ট গ্রাজুয়েশন ইয়ার এক বলে) এবং এক বছর রেসিডেন্সি (যাকে পোস্ট গ্রাজুয়েশন ইয়ার দুই বলে)। রেসিডেন্সি শেষ করার পর একজন যদি জেনারেল প্র্যাকটিশনার(জি,পি)হতে চায়, তাকে জেনারেল প্র্যাকটিস-এ আরও তিন বছরের পোস্টগ্রাজুয়েশন ট্রেইনিং নিতে হয়। আর যারা অন্য কোন স্পেশালিটিতে যাবে তাদের বিষয়ভেদে কমপক্ষে পাঁচ বছরের মত অতিরিক্ত ট্রেইনিং নিতে হয়। ট্রেইনিং প্রক্রিয়াটি সুনির্দিষ্ট নিরিক্ষাপদ্ধতির মধ্য দিয়ে যায়। ট্রেইনিং শেষে একজন কনসালটেন্ট হিসেবে গন্য হয় এবং তারপরেই কেবল স্বাধীনভাবে প্র্যাকটিস করার জন্য সার্টিফিকেট পেতে পারে।

ইউরোপিয়ান ওয়ার্কিং টাইম ডাইরেকটিভ (ই,ডাব্লিউ,টি,ডি) ইউরোপে একজন জুনিয়র ডাক্তারের কর্মঘন্টা নির্ধারণ করে দিয়েছে সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টা। কিন্তু এটি নিয়ে হাসপাতাল কতৃপক্ষের আপত্তি আছে। পূর্বে জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিল (জি,এম,সি) কর্তৃক নির্ধারিত ওয়ার্কিং আওয়ার ছিল ৫৬ ঘন্টা, কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে ইণ্টার্ণদের ডিউটি আওয়ার সপ্তাহে ১০০ ঘন্টাও ছাড়িয়ে যেত। ই,ডাব্লিউ,টি,ডি নির্ধারণের পরে জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মঘন্টা কমিয়ে ৪৮ ঘন্টা করা হয়।

ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল গ্রাজুয়েটদের যুক্তরাজ্যে লাইসেন্স পেতে হলে প্রথম ধাপ হল- প্রফেসনাল এণ্ড লিঙ্গুইস্টিক এসেসমেন্ট বোর্ড (সংক্ষেপে পি,এল,এ,বি বা প্ল্যাব) পরীক্ষা দিতে হবে। প্ল্যাব পরীক্ষার প্রথম পত্র বাংলাদেশ থেকে দেয়া যায় এবং দ্বিতীয় পত্রটি (প্র্যাকটিকেল এসেসমেন্ট)ইংল্যাণ্ডে গিয়ে দিতে হয়।

প্ল্যাব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে একজন ট্রেইনিং-এর জন্য আবেদন করতে পারে। যুক্তরাজ্যে ম্যাচিং প্রোগ্রাম জাতীয় কোন প্রক্রিয়া নেই। স্বাভাবিক ভাবেই অতিরিক্ত যোগ্যতা থাকলে ট্রেইনিং-এ চান্স পাওয়া সহজ হয় (যেমন: যুক্তরাজ্যের পরিচিত ডাক্তার থেকে রিকমেণ্ডেশেন লেটার)।

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার মেডিকেল ডিগ্রী প্রধানত এম,বি,বি,এস। তবে, কোন কোন মেডিকেল স্কুল এম,ডি ডিগ্রীও দেয়। স্কুল ভেদে মেয়াদকাল চার থেকে ছয় বছর। মেডিকেল স্কুলে চান্স পেতে হলে দুটো পথ আছে। কলেজ (অর্থাৎ সেকেণ্ডারী স্কুল) পেরিয়ে ঢুকতে হলে আন্ডারগ্রাজুয়েট মেডিকেল এডমিশন টেস্ট (ইউ,জি,এম,টি) এবং গ্রাজুয়েট হয়ে ঢুকতে গ্রাজুয়েট মেডিকেল এডমিশন টেস্ট (জি,এম,এ,টি) দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। মেডিকেল কারিকুলাম যুক্তরাজ্যের মতই। তবে অস্ট্রেলিয়ায় একটি সুবিধে হল অন্যান্য দেশের মত জেনারেল প্র্যাকটিশনার হতে হলে রেসিডেন্সি ট্রেইনিং জরুরী নয়। বরং এক বছর ইন্টার্ণশিপ শেষে স্বাধীনভাবে জেনারেল প্র্যাকটিস করার সুযোগ পাওয়া যায়। কেউ যদি স্পেশালিটিতে ক্যারিয়ার করতে আগ্রহী হয়, তাকে রেসিডেন্সি ট্রেইনিং-এর জন্য এপ্লাই করতে হবে। উল্লেখ্য যে, যুক্তরাজ্যের মত এখানেও কোন রেসিডেন্সি ম্যাচিং প্রোগ্রাম নেই।

বাংলাদেশের তরুণ ডাক্তারদের মধ্য থেকে যারা অস্ট্রেলিয়া যেতে আগ্রহী তাদেরকে প্রথমেই এ,এম,সি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে হবে।(উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় রেজিস্ট্রেশন পেতে কয়েকটি পাথওয়ে আছে। তন্মধ্যে, বাংলাদেশী তরুণ ডাক্তারদের জন্য কেবল স্ট্যাণ্ডার্ড পাথওয়ে প্রযোজ্য। এজন্য এখানে স্ট্যাণ্ডার্ড পাথওয়েটাই সংক্ষেপে বলা হল।) এ,এম,সি তথা অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল কাউন্সিল দু’টো ভাগে পরীক্ষাটি নেয়। প্রথমটি মাল্টিপল চয়েজ কোয়েশ্চেন যার নাম সি,এ,টি এম,সি,কিউ এক্সামিনেশন। এটি পাশ করলে পরের পার্টটি দুই ভাবে দেয়া যায়- ‘এ,এম,সি ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন’ অথবা ‘ওয়ার্কপ্লেস বেজড এসেসমেন্ট’। প্রথম পার্টের সেন্টার ইণ্ডিয়ায় আছে (কোলকাতায় নেই)। দ্বিতীয় পার্ট অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েই দিতে হয়। যারা ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন দিবেন তাদের পরীক্ষা এক দিনে সম্পন্ন হয়। আর, যারা ওয়ার্কপ্লেস বেজড এসেসমেন্ট-এ অংশ নেবেন তাদেরকে এএমসি পার্ট ওয়ান পাশ করার পর মেডিকেল বোর্ড অব অস্ট্রেলিয়া থেকে লিমিটেড রেজিস্ট্রেসন অর্জন করতে হবে। এরপর নিজ দায়িত্বে (অর্থাৎ সিভি সাবমিট করে, সরাসরি যোগাযোগ করে বা অন্য কোন উপায়ে) অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল কাউন্সিল অনুমোদিত কোন হাসপাতালে জব নিতে পারলে, কাউন্সিল বরাবর এপ্লিকেশন করে ওয়ার্কপ্লেস বেজড এসেসমেন্টের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।

এএমসি পাশ করার পর টিচিং হাসপাতালে ইণ্টার্ণশিপের জন্য আবেদন করতে হবে। লক্ষ্যনীয় যে, বাইরের মেডিকেল গ্রাজুয়েটদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ইণ্টার্ণশিপের পজিশন আগের চেয়ে অনেক কমিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে, পজিশনের জন্য প্রতিযোগীতা বেড়ে গেছে। ইণ্টার্ণশিপ শেষ হলে প্র্যাকটিস-এর লাইসেন্স পেতে আবেদন করতে হয়ে। কিন্তু, লাইসেন্স পাওয়ার অন্যতম আরেকটি শর্ত হল- পারমানেন্ট রেসিডেন্সি থাকা। অস্ট্রেলিয়ার স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার লিস্টে চিকিৎসক না থাকায়, রেসিডেন্সির পাওয়ার একমাত্র উপায় হল ইন্টার্ণশিপ শেষে আবেদন করা। লক্ষ্যনীয়, রেসিডেন্সির আবেদনের ক্ষেত্রে ভিসার রকমভেদে অতিরিক্ত শর্তাবলী আছে। সুতরাং, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক বিয়ে করার চেয়ে সহজ কোন উপায় এ পথে নেই।

নিউজিল্যাণ্ডে আই,এম,জি-দের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া অস্ট্রেলিয়ার মতই।

পরিশেষে

এ লেখার মধ্য দিয়ে যুক্তরাস্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মেডিকেল পড়াশোনা সম্পর্কে আমরা সংক্ষেপে জানতে পারলাম। তবে বেশ কিছু জিনিস এই আর্টিকেলে ওঠে আসেনি, যেমন: মেডিকেল স্কুলে পড়ার বিশাল খরচ, ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল গ্রাজুয়েটদের প্রয়োজনীয় ধাপগুলোতে খরচ, ভিসা নিয়ে আলোচনা ইত্যাদি। তারপরও, প্রবন্ধটি পাশ্চাত্যের মেডিকেল পড়ালেখা সম্পর্কে অনেকের কৌতুহল কিছুটা হলেও মেটাতে পারবে বলে আশা রাখছি।


........লিখেছেন - ডাঃ আব্দুল্লাহ সায়ীদ খান 







----
লেখাটি তৈরী করতে যে ওয়েবসাইটগুলোর সাহায্য নেয়া হয়েছে:
১. http://en.wikipedia.org/wiki/Medical_education_in_the_United_States
২. http://en.wikipedia.org/wiki/Medical_school_in_Canada
৩. http://en.wikipedia.org/wiki/Medical_education_in_the_United_Kingdom
৪. http://en.wikipedia.org/wiki/Medical_education_in_Australia
৫. http://en.wikipedia.org/wiki/Medical_school_in_the_United_States
৬. http://en.wikipedia.org/wiki/Medical_school_in_the_United_Kingdom
৭. http://en.wikipedia.org/wiki/Residency_(medicine)
৮. http://www.usmle.org/
৯. http://imgbc.med.ubc.ca/path-to-residency/
১০. http://www.gmc-uk.org/
১১. http://www.amc.org.au/
১২. http://people.howstuffworks.com/becoming-a-doctor12.htm)
১৩. http://www.telegraph.co.uk/health/healthnews/10741905/EU-rules-on-doctors-working-hours-puts-patients-at-risk-report-finds.html

শুক্রবার, ২ মে, ২০১৪

ভুল বুঝাবুঝির অবসান হউক......

ভুল বুঝাবুঝির অবসান হউক......

ভুল বুঝাবুঝির অবসান হউক..
কিছুদিন আগে আমাদের এক বাংলাদেশী মেয়ের ফিবুলা ফ্র্যাকচার হলো, অপারেশনের খরচ পড়ল ৩০,০০০ইউয়েন (বাংলাদেশী টাকায় ৪ লক্ষ টাকা প্রায়)। এরপর কেরালার এক ছাত্রের ফিমার ভাংলো, অপারেশনের খরচ পড়ল ৫০,০০০ইউয়েন (বাংলাদেশী টাকায় ৬ লক্ষ ৭৫হাজার টাকা প্রায়)। এরা দু'জনেই আমাদের মেডিকেলের স্টুডেন্ট।

আর অপারেশন হয়েছে আমাদের মেডিকেলেই। যারা বাংলাদেশে চিকিতসা করান বা করেন, তারা বলুনতো, আমাদের দেশে এই অপারেশনে কতো খরচ হয়? আমি যখন সিআরপিতে ছিলাম, বছর দু’য়েক আগের কথা বলছি, তখন প্রথমটার জন্য নিতাম ১০,০০০টাকা, আর পরেরটার জন্য নিতাম ১৫,০০০-১৮,০০০টাকা।তুলনা করে বলুন, যে দেশে চিকিতসার খরচ এত কম, অথচ মানের দিক থেকে তেমন হের-ফের নেই, সেখানে ডাক্তারদের বেতন এত কম কেনো? উত্তর হতে পারেঃ হাসপাতালের ইনকাম কম, তাই বেতন কম। বেশ, তবে চিকিতসার খরচ বাড়িয়ে দেয়া হউক, ডাক্তারের বেতনও বেড়ে যাবে।কিন্তু আমরা ডাক্তাররা তা চাইনা।এটা সঠিক সমাধান নয়।পড়ালেখার জটিল সিস্টেম, অর্থনৈতিক চাপ আর কাজের গুরুভারে ন্যুযমান ডাক্তারকে যদি তার পেশার গুরুত্ব অনুযায়ী সম্মান ও সম্মানী দেয়া হয়, তবে তার জন্য ঠান্ডা মাথায় সেবা দেয়া সহজ হয়ে যাবে।প্বার্শবর্তি রাষ্ট্র ভারতের একজন সদ্য পাশ করা ডাক্তার যেখানে ৪০,০০০রুপি (বাংলাদেশী টাকায় ৬০,০০০হাজার টাকা প্রায়) বেতন পায়, সেখানে আমার দেশের ডাক্তার কেনো ১৫-২০,০০০টাকা পাবে?আমার সাথে এখানে নেপালের একজন ডাক্তার এমডি করছেন, উনি বাংলাদেশ রাজশাহী মেডিকেল থেকে এমবিবিএস পাশ করেছেন।উনি বললেন, নেপালের স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয় বাংলাদেশের এমবিবিএস ডিগ্রীকে ভারত-পাকিস্থানের চেয়েও অধিক কদর করে, কারন, বাংলাদেশের মেডিকেলের পড়ার মান ওই দুই দেশ থেকে অনেক ভালো।
নিজের কথাই বলিঃ আমি এখানে এমএস করতে এসেছি, ইউনিভার্সিটি আমাকে বিদেশী এমবিবিএস ছাত্রদের ক্লাশ নেবার দায়িত্ব দিয়েছে, দেশের পড়ার মান খারাপ হলে নিশ্চয়ই এ দায়িত্ব পেতাম না।আর আমাদের ইউনিভার্সিটিও চীনের মধ্যে অন্যতম সেরা ও বড়।
আমাদের স্যার বলতেন, রুগীকে যখন চিকিতসা দেও, মনে রাখবা,এরা তোমার বাবা-মা, ভাই-বোনের মতোই।আমার মনে হয় একথা শুধু আমার না, সব ডাক্তারেরই মনে বাজে, সেবা দানের সময় মনে থাকে।
তখন ইন্টার্নী করি সিলেট মেডিকেলে, এক রাতের বেলা সিএ-এর কল এলো, ইমাজেন্সী অপারেশন।বিয়ে করেই ইন্টার্নী শুরু করেছি মাত্র।স্ত্রীকে ঘরে একা রেখেই ছুটতে হলো রোগী বাঁচাতে…প্রচন্ড ঝড় তখন বাইরে…এখনো মনে পড়ে…।
আমি তখন শেরপুরে প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করি।আমার স্ত্রী সন্তান সম্ভবা।আর প্রথম মেয়ের বয়স দেড় হবে।রাত তিনটার সময়, দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ, ডাক্তার সাহেব আমার স্ত্রী অসুস্থ, আপনাকে যেতে হবে…হোন্ডায় করে শীতের রাতে দু’কিমি দুরে যাওয়া…ঘরে আমার অসুস্থ স্ত্রী…ছোট্ট মেয়েটা মায়ের সাথে একা।এমনতো একদিন নয়, প্রায় রাতই একই জিনিসের পুনরাবৃতি।
যেদিন সিআরপির চাকরী ছেড়ে দিলাম চীনে পড়তে আসবো বলে, রিসিপসনিস্ট আমিনুল ভাই জড়িয়ে ধরে বললেন, সাঈদ ভাই, আপনাকে ভুলবো না, কারন, আপনার রক্ত আমার শরীরে যে।মনে পড়ে গেলো, উনার হিপ প্রোস্থেসিস রিমুভ করার সময় যার রক্ত দেবার কথা ছিলো, উনি কি কারনে যেন রক্ত দিতে পারলেন না, কিন্তু রক্ত দরকার জরুরীভাবে, অপারেশনের পরপরেই।ডোনার না পাওয়ায়, অপারেশন শেষে আমাকেই দিতে হল এক ব্যাগ রক্ত, বলা বাহুল্য অপারেশনে তিন সার্জনের মধ্যে আমিও ছিলাম একজন।
নিজের প্রচার না, নিজের ঢাক নিজে বাজানো না, আমার বিশ্বাস আমার ডাক্তার সহকর্মীরা একইভাবে রুগীর সেবা দিয়ে যান নিরবে, নিরলসভাবে।উত্তম কুমারের “অগ্নিস্বর” চলচিত্রটা আমাদের ডাক্তারী জীবনের বড় কাছ থেকে নেয়া। দেখেছেন কী? ডাক্তাররা বাহবা চায় না, কিন্তু তাই বলে লাঞ্ছনা তো তার প্রাপ্য হতে পারে না।
হাতের পাঁচ আংগুল যেমন সমান নয়, তেমনি সব পেশাতেই ভালো-মন্দ থাকে।আইনের উর্ধে কারো থাকা উচিত নয়, আর আইন নিজের হাতে তুলে নেয়াও উচিত নয়।আমি অহংকারী নই, কিন্তু ডাক্তারী পেশা আমার অহংকার। কারন, এপেশার কারনেই আমি মানুষের জন্য তার অজান্তে যা করতে পারি, তা অন্য পেশায় কখনোই সম্ভব না। দেশে সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে ডাক্তারদের সামগ্রিক অবমুল্যায়ন তাই সত্যিই কষ্ট দেয়।
মনে আছে কি, একজন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার কেভিন কার্টার ১৯৯৩সালের সুদানের দুর্ভিক্ষের এক ছোট্ট মেয়ের ছবি তুলে পুলিতজার পুরষ্কার পেয়েছিলেন।মেয়েটা প্রচন্ড দুর্বলতার জন্য ফিডিং সেন্টারের কাছে যেতে পারছিলো না, তার কিছু দুরেই ছিলো এক বিশাল শকুন।ছবিটা ছাপানোর পরেই হাজার হাজার মানুষ ঐ মেয়েটার কি হয়েছিল তা জানতে চায়।কেভিন তার জবাব দিতে পারে নাই।মানুষ তাকে ধিক্কার দিয়েছিলো এইজন্য যে, সে মেয়েটাকে তুলে নিয়ে ফিডিং সেন্টারে কেনো দিলো না। খ্যাতির জন্য মানবতার বিসর্জন কেন?পুলিতজার পুরষ্কারের ৩ মাস পরেই তাই কেভিন নিজের কৃতকর্মের দায় সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেন।যারা নিজেদের সংবাদপত্রের কাটতির জন্য “ভুল চিকিতসায় রোগীর মৃত্যু” লিখে অপপ্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছেন, ডাক্তার-রোগীর সুসম্পর্কের মধ্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছেন, দেশের সুস্থ পরিবেশকে বিষাক্ত করার চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য কি কেভিন-এর ঘটনা যথেষ্ট নয়?
সমাজে কিছু লোক আছে যারা নিজের ছাড়া অন্যের ভালো বুঝতে চায় না।নিজের জন্য অন্যের ক্ষতি করতেও দ্বিধা করে না।এদের সংখ্যা কখনোই বেশী নয়, এরা সমাজের কীট, আর এই কীটগুলো সমাজে সবসময়ই কিছুটা রয়ে যাবে।তবে, এদের ব্যাপারে দেশের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।সিদ্ধান্তে এক থাকতে হবে।আমরা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। আমাদের এই চাওয়ায় কেউ ভুল বুঝুক- এ আমরা চাইনা; আমাদের এই চাওয়ায় কেউ বাঁধা হউক-আশা করি দেশের মানুষও এটা চাইবে না।




Neurosurgeon Dr Sayeed Uddin from China wrote this post--
... all medical students & doctors must read it and share.
From 1st Affiliated Hospital, Zhengzhou University, China.

শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

...জন্ম , মৃত্যু, বিয়ে  :P   এই  তিন  নিয়ে  ভাগ্যের ইয়ে ( খেলা) ....

...জন্ম , মৃত্যু, বিয়ে :P এই তিন নিয়ে ভাগ্যের ইয়ে ( খেলা) ....

...জন্ম , মৃত্যু, বিয়ে  :P   এই  তিন  নিয়ে  ভাগ্যের ইয়ে ( খেলা) ....
যদিও মাসটা ভালোবাসার  :3  মাস,
মায়ের ভাষায় কথা বলার মাস ,
তবুও বলবো কিছু মানুষের  জন্য
এই  মাসটা  একটা    বদ মাস । :P





তার   ১ নং কারণ হলো ,
যারা ২৯ তারিখ  জন্ম  নিয়েছেন ,
তাদের কি হবে  ???
তারা তো প্রতিবছর বার্থডে (  জন্মবার্ষিকী ) পালন করতে পারবে  না ।
অপেক্ষা করা  লাগবে ৪ টি বছর । :P

২. যারা বিবাহ নামক ম্যারেজ   এনেভার্সারী  পালন করে ,
তাদের কি হবে ??
দীর্ঘ  ৪ টি বছর   হা'  :P  করে  তাকিয়ে থাকা ছাড়া কোনো উপায় আছে  ?

৩. যাদের  মৃত্যুবার্ষিকী ২৯ শে ফেব্রুয়ারী  তাদের আত্নার আত্নীয়দের সন্তুষ্টি করা কঠিন হবে !!
 মৃত্যুবার্ষিকী  স্মরণে মেজবানের   আয়োজনটা হয়ত !  হিজরী কিংবা বাংলা সনে করা লাগবে ?

জন্ম , মৃত্যু, বিয়ে    এই  তিন  নিয়ে   ভাগ্যের ইয়ে ( খেলা ) ।
কেবল  এই মাসটাই ভাগ্যের উপর খবরদারি করছে ।
ভাগ্যের নিয়ম থেকে বিচ্যুত হওয়ায়  এ মাসকে আমি বদমাস বললাম  !!

৭ ফেব্রুয়ারি= রোজ ডে !
৮ ফেব্রুয়ারি= প্রপোস ডে ।
৯ ফেব্রুয়ারি= চকলেট ডে ।
১০ ফেব্রুয়ারি= টেডি ডে ।
১১ ফেব্রুয়ারি= প্রমিস ডে ।
১৪ ফেব্রুয়ারি= হ্যাপি ভেলেন্টাইনস ডে.
২১  ফেব্রুয়ারী =  বিশ্ব মাতৃভাষা ডে ।
২৯ ফেব্রুয়ারী = ম্যাচেকার  ডে ।

ডাঃ স্বাধীন         ফেসবুকে আমি 


মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

Anatomy - এনাটমি মানেই যন্ত্রনা ..

Anatomy - এনাটমি মানেই যন্ত্রনা ..

সকাল ৮ টায় এনাটমি ক্লাস ,

তাই সকাল বেলা ঘুমানোর কোনো স্কোপই পাই নি,

ঘুম থেকে উঠেই এনাটমি বই বি ডি চুরাশিয়া, 



দত্ত, নীটার, কানিংহাম, অস্টিওলজি, লেং ম্যান, হিস্টোলজি, আরো কত বই !


সাথে যদি একটা মিনি ট্রাক থাকতো তবে,

গ্রেস এনাটমি বইটা প্রতিদিন নিয়ে যেতাম ।



এনাটমি মানেই যন্ত্রনা ..


নিষিদ্ধ ফরমালিনের গন্ধে,


সকালের নাস্তা যে কত মি
স করেছি,


তা কিভাবে বলি ?


ফরমালিনের জন্য ব্যাগে রাখতাম সেন্ট, টিস্যু পেপারস,


তাও কাজ করে না,


ভিসেরা ধরলে তো হাত,


জ্বলে পুড়ে চারখার,


হাত ধোয়ার জন্য সাবান


ব্যাগে না থাকলে খবরই ছিলো ।


এমন যন্ত্রনার স্মৃতি ভুলে যাওয়া সত্যিই দুরুহ ।



ডাঃ স্বাধীন         ফেসবুকে আমি