শোকবার্তা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শোকবার্তা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

টানা ২৪ ঘন্টা চিকিৎসা সেবা দিয়ে কার্ডিয়াক এ্যারেস্টে মারা গেলেন বিখ্যাত ডা: লি জিং

টানা ২৪ ঘন্টা চিকিৎসা সেবা দিয়ে কার্ডিয়াক এ্যারেস্টে মারা গেলেন বিখ্যাত ডা: লি জিং

হাসপাতালে বিশ্রামহীন টানা ২৪ ঘন্টা মানুষের সেবা করে কার্ডিয়াক  এ্যারেস্টে চির নিদ্রায় চলে গেলেন বিখ্যাত ডা:লি জিং
 Dr.Li Jing


A beloved doctor at one of China’s top hospitals has died of sudden cardiac arrest after working a 24-hour shift, prompting medical staff to question workers’ hours and staffing at the facility, Central European News (CEN) reported. Dr. Li Jing, 43, was the head of the emergency department at the Guangzhou Red Cross Hospital in Guangzhou, capital of south China’s Guangdong Province. According to CEN, Jing died at home with his wife after reportedly undergoing excess physical fatigue. Jing’s co-workers described him as a tireless worker who frequently logged overtime and would go out of his way to lighten co-workers’ loads. Yang Weiguang, one of Jing’s colleagues, said Jing put his head down on his desk in his office after his 8 a.m. to 8 a.m. shift ended, and that the doctor seemed feverish. But staffers didn’t express concern over the doctor’s tiredness as the symptom wasn’t uncommon among any of the workers. “It was very sudden,” Weiguang told CEN. “He was in such good health, and he loved sports. It’s sad to see a doctor with 21 years of experience go like that." Weiguang noted that Jing had led the hospital during outbreaks of SARS, dengue fever and the avian flu. He said colleagues will remember him as a modest and hardworking man. "I believe the reason for this tragedy is that hospitals are too often understaffed,” Weiguang added. “There is not enough manpower to handle the work and to allow doctors to rest."

Read more at: https://forum.facmedicine.com/threads/er-doctor-dies-of-cardiac-arrest-after-working-24-hour-shift.22186

শনিবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৬

কবে হবে সন্ত্রাস নির্মূল! কবে হবে চিকিৎসকদের  জন্য নিরাপদ কর্মস্থল ?

কবে হবে সন্ত্রাস নির্মূল! কবে হবে চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্মস্থল ?


বর্তমান বাংলাদেশে সবচেয়ে অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ পেশার নাম কি জানেন?
ডাক্তারী পেশা!!
প্রতিদিন যে হারে সন্ত্রাসীদের দ্বারা চিকিৎসকেরা আহত,  নিহত হচ্ছেন!
পরিসংখ্যান তাই বলে।
গতকাল ডা: তপু কে কিডন্যাপ করা হলো,

এর আগে ডা: মুরাদ ভাইকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হলো,
ডা: শামস ভাইকে মারাত্নক জখম করে জীবন সংকটাপন্ন করা হলো,
 ডা: সাজিয়া আপু খুন করা হলো!
আর কত!! "

চিকিৎসকেরা জীবনের সমস্ত মেধা,  শ্রম  ও সময় সব উজাড় করে মানুষের তরে , অকাতরে নিজেদের বিলিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন,
তারই ফল কি ?
এমন নিত্য নৈমিত্তিক লোমহর্ষক ঘটনা!!

 এভাবে চলতে থাকলে,
মনে হয় অদূর ভবিষ্যতে ডাক্তারী পেশা যাদুঘরে চলে যাবে।

কিংবা কেউ ডাক্তারী পাশ করেও
পেশায় কর্মরত থাকবেন না,
হয়তো ডাক্তার পরিচয় অজ্ঞাত রেখে সমাজে চলবেন।

এ পেশায় যারা কর্মরত আছেন,
তাদেরকে অদূর ভবিষ্যতে বেশ কিছু ত্যাগ  মেনে নিয়ে কাজ করতে হতে পারে,

এ পেশার যে কেউ অপহরণের শিকার হতে পারেন!
আপনার পরিবারের উপর সন্ত্রাসীরা আঘাত হানতে পারে,
যে কেউ  সন্ত্রাস দ্বারা জখম হতে পারেন,
এমন কি মৃত্যুও ঘটতে পারে ।

সিদ্ধান্ত আপনার!

মেধা, শ্রম ও সময় সব যখন বিসর্জন দিতে পেরেছেন,
জীবনটা  বাকি রাখবেন কেন?
সন্ত্রাসীরা তো  আপনার জীবন ছিনিয়ে নিয়ে নেয়ার জন্য উত পেতে আছে !!

কবে হবে সন্ত্রাস নির্মূল!
কবে হবে চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্মস্থল

--- ডাঃ স্বাধীন
 ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা:তপু কে অপহরণ,  শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ !

ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা:তপু কে অপহরণ, শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ !


শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মেধাবী ছাত্র এবং
ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা:তপু কে অপহরণ করে নিয়ে গেছে দূবৃত্তরা ।
গতকাল সন্ধায় মেডিকেল কলেজের সামনের সড়ক
থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
অপহরণের কোনো কারণ এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

এদিকে নবীন এই চিকিৎসককে অপহরণের প্রতিবাদে
মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-মিরপুর সড়ক অবরোধ করে।
 এতে দুই পাশে যানযটের সৃষ্টি হয়....

চিকিতসকেরা আর কত নির্যাতিত হবেন ?

কেউ কি বলতে পারেন ?

বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৫

এনাটমির প্রফেসর ডাঃ মনসুর স্যার আর নেই

এনাটমির প্রফেসর ডাঃ মনসুর স্যার আর নেই


বাংলাদেশের এনাটমির লিজেন্ড প্রফেসর মনসুর খলিল স্যার আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন , ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন । আল্লাহ স্যারকে ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাতবাসী করুন ।
আমার এখনও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে , আরো খারাপ লাগছে মহসিন স্যারের জন্য , পৃথিবীতে উনি একবারেই একা হয়ে গেলেন ।
ফার্স্ট ইয়ারে স্যারের ক্লাস পেয়েছি , আমাদের সম্বোধন করতেন "শোন বাচ্চারা " বলে , এমফিল এর ফার্স্ট পার্ট এর ভাইবা উনার কাছেই দিয়েছি ।
এইত কয়দিন আগেও আমাদের নাদিয়া আপুর থিসিস ডিফেন্ড ভাইবা নিতে এসেছিলেন , দেখা হয়েছে তখনও । আমাদের সবাইকে একে একে আবার পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন মহসিন স্যার , আর আমাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় বলছিলেন - এই ছেলেটা ইমিউনো কম্প্রোমাইজড , সারাবছর ঠান্ডা বাধায়ে বসে থাকে ।
ভাবতেই পারছি না , স্যারকে শেষবারের মত দেখতে পাব না , এনাটমিক্যাল সোসাইটির কনফারেন্সের জন্য ঢাকায় এসেছিলাম , ইচ্ছা ছিল শনিবার দেখা করব স্যারের সাথে ।
খুব ইচ্ছা ছিল আমার থিসিস ডিফেন্ড স্যারের কাছে দেব ।
আল্লাহ তুমি উনাকে মাফ করে দিও , জান্নাতি হিসেবে কবুল কোরো ।
নাদিয়া আপুর থিসিস ডিফেন্ডের সময় স্যার বলছিলেন - এমএমসি তোমার মা , এখান থেকে এমফিল ডিগ্রী নিয়ে যাচ্ছ , নিজের মা কে কখনও ভুলে যেও না ।
[ স্যারের জন্য সবাই খুব দোয়া করবেন প্লিজ ]

লেখা - ডাঃ যুবায়ের 

রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৫

বাইক প্রতিযোগিতা কেড়ে নিলো চার তরুণের তাজা প্রাণ ...।

বাইক প্রতিযোগিতা কেড়ে নিলো চার তরুণের তাজা প্রাণ ...।


বাইক রেইসে নিহতদের
নাম- ঠিকানা পাওয়া গেছে।
এদের বাড়ী
চট্রগ্রামের অন্তর্গত লোহাগাড়া থানার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সুখচড়ি গ্রামের হাঁচির পাড়ায়।

আব্দুল মালেকের পুত্র মুহাম্মদ তানজিব (১৬) হাঁচি মিয়ার পুত্র মুহাম্মদ শাকিল (১৬),, মুহাম্মদ আলী সওদাগরের পুত্র মুহাম্মদ শোয়াইব (১৬) আমিরাবাদ রাজঘাটার আমির খান চৌধুরি পাড়ার নুরুল ইসলামের পুত্র আকতার হোসেন(১৮)।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৫

মেডিকেল ছাত্রীর আত্নহত্যা!  কিন্তু কেন?

মেডিকেল ছাত্রীর আত্নহত্যা! কিন্তু কেন?


খুলনা মেডিকেল কলেজের (খুমেক) শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আরমনি সুলতানা বিউটির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে কলেজের সুফিয়া কামাল ছাত্রী হলের নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামে।
বিউটি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজে কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদ। তিনি বলেন, দুপুরে সুফিয়া কামাল ছাত্রী হলে বিউটির রুমের দরজা বন্ধ দেখে সহপাঠীরা ডাকাডাকি করেন। এরপরও দরজা না খোলায় তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ দুপুর ১টা ২০ মিনিটে দরজা ভেঙে রুমে ঢুকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে বিউটির ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়।

কী কারণে ওই ছাত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন সে ব্যাপারে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।

শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

মানুষ গড়ার কারিগর প্রফেসর হারুন স্যার আর আমাদের মাঝে নেই ।

মানুষ গড়ার কারিগর প্রফেসর হারুন স্যার আর আমাদের মাঝে নেই ।

প্রিয় প্রফেসর হারুন উর রশিদ স্যার
আপনাকে হারনোর বেদনা আমরা কখনো ভুলতে পারবো না,
আজ জাতি একজন অভিভাবককে হারালো।
একজন মানুষ গড়ার কারিগরকে হারালো।
মানুষের মন জয় করার মহত পেশা শিক্ষকতা,
সেই মহত পেশাকে ধারন করে যিনি
জয় করে নিয়েছেন লাখো কোটি মানুষের হৃদয়।
ভাবতেই অবাক লাগে উনি আমাদের মাঝে নেই।

উনার শিষ্যরা আজ সারা বিশ্বে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছেন।
চট্টগাম কলেজ, মহসীন কলেজ, মহিলা কলেজ, রাংগামাটি কলেজ,
আমার প্রিয় স্কুল সি আর এস সি সহ
অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এই মহান শিক্ষক !

শুক্রবার সকালের ডিউটিতে এসে জুমার নামাজ পড়ে এসে সি এস সি আর এর নীচে দেখা হলো প্রফেসর ডা: এম.এ. ফয়েজ স্যারের সাথে।
আর রাতে ডিউটিতে এসে শুনি
ফয়েজ স্যারের বড় ভাই অধ্যক্ষ হারুন উর রশিদ স্যার আই সি ইউ তে ভর্তি ।
এ কথা শুনে মন খুব খারাপ হয়ে গেলো ,
যে স্যারকে দেখেছি খুব কাছ থেকে, যিনি অবসরের পর ৫ বছর আমাদের প্রিয় স্কুলে প্রিন্সিপ্যাল ছিলেন,
সে প্রিন্সিপ্যাল স্যার আই সি ইউ তে!
আজ দুপুরে দেখে আসলাম স্যারের নিথর দেহ,
স্কুলে আমি ক্লাস ক্যাপ্টেন থাকাকালীন বিভিন্ন কাজে স্যারের সাথে প্রায় দেখা হতো , ১০-১২ বছর আগের সুঠাম দেহ যেমনটি দেখেছিলাম
তেমনটিই আছে
নেই শুধু রুহ ।

আমরা সকলেই উনার আত্নার মাগফেরাত কামনা করছি,
শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি ।

প্যারেড মাঠসহ বেশ কয়েক জায়গায় জানাযা অনুষ্টিত হবে,
স্যারের জানাযার সময় সূচি টিভি- চ্যানেলে জানানো হবে।

উনি রেখে গেছেন অসংখ্য জ্ঞানী গুনী আত্নীয় স্বজন।
উনার ছোট ভাই চিকিতসা বিজ্ঞানী প্রফেসর ডা: এম.এ. ফয়েজ ।
মানবসেবায় যার অবদান অতুলনীয়।
যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ফ্যাকাল্টির ডীন , স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক , ঢাকা মেডিকেল ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ডা: রেহেনুমা ম্যাম ও উনার সুযোগ্য কন্যা ।

কর্মে, কৃতিত্বে , সাফল্যে হারুন স্যার আমাদের মাঝে চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন।

শুক্রবার, ৩০ মে, ২০১৪

নীরবেই হারিয়ে গেলেন বাংলাদেশের একজন সূর্যসন্তান

নীরবেই হারিয়ে গেলেন বাংলাদেশের একজন সূর্যসন্তান

"নীরবেই হারিয়ে গেলেন বাংলাদেশের একজন সূর্যসন্তান"
ছবিতে যেই মানুষটাকে দেখতে পাচ্ছেন এই মানুষটাকে আপনি চেনেন কি? তিনি বাংলাদেশের একজন সূর্যসন্তান। ইনি গত শুক্রবারে মারা গিয়েছেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যু সংবাদ এখনো কোনো পত্রিকায় আসেনি।
এনার নাম ড: এ, কে, এম লুতফর রহমান তালুকদার।




ইনি বাংলাদেশের যুগান্তকারী “আপনার শিশুকে টিকা দিন” প্রকল্পটি শুরু করেছিলেন।
বাংলাদেশকে পৃথিবীর বিস্ময় ধরা হয় দুএকটা কারণে – তার একটি হলো ইমুনাইজেশানের অবিশ্বাস্য সাফল্য। হ্যা, এই সাফল্য কোনো একজন ব্যক্তি কিংবা একটি সরকার কিংবা প্রতিষ্ঠানের কারণে হয় নি সত্য। কিন্তু এই মানুষটা সবার আগে বুঝেছিলেন এবং অন্যদের বুঝিয়েছিলেন যে অশিক্ষিত গরীব লোকটাকে যদি এই কথাটা বোঝানো না যায় যে তোমার ৫টা সন্তানের দরকার নেই কারণ ২-৩টা কোনো সংক্রামক রোগে মারা যাবে না – তাহলে সে পরিবার পরিকল্পনা করবে না। তিনি সরকারী কর্মচারী হয়েও উদ্যোগ নিয়েছিলেন – যে উদ্যোগ বাংলাদেশে কেউ নিতে চায় না।
অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানী ফ্রাঙ্ক ফেনার দু বছর আগে ৯৩ বছর বয়সে মারা গিয়েছিলেন। তিনি পৃথিবীব্যাপী স্মল পক্স ইরাডিকেশান প্রকল্পের প্রধান ছিলেন। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক প্রকাশ করা হয়।
আমরা এমন এক অদ্ভূত জাতিতে পরিণত হয়েছি যে আমরা মহানায়কদের সম্মান তো দূরের কথা, শনাক্তই করতে পারি না আর। সেই অনুযোগ আর না করি। থাক – রাষ্ট্রীয় সম্মানের আর কোনো দরকার নেই। ড: তালুকদার একজন হিরো। একজন রিয়াল হিরো সম্মানের আশায় কাজ করেন না, এই নিভৃতচারী মানুষটিও কোনো স্বীকৃতির আশায় এই মহান কাজটি শুরু করেন নি, করেছিলেন এই দেশটাকে ভালোবেসে। আসুন তার ভালোবাসা আর উদ্যোগটাকে একবার স্মরণ করি।



বৃহস্পতিবার, ১৫ মে, ২০১৪

Bus Accident -  চট্টগ্রামের কৃতিসন্তান ডা. সঞ্জিতা বিশ্বাস আমাদের মাঝে আর নেই ।

Bus Accident - চট্টগ্রামের কৃতিসন্তান ডা. সঞ্জিতা বিশ্বাস আমাদের মাঝে আর নেই ।

ছবি: ডা. সঞ্জিতা বিশ্বাস নৌকায় স্বামী ডা. শান্তনু করের সঙ্গে
ছবি: ডা. সঞ্জিতা বিশ্বাস নৌকায় স্বামী ডা. শান্তনু করের সঙ্গে
চট্টগ্রাম: ডা. সঞ্জিতা বিশ্বাস। বয়স আটাশ। নৌকায় স্বামী শান্তনু করের হাত ধরে তোলা একটি ছবি ৭ মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করে লিখেছিলেন ‘তোমায় নিয়ে নাও ভাসিয়ে যাব তেপান্তর।’ ৭দিনের ব্যবধানে সত্যি চলে গেলেন সঞ্জিতা। তবে একা। না ফেরার দেশে।


বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে মেজর পদবীতে যোগ দিতে চট্টগ্রাম আসছিলেন। শনিবার চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে যোগ দেওয়ার কথা। মায়ের দোয়া নিতে দু’দিন আগেই ঢাকা থেকে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে করে রওনা হন। সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় পৌঁছালে সঞ্জিতাদের বহনকারী বাসের সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে  ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সঞ্জিতা।


sanchita_01পারিবারিক সূত্র জানায়, সঞ্জিতা বিশ্বাস। বাবা সুনীল শান্তি বিশ্বাস। মা সুপ্তি চৌধুরী বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের সিনিয়র অডিটর। ছোট বেলায় বাবা মারা গেছেন। বড় হয়েছেন মায়ের হাত ধরে। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় সঞ্জিতা। বড় ভাই প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রভাষক। ছোট বোন ইউএসটিসি’র ফার্মেসী বিভাগ থেকে পাশ করে বের হয়েছেন। ২০১২ সালে সঞ্জিতার বিয়ে হয় ঢাকা শিশু হাসপাতালের সহকর্মী চিকিৎসক শান্তনু করের সঙ্গে।

২০০০ সালে ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক। চট্টগ্রাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। ২০০৮ সালে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এমবিবিএস ডিগ্রি ও বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান অ্যান্ড সার্জন থেকে এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।

বয়স মাত্র আটাশ। এই অল্প বয়সেই সাফল্যের ঝুঁড়ি বেশ ভারি। ২০১১ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনারারি মেডিকেল অফিসার হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০১২ সালে ঢাকা শিশু হাসপাতালে অনারারি মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগ দেন। ২০১৩ সালে পেডিয়াট্রিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে যোগ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে(পিজি)। শনিবার সেনাবাহিনীতে মেডিকেল কোরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে মেজর পদবীতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।

sanchita_03বুধবার রাতেই ঢাকা থেকে রওনা হন। সেনাবাহিনীতে যোগদানের আগে বৃহস্পতিবার মায়ের সাথে দেখা করতে চট্টগ্রামের দামপাড়া ১নং গলির সুফিয়া ভবনের বাসায় আসার কথা। এসেছেন। তবে লাশ হয়ে।

সকালে সুফিয়া ভবনের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, মা সুপ্তি চৌধুরীর আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে আশপাশের পরিবেশ। স্বামী মারা যাওয়ার পর হাল ছেড়ে দেননি তিনি। প্রতিটি সন্তানকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন। সবাইকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলেছেন। তাই মেয়ের এমন চলে যাওয়া কোনভাবে মেনে নিতে পারছেন না। মেয়ের দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকে পাগল প্রায়। মেয়ের স্মৃতিচারণ করে বিলাপ করছিলেন।

‘আমি আমার মেয়ের মরা মুখ দেখতে পারবো না। আমাকে তোমরা মেরে ফেল।’ এই বলে বিলাপ করছিলেন। বুক চাপড়াচ্ছিলেন। বারবার দেওয়ালের সঙ্গে মাথা ঠুকে আঘাত করার চেষ্টা করছিলেন। স্বজনরাও তাকে ধরে রাখতে পারছিলেন না। তারাও যেন হারিয়ে ফেলেছেন সান্তনা দেওয়ার ভাষা।

সঞ্জিতার চাচা দীপক কান্তি বিশ্বাস  বলেন,‘পরিবারের ছেলে মেয়েদের মধ্যে সঞ্জিতা ছিল সবচেয়ে মেধাবী। ছোট বেলায় তাদের বাবা মারা যায়। তাদের মা সন্তানদের কষ্ট করে বড় করেছেন। ডাক্তারি পড়িয়েছেন। মেয়ে এভাবে চলে যাবে এটা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।’

তাকে হারিয়ে নির্বাক তার সহপাঠীরাও। কিশোরগঞ্জ জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনডোর মেডিকেল অফিসার ফাহমিদা মিনু বলেন,‘অবিশ্বাস্য। এটা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছি না।’


** কার্ভাড ভ্যান-বাস মুখোমুখি সংঘর্ষ : নারী চিকিৎসকসহ নিহত ২