মেধাবী মুখ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মেধাবী মুখ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৫

মেধাবী বনাম নকলবাজ - মেডিকেল ভর্তি প্রশ্ন ফাঁস - মেধাবীদের গলায় ফাস !

মেধাবী বনাম নকলবাজ - মেডিকেল ভর্তি প্রশ্ন ফাঁস - মেধাবীদের গলায় ফাস !


মেয়েটি প্রতিবন্ধী বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। একটু বড় হওয়ার পর থেকে তার স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার। এসএসসি আর এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ ছিল। সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য কঠোর প্রস্তুতি ছিল। পরীক্ষার প্রশ্নও তার জন্য সহজ ছিল। কিন্তু সে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছেই বুঝে যায় হবে না তার।
পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে—এই গুঞ্জন তার কানে আগেই পৌঁছেছিল। পরীক্ষা শেষে দেখা গেল গুঞ্জন নয়, এটিই সম্ভবত সত্যি। তার কেন্দ্রেই কেউ কেউ আনন্দে উদ্বেল হয়ে আছে ১০০টির মধ্যে ১০০টি অবজেকটিভ প্রশ্ন কমন পড়েছে বলে। কীভাবে সম্ভব এটি? পরীক্ষাকেন্দ্রেই নির্দ্বিধায় বলাবলি হয়েছে যে প্রশ্ন পেয়েছিল কেউ কেউ পরীক্ষার আগে। ফেসবুকে সেই প্রশ্ন দেওয়া হয়েছিল। এবার আগেই ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পেয়ে উল্লসিত কারও কারও ফেসবুকের কথোপকথনের স্ক্রিনশট এল মেয়েটির প্রোফাইলে।
মেয়েটি আমার স্ত্রীর নিকটাত্মীয়। মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার স্বপ্নভঙ্গের পর সে কারও সঙ্গে কথা বলেনি। নিজের ফেসবুকে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়ে সে তার হাহাকারের কথা জানিয়েছে। তার প্রশ্ন: আগে প্রশ্ন পেয়ে নকলভাবে যারা পাস করেছে, তাদের কী অধিকার আছে ডাক্তারি পড়ার? মেয়েটি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার সময়ও প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল। এবারও এটি হওয়ার পর সে লিখেছে, এ দেশে পড়াশোনা করার ইচ্ছাই চলে গেছে তার!
এই মেয়েটির মতো লাখ লাখ তরুণ-তরুণীর স্বপ্ন হরণ করা হয়েছে এসএসসি, এইচএসসি, ভর্তি, নিয়োগের বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অজস্র ঘটনায়। বহুবার এ নিয়ে লেখালেখি হয়েছে, বহু প্রমাণ পেশ করা হয়েছে, বহু ধরনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিছুতেই সরকারের টনক নড়েনি। কিন্তু মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে এবার যা হলো—এত প্রমাণ, এত প্রতিবাদ আর এত লেখালেখি—তারপরও কি কিছুই হবে না?
আমরা কি তাহলে আমাদের সন্তানদের এই বার্তাই দিচ্ছি যে পড়াশোনা করে কোনো লাভ নেই, নিজের ভাগ্য গড়তে হলে জালিয়াতি করা শিখতে হবে? যারা জালিয়াতি করতে পারবে, তারাই ভালো জায়গায় পড়বে, ভালো চাকরি পাবে? যাদের জালিয়াতি করার বা অসৎ হওয়ার মানসিকতা বা রুচি নেই, তাদের বুকে রক্তক্ষরণ নিয়ে বাঁচতে হবে, হয়তো সারা জীবন এর মাশুল দিতে হবে নানাভাবে?
আর যারা বিভিন্ন পরীক্ষায় জালিয়াতি করেছে বা করবে, তাদের পাপের মাশুল দিতে হবে গোটা জাতিকে। যদি ১০০ জনের মধ্যে অর্ধেকও হয় এমন, তাহলে এরা কর্মজীবনে প্রবেশ করতে করতে নিজেরাই বড় জালিয়াত আর দুর্নীতিবাজ হয়ে উঠবে। অন্তত তা হওয়ার প্রণোদনা পাবে। মেধা নয়, জালিয়াতি আর চৌর্যবৃত্তিকে এভাবে পুরস্কৃত করে আমরা এ কোন অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছি আমাদের তরুণ সমাজ আর দেশকে?
২.
আমাদের প্রথমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। আবার তিনিই বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নগুলো ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্ন কি না, তা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে খতিয়ে দেখা হয়নি। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, খতিয়ে দেখার আগে উনি প্রশ্ন ফাঁস হয়নি এই দাবি করেন কীভাবে? প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে—এমন অভিযোগকে অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা প্রয়োগের জন্য এত দক্ষতা সরকারের যেসব এজেন্সি দেখাতে পারে, তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের নমুনা পাচ্ছে না, তা তো হতে পারে না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা অবশ্যই সরকারের জানার কথা। প্রশ্নপত্র ফাঁস তাই বলে শিক্ষামন্ত্রী বা অন্য কোনো মন্ত্রীর নির্দেশে হতে পারে না। প্রশ্নপত্র ফাঁস রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেও হতে পারে না। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো বেপরোয়া অন্যায় করতে হলে সরকারের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের কারও কারও সঙ্গে যোগসাজশ থাকাটা অস্বাভাবিক নয়।
আমাদের মনে আছে, ১৮ সেপ্টেম্বর মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের দপ্তর থেকে কমিশনের সহকারী পরিচালক ওমর সিরাজ, জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের ভান্ডাররক্ষক রেজাউল করিম ও তাঁদের সহযোগী ঈশান ইমতিয়াজকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যা ব। তখন র্যা ব জানিয়েছিল যে এই চক্রটি মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় পাস করিয়ে দিতে ১৫ লাখ টাকা, জুডিশিয়াল সার্ভিসে নিয়োগ দিতে ১০ লাখ টাকা এবং কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য ছয় লাখ টাকা করে নিত।
র্যা ব তখন দাবি করেছিল, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ওই চক্রটির মূল হোতা ওমর সিরাজ। র্যা বের হেফাজতে থাকা অবস্থায় ৩ অক্টোবর তিনি মারা যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই এখন প্রশ্ন উঠছে, এটি কেন ঘটল? ওমর সিরাজের বিচারকাজ সম্পন্ন হলে ভুয়া প্রশ্নপত্র তৈরি বা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলো সম্পর্কে অনেক প্রমাণিত তথ্য পাওয়া যেত। এমন একজন ব্যক্তি র্যা বের রিমান্ডে থাকা অবস্থায় মারা যাওয়ায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত অন্যদের নাম জানার সুযোগ থাকল না। এই মৃত্যু স্বাভাবিক কারণেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্মমতাও বিস্ময়কর। এই প্রতিবাদকারীরা সরকারের পতন চায়নি, সরকারবিরোধী কোনো স্লোগান দেয়নি। তারা শুধু তদন্ত আর পুনরায় পরীক্ষার দাবি জানিয়েছে। এই দাবির উত্তর কি রাইফেলের বাঁট দিয়ে নির্মমভাবে পেটানো আর মেয়েদের চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া হওয়া উচিত? তাহলে কি এমন কিছু ক্ষমতাধর ব্যক্তি এতে জড়িত যে কোনো সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠলে যেভাবেই হোক তার কণ্ঠরোধ করতে হবে?
আমাদের শিক্ষামন্ত্রী একবার বলেছিলেন যে প্রশ্নপত্র ফাঁস সরকারের জীবন-মরণ সমস্যা। যদি তা-ই হয়, তাহলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের জোরালো অভিযোগ উঠেছে এমন একটি পরীক্ষাও বাতিল করা হয়নি কেন? কেন বছরের পর বছর ধরে এর কোনো প্রতিকার হচ্ছে না? কেন প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বহু প্রস্তাব থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি? জামিলুর রেজা চৌধুরী, জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবালসহ বহু বরেণ্য ব্যক্তি প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নানা প্রস্তাব বিভিন্ন সময়ে দিয়েছেন। এসব প্রস্তাব পরীক্ষা করে দেখা দূরের কথা, প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে আন্তরিক ও অর্থবহ কোনো পরামর্শসভাও সরকারকে আমরা আহ্বান করতে দেখিনি।
৩.
প্রশ্নপত্র ফাঁসের পাশাপাশি সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় নানা বৈষম্যের অভিযোগ আমরা অনেক দিন ধরে শুনে আসছি। বিএনপি-জামায়াত আমলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা মৌখিক পরীক্ষাকালে বৈষম্যের শিকার হতেন বলে অভিযোগ ছিল। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এমন বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ শোনা যায়। এ ছাড়া প্রতিটি রাজনৈতিক সরকারের আমলে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের প্রতি অবিচারের অভিযোগও বহু পুরোনো। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, এসব বৈষম্যের সংস্কৃতি এখন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়কে ছাড়িয়ে প্রায় সর্বজনীন হতে চলেছে। অন্ধ দলীয়করণ ও দুর্নীতির প্রকোপে সাধারণ নির্বিরোধী তরুণ সমাজও এখন নানা অনিশ্চয়তার বলি হচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে বলছি, কিছুদিন আগে বিসিএস পরীক্ষার ফলাফল বেরিয়েছিল। এই পরীক্ষার জন্য প্রায় আড়াই বছর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন ছাত্রছাত্রীরা। নানা ধাপের পরীক্ষা শেষে লিখিত পরীক্ষার ফল যখন বের হলো, দেখা গেল মেধা আর কোটায় উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের আলাদা করার কোনো উপায় নেই। কোটাধারীদের উৎপাতে এমনি সরকারি চাকরিতে মেধাবীদের ঢোকার সুযোগ সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। মেধা আর কোটার আলাদা তালিকা না থাকার কারণে এবার আর বোঝারই উপায় রইল না যে আসলে মেধাবীদের ঠিক কতটুকু সুযোগ দেওয়া হলো, আর কতটুকু কোটার নামে পছন্দের প্রার্থীদের চাকরিতে ঢোকানোর জন্য রাখা হলো। পিএসসিকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তারা জানাল যে তাড়াহুড়া করে রেজাল্ট প্রস্তুত করার কারণে আলাদা কোনো তালিকা তৈরি করা যায়নি!
এত বড় খামখেয়ালিপনা নিয়ে তেমন কোনো উচ্চবাচ্য হলো না দেশে। সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় নন-ক্যাডার নামের যে ধোঁয়াশা তৈরি করা হয়েছে, তার অস্বচ্ছতা নিয়েও কথা বলি না আমরা। অথচ ভুক্তভোগীরা জানেন এসবের কত যন্ত্রণা। আমাকে একজন মেইল করেছেন। তাঁর কথাই তুলে ধরছি: ‘কত নির্ঘুম রাত, কষ্ট, পরিশ্রম আর সাধনার ছিল ৩৪তম বিসিএস। ২৯ আগস্ট রাত ৯টায় আমাদের সেই সাধনা, কষ্ট আর অমানুষিক পরিশ্রম নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করা হলো। নন-ক্যাডার নামক প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ করা হলো ৬১৮৫ জন মেধাবীর সঙ্গে। প্রিলি, রিটেন, ভাইভা পাস, কিন্তু পদ স্বল্পতার কারণে চাকরি নেই। তাহলে ২.৫ বছর আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিল কেনো? পদ স্বল্পতা বলছে অথচ রেজাল্ট নিয়ে কি কারচুপি হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মেধা আর কোটা আলাদা না করে মনগড়া রেজাল্ট দিয়েছে!’
হতে পারে এসব অভিযোগে অতিশয়োক্তি রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের বা নিয়োগ দুর্নীতির কিছু অভিযোগ সত্যি না–ও হতে পারে। কিন্তু ১০টি পরীক্ষার মধ্যে সাত–আটটিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে বাকিগুলোতেও ফাঁস হয়েছে—এই আশঙ্কা জাগাই স্বাভাবিক বঞ্চনাবোধ রয়েছে এমন তরুণদের মধ্যে।
এমন বঞ্চনাবোধ দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণের মধ্যে হতাশাবোধ জাগাচ্ছে। অন্যদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নানা অনিয়মের সুবিধাপ্রাপ্ত অংশের মধ্যে নৈতিকতাবোধের মারাত্মক সংকট তৈরি করছে। এই পরিস্থিতির অবসান ঘটানো অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। আর এ জন্য পদক্ষেপের সূচনা হতে পারে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে তদন্ত করা এবং অন্তত উত্তীর্ণ ও অপেক্ষমাণ তালিকাভুক্তদের পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়ে।
মূল কথা হচ্ছে, একটা কিছু সরকারকে করতেই হবে। ভর্তি, নিয়োগ আর স্কুল সমাপনী পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ও নানা দুর্নীতির অভিযোগ একটি জাতি অনাদিকাল বহন করতে পারে না।

লেখা - আসিফ নজরুল: 
অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
সূত্র - দৈনিক প্রথম আলো  ০৭.১০.২০১৫

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

এসব ডাক্তারদের অবদান তুলে ধরার কেউ নেই....

এসব ডাক্তারদের অবদান তুলে ধরার কেউ নেই....


আপনার জন্ম যদি ১৯৯২ সালের পর হয়ে থাকে
এবং শিশু অবস্থায় ছোট-খাট জ্বর হবার পর জ্বর
কমানোর ঔষধ সেবন করেও আপনি যদি বেঁচে
থাকেন, তাহলে আপনার বেঁচে থাকার
পেছনে এই মানুষটার সামান্য অবদান থাকার
সম্ভাবনা রয়েছে। যাদের সন্তান বা ছোট
ভাইবোন ঐ সময়ের পর জন্মগ্রহণ করেছেন,
তাদের জন্যও এই কথাটা প্রযোজ্য।

বাংলাদেশে শিশুদের জ্বরের ঔষধ
হিসেবে প্যারাসিটামল সিরাপ প্রচলিত।
১৯৯২ সাল পর্যন্ত বেশ কিছু কোম্পানীর
প্যারাসিটামল সিরাপের মধ্যে বিষাক্ত
একটি উপাদান ছিল যার কারণে অনেক শিশু
প্যারাসিটামল সিরাপ গ্রহণের পর কিডনি
রোগে মারা গেছে। ডা. হানিফ সর্ব প্রথম
প্যারাসিটামল সিরাপের মধ্যে এই
বিষাক্ত উপাদানটি সনাক্ত করেন এবং এর
কারণে শিশুদের কিডনি রোগে মৃত্যুর কারণ
নির্নয় করেন।

১৯৮২ সালে ডা. হানিফ তৎকালীন পিজি
হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় শিশুদের
কিডনি ডায়ালাইসিস বিভাগে দায়িত্ব
পালনের সময় লক্ষ্য করেন যে অনেক শিশু
কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার
জন্য আসছে এবং তাদের সবাই শেষ পর্যন্ত
মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। বিষয়টির কারণ তখন
তিনি বা হাসপাতালের কোন ডাক্তারই
ধরতে পারেন নি। কিছুদিন পর তিনি উচ্চ
শিক্ষার্থে বিদেশে চলে যান। এর পর ৯০
সালের দিকে দেশে ফিরে এসেও তিনি
একই অবস্থা দেখতে পান। বিষয়টি তাঁকে
বিচলিত করে এবং বিস্তারিত অনুসন্ধান
করে দেখতে পান যে, এই কিডনি
রোগাক্রান্ত শিশুদের সবাই জ্বরে আক্রান্ত
হয়ে প্যারাসিটামল সিরাপ গ্রহণ করেছিল।
ডা. হানিফ বেশ কয়েকটি ঔষধ কোম্পানীর
তৈরী প্যারাসিটামল সিরাপ যুক্তরাষ্ট্রে
পরীক্ষার জন্য পাঠান এবং দেখতে পান যে,
কয়েকটি কোম্পানীর প্যারাসিটামল
সিরাপে বিষাক্ত ডাই-ইথিলিন গ্লাইকোল
রয়েছে যে কারণে শিশুদের কিডনি বিকল
হয়ে তারা মারা যাচ্ছে। তৎকালীন পিজি
হাসপাতাল বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করে
দেখতে পায় কেবলমাত্র ১৯৮২ থেকে ১৯৯২
সময়কালে ঐ হাসপাতালেই প্রায় ২৭০০ শিশু
কিডনি বিকল হয়ে ডায়ালাইসিস করতে
এসে মৃত্যুবরণ করেছে। অন্যান্য হাসপাতালের
পরিসংখ্যান এবং হাসপাতালে চিকিৎসা
না নেয়া শিশুদের সংখ্যাটা বিবেচনায়
নিলে মৃত্যুর সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি
হবে বলেই ধরে নেয়া যায়।

বিষয়টি ধরা পরার পর ১৯৯২ সালে ড্রাগ
কোর্টে চারটি ঔষধ কোম্পানীর বিরুদ্ধে
মামলা হয়। বলা বাহুল্য ঔষধ কোম্পানীগুলো
বিত্তবানদের প্রতিষ্ঠান তাই তারা ১৯৯৪
সালে হাইকোর্টে গিয়ে মামলাটি
স্থগিত করে দেয়। শুধু তাই নয়, ড্রাগ কোর্টের
কর্মচারীদের সহায়তায় মামলার নথিপত্র
পর্যন্ত গায়েব করে দেয়া হয়। ২০০৯ সালে
যখন আবারো ডাই-ইথিলিন গ্লাইকোল
মিশ্রিত বিষাক্ত প্যারাসিটামল সিরাপ
সেবন করে নতুন করে কিছু শিশু আক্রান্ত হলো
তখন আবার সেই মামলা চালানোর ব্যবস্থা
করা হয় এবং সেটিও এই ডা. হানিফেরই
কারণে। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, এই ১৪ বছরে
বাংলাদেশ ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন বা
সরকারের এটর্নি জেনারেল কেউই
হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের
জন্য চেষ্টা করেন নাই।

যে ঔষধ কোম্পানীর প্যারাসিটামল সিরাপ
সেবন করে সবচেয়ে বেশি শিশু নিহত
হয়েছে সেই ঔষধ কোম্পানী এডফ্লাম এর
মালিক হেলনা পাশাকে ড্রাগ কোর্টের
রায়ে ২০১৪ সালের ২২ জুলাই ১০ বছরের
কারাদণ্ড দেয়া হয় কিন্তু মাত্র ৫২ দিন
কারাবাস করে তিনি একই বছর ১১ সেপ্টেম্বর
হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে বেড় হয়ে
আসেন। মামলায় নিযুক্ত সরকারী ডেপুটি
এটর্নি জেনারেল শফিউল বাশার
ভাণ্ডারী হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে
আপিল করেননি। শত শত শিশু নিহতের জন্য
দায়ী একজন মানুষ এভাবেই শাস্তি থেকে
রক্ষা পেয়ে যান।

এই বিষাক্ত প্যারাসিটামল সিরাপের
বিষয়ে লেখালেখি করার কারণে এবং
বারবার বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীর
পারাসিটামল সিরাপ পরীক্ষা করে তাতে
বিষাক্ত ডাই-ইথিলিন গ্লাইকোল সনাক্ত
করার কারণে ডা. হানিফকে কম ভোগান্তি
পোহাতে হয়নি। ঔষধ কোম্পানীগুলো
বারবার তাঁকে কোর্টে নিয়ে নিজেদের
উকিল দিয়ে হেনস্তা করেছে এবং তাঁকে
একঘরে করে রাখার চেষ্টা করেছে। ঘুষ
দিয়ে ড্রাগ কোর্টের কর্মচারীদের
সহায়তায় উনার সরবরাহ করা ল্যাবরেটরি
টেস্ট রিপোর্ট সরিয়ে ফেলে উনাকে
মিথ্যাবাদী এবং ঔষধ শিল্পের জন্য
ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করার
চেষ্টাও করা হয়েছে।

কিন্তু ডা. হানিফ থেমে থাকেন নি।
তিনি নির্ভয়ে কোর্টে গিয়ে বারবার
তার গবেষণা প্রতিবেদন এবং ল্যাবরেটরি
টেস্টের ফলাফল উপস্থাপন করে শিশুদের
জীবন রক্ষার চেষ্টা করে গেছেন।
বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষই গরিব।
এখানে চিকিৎসা পদ্ধতিও বেশ অদ্ভুত।
বেশি টাকা দিয়ে বিশেষজ্ঞ
চিকিৎসকের কাছে না যেতে পারলেও
মানুষ কষ্ট করে সরকারী হাসপাতালে
যেতে চায় না। তারা প্রথমে চেষ্টা করে
রোগের বর্ননা দিয়ে কাছাকাছি কোন
ফার্মেসি হতে ঔষধ সংগ্রহ করতে। তাছাড়া
পল্লী চিকিৎসক, সরকারী হাসপাতাল বা
মেডিকেল সেন্টারগুলোর ডাক্তাররাও
অনেক সময় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ
দের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অখ্যাত ঔষধ
কোম্পানীর ঔষধ প্রেসক্রাইব করে থাকেন।
এমন পরিস্থিতিতে বিষাক্ত ঔষধ সেবন করে
ঠিক কত শিশু মৃত্যুবরন করেছে, তা নির্নয় করা
আসলেই কঠিন একটা কাজ।

এই ঘটনা উন্নত কোন দেশে ঘটলে সরকার/
আদালত ঐ সব ঔষধ কোম্পানীগুলোকে বাধ্য
করত নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপুরণ দিতে।
এবং বিষাক্ত ঔষধ সনাক্ত করে লাখো শিশুর
জীবন রক্ষার জন্য ডা. হানিফ পেতেন
পুরষ্কার ও সম্মান।

বাংলাদেশে চলে তার নিজস্ব মডেলে।
তাই ঐসব ঔষধ কোম্পানীর বিরুদ্ধে
জরিমানা হয় না, শিশু হত্যাকারীরা
জামিনে বেড় হয়ে আসে, ক্ষতিপুরণের তো
প্রশ্নই আসে না, আর ডা. হানিফ রয়ে যান
উপেক্ষিত; অবহেলিত।

সরকার ডা. হানিফকে সম্মান না দেখাক।
আমি, আপনি এবং আমরা উনাকে সম্মানিত
করতে পারি আমাদের সমগ্র ভালবাসা
দিয়ে। আমার দুইটি সন্তান আছে। তারাও
শিশুকালে জ্বরে ভুগেছে এবং জ্বরের জন্য
ঔষধ সেবন করেছে। ওদের যে বিষাক্ত
প্যারাসিটামল সিরাপ সেবন করতে হয়নি
তার জন্য আমি ডা. মোহাম্মদ হানিফ এর
কাছে কৃতজ্ঞ এবং ঋণী।


বিষাক্ত প্যারাসিটামল সিরাপ সংক্রান্ত ডা. হানিফের আর্টিকেল: http://goo.gl/Zz9MaK
গুগল স্কলারে ডা. হানিফের আর্টিকেলসমূহের লিংক: https://goo.gl/0M96eP

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

প্রশ্ন যদি হবে ফাঁস ! পড়বো কেনো বারো মাস!

প্রশ্ন যদি হবে ফাঁস ! পড়বো কেনো বারো মাস!

লেখা - ডাঃ স্বাধীন


প্রশ্ন যদি হবে ফাঁস !
পড়বো কেনো বারো মাস!
এবার শিওর ছিলাম ছোট ভাই
ডিএমসি তে চান্স পাবে,
কিন্তু হলো না...
বৈধভাবে ১৮৪.২৫ স্কোর নিয়ে তার চান্স হলো
স্যার সলিমুল্লাহ  মেডিকেল কলেজে ।
এত স্কোর পেয়েও তার জাতীয় মেধা পজিশন ৩২৭তম - বিশ্বাস হচ্ছে না ।

ছোট ভাই ইমরানকে নিয়ে যখন স্ট্যাটাস  দিলাম ।
অনেকে কমেন্ট  করেছেন  কয় লাখ টাকা লেগেছে,
কমেন্টে ছোট ভাই রিপ্লে দিয়েছে
বেশি না ভাই, ৭৫০ টাকা লাগছে ফরম নিতে,
 আর ১০ টাকা লেগেছে এ্যাডমিট কার্ড নিতে।

সত্যিকারের মেধাবীদেরকেও আজ নাজেহাল হতে হচ্ছে, গুটি কয়েক কুচক্রী মহলের জন্য।

মেধাবীরা হলো বঞ্ছিত,
মেডিকেল হলো লাঞ্ছিত।
২০০৬ সালে মেডিকেল ভর্তির প্রশ্ন ফাঁস,
আমাদের ব্যাচের করেছিলো সর্বনাশ!

২০১৫ সালে প্রযুক্তির যুগেও
মেডিকেল ভর্তির প্রশ্ন ফাঁস ,
মেধাবী জাতির করলো  সর্বনাশ।

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

প্রফেসর ডাঃ কাজী দ্বীন মোহাম্মদ.. বাংলাদেশে নিউরো মেডিসিন এর অন্যতম পথিকৃৎ

প্রফেসর ডাঃ কাজী দ্বীন মোহাম্মদ.. বাংলাদেশে নিউরো মেডিসিন এর অন্যতম পথিকৃৎ


তার নাম প্রফেসর ডাঃ কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।।
বাংলাদেশে নিউরো মেডিসিন এর অন্যতম পথিকৃৎ।।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ।।
স্যারের নামে অনেক মিথ আছে, যেমন- তার ক্লাসে লেকচার গ্যালারির সিঁড়ি পর্যন্ত খালি থাকে না, যে ছেলেটি সারা সপ্তাহ ক্লাস করে না সেও ক্যান্টিনের সিংগারা চিবুতে চিবুতে ক্লাসের দিকে আগায়, স্যারকে চেম্বারে দেখাতে ছয়মাস আগে সিরিয়াল লেখাতে হয়।।
আমার এখন প্লেসমেন্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ২১৮ নম্বর ওয়ার্ডে যা "কাকা" স্যারের ওয়ার্ড নামে পরিচিত। এই ওয়ার্ডের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ হাফিজ স্যারের মুখে শোনা এই গল্প।
দ্বীন মোহাম্মদ স্যার বেশ ব্যস্ত মানুষ। তাই আমলা তথা সচিবদের সব সময় তিনি বেশি সময় নিয়ে দেখেন না।
তো একবার, তার কাছে এক আমলা এলেন। তার সমস্যা ছিল পায়ে ব্যথা আর হাটতে না পারা।
স্যার উনাকে বললেন দাড়িয়ে আবার বসতে। উনি কথামত দাড়িয়ে বসলেন। স্যার উনাকে বললেন, " আপনার GBS (Guillain–Barré syndrome) আছে। " এই বলে ঔষধ প্রেস্ক্রাইব করে দিলেন। সচিব সাহেব স্যার তাকে বেডে শুইয়ে ভালভাবে না পরীক্ষা করাতে একটু ক্ষিপ্ত হলেন।
তিনি টাকা ম্যানেজ করে সিংগাপুর চলে গেলেন। সেখানে প্রখ্যাত এক হাসপাতালে ভর্তি হলেন। সেখানের ডাক্তাররা তাকে একমাস বেশ ভালভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করলেন। তারপর তারা রায় দিলেন যে উনার GBS (Guillain–Barré syndrome) হয়েছে যা দ্বীন মোহাম্মদ স্যার বেশ আগেই বলেছিলেন।
রিপোর্ট দেখে সচিব সাহেব বেশ অবাক হলেন। তিনি দেশে ফিরে কিছুটা ক্ষোভ আর বিস্ময় নিয়ে আবার দ্বীন মোহাম্মদ স্যারের কাছে গেলেন। গিয়ে বললেনঃ আপনার প্রতি আমার কিছুটা ক্ষোভ আছে আর শ্রদ্ধা আছে। শ্রদ্ধা এই জন্য যে, সিংগাপুরে একমাস লাগিয়ে যে রোগ বের হল তা আপনি এক দেখাতেই বলে দিলেন!
আর ক্ষোভ এই কারনে যে, সেইদিন যদি আপনি আমাকে বেডে শুইয়ে একটু পরীক্ষা করতেন তাহলে আমাকে ৫৫ লক্ষ টাকা খরচ করে সিংগাপুরে যেতে হত না।
কাউকে ছোট বা অপমান করে কিছু লিখিনি। শুধু বলতে চাই, দুই ঘন্টা গরমের মধ্যে ওয়ার্ডে দাড়িয়ে ঘামে ভিজে হাসিমুখে রোগীর হিস্ট্রি নেয়ার যে কি অনুভূতি তা আগে জানুন, তারপর ডাক্তারদের গালি দিবেন। আমাদের দেশের ডাক্তাররাও বেশ হাইলি কোয়ালিফাইড। ইউরোপ-আমেরিকায় যে Davidson's Medicine বা Robbin's Pathology পড়ানো হয় আমরাও তাই পড়ি। পার্থক্য শুধু একটাই, তাদের আছে সেন্ট্রাল এসি হাসপাতাল আর চকচকে লেমিনেটেড পাতার বই আর আমাদের স্বল্প ফ্যানযুক্ত ওয়ার্ডে নিলক্ষেতের ফটোকপি বই দিয়েই কাজ চালাতে হয়।।

লিখেছেন- Ashiqur Rahman Akash


বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

যারা জীবনে সফল হতে পারেননি তারা একবার পড়ুন...

যারা জীবনে সফল হতে পারেননি তারা একবার পড়ুন...

আমরা সবাই স্বপ্ন দেখি জীবনে বড় হবো। কেউ হয়তো শুধু স্বপ্ন দেখি, কেউ হয়তো স্বপ্নটাকে ছোয়ার জন্য আরাম আয়েশ ত্যাগ করে রাতদিন খাটি। কিন্তু দেখা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা সফল হইনা। যখন ব্যার্থ হই তখন দেখা যায় আর পুনরায় পরিশ্রম করবার মত সময় নেই। ডুবে যেতে হয় হতাশায়। ব্যার্থতা আর হতাশা তখন আমাদের সব উদ্যম নষ্ট করে দেয়।

না এখানেই সব শেষ নয়।

যেখান থেকে শেষ সেখান থেকে শুরু করে দেখুন।



আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৮০৯ - মৃত্যু: ১৫ এপ্রিল, ১৮৬৫) এর কথাই ধরি, আজকে শুধু তার দৃষ্টান্ত দেখাবো, পরবর্তীতে ব্যার্থতা থেকে সফলতার অনেক গুলো পর্ব নিয়ে আসবার ইচ্ছা থাকলো। ব্যর্থতাকে কিভাবে জয়ে পরিনত করতে হয়, নতুন করে শুরু করতে হয়, একবার হারিয়েছি বলে সব শেষ হয়ে গিয়েছে এটাই শেষ কথা নয়। একবার না পারিলে দেখো শতবার কথাটা যে সত্য সেটার সার্থকতা আপনিও প্রমান করতে পারবেন।



০১) ২৩ বছর বয়সে চাকুরী হারান এবং রাজনীতিতে পরাজিত হন।

০২) ২৪ বছর বয়সে ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে ব্যবসার মূলধন হারান।

০৩) ২৬ বছর বয়সে হারান প্রিয়তমা প্রেমিকা অ্যান কে।

০৪) ২৭ বছর বয়সে তার নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়।

০৫) দেখতে ও সুশ্রী ছিলেননা।

০৬) জন্মেছিলেন অতি দরিদ্র ঘরে।

০৭) ২৯ বছর বয়সে স্পীকার পদে পরাজিত হন।

০৮) ৩৪ বছর বয়সে কংগ্রেস প্রার্থী নির্বাচনে হেরে যান।

০৯) ৩৯ বছর বয়সে কংগ্রেস প্রার্থী নির্বাচনে আবার পরাজিত হন।

১০) ৪০ বছর বয়সে ভূমি অফিসার পদে রিজেক্ট বা বাদ পড়েন।

১১) সিনেট নির্বাচনে হেরে যান ৪৫ বছর বয়সে।

১২) ৪৭ বছর বয়সে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে গিয়ে হেরে যান।

১৩) ৪৯ বছর বয়সে সিনেট নির্বাচনে আবারো হারেন

১৪) অবশেষে ৫২ বছর বয়সে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।



এই হলো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ব্যার্থতার খেরোখাতা। আজ আমরা হলে হয়তো হাল ছেড়ে দিতাম। বলতাম এসব আমার জন্য নয়। কিন্তু না তিনি ছিলেন আব্রাহাম লিংকন, অতি দরিদ্র অবস্থা থেকেই অসম্ভব স্বপ্নকে ছুয়েছিলেন। হয়েছিলেন আমেরিকার সর্বকালের সেরা প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার গৃহযুদ্ধ ঠেকিয়েছিলেন, সাদা কালোর বিভেদ দুর করেছিলেন, সংকটময় মুহুর্তে আবির্ভাব হয়েছিলেন আমেরিকার ত্রাতা হিসেবে। কোয়ান্টাম মেথডের মতে পারবোনা বললেই আর পারবেননা। শুধু একবার পারবো বললেই অনেক কিছু পারবেন। পারবোনা বললে দেখবেন অনেক না পারার অজুহাত চলে আসবে। এটা সেটা বলবেন, হয়তো অজুহাত দেখাবেন, আপনি গরীব ঘরে জন্মেছেন, আপনি বস্তিতে জন্মেছেন, আপনার বাবার টাকা নেই, আপনি কালো, আপনি বেটে, আপনি পড়াশোনাই ভালোনা, আপনি নিচু জাতে জন্মেছেন। থাক আর বলবোনা। এবার দেখুন আপনার এসব অজুহাত কিছুনা। আপনি শুধু খুজে বের করুন আপনার প্রতিভা কিসে, কোনটা করতে ভালো লাগে, আর করুন নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে পরিশ্রম। আর সব থেকে বড় কথা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি। আমাদের মা বাবারা ছেলেকে কি বানাবেন জিজ্ঞাসা করলে সেই মান্ধাতা আমলের উত্তর, ডাক্তার বা ইন্জিনিয়ার, বোধ হয় জগতে এ ছাড়া আর পেশা নেই। আর কোন পথ নেই। A+ না পেলে তুমি ফিনিসড এটাই শিখানো হচ্ছে। এতে না তৈরি হচ্ছে কোন সৃজনশীল সাহিত্য মনের মানুষ। আমরা শুধু রবীন্দ্র নজরুল শরৎ বাবুর দেবদাস এসব অনুকরন করছি, এক অভিনেতা দেবদাস করেছে ০৫ বছর আগে তো আরেকজন সেই একই দেবদাস করছে ০৫ বছর পর। নতুন করে দেবদাসের মত আরেকটা রোমান্টিক উপন্যাস রচনার মত লেখক তৈরি হচ্ছেনা। বাবুরাম সাপুড়ে সেই কোনকালে রচিত, এ রকম একটা ছড়া আমরা রচনা করতে পারছিনা, পারছি ওই ছড়াটাকে রক স্টাইলে পাশ্চাত্য ঢঙে রিমিক্স করে বানাতে।

তো বলছিলাম আপনার কাজ না করার অজুহাতের কথা। বস্তিতে জন্মেছেন, আপনি অবহেলিত, সমাজের মানুষেরা আপনাকে ঘৃনা করে দুর দুর করে তাড়ায়, এ জন্য আপনি মনে করেন টোকাই হয়ে থাকতে হবে সারাজীবন ? তাহলে তাকান আর্জেন্টাইন ফুটবলার মেসির দিকে, ডাক্তার বলেছিলেন ও বামন রোগে আক্রান্ত। চারফুটের বেশি বাড়বেনা। সব মিথ্যে, সব মিথ্যা প্রমান করে সে বার্সেলোনাতে ছোট বয়স থেকেই তার স্থান নিলো। বিশ্বখ্যাত বিশ্বসেরা ক্লাব বার্সেলোনা তার দায়িত্ব নিলো। মেসির বাবার কি ছিলো, ছিলো শুধু মেসির প্রতিভা, সব কথা মিথ্যা করে মেসি ভিনগ্রহের খেলোয়াড় হলেন, উচ্চতা ৫ ফুট ০৭ ইঞ্চি হলো বিধাতার আশির্বাদে। হয়তো পরিশ্রমী আর ভাগ্যবানের বোঝা ভগবানে বয়। আপনার জাত ছোট, তাহলে দেখুন ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোদির দিকে, সামান্য চা বিক্রি করা বাবার ছেলে যে নিজেও চা বিক্রি করে আজ বৃহৎ দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী। আপনি বেটে, বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম বা মমিনুল কে দেখুন বা ভারতের শচীন টেন্ডুলকারকে দেখুন, বা কিংবদন্তী ফুটবল যাদুকর ম্যারাডোনা কে দেখুন। আপনি কালো, তাতে কি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল, শ্রীলংকান মুত্তিয়া মুরালিধরন,সর্বকালের সেরা বক্সার মোহাম্মদ আলী, ব্রাজিলের ফুটবল কিংবদন্তী পেলে এরা তো সবাই কালো।আপনার ব্যবসার টাকা নেই, আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আকিজ সাহেবের শুরুর কাহিনী নেটে সার্চ দিয়ে পড়ে নিন। পড়াশোনার কথা বলছেন,, বিশ্বের এক নম্বর ধনী বিলগেটস পড়াশোনা সম্পূর্ন না করে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মাইক্রোসফটের মত প্রতিষ্ঠান। পড়াশোনাতে ভালো না করেও তেতুলিয়ার মুস্তাফিজ বাংলাদেশের হালের বিশ্ব ক্রিকেট সেনশেসন। তবে আমি পড়াশোনা ফাঁকিবাজ দের সম্পূর্ন বিরোধী। মনে রাখবে পড়াশোনা না করলেই রবীন্দ্র নজরুল মুস্তাফিজ বা বিলগেটস হওয়া যায়না। এটা শুধু বলেছি এ কারনে যে কোনক্রেমে তুমি জীবনযুদ্ধ না বুঝে পড়াশোনায় ফাকি দিয়েছো, রেজাল্ট খারাপ করে কোন ভালো ভবিষ্যত দেখছোনা, তো যেটা হয়নি সেটা ভেবে লাভ নেই, PAST IS PAST, এখন চেষ্টা করো অন্য কিছু করবার পৃথিবী তোমাকে যেমন হাজারটা সমস্যা দিয়েছে তেমন দিয়েছে হাজারটা সমাধান। সুশিক্ষিত জাতি গড়তে শিক্ষার বিকল্প নেই।

আরো একটা সংস্কার আমাদের সমাজে যার জন্য বেকারত্ব বেশি, আমাদের কাজকে ছোট মনে করা। ধরুন আপনার বাবা বড় কর্মকর্তা। তিনি কর্মকর্তা হয়েছেন তার নিজের মেধা ও যোগ্যতায়। কিন্তু দেখা গেলো হয়তো তার কর্মব্যাস্ততার কারনে আপনাকে তিনি ততটা গাইড করতে পারেননি। ফলে আপনি বাজে বন্ধুর কারনে বখাটে হলেন। পরীক্ষার আগে পড়াশোনা করলেন এবং কোনরকম পাশ করলেন। ফলে আপনি না পারবেন বাবার মত যোগ্য হতে বা না পারবেন নার্সারি, মাছ চাষ, পোল্ট্রি বা ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং এর মত সম্ভাবনাময় খাতের উদ্যোক্তা হতে। হয়তো আপনাকে দেখে পাছে লোকে টিপ্পনি কাটে অফিসারের ছেলে শেষে মুরগী পালবে। তখন আপনি মান রক্ষার্থে স্ট্যাটাস রক্ষার্থে অসাধু পন্থায় একটা চাকুরী যোগাড় করলেন। সাথে হয়তো দরিদ্র বলে একটা প্রতিভা যে আপনার থেকে কাজ ভালো বুঝতো তাকে বঞ্চিত করলেন। এই জাতীয় ছোট মানসিকতা থেকে না বের হতে পারলে আমাদের উন্নতি হবেনা বা বেকারত্ব থেকে মুক্ত হবেনা।

সবশেষে একটা কথা বলি তোমার যদি কিছু করবার ইচ্ছা থাকে তবে কোন কিছুই তোমাকে আটকাতে পারবেনা। তুমি পারবে, যদি তোমার ভিতর থাকে ইচ্ছার আগুন। If you have only fire

সংগ্রহ-
--- লেখা - মাহবুব হাসান

শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০১৫

আমি ব্যাক্তিগতভাবে ডাক্তারদের অপছন্দ করি। ভয়ংকর অপছন্দ!

আমি ব্যাক্তিগতভাবে ডাক্তারদের অপছন্দ করি। ভয়ংকর অপছন্দ!




আমি ব্যাক্তিগতভাবে ডাক্তারদের অপছন্দ করি। ভয়ংকর অপছন্দ!
অপছন্দের নানান কারণ আছে, এদের ব্যবহার খারাপ, এরা পাংকচুয়াল না, এরা বিনয়ী না, এরা দক্ষ না। সবচেয়ে বড় কথা এরা আমার চেয়ে বেশি বোঝে। শুধু আমার চেয়ে না, এরা জাতীর বিবেক, সৎ ও নিষ্ঠাবান পেশার পরাকাষ্ঠা সাংবাদিকদের চেয়েও বেশি বোঝে। কী ধৃষ্টতা! কী ধৃষ্টতা!!
ডাক্তাররা বুঝবে জগতে সবচেয়ে কম, এদের রাগ থাকবে না, এদের ক্ষোভ থাকবে না, কষ্ট থাকবে না, এদের জন্ম, সৃষ্টি মানুষের জন্য, এরা এদের আহার, নিদ্রা, আনন্দ, বেদনা সকলই মানুষের তরে উৎসর্গ করবে, তবেই না এরা ডাক্তার! এরা ৫ বছরের এমবিবিএস শেষ করে ইন্টার্নি করবে, সেই ইন্টার্নিতে চোখ মুখ নাক বুঝে গাধার মত খাটবে, খাটুনি শেষে মাসে দশ হাজার টাকা পাবে, দশ হাজার! দশ হাজার দশ হাজার! কত্ত টাকা! এক হাজার টাকার দশখানা নোট! পাঁচশ টাকার কুড়িখানা নোট, আর একটাকার? একটাকার দশ হাজারখানা নোট? আহা, গুনতে গেলি পরে অদ্ধেক বেলা লাগি যাবে নে!

এরপর? পাঁচ বছরের অনার্স মাস্টার্স শেষে ‘মানুষেরা’ চাকরি করেন, মাস শেষে বেতন পান, বেতনের প্রথম টাকায় বাবা-মা’র জন্য দামী শাড়ী, দামী জুতো, ডিজাইন করা পানের বাটা, সুন্দর ফ্রেমের চশমা, বাহারী জায়নামাজ, তজবী কিনে এনে বুকে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মা-বাবা এমন সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে শোকর আদায় করেন, আহা, বাপধন, মা জননী!
আর ওই এক বছর অবধি ইন্টার্নিতে মাসে দশ হাজার টাকা পাওয়া ডাক্তাররা ইন্টার্নি শেষে হাতের আঙ্গুলে কড় গুনে হিসেব করতে আবিস্কার করবে ওই ‘মানুষদের’ মতন তারও পাঁচ বছরের পড়াশোনা শেষ! না, না, ৫ বছর না, শুধু, ইন্টার্নসহ ৬ বছরের পড়াশোনা শেষ, কিন্তু... কিন্তু তার জন্য কোন চাকরি নাই, টাকা নাই, মা বাবার জন্য শাড়ী-লুঙ্গি, জামা-জুতো, পানের বাটা তজবি জায়নামাজ কেনার পয়সা নেই! পয়সা কোথায় থাকবে, কিভাবে থাকবে? ৬ বছরের হাড়ভাঙ্গা খাটুনীর পর সে একখানা এমবিবিএস ডিগ্রী নিয়ে আবিস্কার করল সে আসলে বেকার! এমবিবিএস- মা বাপের বেকার সন্তান!!
তাহলে উপায়? উপায় আর কি? 'মানুষে'রা যখন ৫ বছরের অনার্স মাস্টারস শেষে এতদিন ধরে বাবা মায়ের করা কষ্টলাঘবে ব্রতী হন, ডাক্তাররা তখন সেই বাবা মায়ের সামনে বিব্রত, ভীত, ন্যুজ ভঙ্গীতে দাঁড়ান, দাঁড়িয়ে কাঁপা কাঁপা মিনমিনে গলায় বলেন, ‘কোচিং এ ভর্তি হব, টাকা লাগবে!’
জ্বি, কোচিং এ ভর্তি হতে টাকা লাগবে! এদের পাঁচবছর শেষে পড়াশোনা শুরু। ভয়াবহ কঠিন সব পরীক্ষা, এই পরীক্ষা, সেই পরীক্ষা দিয়ে, তাতে তুমুল প্রতিদ্বন্ধিতা করে এদের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের অধীনে কাজ করার জন্য নিজেকে যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করতে হবে, বিভিন্ন হাসপাতালে হাসপাতালে ‘চাকর-বাকরের’ মত কাজ করতে হবে, পান থেকে চুন খসলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুনতে হবে, এবং হ্যা, এ সকলি করতে হবে বিনা পারিশ্রমিকে, কারণ ইনারা ডাক্তার, কারণ ইনারা অনারারী ডাক্তার, আসলে অনারারী না, ইনারা অনাহারী ডাক্তার! তখন ইনাদের অবস্থা অবশ্যই অনাহারীদের চেয়ে বেটার কিছু না। এনাদের মা-বাবারা ততদিনে বয়সের ভারে ন্যুজ, ক্লান্ত, টাকা পয়সা দিতে দিতে নিঃস্ব, ইনাদের এখনও মাসে মাসে হাত খরচের পয়সা দিতে হয়, বই খাতা, কাপড়, চুলের তেল, পায়ের জুতো, দুপুরে বাইরে একবেলা ভাত খাবার পরিবর্তে দুটা সিঙ্গারা আর এক কাপ চা খাবার পয়সা দিতে হয়। এবং হা ইনারাই কিন্তু এমবিবিএস পাশ করা ডাক্তার! জ্ব্বি জনাব! কথা সত্য!
বাংলায় প্রবাদ আছে, ‘আশায় থাকো কাউয়া, পাকলে খেও ডেউয়া’। ভালো প্রবাদ। অতি ভালো। ডাক্তারাও আশায় থাকেন, কবে উনারা ডাক্তার হবেন! হ্যা, ডাক্তারদের ডাক্তার হয়ে উঠতে হবে! ভালো, ডাক্তার, নামকরা ডাক্তার, বড় ডিগ্রীধারী ডাক্তার, স্পেশালিষ্ট ডাক্তার! না হলে আপনি আমি তাদের পুঁছব না। নাক-ভ্রু-গাল কুচকে বল, 'অ, এই ডাক্তর?'
উনাদের মধ্যে সকলে সেই ডাক্তার হয়ে উঠতে পারেন না, কেউ কেউ পারেন। মেয়েদের জন্য অবস্থা আরও ভয়াবহ, এই দেশে কুড়ি, পঁচিশের পর মেয়েদের বিয়ে হওয়া ঝক্কির ব্যাপার, মেয়ের বয়স হয়ে গেছে, আইবুড়ো মেয়ে, মেয়ের নিশ্চয়ই কোন ব্যাপার আছে, সমস্যা কি?
তাহলে? তাহলে আর কি? মেডিকেলে পড়া ডাক্তার মেয়ের বাজার ভালো! বয়সেও কচি, কুড়ি বাইশ বছর বয়স। তাছাড়া পাত্র, পাত্রের মা-বাবা বড় গলা করে বলতে পারবেন, ‘আমার বউমা ডাক্তার! আহা, গালভরা আনন্দ, গর্ব, তৃপ্তি!’ সেই তৃপ্তি আরও বাড়াতে বিয়ের সাথে সাথে ডাক্তার বউকে দিয়ে হেঁশেল না ঠেলাতে পারলে আনন্দটা যেন জমে না। আড়চোখে রান্না ঘরে ডাক্তার বউকে রাঁধতে দেখা, আহা, কী আনন্দ আকাশে বাতাসে! দুদিন বাদে, কী ব্যাপার, বাচ্চা কাচ্চা হইব না বউয়ের?’ বউয়ের বাচ্চাও হতে হল, বাচ্চার বড়ও হতে হবে, তাহলে? ডাক্তার? ডাক্তার বউ?
আর সেই 'ডাক্তার' মেয়ের মা বাবার ফোঁটা ফোঁটা ঘামের নিঃশেষ, বিন্দু বিন্দু স্বপ্নের ফসল?
ডাক্তার মেয়ে! কই সে? মা বাবার স্বপ্ন, রোজ রাত দিনের একটু একটু স্বপ্ন, সেই স্বপ্নদের জন্য কতদিন বাবা রিকশার ১০ টাকা বাঁচাতে বাসের ভিড়ে গাদাগাদি করে অফিসে গেছেন, ঈদের সময় আগের ঈদের পাঞ্জাবী পড়েছেন, পুরনো চশমার ফ্রেমটা ভেঙ্গে গেলেও বদলান নি, সুতো দিয়ে বেঁধে নিয়েছেন। মা তার ছেড়া ব্লাউজ শাড়ির আচলে ঢেকে রেখেছেন, ছেড়া স্যান্ডেল সপ্তাহান্তে মুচির দোকানে গিয়েছে! মেয়েটা এইতো ডাক্তার হল বলে, আরতো কটা বছর! তারপর! তারপর সব কষ্ট ঘুচবে! সেই মেয়ে! সেই মেয়ে! এখন হেঁশেল ঠেলে, বাচ্চা সামলায়, গভীর রাতে স্বামীর পাশে শুয়ে একা একা কাঁদে। তবে কান্না রেখে ঘুমতে হবে এখুনি, সকালে স্বামী অফিসে যাবে, তার নাস্তা করতে হবে, বাবুর কাঁথা পাল্টাতে হবে, শ্বাসুরীর জন্য আলাদা নাস্তা করতে হবে, তিনি আবার অন্যদের মত রুটি ভাজি খান না, তার চাই ভাত, ভাত... সাথে চিংড়ির বড়া হলে ভালো হয়। ডাক্তার বউয়ের হাতের চিংড়ির বড়া! আহা, সে কি স্বোয়াদ!
ডাক্তারদের আমার ভীষণ অপছন্দ! এরপর চল্লিশ পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে ওদের কেউ কেউ ডাক্তার হয়, মাস শেষে কিছু কাগজের নোটের দেখা পাওয়া যায়। কিন্তু সেগুলো তখন শ্রেফ কাগজের নোটই থাকে। তখন বন্ধুদের নিয়ে গলা ফাটিয়ে কফিশপে উল্লাস করতে ইচ্ছে হয় না, সিনেমা হলে সবচেয়ে দামী সিটে বসে তীব্র উত্তেজনা নিয়ে সিনেমা দেখতে ইচ্ছে হয় না, রিকশায় প্রিয় মানুষটার হাত ধরে খোলা আকাশের নিচে প্রজাপতির মত ঘুরতে ইচ্ছে হয় না, এমনকি রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিলবোর্ডের দুর্দান্ত সব মডেলদের শরীরে ঝা চকচকে পোশাক দেখে একদিন যে দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে এসেছিল শুন্য পকেট, কঠিন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে, বাবা মা’র ক্লান্ত চোখের কথা ভেবে, আজ পকেট ভর্তি টাকা নিয়েও হঠাৎ আবিস্কার হয়, সেই ইচ্ছেটা আর নেই! শুধুই কি ইচ্ছে? সময়টাইতো নেই! সময়! সময়! সময়!
বয়স? হা, সেই উচ্ছ্বাসের সময় আর নেই, বয়স আর নেই! কী হবে পকেটভর্তি এই কাগুজে নোট দিয়ে!হা, শ্রেফ কাগুজে নোট, সেই সময় , সেই উচ্ছ্বাস, সেই তেষ্টা, সেই চাপা আনন্দ, অপেক্ষা ফিরিয়ে দেয়ার ক্ষমতা এর নেই। নেই! একটা জীবন, একটাইতো জীবন! এই জীবনের সময় ফিরিয়ে দেয়ার ক্ষমতা কারো নেই, কারো নেই!
এই একজন ডাক্তার!
আমার তারপরও ডাক্তারদের অপছন্দ, কারণ এরা আমাদের দেশের রাজনইতিক নেতাদের চিনতে পারে না, এরা দলীয় ক্যাডারদের অপারেশন থিয়েটারে ঢুকতে দিতে চায় না, এরা ডাক্তার, এরা মানুষ না, এরা শ্রেফ ডাক্তার, ডাক্তার, এরা সেটা কখনও কখনও ভুলে যায়। ভুলে গিয়ে এরাও কখনও কখনও মানুষের মতই রেগে ওঠে, ক্ষুদ্ধ হয়, চেঁচায়। কিন্তু এরা জানে না, এরা ডাক্তার, এরা মানুষ না। মানুষদের অনুভূতি এদের থাকতে নেই! এদের রাগতে নেই, কাঁদতে নেই, ভুল করতে নেই, কষ্ট পেতে নেই...
এদের পান থেকে চুন খসলে কল্লা চাই স্লোগান ওঠে, অথচ, কদিন আগে মায়ের পেটে গুলি খাওয়া শিশুটিকে কি অসম্ভব অবিশ্বাস্য দক্ষতায় যেই ডাক্তাররা প্রসব করালেন, বাঁচিয়ে রাখলেন মা আর মেয়ে দুজনকেই, কই, সেই ডাক্তারদের নিয়েতো কোথাও টুঁ শব্দটিও ওঠে না, কই বিবেকের পরাকাষ্ঠা সাংবাদিকরা? কই?' হে হে হে, আর ব্বাপ, এতো উত্তেজনার কি আছে? এইটাতো ডাক্তারগোই কাজ, তুমি ডাক্তার, তুমি রোগী বাচাইবা তোমার কাজ তুমি করবা, তাতে আবার এতো ফুটানি কিসের?
আসলেইতো, আমরা আর সকল পেশার মানুষেরা আমাদের সকল কাজ শতভাগ সততায়, দক্ষতায়, দায়বদ্ধতায় করি, এতটুকু অনিয়ম, অদক্ষতা, অবহেলা কস্মিনকালেও হয় নি। সাংবাদিকরা কখনও নিজের টেবিলে বসে দুদিন পরের কোন ঘটনার নিউজ করে না, ঘুষ খায় না, নিউজের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে না, ইয়ালো জারনালিজম করে না, এরা দুধে ধোয়া তুলসি পাতা, এরা জাতির বিবেক, আর ভুলচুক ধরা পরলে, ও হতেই পারেই, মানুষতো! চলেন একটা সংশোধনী দিয়ে সরি বলি, সরি গাইজ, আমি সাংবাদিক, আমি মানুষ! একটু ভুলতো হইতেই পারে, কি বলেন!
উকিল, মোক্তার, জজ, ব্যারিস্টার থেকে শুরু করে বাসের হেল্পার, ইটভাটা শ্রমিক পর্যন্ত ভুল করতে পারবে, কারণ তারা মানুষ! ভুল করতে পারবে না এক ডাক্তার, করলেই মিছিল মিটিং কল্লা চাই, বরখাস্ত চাই, কারণ কি? কারণ সে মানুষ না, সে ডাক্তার?
ডাক্তারদের সম্পর্কে অভিজ্ঞতা খারাপ, তারা কসাই, তারা মৃত লাশ জীবিত বানিয়ে, নিজের ইচ্ছে মতো ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অকারণে রোগী পাঠায়, টেস্ট না লাগলেও পাঠায়, লাগ্লে দুইটা এক্সট্রা দিয়ে পাঠায়, কত কত অভিযোগ! এই সকল কারণে ডাক্তারদের আমার অপছন্দ, শুধু ডাক্তারদেরই, কারণ জগতের আর সকল প্রফেশনালসরা দুগ্ধসম শুভ্র, পুস্পসম সুরভিত।
উকিল, জাজ, ব্যংকার, অফিসের বড় স্যার, কাস্টমসের অফিসার, সাংবাদিক, পুলিশ, খেলোয়াড়, নায়ক, গায়ক, লেখক, সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী এসকল আর সকলের ব্যাপারেই পুস্পসুঘ্রাণসুলভ সুরভিত সুবাসিত অভিজ্ঞতা আছে, এনারা কোনদিন এতটুক খারাপ ব্যবহার করে নাই, কোনদিন অন্যায় করে না, অসৎ হয় না, ডাক্তার ছাড়া বাদবাকী সকল প্রফেশনেই এঞ্জেলরা থাকে, মহামানবেরা থাকেন, কেবল ডাক্তারি প্রফেশনেই কসাই থাকে! এই কারণে আমি ডাক্তারদের অপছন্দ করি, ডাক্তার হচ্ছে ভাতের মতন, হাড়ির সব ভাত টেপা লাগে না, একটা টিপলেই সব ভাতের অবস্থা বোঝা যায়, সুতরাং খারাপ ব্যবহার করা একটা ডাক্তার টিপলেই, দেখলেই আমি সব ডাক্তার খারাপ এইটা বুঝে যাই।
ডাক্তারি প্রফেশনে সকলেই খারাপ, সকলেই, যদিও আমি জানি না, ন্যুনতম এমবিবিএস উত্তীর্ণ মোট ডাক্তারদের সংখ্যা এই দেশে কত? তাদের কজনের আচরণ আমি দেখেছি? সেটা বিষয় না, বিষয় হল, ওই যে ভাত একটা টিপেছি, সব বুঝে গেছি, সব ডাক্তার খারাপ... সব, এই জন্য আমি ডাক্তার অপছন্দ করি, এরা খারাপ, সবাই এক... সবাই এক হাড়ির ভাত...
আমার ডাক্তারদের অপছন্দ, কারণ এরপরও একজন মুমূর্ষু রোগী বাঁচাতে সে তার সবটুকু দিয়ে লড়ে, রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটায়, বাসরঘরে মাঝরাতে বড় খালার, বড় চাচার জরুরীর ফোন পেয়ে ছুটে যায়, এই কারণে আমি ডাক্তারদের অপছন্দ করি, আমরা সকলেই করি।
আমি ডাক্তারদের অপছন্দ করি, বাংলাদেশের মতন একটা দেশে তারা এখনও ডাক্তারি পড়ে, ডাক্তারি করে, মানুষের সেবা দেয়। সালমা ইসলামের মতন একজন এমপির বিরুদ্ধে তারা একযোগে রুখে দাড়াতে পারে না। তারা বুঝিয়ে দিতে পারে না, একদিন, মাত্র একটি দিন তারা চুপ হয়ে গেলে, এই এমপিদের কি হবে? এই মন্ত্রীদের কি হবে, এই দেশের ষোল কোটি মানুষের কি হবে? তারা সেটা বুঝিয়ে দিতে পারে না।
কারণ তারা মানুষ না, কারণ তারা ডাক্তার। আমার মত মানুষ হলে তারা ওই সালমা ইসলামের নোংরা ক্ষমতা, তার পত্রিকার সাংবাদিকদের নিকৃষ্ট সাংবাদিকতার, একজন ডাক্তারের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভয়াবহ নোংরা, সস্তা, আপত্তিকর সাংবাদিকতার প্রতিবাদে জ্বালাও পোড়ায়ে মেতে উঠত, একযোগে কাজ বন্ধ করে দিত, হাজার হাজার মানুষ মরত বিনা চিকিৎসায়, আর আমি তখন রাজনীতিবিদদের মতন গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে চোখ বাকা করে হাসতাম, ‘এইবার বুঝছ ঠ্যালা? আমি কেডা বুঝছনি?’
এই দেশের সকল সাংবাদিক একদিন না, একমাস কাজ বন্ধ রাখলে এই দেশের, এই দেশের মানুষের কি ক্ষতি হবে জানি না, একদিন এমপি মন্ত্রীরা কাজ বন্ধ রাখলে কি এমন ক্ষতি হবে তাও জানি না, কিন্তু এই ডাক্তাররা সারা দেশে যদি একটা ঘণ্টাও কাজ বন্ধ রাখে, তাহলে কি হবে, সেইটা কিন্তু আমরা মানুষেরা জানি, তারপরও আমরা জানি, ডাক্তাররা মানুষ না, তারা ডাক্তার, আর ডাক্তার বলেই এই ভয়ংকর কাজটি তারা করবেন না, কিন্তু যদি করেন? কোন একদিন, যদি করে ফেলেন? কি হবে তখন? আমরা মানুষ বলেই তা ভাবি না, কিন্তু ওই ডাক্তাররা কিন্তু ভাবেন, হ্যা তারা ভাবেন, আর ভাবেন বলেই এইসব এম্পি, মন্ত্রীরা ধীরে ধীরে গায়ে চরে বসেন, কারণ তারা জানেন, তারা যতটা নৃশংস হতে পারেন, এই ডাক্তাররা তা পারেন না...
আমি ডাক্তারদের অপছন্দ করি, কারণ তারা এটা করে নি, করতে পারে নি। কারণ তারা আমার মত নোংরা মানুষ হয়ে উঠতে পারে নি। কারণ তারা এই দেশের অকৃতজ্ঞ মানুষের চেয়ে সহস্রগুণ উৎকৃষ্ট হয়েও এই ঘৃণ্য মানুষদের জন্য নিজেদের অমূল্য জীবন অবলীলায় নিঃশেষ করে দিচ্ছে।
আমি হিংসায়, ক্রোধে, ঈর্ষা আর প্রবল হীনমন্যতায় ডাক্তারদের অপছন্দ করি। কারণ আমি তাদের মত হয়ে উঠতে পারি নি... কারণ আমি এখনও ""এই দেশের মানুষ"" রয়ে গেছি!!
- সাদাত

০৮/০১/২০১৫

Jahagirnagar University

মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০১৫

মেডিসিনের গুরু- স্যার ডেভিডসনের সংক্ষিপ্ত জীবনী

মেডিসিনের গুরু- স্যার ডেভিডসনের সংক্ষিপ্ত জীবনী

মেডিসিনের গুরু- যা দিয়ে শুরু ।
" ডেভিডসন'স প্রিন্সিপ্যাল এন্ড প্র্যাকটিস অব মেডিসিন "
বইয়ের নাম শুনেন নি, এমন শিক্ষিত লোক পাওয়া মুশকিল !
আজ ,সেই বইয়ের লেখক স্যার ডেভিডসনের ১২১ তম জন্মবার্ষিকী ।
১৮৯৪ সালের  ৩ মার্চ শ্রীলংকায় জন্মেছিলেন,
মানবতার মহান সেবক ।

স্যার, ডেভিডসন মেডিকেলের ছাত্রদের জন্য ,
সিস্টেমিক লেকচার নোট দিতেন,
সেগুলোকে সাজিয়েই প্রকাশ করা হয়েছিলো -
'Davidsons Priciples and Practice Of Medicine "
মেডিকেলীয় অমর বইটি ।

উনার বিখ্যাত ডেভিডসন বইটির ১ম প্রকাশের সাথে,
বাংলা ভাষাভাষীদের ইতিহাসও জড়িয়ে আছে ।
সেই ঐতিহাসিক ১৯৫২ ।
যে বছরে শহীদ হন, অগনিত ভাষা সৈনিক - সালাম-জব্বার ।

স্যার ডেভিডসনের সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরলাম নীচে ...
পুরো নাম -Sir Leybourne Stanley Patrick Davidson-
ডিগ্রী- BA, MD,PRCPE, FRCP

১ম বিশ্বযুদ্ধের শারীরিক আঘাত উনার  মেডিকেলীয় জীবনের ব্যাঘাত ঘটালেও,
১৯১৯ সালে ঠিকই এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে গ্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন ।
১৯৩০ সালে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মেডিসিনের ইতিহাসে ১ম প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন ।
দীর্ঘ ২১ বছর  এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিনের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ।

বিখ্যাত চিকিতসক জন জর্জ মেকলয়েড ও
প্রফেসর রোনাল্ড  এর শিক্ষক ছিলেন স্যার ডেভিডসন । 

বাংলাদেশের ইতিহাসে উনসত্তরের গন অভ্যুথানের কথা মনে আছে কি ?
সে বছরেই স্যারের আরেকটি বিখ্যাত বই
"Human nutrition and dietetics'প্রকাশিত হয় ।

মেডিসিনের গুরু - যার হাত দিয়ে শুরু ,
সেই মহান চিকিতসক- লেখক ,
 স্যার ডেভিডসন
১৯৮১ সালের ২৭ শে সেপ্টেম্বর পরলোক গমন করেন ।

                                     Download Books 


                                         Download 
 download 22th Edition




 Doanload
                                         DownLoad


---- লেখা- ডাঃ স্বাধীন

http://www.facebook.com/DoctorShadhin

শুক্রবার, ৩০ মে, ২০১৪

নীরবেই হারিয়ে গেলেন বাংলাদেশের একজন সূর্যসন্তান

নীরবেই হারিয়ে গেলেন বাংলাদেশের একজন সূর্যসন্তান

"নীরবেই হারিয়ে গেলেন বাংলাদেশের একজন সূর্যসন্তান"
ছবিতে যেই মানুষটাকে দেখতে পাচ্ছেন এই মানুষটাকে আপনি চেনেন কি? তিনি বাংলাদেশের একজন সূর্যসন্তান। ইনি গত শুক্রবারে মারা গিয়েছেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যু সংবাদ এখনো কোনো পত্রিকায় আসেনি।
এনার নাম ড: এ, কে, এম লুতফর রহমান তালুকদার।




ইনি বাংলাদেশের যুগান্তকারী “আপনার শিশুকে টিকা দিন” প্রকল্পটি শুরু করেছিলেন।
বাংলাদেশকে পৃথিবীর বিস্ময় ধরা হয় দুএকটা কারণে – তার একটি হলো ইমুনাইজেশানের অবিশ্বাস্য সাফল্য। হ্যা, এই সাফল্য কোনো একজন ব্যক্তি কিংবা একটি সরকার কিংবা প্রতিষ্ঠানের কারণে হয় নি সত্য। কিন্তু এই মানুষটা সবার আগে বুঝেছিলেন এবং অন্যদের বুঝিয়েছিলেন যে অশিক্ষিত গরীব লোকটাকে যদি এই কথাটা বোঝানো না যায় যে তোমার ৫টা সন্তানের দরকার নেই কারণ ২-৩টা কোনো সংক্রামক রোগে মারা যাবে না – তাহলে সে পরিবার পরিকল্পনা করবে না। তিনি সরকারী কর্মচারী হয়েও উদ্যোগ নিয়েছিলেন – যে উদ্যোগ বাংলাদেশে কেউ নিতে চায় না।
অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানী ফ্রাঙ্ক ফেনার দু বছর আগে ৯৩ বছর বয়সে মারা গিয়েছিলেন। তিনি পৃথিবীব্যাপী স্মল পক্স ইরাডিকেশান প্রকল্পের প্রধান ছিলেন। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক প্রকাশ করা হয়।
আমরা এমন এক অদ্ভূত জাতিতে পরিণত হয়েছি যে আমরা মহানায়কদের সম্মান তো দূরের কথা, শনাক্তই করতে পারি না আর। সেই অনুযোগ আর না করি। থাক – রাষ্ট্রীয় সম্মানের আর কোনো দরকার নেই। ড: তালুকদার একজন হিরো। একজন রিয়াল হিরো সম্মানের আশায় কাজ করেন না, এই নিভৃতচারী মানুষটিও কোনো স্বীকৃতির আশায় এই মহান কাজটি শুরু করেন নি, করেছিলেন এই দেশটাকে ভালোবেসে। আসুন তার ভালোবাসা আর উদ্যোগটাকে একবার স্মরণ করি।