ডাক্তারের পরামর্শ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ডাক্তারের পরামর্শ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৫

ডাক্তারের ফি নেই, নেই ওষুধের দাম..

ডাক্তারের ফি নেই, নেই ওষুধের দাম..


বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেতে চান? মুক্তি সংঘ দাতব্য চিকিৎসালয়ে যান। রাজশাহী মহানগরীর সাগরপাড়া এলাকায় মুক্তি সংঘ দাতব্য চিকিৎসালয়ে বিনামূল্যে শতাধিক রোগীকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে থাকেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: আহসান হাবিব ও সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা: নাজিয়া আফরিন।

শুধু চিকিৎসা সেবাই নয়, দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে ওষুধও বিতরণ করা হয়ে থাকে মুক্তি সংঘ দাতব্য চিকিৎসালয়ে। মুক্তি সংঘ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহম্মেদ কিসলু এবং এই দাতব্য চিকিৎসালয়ের আহবায়ক জাহিদ ইকবাল বাবলা মিলে কাজটি করেন খুবই স্বচ্ছন্দে।

প্রতি শনিবারে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এসব সেবা পেয়ে থাকেন নানান প্রান্ত থেকে আসা রোগীরা। ফলে ভীড়টাও হয় বেশি।

মুক্তি সংঘ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহম্মেদ কিসলু তাদের এই কর্মকাল্ডকে সামাজিক দায়বদ্ধতা হিসেবেই উল্লেখ করেন। বলেন, আই ক্যাম্প, স্বাস্থ্য ক্যাম্পসহ স্বাস্থ্যসেবার আরো বেশ কিছু কাজ হাতে রয়েছে। সবার সার্বিক সহযোগিতা পেলে দুঃস্থ ও গরীব রোগীদের বিনামূল্যে অপারেশনের ব্যবস্থা করবো।

রাজশাহী মহানগরীর সাগরপাড়া এলাকায় ১৯৭২ সালে স্থাপিত হয় মুক্তি সংঘ। স্বাধীনতার পর এই অঞ্চলের খেলাধুলার মান উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখছে এই ক্লাব। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি ২০১৫ সালের জানুয়ারী মাসে চালু হয় মুক্তি সংঘ দাতব্য চিকিৎসালয়.

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

 চিকিতসকদ্বয়ের  রিপোর্ট  নির্ভুল, পেশেন্টের কোনো ব্লাড ক্যান্সার নেই,

চিকিতসকদ্বয়ের রিপোর্ট নির্ভুল, পেশেন্টের কোনো ব্লাড ক্যান্সার নেই,

প্যাথলজি ল্যাবগুলোর ভুল কিংবা সাংঘর্ষিক রিপোর্টের কারণে অনেক রোগী বাড়তি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত,
ভুল রিপোর্টের কারনে  একদিকে রোগীর শারীরিক,  মানসিক ও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
অন্যদিকে চিকিতসক ও রোগীদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝি বাড়ছে ।

এমন এমন কিছু কিছু রিপোর্ট চোখে পড়েছে,
যা  দেখে মেজাজটাই নষ্ট হয়ে গেছে,

একটা রোগীর CBC রিপোর্টে
সবকিছু মোটামুটি ঠিক আছে,
কিন্তু Atypical Cell - 20%
আর কমেন্টসে  লেখা Suggestive to Leukaemia  তথা  ব্লাড ক্যান্সার  ।
রিপোর্ট  অনুযায়ী পেশেন্ট পার্টিকে কাউন্সিলিং করা হলো,
রিপোর্টে  আপনার পেশেন্ট এর ব্লাড  ক্যান্সার ধরা পড়েছে,
তবে আমি এই রিপোর্টে   সন্তুষ্ট  না,
সন্দেহ পোষন করছি,

আপনারা অমুক স্যারকে দিয়ে আবার রিপোর্ট করান তখন শিওর হয়ে আপনাদেরকে পরবর্তী চিকিতসা জানাবো,
ঐ স্যার ও আরেকজন সিনিয়র স্যারকে দিয়ে রিপোর্ট  করা হলো,
দুই স্যারের রিপোর্টে    Atypical Cell তো একটাও পাওয়া যায় নি, এবং leukaemia এর
ফেভারে কোনো কিছু পাওয়া যায় নি।

 চিকিতসকদ্বয়ের  রিপোর্ট  নির্ভুল,
পেশেন্টের কোনো ব্লাড ক্যান্সার নেই,
পূর্বের রিপোর্টটা  খামখেয়ালি করে যে ল্যাব ইনচার্জ করিয়েছেন ,
তার কি হবে?
তার খামখেয়ালিরর কারনে কি, একজন সুস্থ মানুষ ক্যান্সার বনে যাবেন!

না,
না,
এটা চলতে দেয়া যায় না,

ঐ সমস্ত ল্যাবগুলোর বিরুদ্ধে এ্যকশনে যাওয়া দরকার,
হয় ভালো প্যাথলজির চিকিতসক দিয়ে রিপোর্ট তৈরী করবে না হয়,
ল্যাব গুটিয়ে পালাবে,
মানুষের জীবন নিয়ে তো চিনিমিনি
খেলতে দেয়া যাবে না।

তাই রোগীর যেকোনো পরীক্ষা নিরিক্ষা করার সময়, রিপোর্টটা যাতে ভাল চিকিতসক দিয়ে করা হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

রাস্তাঘাটে নালা- নর্দমার মত ফুটপাতে  ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ল্যাব থেকে  ভুলেও কোনোদিন রোগীর পরীক্ষা করাবেন না।
যে সব ল্যাবে ভাল ভাল চিকিতসকগন রিপোর্ট  করেন,
সে সব ল্যাব থেকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করাবেন।

---   ডাঃ স্বাধীন

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

ডেঙ্গু জ্বর হলে কী করবেন.....

ডেঙ্গু জ্বর হলে কী করবেন.....


মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস, বিশেষ করে গরম ও বর্ষার সময় ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি থাকে। এ বছর প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে ডেঙ্গু জ্বর বেশি হচ্ছে। শীতকালে সাধারণত এই জ্বর হয় না বললেই চলে। শীতে লার্ভা অবস্থায় এই মশা অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারে। বর্ষার শুরুতে সেগুলো থেকে নতুন করে ডেঙ্গু ভাইরাসবাহিত মশা বিস্তার লাভ করে।

ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ডেঙ্গু ভাইরাসের মাধ্যমে এবং এই ভাইরাসবাহিত এডিস ইজিপ্টাই নামক মশার কামড়ে হয়ে থাকে। ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশা কোনো ব্যক্তিকে কামড়ালে সেই ব্যক্তি চার থেকে ছয় দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। এবার এই আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো জীবাণুবিহীন এডিস মশা কামড়ালে সেই মশাটি ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। এভাবে একজন থেকে অন্যজনে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে থাকে।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের ডিন অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, এই জ্বর এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে এটি শরীরে জটিলতা সৃষ্টি করে। তবে জ্বরে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে কয়েক দিনেই ডেঙ্গু পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়।
লক্ষণ
ডেঙ্গু জ্বরে সাধারণত তীব্র জ্বর এবং সেই সঙ্গে শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। জ্বর ১০৫ ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়। শরীরে বিশেষ করে হাড়, কোমর, পিঠসহ অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা হয়। এ ছাড়া মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা হয়। জ্বর হওয়ার চার বা পাঁচ দিনের সময় সারা শরীরে লালচে দানা দেখা যায়। যাকে বলা হয় স্কিন র্যা শ, অনেকটা অ্যালার্জি বা ঘামাচির মতো। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব এমনকি বমি হতে পারে। রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করে এবং রুচি কমে যায়। এই অবস্থাটা যেকোনো সময় জটিল হয়ে উঠতে পারে। যেমন অন্য সমস্যার পাশাপাশি যদি শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত পড়া শুরু হয়। যেমন: চামড়ার নিচে, নাক ও মুখ দিয়ে, মাড়ি ও দাঁত থেকে, কফের সঙ্গে, রক্ত বমি, পায়খানার সঙ্গে তাজা রক্ত বা কালো পায়খানা, চোখের মধ্যে ও চোখের বাইরে রক্ত পড়তে পারে।
মেয়েদের বেলায় অসময়ে ঋতুস্রাব অথবা রক্তক্ষরণ শুরু হলে অনেক দিন পর্যন্ত রক্ত পড়তে থাকা ইত্যাদি হতে পারে। এই রোগের বেলায় অনেক সময় বুকে পানি, পেটে পানি ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় লিভার আক্রান্ত হয়ে রোগীর জন্ডিস, কিডনিতে আক্রান্ত হয়ে রেনাল ফেইলিউর ইত্যাদি জটিলতা দেখা দিতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
ডেঙ্গু জ্বরের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তবে এই জ্বর সাধারণত নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। তাই উপসর্গ অনুযায়ী সাধারণ চিকিৎসা যথেষ্ট। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। যেমন:
* শরীরের যেকোনো অংশে রক্তপাত হলে
* প্লাটিলেটের মাত্রা কমে গেলে
* শ্বাসকষ্ট হলে বা পেট ফুলে পানি এলে
* প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে
* জন্ডিস দেখা দিলে
* অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা দেখা দিলে
* প্রচণ্ড পেটে ব্যথা বা বমি হলে।
চিকিৎসা
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগী সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। এমনকি কোনো চিকিৎসা না করালেও। তবে রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই চলতে হবে। যাতে ডেঙ্গুজনিত কোনো মারাত্মক জটিলতা না হয়। ডেঙ্গু জ্বরটা আসলে গোলমেলে রোগ, সাধারণত লক্ষণ বুঝেই চিকিৎসা দেওয়া হয়।
* সম্পূর্ণ ভালো না হওয়া পর্যন্ত বিশ্রামে থাকতে হবে।
* যথেষ্ট পরিমাণে পানি, শরবত, ডাবের পানি ও অন্যান্য তরল-জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে।
* খেতে না পারলে দরকার হলে শিরাপথে স্যালাইন দেওয়া যেতে পারে।
* জ্বর কমানোর জন্য শুধু প্যারাসিটামল-জাতীয় ব্যথার ওষুধই যথেষ্ট। এসপিরিন বা ডাইক্লোফেনাক-জাতীয় ব্যথার ওষুধ কোনোক্রমেই খাওয়া যাবে না। এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়বে।
* জ্বর কমানোর জন্য ভেজা কাপড় দিয়ে গা মোছাতে হবে।
প্রতিরোধ
ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূল মন্ত্রই হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা করা। স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে এরা ডিম পাড়ে। ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত ড্রেনের পানি এদের পছন্দসই নয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে মশা নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
* বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
* যেহেতু এডিস মশা মূলত এমন বস্তুর মধ্যে ডিম পাড়ে, যেখানে স্বচ্ছ পানি জমে থাকে। তাই ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা, ডাবের খোলা, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদি সরিয়ে ফেলতে হবে।
* ঘরের বাথরুমে বা কোথাও জমানো পানি পাঁচ দিনের বেশি যেন না থাকে। অ্যাকুয়ারিয়াম, ফ্রিজ বা এয়ারকন্ডিশনারের নিচেও যেন পানি জমে না থাকে।
* এডিস মশা সাধারণত সকালে ও সন্ধ্যায় কামড়ায়। তবে অন্য কোনো সময়ও কামড়াতে পারে। তাই দিনের বেলা শরীরে ভালোভাবে কাপড় দিয়ে ঢেকে বের হতে হবে, প্রয়োজনে মসকুইটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘরের দরজা-জানালায় নেট লাগাতে হবে।
* দিনের বেলায় মশারি টানিয়ে অথবা কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমাতে হবে।
* বাচ্চাদের যারা স্কুলে যায়, তাদের হাফ প্যান্ট না পরিয়ে ফুল প্যান্ট পরিয়ে স্কুলে পাঠাতে হবে।
* মশা নিধনের স্প্রে, কয়েল, ম্যাট ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করতে হবে।
* ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই সব সময় মশারির মধ্যে রাখতে হবে, যাতে করে কোনো মশা কামড়াতে না পারে।
* ডেঙ্গু জ্বরের মশাটি এ দেশে আগেও ছিল, এখনো আছে। মশা প্রজননের ও বংশবৃদ্ধির পরিবেশও আছে। তাই একমাত্র সচেতনতা ও প্রতিরোধের মাধ্যমেই এর হাত থেকে বাঁচা সম্ভব।

বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০১৫

চিকেন পক্স বা বসন্ত কী

চিকেন পক্স বা বসন্ত কী

প্রকৃতির বসন্ত মানুষকে পুলকিত করে। কিন্তু শরীরে যখন বসন্ত রোগ হয় তখন মোটেই তা আনন্দকর কোন অনুভূতি নয়।

বসন্ত বা চিকেনপক্স কী


এটা ভেরিসেলা নামক একধরনের ভাইরাসজনিত রোগ। এতে শরীরের নানা জায়গায় চুলকানিসহ গোটা হয়ে থাকে। 

কাদের এ রোগ হয়
বসন্ত সব বয়সী মানুষের হলেও ১৫ বছরের নীচে যাদের বয়স তারা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়।

চিকেনপক্স কিভাবে হয়
এটা একধরনের ভাইরাস জনিত রোগ। ভেরিসেলা নামক এ ভাইরাস দ্রুত ছড়াতে সফল। এই জীবাণু বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাচি কাশি থেকেও জীবাণু অন্য কারো মধ্যে ছড়িয়ে থাকে।
আক্রান্ত ব্যক্তির কাপড়, চোপড়ের সংস্পর্শে এলেও ভাইরাস শরীরে ঢুকতে পারে। 
ভাইরাস শরীরে ঢুকার ১০-১২ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়। এই জীবাণু একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে পুরোপুরি সুস্থ্য না হওয়া পযর্ন্ত ছড়াতে পারে।

লক্ষণ
১. অস্বস্তি ও চুলকানিসহ পানিভর্তি ব্লিসটার।
২. প্রথমে মুখ পরে আস্তে আস্তে সারা শরিরে ছড়িয়ে পড়ে।
৩. জ্বর ও মাথাব্যথা হয়ে থাকে। 
বসন্ত ৫-১০ দিন পযর্ন্ত স্থায়ী হয়। কখনও কখনও আরো বেশিদিন পযর্ন্ত থাকতে পারে। 

বসন্ত ও গর্ভাবস্থা
গর্ভাবস্থায় কারো বসন্ত হলে সেটা বাচ্চার জন্য খুব মারাত্মক পরিণতি ডেকে নিয়ে আনতে পারে।
১. বাচ্চার মস্তিস্কের প্রদাহ
২. বাচ্চার চোখ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
৩. চর্মরোগ হতে পারে।

বসন্ত প্রতিরোধের উপায়
১. আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা করে রাখতে হবে।
২. বসন্ত প্রতিরোধের জন্য ভেকসিন দেওয়া যেতে পারে। প্রথম ইনজেকশন দেবার ৫ বছর পর আরেকটা ইনজেকশন দিতে হবে।

চিকিৎসা
১. লক্ষণ প্রশমিত করন। 
২. আক্রান্ত ব্যক্তিকে বাড়িতে বা হাসপাতালের পৃথক জায়গায় রাখতে হবে। শিশুকে স্কুলে পাঠানো যাবে না। 
৩. ক্যালামিনজাতীয় লোসন দিতে পারেন। এতে চুলকানি কম হবে।
৪. জ্বর ও ব্যথার জন্য প্যারসিটামল জাতীয় ঔষধ দিতে পারেন।
৫. এন্টি হিসটামিন যেমন এলাট্টল জাতীয় ঔষধ খেতে পারেন

ডা. মোহাম্মদ আনিসুর রহমান

মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৫

রেবিসের শব্দিক অর্থ হচ্ছে ‌‘মেডনেস’ বা পাগলামি

রেবিসের শব্দিক অর্থ হচ্ছে ‌‘মেডনেস’ বা পাগলামি

রেবিসের শব্দিক অর্থ হচ্ছে ‌‘মেডনেস’ বা পাগলামি। জলাতঙ্ক বা রেবিস একধরনের সংক্রামক রোগ। এই রোগ বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে হয়ে থাকে। আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শ থেকে মানুষের মধ্যে এ রোগ আসে। এ রোগের প্রকোপ কম হলেও আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু অবধারিত। এ জন্য অবহেলা করার কোন সুযোগ নেই। প্রতিবছর বিশ্বে ২৬-৫৫ হাজার লোক এ রোগে মৃত্যুবরণ করেন। 


রেবিস বা জলাতঙ্ক কী
এটা একধরনের ভাইরাসজনিত রোগ। এ রোগাক্রান্ত ব্যক্তির মস্তিষ্ক ও সপাইনাল কর্ড অকেজো করে ফেলে।

কোন কোন প্রানী  জলাতঙ্ক জীবানু বহন করে
যে সমস্ত প্রাণী ‘জলাতঙ্ক’ জীবানু অর্থাৎ রেবিস ভাইরাস বহন করে, তাদের কামড় বা আচড়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে এ রোগ ছড়ায়। সবচেয়ে বেশি এ জীবাণু বহনকারী প্রাণী হচ্ছে— বাদুড়, বানর, কুকুর, শেয়াল, বিড়াল; এছাড়া ভাল্লুক, কাঠবিড়ালী, ইঁদুর, গিনিপিগের মধ্যেও এ রোগের জীবাণু থাকতে পারে।

জলতঙ্ক কীভাবে ছড়ায়
এ রোগের জীবাণু আক্রান্ত প্রাণীর লালা, মস্তিষ্ক, ইত্যাদিতে অবস্থান করে। এ রোগে আক্রান্ত কোন প্রাণী যদি মানুষকে কামড় দেয় বা আচঁড় দেয় অথবা আক্রান্ত প্রাণীর লালা, মানুষের মুখ, নাক, চোখ ও  চামড়ার সংস্পর্শে আসে তবে এ রোগে আক্রান্ত হয়।

লক্ষনসমূহ  
রেবিসের জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করা থেকে লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া পর্যন্ত ২-১২ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
জ্বর জ্বর ভাব হওয়া, শরীরের বিভিন্ন অংশ নিস্তেজ হয়ে পড়া,    উত্তেজিত হয়ে যাওয়া, হেলোসিনেশন, পানিতে ভয় লাগা।
লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার  ২-১০ দিনের মধ্যে মৃত্যু অবধারিত বলা যায়।
জেনা জেইসা পৃথিবীর একমাত্র  সৌভাগ্যবান ব্যক্তি যিনি ২০০৪ সালে, রোগে আক্রান্ত হয়ে উপসর্গ দেখা দেওয়ার পরও বেচেঁ যান।

জলাতঙ্কের প্রতিরোধ
১. বন্য-হিংস্র প্রাণীর সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকা।
২. কুকুর, বিড়াল, খরগোসকে রেবিসের টীকা দেওয়া।
৩. গৃহপালিত প্রাণীদের নজরে রাখা
৪। যদি আক্রান্ত কোন প্রাণী আপনাকে কামড় বা আচঁড় দেয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে পানি দিয়ে ১০-১৫ মিনিট ধুয়ে সেখানে প্রভিডিন আয়োডিন বা এলকোহল জাতীয় এর্ন্টিসেপটিক লোসন লাগান।
৫। রেবিসে আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা আচঁড় দেবার ১০ দিনের মধ্যে প্রতিরোধক ইনজেকশন দিতে হবে।

রেবিস  ইনজেকশনের ৪টা ডোস। আগের সেই কষ্টকর ১৪টি ইনজেকশন দেবার এখন আর দরকার পরে না।

প্রথম ডোস প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ১০ দিনের মধ্যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিতে হবে।
প্রথম ডোসকে ০ তম দিন হিসেবে বিবেচনা করলে দ্বিতীয় ডোস ৩য় দিন, তৃতীয় ৭ম দিন এবং চতুর্থ ১৪তম দিনে দিতে হবে।

----ডা. মোহাম্মদ আনিসুর রহমান