ডাক্তারদের কলাম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ডাক্তারদের কলাম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২২ মে, ২০১৬

প্রথমবারের মতো স্থানীয়ভাবে অবশ করে ভ্যারিকোস ভেইন অপারেশন!...

প্রথমবারের মতো স্থানীয়ভাবে অবশ করে ভ্যারিকোস ভেইন অপারেশন!...

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো স্থানীয়ভাবে অবশ করে ভ্যারিকোস ভেইন বা আঁকা-বাকা শিরার চিকিৎসা করা হয়েছে। অজ্ঞান না করে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অংশ অবশ করে এ চিকিৎসা করা হয়।
রাজধানীর ঢাকার মোহাম্মদপুরে আল মানার হাসপাতালে এ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ভাসকুলার সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. এসএমজি সাকলায়েন রাসেল। তার সহকারী ছিলেন ভাসকুলার সার্জন ডা. রকিবুল হাসান অপু।
রোগীর ডান পায়ের কিছু শিরা বেশ কয়েক বছর ধরে ফুলে গিয়ে আঁকা-বাকা হয়ে যায়। এ ধরনের সমস্যাকে চিকিৎসকরা ভ্যারিকোস ভেইন বলে থাকেন। অতীতে কোমর থেকে অবশ করে এ অপারেশন করা হতো। কিন্তু এই প্রথম বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো রোগীর সম্পূর্ণ অপারেশন লোকাল অ্যানেসথেশিয়া বা স্থানীয়ভাবে অবশ করে করা হল।
রোগীর হার্টের সমস্যা ও অ্যাজমার সমস্যা থাকায় স্থানীয়ভাবে অবশ করে অপারেশন করা হয়েছে। এতে প্রচলিত অপারেশন পদ্ধতির পাশাপাশি ইনজেকশন থেরাপিরও ব্যবস্থা করা হয়।
ডা. সাকলায়েন জানান, রোগী এখন সম্পূর্ণ সুস্থ এবং অপারেশনের ৬ ঘণ্টা পরেই ঢাকা থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে তার নিজ জেলায় চলে গেছেন।
বাংলাদেশে প্রথম কোনো ধরনের কাটা-ছেড়া ছাড়াই সর্বাধুনিক লেজার ভ্যারিকোস ভেইন অপারেশন শুরু করেন ডা. সাকলায়েন। এখন পর্যন্ত প্রায় ১২০ জন রোগী এ ধরনের চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ আছেন।
তিনি জানান, আগে পুরো পায়ের বিভিন্ন জায়গায় কেটে এ অপারেশন করা হতো। তবে, স্থানীয়ভাবে অবশ করে অপারেশনের সময় রোগীর ঝুঁকি কমাতে একজন অ্যানেস্থেসিওলজিস্টকে সার্বক্ষণিক উপস্থিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৬

হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আলাদা করুন নয়তো সচিবালয়কে উন্মুক্ত করে দিন .।

হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আলাদা করুন নয়তো সচিবালয়কে উন্মুক্ত করে দিন .।


কয়েক বছর আগে পত্রিকায় দেখলাম ডি.সি. পোস্টের জন্য বাছাই পরীক্ষায় ইংরেজী চিঠি ড্রাফট করতে গিয়ে ৩২ জনের মধ্যে মাত্র দুজন কাজটি সঠিকভাবে করতে পেরেছিলেন। শতকরা হিসেবে ৬% মাত্র।
এখন চিন্তা করুন আমাদের সচিবালয়ের কি করুন দশা। এটা হয়তো আসল চিত্র না, তারপরও আসল চিত্রটা কতটুকু আর উন্নতর হবে?
প্রশাসনিক ক্যাডারের এ সব কর্মকর্তারা অন্য সব ক্যাডারের উপর ছড়ি ঘুরাবেন কোন যুক্তিতে? ফেলটুরা সচিবালয়ে প্রবেশাধিকার পেলে পেশাজীবিদের জন্য সচিবালয়ের পথ বন্ধ থাকবে কেন?
আমরা তো মনে করি সচিবালয়ে যোগদানের বিষয়টা উন্মুক্ত ও নিরপেক্ষ প্রতিযোগীতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।দেশ গড়ার সুতিকাগারের দায়িত্বটা মেধাবীদেরই হাতে থাকা উচিত, তা যে প্রফেশন থেকেই আসুন না কেন?
প্রশাসনিক ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন তারপর নানান স্তর পেরিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। এ গতিপথে এমন কি গায়েবী জ্ঞান অর্জন করে ফেলেন যে, তিনি একাধারে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রকৌশল, কৃষি, পানি সম্পদ ইত্যাদি টেকনিকেল মন্ত্রনালয় সমুহের প্রায়োগিক ও অবকাঠামোগত বিশেষজ্ঞ হয়ে তার ৮/১০ ব্যাচ সিনিয়র পেশাজীবিদের উপর ছড়ি ঘুরানোর ক্ষমতালব্ব্দ হন। এটা নিতান্তই হাস্যকর ও ডগমেটিক একটা ব্যাপার নয় কি?
পেশাজীবি ক্যাডাররা প্রশাসনিক ক্যাডারের জুনিয়র ব্যাচের একজনকে কেন স্যার সম্বোধন করবেন?
এর জবাব কি রাষ্ট্রের কাছে আছে? এ সব প্রশাসনিক এনারকি গুলোর সংষ্কার অতীব জরুরী।
সাবেক মন্ত্রীপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার স্বীকার করে বলেছেন, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী পদে চাকরির জন্য পৃথিবীর কোথাও এক্সট্রাঅডিনারি মেধাবীরা ভীড় জমান না। ট্যালেনটেড যারা তারা আবিষ্কার করেন নতুন কিছু সৃষ্টি করেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির মেধাবীরা সেসব প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে জীবন পার করে দেন’।
স্বাধীনতার পর দেশে জনবল সংকট ছিল তখন বিশেষ পরিস্থিতিতে তা গ্রহনযোগ্য ছিল, এখন সে প্রেক্ষাপট বদলে গেছে, ডিজিটাল যুগেও সে প্রথা কেন রয়ে যাবে?
সার্ক দেশ সমুহের মধ্যে কোথায় এ সিস্টেম আছে?
আমরা বলছি না, সচিবালয়ে মেধাবীরা নেই, দেশের নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পরীক্ষায় ভাল রেজাল্টধারী অনেকেই সেখানে আছেন।কিন্তু তাদের অাধিপত্য কি খুব বেশী আছে। আমরা ঢালাওভাবে একটি বিশেষ ক্যাডারের অনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে দেশের নীতি নির্ধারনী ফোরামে সকল মেধাবীদের সুযোগ দেয়ার কথা বলছি।স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর প্রশাসনের মূল কেন্দ্রে ২য় বা তৃতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের অাধিপত্য কেন থাকবে?
চিকিৎসকদের অনেক সমালোচনা সত্বেও তাদের অনেক অর্জন আছে দেশ ও জাতির জন্য।আমলাদের অর্জনটা কি? বিশ্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ের গ্রেডিং কত?
দুর্নীতির চ্যাম্পিয়নশীপের দায়ভার কেবল রাজনৈতিক নেতাদের মাথায় থাকবে কেন? দুর্নীতির অভিযোগের সর্বাগ্রে দায় দায়িত্ব নেয়ার কথা ‘পলিসি মেকার’ আমলাদের। কারন রাজনৈতিক দল আসা-যাওয়ার মধ্যেই থাকে, সচিবালয় স্থায়ী। কিন্তু বরাবরই এ সব ব্যর্থতা সুচতুর সচিবরা রাজনৈতিক দলের ঘাড়ে চালান করে পার পেয়ে যান।
সাবেক সচিব আকবর আলী খানের ভাষায় আমাদের আমলাতন্ত্র বৃটিশদের রেখে যাওয়া এক প্রশাসনিক isomorphism. বাইরে ফিটফাট ভেতরে বেশ রুগ্ন ও দুর্বল। তাদের কাজ কর্ম অনেকটা প্রাণীদেহের molecular mimacry টাইপ। বিষহীন সর্প যেমন গায়ের রঙ পরিবর্তন করে শিকারীকে ভয় দেখায়।
রাজনৈতিক দল গুলো যতই প্রতিশ্রুতি দিক না কেন সচিবালয়ের সংষ্কার ও গনমুখী প্রশাসন ছাড়া কর্মসূচীর সুফল পাবে না জনগন। এ সংষ্কার অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। কোঠারী স্বার্থবাদীদের উৎপাটন না করে সৎ ও দক্ষ প্রশাসন গড়া সম্ভব না।
অযোগ্য ও অসৎ কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রশাসনে সব পেশার মেধাবীদের প্রবেশের সুযোগ দেয়া প্রয়োজন। এটা সময়ের দাবী।
একটা কথা প্রচার সুকৌশলে করা হয় যে, ডাক্তাররা প্রশাসন বুঝেন না।মনে হয় এরা দেশের ‘অটিস্টিক শিশু’।
কিন্তু প্রশ্ন হলো ডাক্তারদের কি ইউ.এন.ও বা ডি.সি ‘র সমান ক্ষমতা দেয়া হয়েছে? হাত পা বেধে কি প্রশাসক হওয়া যায়? এ ব্যবস্থায় একজন চিকিৎসক সমন্বয়কারীর ভূমিকায় রাখতে পারে মাত্র। যা চিকিৎসকরা যোগ্যতার সাথেই করছে।
সচিবালয়ের দার উন্মুক্ত করুন দেশের শয়ে শয়ে মেধাবী ডাক্তার তৈরী আছে। তখন দেখা যাবে চিকিৎসকরা প্রশাসন বুঝেন কিনা। প্রশাসনিক নির্বাহী হওয়ার হাতছানি ছাড়া একজন চিকিৎসক নিজেকে সেভাবে গড়তে যাবেন কেন।
সচিবালয় যদি উন্মুক্ত না করতে পারেন তাহলে চিকিৎসকদের এ মুহুর্তের দাবী স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়কে আলাদা করে তার জন্য আলাদা বেতন কাঠামো ও বিধি প্রণয়নের সুযোগ দেয়া হোক।
বিশ্বের অনেক দেশেই এটা করে সুফল পাওয়া গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের অনেকগুলো দেশেই চিকিৎসকরাই উচ্চ বেতনধারী পেশাজীবির মর্যাদাপ্রাপ্ত। বেসরকারী মেডিকেলের কিছু অব্যবস্থাপনা সত্বেও এখনও পর্যন্ত গড়পড়তা হিসেবে দেশের বেশীর ভাগ মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর সমাবেশ এ পেশাতেই।
পোষ্ট না থাকা সত্বেও শয়ে শয়ে অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব পদোন্নতি নিয়ে জনগনের টাকার শ্রাদ্ধ করতে পারেন আর স্বাস্থ্য ক্যাডারের একজন মেধাবী চিকিৎসক সারা জীবন গ্রামে থেকে মেডিকেল অফিসার হিসেবে অবসরে যাবেন এই অসম কৌতুককর অবস্থার কখন অবসান ঘটবে?
কেন চিকিৎসকরা পরিশ্রমের মর্যাদা পাবেন না? তাদের পোস্টিং দেবেন কিন্তু অফিস দেবেন না, অফিস থাকলে ও আসবাব নেই, আবাসিক ব্যবস্থা নেই, গাড়ী নেই, প্রমোশন নেই, ২৪ ঘন্টা শ্রম ঘন্টার বেতন নেই……. নেই তো নেই তা নিয়ে চিকিৎসকদের খেদোক্তি নেই। তারপরও যদি থাকত যথার্থ মর্যাদা আর নিরাপদ কাজের পরিবেশ।
এতটুকু প্রত্যাশা দেশের মেধাবী সন্তান হিসেবে নিশ্চয় বেশী না। কাজের ধরন ও পরিবেশ বিবেচনায় চিকিৎসকরা অন্য পেশার প্রতিদ্বন্ধী অবশ্যই না, এবং সে রকম তারা মনেও করে না।তারপরও তারা বৈষম্যের শিকার কেন হবে? রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় কেন অবহেলিত থাকবে।
এ সব সমস্যা নিরসনে পেশাজীবিদের মোর্চাও তেমন সক্রিয় না।আমাদের পেশাজীবি মোর্চাগুলো পেশার চেয়েও রাজনৈতিক সংযোগ রক্ষায় অধিক মনোযোগী বিধায় দাবী আদায়ে আকাংখিত ফলাফল পান না।
এখন সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধভাবে কার্যকর ও যৌক্তিক আন্দোলন গড়ে তোলার।#

লেখা -  ডাঃ রেজাউল করিম 


বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৫

এনাটমির প্রফেসর ডাঃ মনসুর স্যার আর নেই

এনাটমির প্রফেসর ডাঃ মনসুর স্যার আর নেই


বাংলাদেশের এনাটমির লিজেন্ড প্রফেসর মনসুর খলিল স্যার আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন , ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন । আল্লাহ স্যারকে ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাতবাসী করুন ।
আমার এখনও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে , আরো খারাপ লাগছে মহসিন স্যারের জন্য , পৃথিবীতে উনি একবারেই একা হয়ে গেলেন ।
ফার্স্ট ইয়ারে স্যারের ক্লাস পেয়েছি , আমাদের সম্বোধন করতেন "শোন বাচ্চারা " বলে , এমফিল এর ফার্স্ট পার্ট এর ভাইবা উনার কাছেই দিয়েছি ।
এইত কয়দিন আগেও আমাদের নাদিয়া আপুর থিসিস ডিফেন্ড ভাইবা নিতে এসেছিলেন , দেখা হয়েছে তখনও । আমাদের সবাইকে একে একে আবার পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন মহসিন স্যার , আর আমাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় বলছিলেন - এই ছেলেটা ইমিউনো কম্প্রোমাইজড , সারাবছর ঠান্ডা বাধায়ে বসে থাকে ।
ভাবতেই পারছি না , স্যারকে শেষবারের মত দেখতে পাব না , এনাটমিক্যাল সোসাইটির কনফারেন্সের জন্য ঢাকায় এসেছিলাম , ইচ্ছা ছিল শনিবার দেখা করব স্যারের সাথে ।
খুব ইচ্ছা ছিল আমার থিসিস ডিফেন্ড স্যারের কাছে দেব ।
আল্লাহ তুমি উনাকে মাফ করে দিও , জান্নাতি হিসেবে কবুল কোরো ।
নাদিয়া আপুর থিসিস ডিফেন্ডের সময় স্যার বলছিলেন - এমএমসি তোমার মা , এখান থেকে এমফিল ডিগ্রী নিয়ে যাচ্ছ , নিজের মা কে কখনও ভুলে যেও না ।
[ স্যারের জন্য সবাই খুব দোয়া করবেন প্লিজ ]

লেখা - ডাঃ যুবায়ের 

সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৫

 বর্তমান ডাক্তারী পেশা ও কিছু ধ্রুব সত্য কথা

বর্তমান ডাক্তারী পেশা ও কিছু ধ্রুব সত্য কথা


বর্তমান ডাক্তারী পেশা ও কিছু ধ্রুব সত্য কথা ___
ডাক্তার হওয়ার জন্য
এম.বি.বি.এস  ভর্তির শুরু থেকে
ক্লাস,  প্রতিদিন আইটেম,  কার্ড,  টার্ম ও একের পর এক প্রফ পরীক্ষা ।
কেড়ে নেয় জীবনের সব আনন্দ!
ফার্স্ট প্রফের  এনাটমির জন্য,
 গ্রেস এনাটমি
কানিং হাম,  দত্তের বই,
বিডি চুরাশিয়া,  স্নেল নিউরোএনাটমি
নীটার কালার এটলাস,
হিস্টোলজি, ওস্টিওলোজি ,  এমব্রায়োলজি
ফিজিওলজির জন্য  গেনং, গাইটন সহ
আরো কত মেইনবই, গাইড বই পড়তে হয়!
বায়োকেমেস্ট্রির জন্য লিপিনকট, হার্পার, সত্যনারায়ণসহ কত লেকচার নোট পড়তে হয়!
যে পড়ে সে জানে!
এর মাঝে আরেক প্যারা কমিউনিটি মেডিসিন!
পাবলিক হেলথের ডেফিনেশন মুখস্ত করতে করতে জান শেষ হয়ে যায়,
ডেফিনেশন আর মুখস্ত হয় না!
সেকেন্ড প্রফ সে তো আইটেমের পাহাড়
ফার্মার কেটজাং ,  মাইক্রো , রবিনস প্যাথো,  মরা মানুষের গবেষনা রেড্ডির
ফরেনসিক পাশের  জন্য  কত বই,  লেকচার পড়তে সেটা আল্লাহ মালুম!
ফাইনাল প্রফ সেতো  এম বি বি এস নাটকের শেষ দৃশ্য!
থার্ড ইয়ারের ডেভিডসন - হ্যারিসনের মেডিসিন,
ম্যাকলয়েডস এর ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন,
আব্দুল্লাহ স্যারের শর্ট কেইস, লং কেইস ,
ইসিজি,  রেডিওলজি
বেইলী লাভের সার্জারী,
দত্তের সার্জারী,
আই,  ই এন টির কত বই,
কত লেকচার !
সে তো  বলে শেষ করা যাবে না!
সব বই আর লেকচার কাঁধে নিয়ে নিয়মিত ক্লাসে আসলে,
নিশ্চিত ঐ ছাত্রের ডাক্তার হওয়ার পূর্বেই কাইপোসিস ডেভেলাপ করবে ।
আইটেম সব ক্লিয়ার না হলে,
কার্ডে বসার সুযোগ নেই,
সব কার্ড পাশ না করলে,
টার্মে বসার সুযোগ নেই,
সব টার্মে পাশ না করলে
ভার্সিটির অধীনে অনুষ্ঠিত প্রফে বসার সুযোগ নেই,
সব ক্লিয়ার থাকার পর যদি পার্সেন্টেজ ৭৫ এর নীচে হয়
প্রফে বসার আশাটা গুড়ে বালি হয়ে যায়!

ফার্স্ট প্রফ নিয়মিত পাশ না করলে
ডাক্তার হওয়ার আশা হতাশা হয়ে দাঁড়ায়!
নিয়মিত প্রফে বসতে না পারলে
হতাশা কল্পনার বাহিরে চলে যায়!

সব শেষে শুরু
ফাইনাল প্রফ নামক মহাযজ্ঞ!
ভাগ্য যার সহায় হয়,
পাশ করে ডাক্তার হওয়াটা তত ইজি হয়!

যদি স্যারদের সাথে কোনো পার্সোনাল ক্লেশ থাকে তাহলে তো পাশ করাটা দু:স্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
ফার্স্ট প্রফ, সেকেন্ড প্রফ,  থার্ড প্রফ (বর্তমানে)
ও ফাইনাল প্রফ  পাশ করলে
ডাক্তার হওয়ার আশা টা পূর্ণ হয়ে যাবে!
এম বি বি এস পাশের পর শুরু হয়
ইন্টার্ণশীপ লাইফ,
ইন্টার্ণশীপ লাইফে রোস্টার অনুযায়ী প্রতিটা ওয়ার্ডে  ডিউটি শেষে
লগ বুকে ওয়ার্ডের সি এ, প্রফেসর, কো অর্ডিনেটর ও  বিভাগীয় প্রধানের সই নিয়ে লগবুক জমা দিতে হয় ডিরেক্টর অফিসে,
ইন্টার্ণ লাইফ শেষে  প্রিন্সিপ্যাল  ও ডাইরেক্টরের সইযুক্ত ইন্টার্ণশীপ সার্টিফিকেটের জন্য অপেক্ষা করতে হবে সপ্তাহ দুয়েক!

এখানেই  শেষ নয়!
এতোকিছু পাড়ি দিয়েও ডাক্তারী পেশা প্র‍্যাকটিস করতে পারবেন না,
প্র‍্যাক্টিসের জন্য আপনাকে  বিএমডিসির রেজিষ্ট্রেশন সনদ  সংগ্রহ করতে হবে ,
রেজিষ্ট্রেশনের জন্য নগদ টাকা,
এম বি বি এস পাশের  ভার্সিটি সার্টিফিকেট  ও
ইন্টার্নশীপ ট্রেনিং এর সার্টিফিকেট জমা দিয়ে অপেক্ষা করতে হবে  সপ্তাহ দুয়েক থেকে মাসেক!
বিএমডিসির রেজিষ্ট্রেশন  সনদ  পাওয়ার পর
ডাক্তার হিসেবে প্র‍্যাক্টিস করার বৈধতা পাবেন।

পোস্ট গ্র‍্যাজুয়েশন সে তো মহারতী মেধাবীদের স্বপ্ন ভংগের ভিন্নরূপ!
এফ সি পি এস  ফার্স্ট পার্ট পাশ করে
ট্রেনিং এ ঢুকবেন  বিনামূল্যে মানব সেবা করে যাবেন...    বাপের টাকায় নিজের থাকা খাওয়া দাওয়াসহ যাবতীয় খরচ  চালাবেন।
বছরের  পর বছর অনাহারী নামক  মেডিকেল অফিসার হয়ে  বিনামূল্যে মানব সেবা দিয়ে
চূড়ান্ত পরীক্ষায়   পাশ হবার সম্ভাবনা ৫ পার্সেন্ট!
এফ সি পি এস  ডিগ্রীটা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে,
ঠিক ধরি মাছ না ছুই পানি এর উলঠো!
পড়তে থাকবেন আর ট্রেনিং করতে থাকবেন,
পাশ সে তো স্বপ্নের বিষয়!
পাশের হার এতই নগন্য অনেকে কয়েক বছর ট্রেনিং করে এফসিপিএস ছেড়ে দিয়ে
এম ডি  / এম এস রেসিডেন্সী করছেন  না হয় দেশ ছেড়ে বিদেশ পাড়ি জমাচ্ছেন!
কয়েক বছর আগেও
এফ সি পি এস এর পাশাপাশি  অন্যান্য ডিগ্রীগুলো  কনটিনিউ করা যেত!
আর এখন সে সুযোগটাও শূন্য।!
মেডিকেলের পোস্ট গ্র‍্যাজুয়েশন  ব্যবস্থা এতটা কঠিন  করে ফেলেছেন,
হতাশা ছাড়া মিটে কি আশা !
এত কিছুর পরে যখন মহত পেশায় নিয়োজিত হবেন, দেখবেন
অন্যান্য পেশার বন্ধু বান্ধবরা বাড়ি গাড়ি করে দেশ বিদেশ ভ্রমণে পাড়ি দিচ্ছেন।
নানা উতসব  আনন্দে  দিন কাটাচ্ছেন,
তখন  আপনি এতোটাই ব্যস্ত হয়ে উঠবেন,
দেশ বিদেশ তো দূরের কথা  পরিবারের সদস্যদের সাথেও ঠিকমতো সময় দিতে পারবেন না!  আপনার অনুপস্থিথিতেই
শত আচার অনুষ্ঠান আনন্দ শেষ হয়ে যাবে!
আপনি শুধু আফসোস করে যাবেন!
এতো কিছু ত্যাগের পর বুড়ো বয়সে পাবেন
স্বান্ত্বনা স্বরূপ কিছুটা খ্যাতি  আর অর্থ বিত্ত !
উপরের সব কিছুই ধ্রুব সত্য!
কল্পনা নহে !!

লেখা- ডাঃ স্বাধীন

email - DoctorShadhin@gmail.com

 Cell : +880-1931-992211  


শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

Failure is the Pillar of Medical Science

Failure is the Pillar of Medical Science


  লেখা -  ডাঃ স্বাধীন  

অনেকে বলছেন  ,যেখানে মেডিকেলের প্রফ পরীক্ষার রিটেন প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় ,
সেখানে এডমিশন টেস্ট কোনো ব্যাপার না !
আমি তাদের সাথে সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করছি ,
মেডিকেল শুধু  এম.সি.কিউ কিংবা রিটেন দিয়ে শেষ নয় ,
মেডিকেলে পাশ করতে হলে আপনাকে নিয়মিত আইটেম পাশ করতে হবে তাও আবার স্যার - ম্যাডামদের সামনে ভাইভা দিয়ে ।
আইটেম সব ক্লিয়ার হলে আপনাকে মোকাবিলা করতে  হবে কার্ড পরীক্ষা-
সেখানে রিটেন - ভাইভা - প্রাক্টিক্যাল  তথা OSPE , শর্ট কেইস - লং কেইস   সব আলাদা আলাদা পাশ করতে হবে ,
একই নিয়মে কয়েকটি কার্ড পাশ করার পর আপনাকে টার্ম পাশ করতে হবে ,
সব টার্ম পরীক্ষা পাশ করার পর আপনাকে লড়তে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের
অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়া  প্রফ পরীক্ষা তথা পেশাগত পরীক্ষা ,
সে পেশাগত পরীক্ষার রিটেন  খাতা চলে যাবে ভার্সিটিতে ,
রিটেন শেষ হলে   একযোগে শুরু হবে সেন্ট্রাল  OSPE পরীক্ষা ,
সে পরীক্ষা এক দলকে  রুমে বন্ধী করে আরেকদলের  বেল বাজিয়ে ষ্টেশন - টু ষ্টেশন পরীক্ষা শুরু হয় , প্রতিটা ষ্টেশনে বিভিন্ন সিনারিও, এক্স রে ফিল্ম, ই সি জি , ফটোগ্রাফ , ভিসেরা , বোনস,  ডাটা , অপারশনের ইন্সট্রুমেন্ট , লেবেলহীন ড্রাগ ও বিভিন্ন প্রসিডিউর থাকে ।
প্রতিটা ষ্টেশন ২-৩ মিনিটে  আইডেনটিফাই করে ,
ঐ রিলেটেড উল্লেখিত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে উত্তর পত্র ঝুড়িতে  রাখতে হয় ,
এভাবে এক দলের প্রতিটা  ষ্টেশনের সময় শেষ হলে ,
বন্ধী রাখা পরীক্ষার্থীদের  OSPE রুমে প্রবেশ করানো হয় ।
২-৩ টা ষ্টেশন যদি ভুল করে আসে তবে
প্রফ পাশের সব সাধনায় ওখানেই শেষ ।

বিশেষ করে সার্জারী ফার্স্ট পার্টে  ষ্টশনের প্রশ্নগুলোর উত্তর অনেক বড় হওয়ায়,
 উত্তর লেখার পূর্বেই বেল বেজে উঠে - সময় ফুরিয়ে যায় ।

এই কঠিন সার্কাস  শেষ হলে কয়েকদিনপর শুরু হয় ,
মেডিকেলীয় আসল পরীক্ষা ভাইভা- শর্ট কেইস , লং কেইস ।
ভাইভা নিতে আসেন ভার্সিটি থেকে সিলেক্ট করা স্যারেরা
অমুক মেডিকেলের প্রফেসর  তমুক মেডিকেলের এক্সটার্নাল হয়ে ভাইভা নিতে আসেন ।
যে সব স্যারকে মেডিকেল পরীক্ষার্থী ভাইভার পূর্বে আগে কখনো দেখে নি
,
এমন আজানা , আচেনা স্যারদের সামনে পরীক্ষা দিতে অনেক নার্ভাসনেস কাজ করে , যতো ভালো প্রিপারেশন থাকুক না কেনো ।

ভাইভাতে এমনো হয় অনেক ভালো ছাত্রেরও থ্রট ব্লক হয়ে যায় ,
সব কিছু জানার পরও  অতি নার্ভাসনেসের কারনে নিজের নাম বলতে  আটকে যায় ।

অনেকের ভাইভাতে এমনও হয় ,
প্রায় সব প্রশ্নের উত্তর ভালো করে পারে ,
কিন্তু গুটিকয়েকে যা ভালো করে পড়ে নাই
সেগুলোর বিশদ উত্তর জানতে চাই এক্সটার্নাল ।

 যদি সেকেন্ডের জন্য
কোনো পরীক্ষার্থীর উপর স্যারের বেড ইমপ্রেশন তথা বদ নজর পড়ে ,
তাহলে কথায় নেই ...
মুহুর্তেই জান কোরবান - নিশ্চিত পরীক্ষায় ফেল ।

যে ছেলেটি  ভাইভা বোর্ডে এসে ২- ৩ নাম্বারের জন্য ফেল করে
তার দুঃখের অন্ত নেই ।
যে ছেলেটি ক্লাসের  ফার্স্ট হয়েও রিটেন - ভাইভাতে অনেক ভালো নাম্বার পেয়ে পাশ করার পর , যখন শুনে  OSPE  তে ফেল ।

ছেলেটি অনেক মেধাবী হউক কিংবা ভালো হউক
OSPE তে ফেল করায়
তখন সে পরীক্ষার্থীর রেজাল্ট দাঁড়ায় ফেল ।

ফলাফল - তাকে ৬ মাসের বন্দী কারাঘারে জীবন পার করে
আবার সাপ্লিমেন্টারী পরীক্ষায় বসে  ভাইভা- রিটেন- central OSPE শর্ট কেইস - লং কেইস সব পাশ করতে হবে  ।

ভাইভা রিটেনে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে সেট্রাল OSPE তে ফেল করেছে এমন অনেক নজির মেডিকেলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ।

আবার অনেকের ভাগ্যটা এতটাই  খারাপ
প্রায় সবকিছু পাশ করেও কেবল শর্ট কেইস কিংবা লং কেইসে ফেল করায়
পুরো রেজাল্ট ফেল চলে আসে ।
পাশ মার্ক ৬০ নাম্বারের চেয়ে ২-৪ কম পাওয়ায় কত ছাত্রের জীবন থেকে
 হারিয়ে যাচ্ছে কত মূল্যবান সময় !!


স্কুল কলেজে ফার্স্ট   যে কোনোদিন ফেল করে নি ,
সে মেডিকেলে  এসে ফেল করবে , এটাই স্বাভাবিক !
মেডিকেলে এসে কোনো না কোনো পরীক্ষায় ফেল করে নি ,
এমন ছাত্রের সংখ্যা অতি নগন্য ।

মেডিকেলে পাশ ফেল কোনো ব্যাপারই না ,

Failure is the Pillar of Medical Science.

এম.বি.বি.এস যত কঠিন হউক না কেনো,
পরীক্ষা দিতে দিতে
একদিন না একদিন  এম.বি.বি.এস  পাশ হবেই।

সো নিরাশ হবেন না, ডাক্তার একদিন হবেনই ।




বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০১৫

চিকেন পক্স বা বসন্ত কী

চিকেন পক্স বা বসন্ত কী

প্রকৃতির বসন্ত মানুষকে পুলকিত করে। কিন্তু শরীরে যখন বসন্ত রোগ হয় তখন মোটেই তা আনন্দকর কোন অনুভূতি নয়।

বসন্ত বা চিকেনপক্স কী


এটা ভেরিসেলা নামক একধরনের ভাইরাসজনিত রোগ। এতে শরীরের নানা জায়গায় চুলকানিসহ গোটা হয়ে থাকে। 

কাদের এ রোগ হয়
বসন্ত সব বয়সী মানুষের হলেও ১৫ বছরের নীচে যাদের বয়স তারা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়।

চিকেনপক্স কিভাবে হয়
এটা একধরনের ভাইরাস জনিত রোগ। ভেরিসেলা নামক এ ভাইরাস দ্রুত ছড়াতে সফল। এই জীবাণু বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাচি কাশি থেকেও জীবাণু অন্য কারো মধ্যে ছড়িয়ে থাকে।
আক্রান্ত ব্যক্তির কাপড়, চোপড়ের সংস্পর্শে এলেও ভাইরাস শরীরে ঢুকতে পারে। 
ভাইরাস শরীরে ঢুকার ১০-১২ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়। এই জীবাণু একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে পুরোপুরি সুস্থ্য না হওয়া পযর্ন্ত ছড়াতে পারে।

লক্ষণ
১. অস্বস্তি ও চুলকানিসহ পানিভর্তি ব্লিসটার।
২. প্রথমে মুখ পরে আস্তে আস্তে সারা শরিরে ছড়িয়ে পড়ে।
৩. জ্বর ও মাথাব্যথা হয়ে থাকে। 
বসন্ত ৫-১০ দিন পযর্ন্ত স্থায়ী হয়। কখনও কখনও আরো বেশিদিন পযর্ন্ত থাকতে পারে। 

বসন্ত ও গর্ভাবস্থা
গর্ভাবস্থায় কারো বসন্ত হলে সেটা বাচ্চার জন্য খুব মারাত্মক পরিণতি ডেকে নিয়ে আনতে পারে।
১. বাচ্চার মস্তিস্কের প্রদাহ
২. বাচ্চার চোখ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
৩. চর্মরোগ হতে পারে।

বসন্ত প্রতিরোধের উপায়
১. আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা করে রাখতে হবে।
২. বসন্ত প্রতিরোধের জন্য ভেকসিন দেওয়া যেতে পারে। প্রথম ইনজেকশন দেবার ৫ বছর পর আরেকটা ইনজেকশন দিতে হবে।

চিকিৎসা
১. লক্ষণ প্রশমিত করন। 
২. আক্রান্ত ব্যক্তিকে বাড়িতে বা হাসপাতালের পৃথক জায়গায় রাখতে হবে। শিশুকে স্কুলে পাঠানো যাবে না। 
৩. ক্যালামিনজাতীয় লোসন দিতে পারেন। এতে চুলকানি কম হবে।
৪. জ্বর ও ব্যথার জন্য প্যারসিটামল জাতীয় ঔষধ দিতে পারেন।
৫. এন্টি হিসটামিন যেমন এলাট্টল জাতীয় ঔষধ খেতে পারেন

ডা. মোহাম্মদ আনিসুর রহমান

সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০১৫

মানব সেবায় ন্যস্ত জীবনের ব্যস্ত ডাক্তারদের জন্য শুভ কামনা । শুভ ডক্টরস ডে

মানব সেবায় ন্যস্ত জীবনের ব্যস্ত ডাক্তারদের জন্য শুভ কামনা । শুভ ডক্টরস ডে

" স্বাধীনচিত্তে , মনপ্রাণ খুলিয়া বলি ,
যারা ডাক্তারদের বিরুদ্ধে উড়ায়তাছে ধূলি,
অপারসম্মুখে, হারিয়ে যাবে তাহাদের বুলি । "
 মিডিয়ার ভন্ডামি ও ডাক্তারদের সমাজ বাস্তবতা ---
যে পেশায় মানুষ, তন্দ্রাহীন চোখে, নিদ্রাহীন সপ্ন দেখে ,
কেবলি মানুষের সেবা ও সম্মানের অপেক্ষায়,
কিন্তু ...কোথায়....... সে সম্মান ?


প্রতিনিয়ত মানব সেবায় ন্যস্ত জীবনটাকে নিয়ে খেলছে ,

লাঞ্ছনা বঞ্ছনা করা হচ্ছে, একটু প্রতিবাদী হলেই কেড়ে নিচ্ছে জীবন ।

এই তো বেশ কিছুদিন হয়ে গেলো ,
ডা: শেজাদীকে খুন করে , তার স্বামী বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে আজো ।

এর কিছুদিন আগে উত্তরায় এক ডাক্তার ( সাজিয়া আফরিন),
বোনের সাথে ঘটে যাওয়া লোমহর্ষক ঘটনা...
আরো কত ... ঘটছে কি জানি ...!

আমরা ভুলি নাই, ভুলে গেছে তোষামোদী মিডিয়া !
সবই বৃথা,
আমাদের মিডিয়া কাদের জন্য ?
এরা কেবলি ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে ব্যস্ত থাকে,
এত গুলো ডাক্তার কে হত্যা করা হলো ,
সেসব নিয়ে বিন্দু মাত্র কথা বললো না,
অথচ, চট্টগ্রামে ডা: সুরমান আলীকে জেলে ভরিয়ে খুশিতে আত্নহারা মিডিয়া,
ধিক্কার জানায়, ছি ছি জানায়,
সেইসব মিডিয়াকে যারা সমাজের বাস্তব প্রতিবিম্ব তুলে না ধরে,
সমাজ ব্যবস্থা কে লুঠিয়ে দিতে চায় ।

সারা বিশ্বে ডাক্তারদেরকে সমাজের,
সবচেয়ে মূল্যবান নাগরিক হিসেবে ১ম শ্রেনীর মর্যাদা দেয়া হয়,
" বিশ্বচিত্রের উল্টা চিত্র বাংলাদেশে, "

মিডিয়া বাংলাদেশের ডাক্তার সমাজকে কসাই সমাজ হিসেবে উপস্থানে সদা ব্যস্ত ।
তাই সেইসব মিডিয়াকে বলে দিতে চাই ...

" স্বাধীনচিত্তে , মনপ্রাণ খুলিয়া বলি ,
যারা ডাক্তারদের বিরুদ্ধে উড়ায়তাছে ধূলি,
অপারসম্মুখে, হারিয়ে যাবে তাহাদের বুলি । "

--- ডাঃ স্বাধীন

রবিবার, ১ জুন, ২০১৪

 ডাক্তারদের পড়ালেখা, প্রেক্ষাপট: যুক্তরাস্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়া

ডাক্তারদের পড়ালেখা, প্রেক্ষাপট: যুক্তরাস্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়া

আপনি কি জানেন- যুক্তরাস্ট্রে এমবিবিএস বলে কোন ডিগ্রী নেই? যুক্তরাজ্যে জেনারেল প্র্যাকটিস করতে হলে আপনাকে ৫ বছরের স্নাতকত্তোর ট্রেইনিং শেষ করতে হবে? কানাডায় মেডিকেল স্টাডিস-এ প্রবেশ করতে হলে আপনাকে ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন করতে হবে- এই তথ্য কি আপনার জানা ছিল? 




আমাদের মাঝে পাশ্চাত্যের মেডিকেল পড়াশোনা নিয়ে কৌতুহল থাকলেও বিষয়টি নিয়ে কখনও ঘাঁটাঘাঁটি করা হয়নি। তাই ভাবলাম, বিষয়টি একটু পড়ি। পড়ে অনেক কিছুই জানা হল। চলুন দেখি, পাশ্চাত্যের ডাক্তারি পড়ালেখার ধরণ কেমন-


এই প্রবন্ধে মূলত যুক্তরাস্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ার মেডিকেল এডুকেশন নিয়ে আলোচনা থাকবে। সাথে, বাংলাদেশ থেকে যে চিকিৎসকরা এসব দেশে যেতে আগ্রহী সংশ্লিষ্ট দেশে তাদের পথপরিক্রমা সম্পর্কেও সংক্ষিপ্ত আলোচনা থাকবে। আমাদের দেশের মেডিকেল গ্রাজুয়েটদের মধ্যে থেকে যারা দেশের বাইরে যেতে আগ্রহী, তারা সাধারাণত এই ইংলিশ স্পিকিং দেশগুলোতেই যাওয়ার চেষ্টা করেন। চিকিৎসাবিদ্যা যেহেতু মানুষের সাথে সম্পর্কিত সেহেতু বিভিন্ন দেশের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা তাদের দেশের প্রেক্ষাপটে মেডিকেলে এডুকেশনকে সাজানোর চেষ্টা করেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দেশভেদে মেডিকেলে পড়াশোনার নিয়মের কিছুটা পার্থক্য আছে।

যুক্তরাস্ট্র

যুক্তরাস্ট্রে মেডিকেল আণ্ডারগ্রাজুয়েট প্রোগ্রাম চার বছরের। এটি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল স্কুল দ্বারা পরিচালিত হয়। এ প্রোগ্রামে ঢোকার শর্ত হল- অন্য যে কোন বিষয়ে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করতে হবে। তবে, একজন মেডিকেল ভর্তিচ্ছু ছাত্রকে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় বসতে হলে উক্ত বিষয়ে গ্রাজুয়েশন করাকালীন এসোসিয়েশন অব অ্যামেরিকান মেডিকেল কলেজেস কতৃক নির্ধারিত কিছু কোর্স অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে আছে- রসায়ন দুই বছর (যার এক বছর জৈব রসায়ন), এক বছরের জীববিজ্ঞান এবং এক বছরের ফিজিক্স। রসায়ন ও জীববিজ্ঞান কোর্সে সেলুলার বায়োলজী, ফিজিক্যাল কেমিস্ট্রি, বায়োকেমিস্ট্রি, মলিকিউলার বায়োলজি এবং জেনেটিক্স রাখার উপদেশ দেয়া হয়। এছাড়া স্কুল ভেদে সুনির্দিষ্ট ‘বিষয়ের’ শর্তাবলীর পার্থক্য আছে।

একজন ছাত্র এই প্রি-মেডিকেল শর্তাবলী পূরণ করলে মেডিকেল কলেজ এডমিশন টেস্ট (এম,সি,এ,টি) দিতে পারে। মেডিকেল স্কুলে চান্স পাওয়া নির্ভর করে ছাত্রের প্রি-মেডিকেল কোর্সের একাডেমিক রেকর্ড, এম,সি,এ,টি-র ফলাফল, অন্যান্য প্রি-মেডিকেল এক্সট্রা-কারিকুলার এক্টিভিটি(যা ছাত্রের মেডিসিন-এর প্রতি আগ্রহকে স্পষ্ট করে), বিশ্বাবিদ্যালয় থেকে রিকমেন্ডেশন লেটার এবং ইন্টারভিউ-এর ফলাফল ইত্যাদির উপর।

মেডিকেল স্কুল থেকে যে ডিগ্রী দেয়া হয় তার নাম ডক্টর অব মেডিসিন (এম,ডি) অথবা ডক্টর অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিন (ডি,ও)। মেডিকেল স্টাডিকে স্কুলভেদে চার থেকে পাঁচ বছরের পড়াশোনায় ভাগ করা হয়। প্রথম দু’বছর বেসিক সায়েন্স এবং পরের তিন বছর ক্লিনিক্যাল ক্লার্কশিপ। প্রথম দুই থেকে তিন বছর যে বিষয়গুলো কাভার করতে হয় সেগুলো হল- এনাটমি, ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, হিস্টোলজি, এমব্রায়োলজি, মাইক্রোবায়োলজি, প্যাথোলজি, প্যাথোফিজিওলজি, নিউরোসায়েন্স ইত্যাদি। তবে, কারিকুলাম আমাদের দেশের মত সাবজেক্টভিত্তিক সাজানো হয় না বরং সিস্টেম ভিত্তিক (যেমন: ব্রেইন এণ্ড বিহেভিওর, কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেম প্রভৃতি)সাজানো হয়। ফলে, একজন ছাত্রের প্রথম থেকেই রোগী ও রোগ ভিত্তিক প্রশিক্ষণ হয়। এগুলো পড়া শেষ হলে একজন ছাত্র ইউনাইটেড স্টেটস মেডিকেল লাইসেন্সিং এক্সাম তথা ইউ,এস,এম,এল,ই পার্ট ওয়ান দিতে পারে। এরপর কোন একটি টিচিং হসপিটালে তিন বছরের ক্লার্কশিপে প্রবেশ করতে হয়। এ সময় মেডিসিন, সার্জারী, পেডিয়াট্রিক্স, ফ্যামিলি মেডিসিন, গাইনোকোলজি ও অবস্টেট্রিক্স, নিউরোলজি এবং সাইকিয়েট্রি ওয়ার্ডে রোটেশন হয়। এর পাশাপাশি কিছু ইলেকটিভ সাব-স্পেশালিটিতেও ক্লার্কশিপ সম্পন্ন করতে হয়। (কোনো কোনো স্কুল জয়েন্ট পোগ্রাম পরিচালনা করে, যেখানে মেডিকেল সায়েন্সের পাশাপাশি রিলেটেড বিষয়ে পিএইচডি, মাস্টার্স ইত্যাদি করার সুযোগ থাকে) পড়াশোনার চতুর্থ বছরের শেষে মেডিকেল ছাত্ররা সাধারণত ইউ,এস,এম,এল,ই পার্ট টু পরীক্ষা দেয়।

ক্লিনিক্যাল ক্লার্কশিপ শেষে একজন ছাত্র এম,ডি বা ডি,ও ডিগ্রী অর্জন করেন, কিন্তু প্র্যাকটিস করতে পারেন না। প্র্যাকটিস করার লাইসেন্স পেতে হলে তাকে কমপক্ষে এক বছরের ইন্টার্ণশিপ এবং নির্দিষ্ট স্পেশালিটিতে (তথা বিষয়ে) রেসিডেন্সি শেষ করে ইউ,এস,এম,এল,ই পার্ট ত্রি তথা লাইসেন্সিং পরীক্ষা দিতে হয়। এরপরই কেবল একজন প্র্যাকটিস করার যোগ্যতা অর্জন করেন।(প্রসঙ্গত, যুক্তরাস্ট্রের অল্প কিছু প্রদেশে এক বছরের ইন্টার্ণশিপ শেষে মেডিসিন প্র্যাকটিস করার সুযোগ আছে।)

রেসিডেন্সি ট্রেইনিং-এ চান্স পাওয়া নির্ভর করে ন্যাশনাল রেসিডেন্সি ম্যাচিং প্রোগ্রামের উপর। এটি একটি কম্পিউটার চালিত প্রোগ্রাম যেখানে ইউ,এস,এম,এল,ই পার্ট টু পাশ করা ডাক্তারদের রেসিডেন্সিতে ঢুকার আবেদন ও টিচিং হাসপাতালের বিভিন্ন স্পেশালিটিতে শূণ্য রেসিডেন্সি পদের প্রাপ্যতার উপর নির্ভর করে ডাক্তারদের ইন্টারভিউ নেয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়। যেহেতু রেসিডেন্সি পদ কম এবং আবেদন অনেক বেশী থাকে, ফলে এই ম্যাচিং প্রোগ্রামটি অনেক শক্ত হয়। অনেক আবেদনকারীকেই তাদের ইচ্ছেকৃত স্পেশালিটিতে সুযোগ পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। আবার, অনেককে তাদের ইচ্ছে পরিবর্তন করতে হয়। রেসিডেন্সির ম্যাচিং-এর সময় যে প্রভাবকগুলো কাজ করে তা হল: আবেদনকারী ক্রমানুসারে যে প্রতিষ্ঠানে ঢুকতে ইচ্ছুক তার লিস্ট, আবেদনকারীর ইউ,এস,এম,এল,ই পরীক্ষার নম্বর, আলফা-ওমেগা-আলফা (সংক্ষেপে এ,ও,এ) মেম্বারশিপ, ক্লিনিকাল ক্লার্কশিপের গ্রেড, রিকমেণ্ডেশন লেটার, ক্লাসে মেধাক্রম, রিসার্চের অভিজ্ঞতা, কোন স্কুল থেকে এম,ডি পাশ করেছে, আলাদা কোন যোগ্যতা (যেমন রিলেটেড বিষয়ে মাস্টার্স করা থাকলে তা) ইত্যাদি।

বিষয়ভেদে রেসিডেন্সি ট্রেইনিং-এর ডিউরেশন তিন বছর থেকে শুরু করে দশ বছর পর্যন্ত হতে পারে। সংক্ষেপে বললে, ইন্টারনাল মেডিসিন-এ তিন বছর এবং জেনারেল সার্জারীতে পাঁচ বছর ট্রেইনিং করতে হয়। কেউ যদি মেডিসিনের সাবস্পেশালিটি এবং সার্জারীর সাবস্পেশালিটিতে ডিগ্রী করতে চান, তার সংশ্লিষ্ট বিভাগে অতিরিক্ত ৩ থেকে ৫ বছর ফেলোশিপ টেইনিং করতে হয়। ট্রেইনিং শেষে একজন ডাক্তার তার স্পেশালিটিতে বোর্ড সার্টিফিকেশন-এর জন্য আবেদন করতে পারেন। এরপর তাকে উক্ত বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয়।(একে ইউ,এস,এম,এল,ই পার্ট ত্রি-ও বলা যায়) পরীক্ষা পাশ করলে উক্ত স্পেশালিটির বোর্ড সার্টিফিকেট পাওয়া যায়।

যারা জেনারেল ফিজিশিয়ান হতে চান তারা কি করবেন? প্রদেশভেদে এই বিষয়টিতে পার্থক্য আছে। কোন কোন প্রদেশে একবছর ইন্টার্ণশিপ ট্রেইনিং-এর পর প্র্যাকটিস-এর সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। তবে অধিকাংশ প্রদেশেই এখন জেনারেল প্র্যাকটিস করতে হলে ফ্যামিলি মেডিসিন বিভাগে তিন বছর রেসিডেন্সি ট্রেইনিং করতে হয়। উল্লেখ্য, যুক্তরাস্ট্রে জেনারেল প্র্যাকটিশনার শব্দটি উঠে গেছে। তার পরিবর্তে এদেরকে বলা হচ্ছে ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান।

যে সকল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল গ্রাজুয়েট যুক্তরাস্ট্রে স্যাটল হতে চান, তাদেরকে ইউ,এস,এম,এল,ই পার্ট ওয়ান এবং পার্ট টু(সি,কে ও সি,এস) পাশ করে রেসিডেন্সির জন্য এপ্লাই করতে হয়। সে হিসেবে, বাংলাদেশ থেকে যে সকল মেডিকেলে স্টুডেন্ট যুক্তরাস্ট্রে যেতে আগ্রহী তাদেরকেও একই পথে চলতে হবে। পার্ট ওয়ান পরীক্ষা মেডিকেলের চতুর্থ বছর শেষেই দেয়ার সুযোগ আছে। পার্ট ওয়ান এবং টু সি,কে দু’টো পরীক্ষাই বাংলাদেশে আমেরিকান এম্বেসিতে দেয়া যায়। পার্ট টু সি,এস যুক্তরাস্ট্রে গিয়ে দিতে হয়। পার্ট টু সি,এস পাশ করার পর রেসিডেন্সির জন্য এপ্লাই করার পর শুরু হয় ন্যাশনাল রেসিডেন্সি ম্যাচিং প্রোগ্রাম-এ নাম আসার জন্য অপেক্ষা করার পালা। নাম আসলে পড়ে ইন্টারভিউ দিতে হয়। এরপরই একজন ক্যানডিডেট রেসিডেন্সিতে ঢুকতে পারে। রেসিডেন্সিতে চান্স পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশী ছাত্রদের ই,ইউ,এস,এম,এলই-তে অনেক ভাল করা (অর্থাৎ প্রায় ৯৯ পারসেন্টাইলে থাকা) জরুরী । নইলে সাধারণত রেসিডেন্সি পাওয়া যায় না। কারণ, এটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রাম। তবে পরীক্ষার রেজাল্ট পারসেন্টাইলের দিকে দিয়ে সামান্য কম হলেও, যদি যুক্তরাস্ট্রের সিটিজেনশিপ থাকে(অথবা পারমানেন্ট রেসিডেন্ট হয়) অথবা কোন সিটিজেন তাকে স্পন্সর করে(তথা অভিভাবক হওয়ার দায়িত্ব নেয়), তাহলে রেসিডেন্সি ম্যাচ করার সম্ভাবনা বাড়ে।

প্রসঙ্গত, রেসিডেন্সি ট্রেইনিং-এ সাপ্তাহিক কর্মঘন্টা সাধারণত ৮০ ঘন্টা বা তার বেশী। প্রত্যেক সপ্তাহে টানা ছত্রিশ ঘন্টার একটা ডিউটি থাকবেই। বছরে তিন সপ্তাহের একটি ভ্যাকেশন বাদে পার্সনাল ছুটি ছয় দিন পর্যন্ত নেয়া যায় (ইন্সটিটিউশন ভেদে পার্থক্য থাকতে পারে)। প্রতিষ্ঠানভেদে বাৎসরিক স্যালারী ন্যূনতম ৪০০০০ ডলার থেকে শুরু। প্রতি বছর পর স্যালারী কিছুটা বাড়ে।

এশিয়ান ডাক্তাররা শুধু এশিয়ান রুগীদের চিকিৎসা দিতে পারে।

কানাডা

কানাডার মেডিকেল এডুকেশন প্রায় যুক্তরাস্ট্রের মেডিকেল এডুকেশন সিস্টেমের মত। কানাডার লাইসেন্সিং পরীক্ষার নাম মেডিকেল কাউন্সিল অব কানাডা কোয়ালিফাইং এক্সামিনেশন (এম,সি,সি,কিউ,ই)। পার্ট দু’টো। ইউ,এস,এম,এল,ই-র মত দ্বিতীয় পার্টের ক্লিনিকাল নলেজ(সি,কে) অংশটি নেই। কানাডাতেও মেডিকেল স্কুলে ঢোকার শর্ত হল একটি বিষয়ে গ্রাজুয়েশন শেষ করতে হবে। মেডিকেল কারিকুলাম চার বছরের। প্রথম দুই বছর প্রি-ক্লিনিকাল এবং পরের দুই বছর ক্লিনিকাল ক্লার্কশিপ। প্রি-ক্লিনিকাল শেষে পার্ট ওয়ান পরীক্ষা দিতে হয়। ক্লার্কশিপ শেষে এক বছর ইন্টার্ণশিপ করার পর পার্ট টু পরীক্ষা দেয়া যায়। পার্ট টু পাশ করলে ডক্টর অব মেডিসিন (কানাডায় ডি,ও নেই) সার্টিফিকেশন দেয়া হয়। কিন্তু প্র্যাকটিস করার যোগ্যতা অর্জন করতে হলে যুক্তরাস্ট্রের মতই রেসিডেন্সি ট্রেইনিং শেষে বোর্ড সার্টিফিকেশন এক্সাম দিতে হয়। এমনকি ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান হতে হলেও দুই বছরের উক্ত বিভাগে রেসিডেন্সি ট্রেইনিং করতে হয়। অন্যান্য বিষয়ে রেসিডেন্সির সময়সীমা বিষয়ভেদে যুক্তরাস্ট্রের বিভিন্ন ভার্সিটির মতই।

একজন ছাত্র ইচ্ছে করলে রেসিডেন্সি প্লাস পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করতে পারে। সেক্ষেত্রে, তাকে কিছু অতিরিক্ত শর্ত পূরণ করতে হয় (যেমন: রিসার্চ-এ অংশগ্রহন করার অভিজ্ঞতা)।

কানাডার ডাক্তারদের ৫ বছর পর পর রিসার্টিফিকেশন করতে হয়। এটি পরিচালিত হয় মেইনটেনেন্স অব সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম দ্বারা, যা কন্টিনিউইং মেডিকেল এডুকেশন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভূক্ত। রিসার্টিফিকেশনের জন্য একজন ফিজিশিয়ানের কার্যাবলী আপডেট রাখতে হয় এবং একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রেডিট অর্জন করতে হয়। (উল্লেখ্য, এই প্রবন্ধে উল্লিখিত সবগুলো দেশেই এই নিয়ম বিভিন্ন মাত্রায় চালু আছে।)

যুক্তরাস্ট্র বাদে অন্যান্য দেশের ডাক্তারদের কানাডায় চিকিৎসক হতে হলে প্রথম শর্ত হল, কানাডার সিটিজেনশিপ থাকা বা পারমানেন্ট রেসিডেন্ট হওয়া বা ওয়ার্ল্ড হেল্দ অর্গানাইজেশন রেফুজি হিসেবে কানাডায় থাকা। দ্বিতীয় শর্ত হল, যে দেশ থেকে মেডিকেল সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেছে সে দেশে প্র্রাইমারী ল্যাঙ্গুয়েজ ইংলিশ হওয়া অথবা সেটা না হলে আইইএলটিএস-এর চারটি ধাপের প্রত্যেকটিতে স্কোর কমপক্ষে ৭ থাকা। এই শর্তগুলো পূরণ হলে একজন মেডিকেল গ্রাজুয়েট এম,সি,সি,ই,ই (তথা মেডিকেলে কলেজ অব কানাডা ইভ্যালুয়েটিং এক্সাম) পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারবে। পরীক্ষাটির সেন্টার ইণ্ডিয়ায় আছে, বাংলাদেশে কানাডা এমবেসি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার সেন্টারও বন্ধ হয়ে গেছে। এই পরীক্ষায় পাশ করলে ন্যাশনাল এসেসমেন্ট কোলেবোরেশন অবজেক্টিভ স্ট্রাকচারড ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন (সংক্ষেপে এন,এ,সি-ও,এস,সি,ই)পরীক্ষা দিতে হয়। এই পরীক্ষাটি ইন্টারন্যাশনাল গ্রাজুয়েটদের এসেস করার জন্যই আয়োজন করা হয়। এই পরীক্ষাটি দিতে হয় কানাডায়।

এরপর আসে রেসিডেন্সি ম্যাচিং-এর পালা। রেসিডেন্সি ম্যাচিং-এ আবেদন করার আগে ক্লিনিক্যাল এসেসমেন্ট প্রোগ্রাম-এ অংশ নিলে, ম্যাচ করার সম্ভাবনা বাড়ে। এই প্রোগ্রামে একজন ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল গ্রাজুয়েট (আইএমজি)-কে হাসপাতালে একজন চিকিৎসকের তত্বাবধানে আট সপ্তাহের জন্য নিয়োগ দেয়া হয় এবং তার কাজের উপর স্কোরিং করা হয়। অত:পর রেসিডেন্সির জন্য এপ্লাই করতে হয়। রেসিডেন্সি ম্যাচ হলেই কেবল রেসিডেন্সি ট্রেইনিং-এ প্রবেশ করা যায়।

যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যে মেডিকেল সায়েন্সের ডিগ্রী মূলত এম,বি,বি,এস । তবে ইনস্টিটিউট ভেদে এই ডিগ্রী বিভিন্ন নাম ধারণ করতে পারে, যেমন: এম,বি,সিএইচ,এস; এম,বি,বি,সিএইচ ইত্যাদি । এম,বি,বি,এস পাঁচ বছরের কোর্স। তবে কোন কোন মেডিকেল স্কুল এখন চার বছরের এম,ডি ডিগ্রীও দিয়ে থাকে। মান এবং কারিকুলাম একই। তবে চার বছরের কোর্সে স্বাভাবিকভাবেই চাপ বেশী। আমেরিকা-কানাডার মত মেডিকেলে ভর্তির জন্য গ্র্যাজুয়েশন থাকা জরুরী নয়। বরং, হাইয়ার সেকেণ্ডারী এডুকেশন পার করার পর পরই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (ইউনাইটেড কিংডম ক্লিনিক্যাল এপটিচুড টেস্ট অথবা বায়োমেডিকেল এডমিশন টেস্ট)দেয়া যায়। এম,বি,বি,এস-এর পাঁচ বছর সময়কালকে আগে প্রি-ক্লিনিক্যাল এবং ক্লিনিক্যাল এই দু’ভাগে ভাগ করা হত। প্রি-ক্লিনিক্যাল ছিলো পুরোপুরি লেকচারভিত্তিক এবং সাবজেক্টভিত্তিক(অর্থাৎ এনাটমি, ফিজিওলজি.. এভাবে)। ক্লিনিক্যাল-এর সময় ছাত্রদের লেকচারভিত্তিক এবং রোগীভিত্তিক শিক্ষা দেয়া হতো। তবে, এখন প্রায় প্রতিটি স্কুলে এই পদ্ধতি পরিবর্তন করে, শরীরের বিভিন্ন তন্ত্র(সিস্টেম)-ভিত্তিক কারিকুলাম সেট করা হচ্ছে এবং সেই সাথে ‘প্রবলেম বেজড লার্নিং’ পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। এ কারণে বিভিন্ন ভার্সিটিতে পাঁচ বছর সময়কালকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা হয়েছে। কোন স্কুলে এক-তিন-এক বছর, কোন স্কুলে দুই-দুই-এক বছর ইত্যাদি।

এম,বি,বি,এস শেষ করার পর একজন ছাত্রকে দুই বছর মেয়াদী ‘ফাউণ্ডেশন ইয়ার’-এ প্রবেশ করতে হয়। এক বছর ইন্টার্ণশিপ (যাকে পোস্ট গ্রাজুয়েশন ইয়ার এক বলে) এবং এক বছর রেসিডেন্সি (যাকে পোস্ট গ্রাজুয়েশন ইয়ার দুই বলে)। রেসিডেন্সি শেষ করার পর একজন যদি জেনারেল প্র্যাকটিশনার(জি,পি)হতে চায়, তাকে জেনারেল প্র্যাকটিস-এ আরও তিন বছরের পোস্টগ্রাজুয়েশন ট্রেইনিং নিতে হয়। আর যারা অন্য কোন স্পেশালিটিতে যাবে তাদের বিষয়ভেদে কমপক্ষে পাঁচ বছরের মত অতিরিক্ত ট্রেইনিং নিতে হয়। ট্রেইনিং প্রক্রিয়াটি সুনির্দিষ্ট নিরিক্ষাপদ্ধতির মধ্য দিয়ে যায়। ট্রেইনিং শেষে একজন কনসালটেন্ট হিসেবে গন্য হয় এবং তারপরেই কেবল স্বাধীনভাবে প্র্যাকটিস করার জন্য সার্টিফিকেট পেতে পারে।

ইউরোপিয়ান ওয়ার্কিং টাইম ডাইরেকটিভ (ই,ডাব্লিউ,টি,ডি) ইউরোপে একজন জুনিয়র ডাক্তারের কর্মঘন্টা নির্ধারণ করে দিয়েছে সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টা। কিন্তু এটি নিয়ে হাসপাতাল কতৃপক্ষের আপত্তি আছে। পূর্বে জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিল (জি,এম,সি) কর্তৃক নির্ধারিত ওয়ার্কিং আওয়ার ছিল ৫৬ ঘন্টা, কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে ইণ্টার্ণদের ডিউটি আওয়ার সপ্তাহে ১০০ ঘন্টাও ছাড়িয়ে যেত। ই,ডাব্লিউ,টি,ডি নির্ধারণের পরে জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মঘন্টা কমিয়ে ৪৮ ঘন্টা করা হয়।

ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল গ্রাজুয়েটদের যুক্তরাজ্যে লাইসেন্স পেতে হলে প্রথম ধাপ হল- প্রফেসনাল এণ্ড লিঙ্গুইস্টিক এসেসমেন্ট বোর্ড (সংক্ষেপে পি,এল,এ,বি বা প্ল্যাব) পরীক্ষা দিতে হবে। প্ল্যাব পরীক্ষার প্রথম পত্র বাংলাদেশ থেকে দেয়া যায় এবং দ্বিতীয় পত্রটি (প্র্যাকটিকেল এসেসমেন্ট)ইংল্যাণ্ডে গিয়ে দিতে হয়।

প্ল্যাব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে একজন ট্রেইনিং-এর জন্য আবেদন করতে পারে। যুক্তরাজ্যে ম্যাচিং প্রোগ্রাম জাতীয় কোন প্রক্রিয়া নেই। স্বাভাবিক ভাবেই অতিরিক্ত যোগ্যতা থাকলে ট্রেইনিং-এ চান্স পাওয়া সহজ হয় (যেমন: যুক্তরাজ্যের পরিচিত ডাক্তার থেকে রিকমেণ্ডেশেন লেটার)।

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার মেডিকেল ডিগ্রী প্রধানত এম,বি,বি,এস। তবে, কোন কোন মেডিকেল স্কুল এম,ডি ডিগ্রীও দেয়। স্কুল ভেদে মেয়াদকাল চার থেকে ছয় বছর। মেডিকেল স্কুলে চান্স পেতে হলে দুটো পথ আছে। কলেজ (অর্থাৎ সেকেণ্ডারী স্কুল) পেরিয়ে ঢুকতে হলে আন্ডারগ্রাজুয়েট মেডিকেল এডমিশন টেস্ট (ইউ,জি,এম,টি) এবং গ্রাজুয়েট হয়ে ঢুকতে গ্রাজুয়েট মেডিকেল এডমিশন টেস্ট (জি,এম,এ,টি) দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। মেডিকেল কারিকুলাম যুক্তরাজ্যের মতই। তবে অস্ট্রেলিয়ায় একটি সুবিধে হল অন্যান্য দেশের মত জেনারেল প্র্যাকটিশনার হতে হলে রেসিডেন্সি ট্রেইনিং জরুরী নয়। বরং এক বছর ইন্টার্ণশিপ শেষে স্বাধীনভাবে জেনারেল প্র্যাকটিস করার সুযোগ পাওয়া যায়। কেউ যদি স্পেশালিটিতে ক্যারিয়ার করতে আগ্রহী হয়, তাকে রেসিডেন্সি ট্রেইনিং-এর জন্য এপ্লাই করতে হবে। উল্লেখ্য যে, যুক্তরাজ্যের মত এখানেও কোন রেসিডেন্সি ম্যাচিং প্রোগ্রাম নেই।

বাংলাদেশের তরুণ ডাক্তারদের মধ্য থেকে যারা অস্ট্রেলিয়া যেতে আগ্রহী তাদেরকে প্রথমেই এ,এম,সি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে হবে।(উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় রেজিস্ট্রেশন পেতে কয়েকটি পাথওয়ে আছে। তন্মধ্যে, বাংলাদেশী তরুণ ডাক্তারদের জন্য কেবল স্ট্যাণ্ডার্ড পাথওয়ে প্রযোজ্য। এজন্য এখানে স্ট্যাণ্ডার্ড পাথওয়েটাই সংক্ষেপে বলা হল।) এ,এম,সি তথা অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল কাউন্সিল দু’টো ভাগে পরীক্ষাটি নেয়। প্রথমটি মাল্টিপল চয়েজ কোয়েশ্চেন যার নাম সি,এ,টি এম,সি,কিউ এক্সামিনেশন। এটি পাশ করলে পরের পার্টটি দুই ভাবে দেয়া যায়- ‘এ,এম,সি ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন’ অথবা ‘ওয়ার্কপ্লেস বেজড এসেসমেন্ট’। প্রথম পার্টের সেন্টার ইণ্ডিয়ায় আছে (কোলকাতায় নেই)। দ্বিতীয় পার্ট অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েই দিতে হয়। যারা ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন দিবেন তাদের পরীক্ষা এক দিনে সম্পন্ন হয়। আর, যারা ওয়ার্কপ্লেস বেজড এসেসমেন্ট-এ অংশ নেবেন তাদেরকে এএমসি পার্ট ওয়ান পাশ করার পর মেডিকেল বোর্ড অব অস্ট্রেলিয়া থেকে লিমিটেড রেজিস্ট্রেসন অর্জন করতে হবে। এরপর নিজ দায়িত্বে (অর্থাৎ সিভি সাবমিট করে, সরাসরি যোগাযোগ করে বা অন্য কোন উপায়ে) অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল কাউন্সিল অনুমোদিত কোন হাসপাতালে জব নিতে পারলে, কাউন্সিল বরাবর এপ্লিকেশন করে ওয়ার্কপ্লেস বেজড এসেসমেন্টের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।

এএমসি পাশ করার পর টিচিং হাসপাতালে ইণ্টার্ণশিপের জন্য আবেদন করতে হবে। লক্ষ্যনীয় যে, বাইরের মেডিকেল গ্রাজুয়েটদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ইণ্টার্ণশিপের পজিশন আগের চেয়ে অনেক কমিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে, পজিশনের জন্য প্রতিযোগীতা বেড়ে গেছে। ইণ্টার্ণশিপ শেষ হলে প্র্যাকটিস-এর লাইসেন্স পেতে আবেদন করতে হয়ে। কিন্তু, লাইসেন্স পাওয়ার অন্যতম আরেকটি শর্ত হল- পারমানেন্ট রেসিডেন্সি থাকা। অস্ট্রেলিয়ার স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার লিস্টে চিকিৎসক না থাকায়, রেসিডেন্সির পাওয়ার একমাত্র উপায় হল ইন্টার্ণশিপ শেষে আবেদন করা। লক্ষ্যনীয়, রেসিডেন্সির আবেদনের ক্ষেত্রে ভিসার রকমভেদে অতিরিক্ত শর্তাবলী আছে। সুতরাং, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক বিয়ে করার চেয়ে সহজ কোন উপায় এ পথে নেই।

নিউজিল্যাণ্ডে আই,এম,জি-দের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া অস্ট্রেলিয়ার মতই।

পরিশেষে

এ লেখার মধ্য দিয়ে যুক্তরাস্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মেডিকেল পড়াশোনা সম্পর্কে আমরা সংক্ষেপে জানতে পারলাম। তবে বেশ কিছু জিনিস এই আর্টিকেলে ওঠে আসেনি, যেমন: মেডিকেল স্কুলে পড়ার বিশাল খরচ, ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল গ্রাজুয়েটদের প্রয়োজনীয় ধাপগুলোতে খরচ, ভিসা নিয়ে আলোচনা ইত্যাদি। তারপরও, প্রবন্ধটি পাশ্চাত্যের মেডিকেল পড়ালেখা সম্পর্কে অনেকের কৌতুহল কিছুটা হলেও মেটাতে পারবে বলে আশা রাখছি।


........লিখেছেন - ডাঃ আব্দুল্লাহ সায়ীদ খান 







----
লেখাটি তৈরী করতে যে ওয়েবসাইটগুলোর সাহায্য নেয়া হয়েছে:
১. http://en.wikipedia.org/wiki/Medical_education_in_the_United_States
২. http://en.wikipedia.org/wiki/Medical_school_in_Canada
৩. http://en.wikipedia.org/wiki/Medical_education_in_the_United_Kingdom
৪. http://en.wikipedia.org/wiki/Medical_education_in_Australia
৫. http://en.wikipedia.org/wiki/Medical_school_in_the_United_States
৬. http://en.wikipedia.org/wiki/Medical_school_in_the_United_Kingdom
৭. http://en.wikipedia.org/wiki/Residency_(medicine)
৮. http://www.usmle.org/
৯. http://imgbc.med.ubc.ca/path-to-residency/
১০. http://www.gmc-uk.org/
১১. http://www.amc.org.au/
১২. http://people.howstuffworks.com/becoming-a-doctor12.htm)
১৩. http://www.telegraph.co.uk/health/healthnews/10741905/EU-rules-on-doctors-working-hours-puts-patients-at-risk-report-finds.html

শুক্রবার, ২৩ মে, ২০১৪

FCPS - এফসিপিএস-এর সাতকাহন

FCPS - এফসিপিএস-এর সাতকাহন

.::এফসিপিএস-এর সাতকাহন ::.

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষদের একটা অংশের কাছে এমবিবিএস পাশ করা হতভাগা ডাক্তারদের উপাধি হল ‘সিম্পল’ এমবিবিএস ডাক্তার। তাই এমবিবিএস পাশ করে তরুণ ডাক্তাররা এখন আর বসে থাকেন না। তারা ‘সিম্পল’ উপাধী দূর করতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জনে লেগে পড়েন। এদের মধ্যে একটি বড় অংশ এফসিপিএস ডিগ্রী অর্জনের চেষ্টা করেন।

এফসিপিএস ডিগ্রীর ন্যূনতম সময় চার বছর হলেও ডিগ্রীটি অর্জন করতে কি পরিমান সময় লাগে, তার ধারণা পাওয়া যায় যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রিডিং রুমে যাওয়া হয়।


এফসিপিএস পরীক্ষার আগ দিক দিয়ে রিডিং রুমে গেলে দেখা যায় যারা পড়াশোনা করছেন তাদের কারও মাথায় চুল নেই, কারও দাড়ি পেঁকে গেছে, কারও চুল আছে কিন্তু দেখলেই বুঝা যায় বয়স পয়ত্রিশ পার হয়েছে। এদের মধ্যে এমন ডাক্তারও আছেন যার সন্তান ও তিনি পরীক্ষার দিন একসাথে বের হন, পরীক্ষা দেবেন বলে!

এসসিপিএস ফাইনাল পরীক্ষা বছরে দুইবার হয়। যারা ফাইনাল পরীক্ষা দেয়ার শর্ত পূরণ করেছেন তারা আল্লাহর নাম নিয়ে পরীক্ষা দিতে শুরু করেন এবং মনকে বুঝিয়ে নেন যে এফসিপিএস মানে- ‘ফেইল কনফার্ম পাশ সেলডম’!! হ্যাঁ, এ পরীক্ষা এমনই কড়া হয় যে একবার দুবারে পাশ করার ঘটনা খুব কম। তাই চতুর্থ বা পঞ্চম বারের মত ফাইনালে বসছেন এরকম ডাক্তারের সংখ্যাটাই বেশী। একই সাথে, এই পরীক্ষার পদ্ধতিটি এমন যে, শুধু পড়ালেখা করে একজন এফসিপিএস করে বের হয়ে আসবেন সেই সুযোগ নেই। বরং, কারা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তত্ববধানে সিনসিয়ারলি ট্রেইনিং করেছেন তথা রূগীদের পাশে থেকে, রূগীদের সেবা দিয়ে নিজেদের দক্ষ করে তুলেছেন এবং একই সাথে যে বিষয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন সেই বিষয়ে যথেষ্ট (মানে- অনেক) জ্ঞান অর্জন করেছেন, তা এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট বের হয়ে আসে। সে হিসেবে এই পরীক্ষায় পাশ করা ডাক্তারদের মান প্রশ্নের উর্দ্ধে। বিদেশের যে কোন স্নাতকোত্তর ডিগ্রীর চেয়ে কোন অংশে কম নয়, বরং কিছু ক্ষেত্রে বেশীই।

কিন্তু কিভাবে হয় এই পরীক্ষার শুরু? কোন শর্ত পূরণে একজন এফসিপিএস ফাইনালে বসতে পারেন? চলুন, একটু গোড়া থেকে জেনে নেই-
Fellow of College of Physicians and Surgeons (সংক্ষেপে এসসিপিএস) বাংলাদেশের চিকিৎসকদের অন্যতম স্নাতকোত্তর ডিগ্রী। এটি প্রদান করে Bangladesh College of Physicians and Surgeons নামক বাংলাদেশ সরকারের বিধিবদ্ধ একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয় এই প্রতিষ্ঠান থেকেই পাশ করা ফেলোদের মধ্য থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা। এমবিবিএস পাশ করার পর একজন ডাক্তারের বেছে নিতে হয় সে কোন বিষয়ে স্নাতোক্তর ডিগ্রী নেবে। ইন্টার্ণশিপের সময় মেডিসিন, সার্জারী ও গাইনী-অবস্ ওয়ার্ডে কাজ করতে গিয়েই অনেক তরুণ ডাক্তার তাদের পছন্দের বিষয় বেছে নেন। কেউ শুধু ইন্টার্নাল মেডিসিনে বা জেনারেল সার্জারী বা গাইনী ও অবসটেট্রিক্স বিষয়ে থেকে যান আর কেউ কেউ ডিগ্রী নেন অন্যান্য সাব-স্পেশালিটিতে (যেমন: নিউরোলজি, নিউরোসার্জারী ইত্যাদি)। আবার কেউবা বেসিক সাবজেক্টে (তথা এনাটমি, ফিজিওলজি, প্যাথোলজি ইত্যাদি) ক্যারিয়ার করেন।

বিসিপিএস ক্লিনিকাল (অর্থাৎ মেডিসিন, সার্জারী ও গাইনী-অবস)ও বেসিক সাবজেক্ট উভয়টিতেই ফেলোশিপ দিয়ে থাকে। বাংলাদেশে অধিকাংশ ডাক্তার এফসিপিএস সাবস্পশালিটিতে না করে ইন্টার্নাল মেডিসিন, জেনারেল সার্জারী ও গাইনী-অবস্-এ করেন। (সাবস্পেশালিটি করতে চাইলে তারা সাধারণত এমডি ও এমএস করার চেষ্টা করেন।) এফসিপিএস পরীক্ষাকে দুটো অংশে(তথা পার্টে) ভাগ করা হয়েছে। ফাস্ট পার্ট পরীক্ষাটিকে এফসিপিএস-এ এনট্রেন্স পরীক্ষার মত বিবেচনা করা যায়। একজন ডাক্তার এমবিবিএস পাশ করে ইন্টার্ণ শেষ করার ন্যূনতম এক মাস পনেরো দিন পরে এই পরীক্ষা অংশগ্রহন করতে পারবেন। তবে পরবর্তীতে যে কোন সময় এই পরীক্ষা দিতে কোন বাঁধা নেই।

এফপিসিএস ফার্স্ট পার্ট পাশ করলে একজন সেকেণ্ড পার্টে অংশগ্রহন করার একটি শর্ত পুরণ করলেন। সেকেণ্ড তথা ফাইনাল পার্টে অংশগ্রহন করার আরো দুটি শর্ত হল: এক, তিন বছর ট্রেইনিং ও একবছর কোর্স (তথা ক্লাস) বা এক বছর পেইড পোস্টে ট্রেইনিং এবং দুই, বিসিপিএস অনুমোদিত একজন সুপারভাইজারের অধীনে একটি ডিসারটেশন সাবমিট করা।

তিন বছর ট্রেনিং-এর বিষয়টিতে কোন প্রতিষ্ঠানকে সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয় না। বরং ডিস্ট্রিক্ট লেভেল হাসপাতাল থেকে শুরু করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের যেখানে একজন এফসিপিএস করা কনসালটেন্ট আছেন তার সুপারভিশনে ট্রেইনিং করা যায়। ট্রেইনিংকে ছয়মাসের ক্ষুদ্র ভাগে বিভক্ত করে দেয়ায় নিজের সুবিধে মত ছয় মাস ছয় মাস করে তিন বছর ট্রেইনিং শেষ করার সুযোগ আছে। তবে প্রত্যেকবার ট্রেইনিং শেষে বিসিপিএস-এর ডাটাবেজে আপডেট করে আসতে হয়।(২০১২ সাল থেকে নতুন নিয়ম অনুযায়ী)। একজন ডাক্তার যে বিষয়ে এফসিপিএস করছেন তার উপর ভিত্তি করে ট্রেইনিং-এর শর্তের কিছুটা ভ্যারিয়েশন আছে। (বিসিপিএস-এ ওয়েবসাইট থেকে এ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যাবে:- bcpsbd.org)

ট্রেইনিং ‘অবৈতনিক’ ভাবেও করা যেতে পারে, আবার ‘বৈতনিক’-ও হতে পারে। তবে, ‘বৈতনিক’ ট্রেনিং পোস্ট কম হওয়ায় অধিকাংশ ব্যক্তিই অবৈতনিক ভাবে ট্রেইনিং শেষ করার চেষ্টা করেন। যারা বিসিএস-হেল্দ ক্যাডারে সরকারী চাকুরী করছেন তারা উপজেলায় দুবছর পার না করে ট্রেইনিং পোস্টে আসতে পারেন না। আবার ট্রেইনিং পোস্ট কম থাকায় ঘুষ-তদবির ছাড়া ট্রেইনিং পোস্টে আসা যায় না। সে হিসেবে যারা এমবিবিএস-এর পর পর সরকারী চাকুরী করছেন তাদের এফসিপিএস শর্ত পূরণের সুযোগ পেতে পেতেই বয়স ত্রিশ পার হয়। (লক্ষ্যনীয়, এমবিবিএস পাশ করে ইন্টার্ণশিপ শেষ করতে করতে বয়স পঁচিশ থেকে ছাব্বিশ হয়ে যায়)। সুতরাং তারা ফাইনাল পার্টে বসতে বসতেই পয়ত্রিশে পা দেন। (অন্যদিকে, যারা এমবিবিএস পাশ করে অনারারী ট্রেইনিং করে শর্ত পূরণ করেছেন কিংবা ফাইনালে বসে পাশও করে ফেলেছেন তারা যদি শেষ মুহূর্তে বিসিএস-স্বাস্থ্য ক্যাডারে ঢুকতে পারেনও চাকুরীর মেয়াদে তারা জুনিয়র হয়ে পড়েন। এদের প্রমোশন হয় দেরীতে।)

ডিসারটেশন করতে হয় দু’ধাপে। প্রথম ধাপে শর্ত হল, ফার্স্ট পার্ট পাশ করার পর বিসিপিএস-এর তিন দিনব্যপী ডিসারটেশন ট্রেইনিং-এ অংশগ্রহণ করতে হবে। এরপর, বিসিপিএস অনুমোদিত একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে সুপারভাইজার হিসেবে ঠিক করতে হবে। তার সাথে আলোচনা করে একটি বিষয় ঠিক করতে হবে এবং উক্ত বিষয়ে একটি প্রটোকল লিখে বিসিপিএস-এ জমা দিতে হবে। প্রটোকল জমা দেয়ার দেড় বছর পরে কেবল ফাইনাল পরীক্ষায় বসা যাবে। প্রটোকল বিসিপিএস থেকে অনুমোদিত হলে রিসার্চ সম্পন্ন করে ডিসারটেশন জমা দিতে হবে ফাইনাল পরীক্ষার ন্যূনতম ছয়মাস আগে। ডিসারটেশন বিষয়টিতে প্রয়োজনীয় খরচাদি, দৌড়াদৌড়ি এবং পড়াশোনা করতে হবে পরীক্ষার্থীর নিজের। সুপারভাইজর ও বিসিপিএস-এর সংশ্লিষ্ট ডাক্তাররা শুধ ভুল হলে বারবার ভুল ধরিয়ে দিবেন। ফলে ট্রেনিং-এর পাশাপাশি ডিসারটেশনের কাজটি একজন ডাক্তারের জন্য যথেষ্ট মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

যাই হোক, একজন ডাক্তার উপরোক্ত সকল শর্তপূরণ করে এফসিপিএস সেকেণ্ড পার্ট তথা ফাইনাল পরীক্ষায় বসতে পারেন। রিটেন, ওএসপিই, শর্ট কেস, লং কেস, ভাইভা প্রত্যেকটি পর্যায়ক্রমিক অংশে পৃথকভাবে পাশ করতে পারলেই কেবল একজন ডাক্তার বিসিপিএস-এর ফেলো হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। এই পরীক্ষার সময় একজন পরীক্ষার্থীর জীবনে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। কেউ এই ঝড়ে বেঁচে বের হন। কেউ ফিরে যান বাড়িতে ছয়মাস বা একবছর পর পুনরায় ‘ঝড়ে’ পড়ার জন্য। কেউ কেউ আবার আশা ছেড়ে দিয়ে ‘সিম্পল’ এমবিবিএস-ই থেকে যান শেষ পর্যন্ত।

আমাদের ইউনিভার্সিটির গ্র্যাডুয়েট ভাই বা বোনেরা যখন ছাব্বিশ বছর বয়সে মাস্টার্স শেষ করে চাকুরী করে সাত আট বছর পার করে দিচ্ছেন (ধরে নিলাম চাকুরী পাশের পরপরই পেয়ে গেছেন) তখন ডাক্তাররা স্নাতকোত্তর ডিগ্রী পরীক্ষা দেয়ার জন্য নিজেকে কেবল তৈরী করতে পেরেছেন। সুতরাং এই ডাক্তাররা যদি আরও ঝড়ঝঞ্চা পেরিয়ে এফসিপিএস ডিগ্রীটি অর্জন করতে পারেন তখন তারা যদি আপনাদের কাছ থেকে চিকিৎসা পরামর্শের বিনিময়ে বৈধ উপায়েই পাঁচশটি টাকা নেন তখনকি খুব বেশী দাবী করে ফেলেন? (প্রসঙ্গত, অস্ট্রেলিয়ায় একজন জেনারেল প্র্যাকটিশনারের ফি পঞ্চাশ ডলার তথা প্রায় চার হাজার টাকা এবং একজন স্পেশালিস্ট ডাক্তারের ফি একশত পঞ্চাশ ডলার তথা প্রায় বার হাজার টাকা।)

পাঠক, উত্তরটি বিবেচনার ভার আপনাদের উপরই ছেড়ে দিলেম।

---
........ - ডাঃ আব্দুল্লাহ সায়ীদ খান 




শুক্রবার, ২ মে, ২০১৪

ভুল বুঝাবুঝির অবসান হউক......

ভুল বুঝাবুঝির অবসান হউক......

ভুল বুঝাবুঝির অবসান হউক..
কিছুদিন আগে আমাদের এক বাংলাদেশী মেয়ের ফিবুলা ফ্র্যাকচার হলো, অপারেশনের খরচ পড়ল ৩০,০০০ইউয়েন (বাংলাদেশী টাকায় ৪ লক্ষ টাকা প্রায়)। এরপর কেরালার এক ছাত্রের ফিমার ভাংলো, অপারেশনের খরচ পড়ল ৫০,০০০ইউয়েন (বাংলাদেশী টাকায় ৬ লক্ষ ৭৫হাজার টাকা প্রায়)। এরা দু'জনেই আমাদের মেডিকেলের স্টুডেন্ট।

আর অপারেশন হয়েছে আমাদের মেডিকেলেই। যারা বাংলাদেশে চিকিতসা করান বা করেন, তারা বলুনতো, আমাদের দেশে এই অপারেশনে কতো খরচ হয়? আমি যখন সিআরপিতে ছিলাম, বছর দু’য়েক আগের কথা বলছি, তখন প্রথমটার জন্য নিতাম ১০,০০০টাকা, আর পরেরটার জন্য নিতাম ১৫,০০০-১৮,০০০টাকা।তুলনা করে বলুন, যে দেশে চিকিতসার খরচ এত কম, অথচ মানের দিক থেকে তেমন হের-ফের নেই, সেখানে ডাক্তারদের বেতন এত কম কেনো? উত্তর হতে পারেঃ হাসপাতালের ইনকাম কম, তাই বেতন কম। বেশ, তবে চিকিতসার খরচ বাড়িয়ে দেয়া হউক, ডাক্তারের বেতনও বেড়ে যাবে।কিন্তু আমরা ডাক্তাররা তা চাইনা।এটা সঠিক সমাধান নয়।পড়ালেখার জটিল সিস্টেম, অর্থনৈতিক চাপ আর কাজের গুরুভারে ন্যুযমান ডাক্তারকে যদি তার পেশার গুরুত্ব অনুযায়ী সম্মান ও সম্মানী দেয়া হয়, তবে তার জন্য ঠান্ডা মাথায় সেবা দেয়া সহজ হয়ে যাবে।প্বার্শবর্তি রাষ্ট্র ভারতের একজন সদ্য পাশ করা ডাক্তার যেখানে ৪০,০০০রুপি (বাংলাদেশী টাকায় ৬০,০০০হাজার টাকা প্রায়) বেতন পায়, সেখানে আমার দেশের ডাক্তার কেনো ১৫-২০,০০০টাকা পাবে?আমার সাথে এখানে নেপালের একজন ডাক্তার এমডি করছেন, উনি বাংলাদেশ রাজশাহী মেডিকেল থেকে এমবিবিএস পাশ করেছেন।উনি বললেন, নেপালের স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয় বাংলাদেশের এমবিবিএস ডিগ্রীকে ভারত-পাকিস্থানের চেয়েও অধিক কদর করে, কারন, বাংলাদেশের মেডিকেলের পড়ার মান ওই দুই দেশ থেকে অনেক ভালো।
নিজের কথাই বলিঃ আমি এখানে এমএস করতে এসেছি, ইউনিভার্সিটি আমাকে বিদেশী এমবিবিএস ছাত্রদের ক্লাশ নেবার দায়িত্ব দিয়েছে, দেশের পড়ার মান খারাপ হলে নিশ্চয়ই এ দায়িত্ব পেতাম না।আর আমাদের ইউনিভার্সিটিও চীনের মধ্যে অন্যতম সেরা ও বড়।
আমাদের স্যার বলতেন, রুগীকে যখন চিকিতসা দেও, মনে রাখবা,এরা তোমার বাবা-মা, ভাই-বোনের মতোই।আমার মনে হয় একথা শুধু আমার না, সব ডাক্তারেরই মনে বাজে, সেবা দানের সময় মনে থাকে।
তখন ইন্টার্নী করি সিলেট মেডিকেলে, এক রাতের বেলা সিএ-এর কল এলো, ইমাজেন্সী অপারেশন।বিয়ে করেই ইন্টার্নী শুরু করেছি মাত্র।স্ত্রীকে ঘরে একা রেখেই ছুটতে হলো রোগী বাঁচাতে…প্রচন্ড ঝড় তখন বাইরে…এখনো মনে পড়ে…।
আমি তখন শেরপুরে প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করি।আমার স্ত্রী সন্তান সম্ভবা।আর প্রথম মেয়ের বয়স দেড় হবে।রাত তিনটার সময়, দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ, ডাক্তার সাহেব আমার স্ত্রী অসুস্থ, আপনাকে যেতে হবে…হোন্ডায় করে শীতের রাতে দু’কিমি দুরে যাওয়া…ঘরে আমার অসুস্থ স্ত্রী…ছোট্ট মেয়েটা মায়ের সাথে একা।এমনতো একদিন নয়, প্রায় রাতই একই জিনিসের পুনরাবৃতি।
যেদিন সিআরপির চাকরী ছেড়ে দিলাম চীনে পড়তে আসবো বলে, রিসিপসনিস্ট আমিনুল ভাই জড়িয়ে ধরে বললেন, সাঈদ ভাই, আপনাকে ভুলবো না, কারন, আপনার রক্ত আমার শরীরে যে।মনে পড়ে গেলো, উনার হিপ প্রোস্থেসিস রিমুভ করার সময় যার রক্ত দেবার কথা ছিলো, উনি কি কারনে যেন রক্ত দিতে পারলেন না, কিন্তু রক্ত দরকার জরুরীভাবে, অপারেশনের পরপরেই।ডোনার না পাওয়ায়, অপারেশন শেষে আমাকেই দিতে হল এক ব্যাগ রক্ত, বলা বাহুল্য অপারেশনে তিন সার্জনের মধ্যে আমিও ছিলাম একজন।
নিজের প্রচার না, নিজের ঢাক নিজে বাজানো না, আমার বিশ্বাস আমার ডাক্তার সহকর্মীরা একইভাবে রুগীর সেবা দিয়ে যান নিরবে, নিরলসভাবে।উত্তম কুমারের “অগ্নিস্বর” চলচিত্রটা আমাদের ডাক্তারী জীবনের বড় কাছ থেকে নেয়া। দেখেছেন কী? ডাক্তাররা বাহবা চায় না, কিন্তু তাই বলে লাঞ্ছনা তো তার প্রাপ্য হতে পারে না।
হাতের পাঁচ আংগুল যেমন সমান নয়, তেমনি সব পেশাতেই ভালো-মন্দ থাকে।আইনের উর্ধে কারো থাকা উচিত নয়, আর আইন নিজের হাতে তুলে নেয়াও উচিত নয়।আমি অহংকারী নই, কিন্তু ডাক্তারী পেশা আমার অহংকার। কারন, এপেশার কারনেই আমি মানুষের জন্য তার অজান্তে যা করতে পারি, তা অন্য পেশায় কখনোই সম্ভব না। দেশে সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে ডাক্তারদের সামগ্রিক অবমুল্যায়ন তাই সত্যিই কষ্ট দেয়।
মনে আছে কি, একজন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার কেভিন কার্টার ১৯৯৩সালের সুদানের দুর্ভিক্ষের এক ছোট্ট মেয়ের ছবি তুলে পুলিতজার পুরষ্কার পেয়েছিলেন।মেয়েটা প্রচন্ড দুর্বলতার জন্য ফিডিং সেন্টারের কাছে যেতে পারছিলো না, তার কিছু দুরেই ছিলো এক বিশাল শকুন।ছবিটা ছাপানোর পরেই হাজার হাজার মানুষ ঐ মেয়েটার কি হয়েছিল তা জানতে চায়।কেভিন তার জবাব দিতে পারে নাই।মানুষ তাকে ধিক্কার দিয়েছিলো এইজন্য যে, সে মেয়েটাকে তুলে নিয়ে ফিডিং সেন্টারে কেনো দিলো না। খ্যাতির জন্য মানবতার বিসর্জন কেন?পুলিতজার পুরষ্কারের ৩ মাস পরেই তাই কেভিন নিজের কৃতকর্মের দায় সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেন।যারা নিজেদের সংবাদপত্রের কাটতির জন্য “ভুল চিকিতসায় রোগীর মৃত্যু” লিখে অপপ্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছেন, ডাক্তার-রোগীর সুসম্পর্কের মধ্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছেন, দেশের সুস্থ পরিবেশকে বিষাক্ত করার চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য কি কেভিন-এর ঘটনা যথেষ্ট নয়?
সমাজে কিছু লোক আছে যারা নিজের ছাড়া অন্যের ভালো বুঝতে চায় না।নিজের জন্য অন্যের ক্ষতি করতেও দ্বিধা করে না।এদের সংখ্যা কখনোই বেশী নয়, এরা সমাজের কীট, আর এই কীটগুলো সমাজে সবসময়ই কিছুটা রয়ে যাবে।তবে, এদের ব্যাপারে দেশের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।সিদ্ধান্তে এক থাকতে হবে।আমরা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। আমাদের এই চাওয়ায় কেউ ভুল বুঝুক- এ আমরা চাইনা; আমাদের এই চাওয়ায় কেউ বাঁধা হউক-আশা করি দেশের মানুষও এটা চাইবে না।




Neurosurgeon Dr Sayeed Uddin from China wrote this post--
... all medical students & doctors must read it and share.
From 1st Affiliated Hospital, Zhengzhou University, China.